Puran Kotha Samgra

Puran Kotha Samgra যদি আপনি ধর্মীয় বিষয়ে আগ্রহী হন এবং গভীর আলোচনায় অংশ নিতে চান, তাহলে এই পেজটি আপনার জন্য.....,,. আসুন, একসাথে সত্যের পথে চলি।
(1)

আমাদের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে দশকের পর দশক ধরে আকবর, বাবর, হুমায়ুন, কিংবা ঔরঙ্গজেবদের কাহিনী যেভাবে ফলাও করে পড়ানো হয়েছ...
21/05/2026

আমাদের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে দশকের পর দশক ধরে আকবর, বাবর, হুমায়ুন, কিংবা ঔরঙ্গজেবদের কাহিনী যেভাবে ফলাও করে পড়ানো হয়েছে, তার পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো - তা নিয়ে আমরা কখনো চিন্তাভাবনা করিনি ।

এই ধোঁয়াশার একটি বড়ো খোলসা করেছেন নটবর সিং তাঁর বিখ্যাত বই 'One Life is Not Enough'-এর ১৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায়, আপনারা গিয়ে পড়তে পারেন।

​তিনি তার 'One Life is Not Enough' বইটিতে এটি বলেছেন যে, ১৯৬৯ সালের।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন আফগানিস্তানের কাবুল সফরে ছিলেন। সফরের এক সন্ধ্যায় তিনি প্রোটোকল ভেঙে সাধারণভাবেই শহর পরিভ্রমণের জন্য বের হন। গাড়ি চলার সময় রাস্তার পাশে একটি বিশাল ঐতিহাসিক স্থাপনা তাঁর নজরে আসে। ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সাথে থাকা আফগান কর্মকর্তাদের কৌতুহলবশত প্রশ্ন করেন, "সামনে এই যে মাকবারা (সমাধি) দেখা যাচ্ছে, এটি আসলে কার?"

আফগান কর্মকর্তারা উত্তর দেন, "এটি বাবরের কবর (বাগ-ই-বাবর)।"

উত্তর শোনার সাথে সাথেই ইন্দিরা গান্ধী গাড়ি থামাতে বলেন এবং জানান যে তিনি কবরের একদম কাছে গিয়ে সেটি দেখতে চান। নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তারা নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি শোনেননি। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সোজাসুজি বাবরের কবরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।

নটবর সিং, যিনি সেই সময় ইন্দিরা গান্ধীর ঠিক পাশেই উপস্থিত ছিলেন, তিনি তাঁর বইটিতে লিখেছেন - "আমি এই দৃশ্যটি দেখে সম্পূর্ণ হতপ্রভ ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেখানে মাথা নত করে অত্যন্ত শ্রদ্ধাবনত অবস্থায় বেশ কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে রইলেন।

​এখন আপনারা এটি থেকে অনুমান করুন যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী ওই বাবরের কবরের ওপর কী করছিলেন?
যেই বাবর নিজের সেনাপতি মীর বাঁকীকে আদেশ দিয়ে সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণপুরুষ মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের মন্দির ধ্বংস করেছিলেন, তাঁর কবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ভারতের নিজস্ব ইতিহাস চর্চাকে এক বিশাল প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

এই বিশেষ রাজনৈতিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই হয়তো পরবর্তী ৭০ বছর ধরে ভারতের শিক্ষানীতি ও ইতিহাস বইগুলোতে একপেশে মুঘল বন্দনা করা হয়েছে।
অথচ, আমাদের নিজস্ব গৌরবোজ্জ্বল বংশলতিকা ও সনাতন সংস্কৃতির শিকড়কে অবহেলা করা হয়েছে।

​ইতিহাসের বইতে বাবরের বংশলতিকা মুখস্থ করানো হলেও, আমাদের জানানো হয়নি যে রামের পিতা দশরথ ছিলেন, কিন্তু দশরথের পিতা কে ছিলেন, বা তাঁর পূর্বপুরুষ কারা ছিলেন!

রামায়ণ এবং পুরাণ অনুসারে, মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের ইক্ষ্বাকু (সূর্যবংশ) বংশের গৌরব বাবর বা মুঘলদের চেয়ে হাজার গুণ প্রাচীন ও সমৃদ্ধ।
অথচ এই তথ্যগুলো আমাদের পাঠ্যবই থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছিলো।

আসুন জেনে নেওয়া যাক দশরথের সেই মহান পূর্বপুরুষদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যা ইতিহাস আমাদের জানায়নি......

