20/11/2025
পড়াশুনায় ফেল নেই, স্কুলে শাস্তিও নেই—তাই ছেলেমেয়েদের মধ্যে লেখাপড়ার তাগিদও নেই। আমরা এমন একটা প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা জানেই না পরিশ্রমের চাপ কাকে বলে, কিংবা দায়িত্ববোধ কীভাবে তৈরি হয়। বিষয়টা নিয়ে একটু গভীরভাবে কথা বলা দরকার।
আমরা যারা একটু আগের সময়ের মানুষ, সবাই জানি পড়াশোনার নেপথ্যে ছিল তিনটে জিনিস—বকুনি, ভয় আর অভ্যাস। বিদ্যাসাগরের মতো নিজের ইচ্ছায় শিক্ষার প্রতি প্রেম—সেটা ব্যতিক্রম। আমরা বেশিরভাগই পড়েছি মায়ের ধমক, বাবার কঠোর মুখ, আর শিক্ষকের কড়া দৃষ্টির মধ্যে। কিন্তু সেই পদ্ধতিটা আমাদের একটা জিনিস শিখিয়েছিল—দায়িত্ব নিতে হয়। ফেল করলে লজ্জা লাগবে, বন্ধুরা এগিয়ে যাবে, শিক্ষকরা রাগ করবেন—এইসব ভাবনাই আমাদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনত।
এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় “no fail policy” চালুর উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো ছিল। বাচ্চাদের মানসিক চাপ কমানো, স্কুলকে ভয় না পেয়ে শেখাকে উপভোগ করতে দেওয়া—কথাগুলো সুন্দর।
কিন্তু বাস্তবে যেটা হলো, শাস্তি নেই, ভয় নেই, তাই পড়ার চাপটাও নেই। বাচ্চারা জানে—কিছু না করলেও পরের ক্লাসে উঠে যাবে। ফলাফল? মনোযোগ কমে যাচ্ছে, পড়ার অভ্যাস ভাঙছে, আর দায়িত্ববোধ তো প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে।
যদিও এখনও সমাজে একটা বড় ভুল ধারণা আছে—শিক্ষা মানেই নম্বর বা চাকরি। কিন্তু আসল শিক্ষার মানে হলো বিচারশক্তি, শালীনতা, যুক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং জীবনের প্রতিটা সমস্যার সামনে দাঁড়ানোর মানসিকতা।
পড়াশোনার অভাব মানেই এই দক্ষতাগুলোর অভাব। কেউ স্কুলে ফেল করবে না—চমৎকার। কিন্তু জীবন তো সবাইকে ফেল করায়! তখন? তখন তো বই-পড়া, শেখার অভ্যাস, অধ্যবসায়ের শক্তি—এসবই মানুষকে টেনে তোলে।
আজকের সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে। যত তদন্ত করা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে শিক্ষার অভাব একটা বড় কারণ। যখন পড়াশোনার সঙ্গে শৃঙ্খলা, আত্মসম্মান, ব্যর্থতার ভয়—এসব বাদ পড়ে যায়, তখন মানুষ সহজেই ভুল পথে যায়। কারণ কোনো ‘ভুল করলে কী ক্ষতি হতে পারে’ সেই ধারণা তার ভেতরে নেই। শিক্ষা শুধু তথ্য দেয় না; এটা চরিত্র গড়ে।
আমরা যদি চাই আগামী প্রজন্ম জানুক দায়িত্ব কী, জানুক পরিশ্রমের মূল্য কত, তাহলে শিক্ষায় বাস্তব মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘ফেল’ মানে অপমান নয়—এটা একটা আয়না, যেখানে নিজের অবস্থান দেখা যায়। ফেল করলে সে জানবে কোথায় দুর্বলতা আছে, কী ঠিক করতে হবে। এটাই তো শেখা।
তবে পুরোনো কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনার দরকার নেই। শাস্তি মানে পেটানো বা অপ