​রাজা অজ - তিনি ছিলেন মহারাজ দশরথের পিতা এবং শ্রীরামের ঠাকুরদা। রঘুবংশের অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও ধর্মপরায়ণ রাজা ছিলেন তিনি।

মহারাজ রঘু - রাজা অজের পিতা ছিলেন মহারাজ রঘু, যাঁর নামানুসারে এই বংশের নাম হয় 'রঘুবংশ'। তাঁর বীরত্ব ও সত্যনিষ্ঠার কারণেই "রঘুকুল রীত সদা চলি আই" উক্তিটির জন্ম।

মহারাজ দিলীপ - মহারাজ রঘুর পিতা, যিনি দেবরাজ ইন্দ্রের পরম মিত্র এবং অত্যন্ত প্রজাবৎসল সম্রাট ছিলেন।

রাজা ভগীরথ - এই বংশেরই অত্যন্ত পূজনীয় পূর্বপুরুষ, যাঁর কঠোর তপস্যার কারণে স্বর্গ থেকে গঙ্গা মর্ত্যে অবতীর্ণ হন।
আজও তাঁর নামানুসারে গঙ্গাকে 'ভাগীরথী' বলা হয় এবং যেকোনো কঠিন জলের মতো কঠিন কাজকে আমরা "ভগীরথ প্রয়াস" বলি।

​যখন একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের সংস্কৃতিকে আঘাতকারী একজন আক্রমণকারীর সমাধিতে গিয়ে মস্তক নত করেন, তখন সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নিজস্ব নায়কদের চেয়ে বহিরাগত আক্রমণকারীদের ইতিহাস যে বেশি গুরুত্ব পাবে - তা বলাই বাহুল্য।

আজ সময় এসেছে এই খণ্ডিত ইতিহাসকে চেনার এবং আমাদের পাঠ্যবইয়ের আড়ালে থাকা প্রকৃত সত্য ও সনাতন ঐতিহ্যের গৌরবময় অধ্যায়গুলোকে নতুন করে জানার।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

মহাদেবকে কেনো দেবাদি দেব বলা হয়, এটার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ শিব পুরাণের শতরুদ্র সংহিতার এই কথাতে পাওয়া যায় - যখন নিজের শক...
20/05/2026

মহাদেবকে কেনো দেবাদি দেব বলা হয়, এটার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ শিব পুরাণের শতরুদ্র সংহিতার এই কথাতে পাওয়া যায় - যখন নিজের শক্তির অহংকারে অন্ধ হয়ে দেবরাজ ইন্দ্র স্বয়ং মহাদেবের ওপরই তাঁর বিনাশকারী বজ্র তুলে নিয়েছিলেন।
তারপর ভগবান শিব এমন কিছু করেছিলেন, যা পুরো স্বর্গলোককে তার মর্যাদা মনে করিয়ে দিয়েছিলো।

এটি সেই সময়ের কথা, যখন দেবরাজ ইন্দ্র 'বৃত্রাসুর'-এর মতো এক ভয়ংকর মহাদানবকে বধ করেছিলেন।এই মহাবিজয়ের পর ইন্দ্রের মনে এই ভ্রম উৎপন্ন হয়েছিলো যে, তাঁর অজয় বজ্র এবং তাঁর শক্তির সামনে তিন লোকে কেউই টিকে থাকতে পারবে না। বিজয়ের এই অসীম অহংকারে চূর হয়ে একদিন দেবরাজ ইন্দ্র, তাঁর দেবগুরু বৃহস্পতির সাথে মহাদেবের দর্শনের উদ্দেশ্যে কৈলাশ পর্বতের দিকে রওনা হলেন।
কৈলাশের বরফাবৃত পথে দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর দিব্য বাহন ঐরাবতের পিঠে চড়ে পূর্ণ গর্বের সাথে যাচ্ছিলেন; অন্যদিকে দেবগুরু বৃহস্পতি তাঁর সাথে পায়ে হেঁটে চলছিলেন।

তখনি হঠাৎ ভস্ম মাখা এক রহস্যময় তপস্বী তাঁদের পথ রোধ করে দাঁড়ালেন, যাঁর চোখ দুটি কোনো অগাধ গভীরতার মতো শান্ত ছিলো। নিজের শক্তির মদে অন্ধ ইন্দ্র এটি চিনতেই পারলেন না যে, তিনি স্বয়ং মহাদেব।
ইন্দ্র অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সেই তপস্বীকে তৎক্ষণাৎ পথ থেকে সরে যাওয়ার আদেশ দিলেন। কিন্তু সেই তপস্বী তাঁর জায়গা থেকে এক চুলও নড়লেন না; তিনি কোনো উত্তরও দিলেন না এবং নিজের স্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরলেন না।

ইন্দ্রের ক্রোধ নিজের সীমা ছাড়িয়ে গেলো। নিজের আরাধ্যকেই এক সাধারণ সাধু মনে করার ভুল করে, ইন্দ্র তাঁকে ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি দিলেন এবং নিজের অহংকারের চরম সীমায় পৌঁছে তিনি মহর্ষি দধীচির অস্থি দ্বারা নির্মিত তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র - বজ্র, শূন্যে তুলে ধরলেন।

কিন্তু তখনই, প্রহার করার জন্য তোলা ইন্দ্রের বজ্র শূন্যেই পাথরের মতো জমে গেলো! পর্বতসমূহকে খণ্ড-বিখণ্ড করার ক্ষমতা রাখা দেবরাজ তাঁর পুরো ঈশ্বরীয় শক্তি প্রয়োগ করেও সেটিকে এক ইঞ্চিও নিচে নামাতে পারলেন না।
তাঁর শরীর স্তব্ধ হয়ে গেলো। মহাদেব কোনো অস্ত্র তোলেননি, শুধু তাঁর শান্ত উপস্থিতিই দেবরাজকে পুরোপুরি বাধ্য করে দিয়েছিলো।

তখনি সেই তপস্বী মাথা তুললেন, ভ্রুকুটি কুঞ্চিত হলো এবং কপালে মহাদেবের তৃতীয় নয়ন খুলে গেলো! তা থেকে নির্গত প্রলয়ঙ্কারী অগ্নিশিখা দেখে মনে হচ্ছিলো যেন আজ সমগ্র সৃষ্টি ভস্ম হয়ে যাবে। এই বিনাশকারী উত্তাপ দেখেই দেবগুরু বৃহস্পতি বুঝতে পারলেন যে, ইনি স্বয়ং ভগবান শিবের রূপ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে দেবগুরু বৃহস্পতি তৎক্ষণাৎ দণ্ডবৎ হয়ে ইন্দ্রের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন।

ভক্তের প্রার্থনায় মহাদেব শান্ত হলেন, কিন্তু তাঁর তৃতীয় নয়নের সেই প্রলয়ঙ্কারী অগ্নিশিখা আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিলো না।
তখন সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য শিব সেই আগুন ক্ষীর সাগরে নিক্ষেপ করলেন, যার ফলে পরবর্তীতে জলন্ধর নামক মহাপরাক্রমী অসুরের জন্ম হয়েছিলো।

এক মুহূর্তের মধ্যেই দেবরাজ ইন্দ্রের সমস্ত অহংকার অশ্রু হয়ে বয়ে গেলো এবং তিনি এই পরম সত্য উপলব্ধি করলেন যে - মহাদেবের ইচ্ছা ছাড়া স্বর্গের রাজাও নিজের অস্ত্র চালাতে পারেন না।

জগৎকে এই জ্ঞান দেওয়ার জন্য যে পরমেশ্বরের সামনে প্রতিটি শক্তি এবং প্রতিটি অহংকার তুচ্ছ, মহাদেবের এই অত্যন্ত রহস্যময় ও বৈরাগ্য রূপকে পুরাণসমূহে 'অবধূতেশ্বর অবতার' নামে জানা গেছে।

Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

গ্রীষ্মের সেই তপ্ত রোদ্দুরে,যেনো একলা এক নিম গাছ ছিলাম আমি.... শীতের কোনো এক কনকনে রাতে,যেনো এক ফালি উষ্ণ গ্রীষ্মের পরশ!...
19/05/2026

গ্রীষ্মের সেই তপ্ত রোদ্দুরে,যেনো একলা এক নিম গাছ ছিলাম আমি....
শীতের কোনো এক কনকনে রাতে,
যেনো এক ফালি উষ্ণ গ্রীষ্মের পরশ!
কুরুবংশের সেই বিশাল বাগানের মালী - নাম আমার দেবব্রত ভীষ্ম ছিলো।
​যে বাগানের প্রতিটি বৃক্ষকে আমি জল দিয়েছি নিজের রক্ত জল করে,... আজ সেই বাগানেরই কুঠার আমায় ক্ষতবিক্ষত করে।

পিতৃভক্তির চরম মূল্যে কেনা 'ইচ্ছামৃত্যু'র সেই বর,
আজ যেনো এক অনন্ত অভিশাপ, এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার ঘর!
​সিংহাসনহীন এক সম্রাট আমি, সন্তানহীন এক পরম পিতা,... হৃদয়ে আমার প্রতিনিয়ত জ্বলে খাণ্ডবদাহনের চিতা।
অর্ধশতাব্দী ধরে বয়ে চলেছি যে প্রতিজ্ঞার মহাসমুদ্র,
তারই তীরে দাঁড়িয়ে আজ আমি একা - ক্লান্ত, জীর্ণ ও রুদ্র।

কুরুক্ষেত্রের রক্তিম ধূলি আর শরশয্যার এই তীক্ষ্ণ শয়ান,... এ তো শুধু দেহের অন্ত নয়, এ যেনো এক মহাকাব্যের অবসান।
তবুও এই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আমিই শেষ প্রদীপ, আমিই শেষ আলো,
ইতিহাস মনে রাখুক বা না রাখুক - আমি এই কুরুবংশকে বড্ড বেসেছিলাম ভালো।

​ধর্ম ছিলো অটল আমার, সামর্থ্য পেয়েছি পিতারই নাম থেকে.....শৌর্যকে নমস্কার আমার - করতেন স্বয়ং গুরু পরশুরামও!

মাতা সত্যবতীর পিতার শর্তে যখন আমার পিতার মন বিচলিত হলো, পিতার সেই নীরব কষ্ট দেখে আমার মন প্রসন্ন হলো ত্যাগের মহিমায়।
গঙ্গা মাতাকে স্মরণ করে, আকাশ-বাতাসকে সাক্ষী রেখে আমি নিলেন সেই ভয়ানক 'ভীষ্ম' প্রতিজ্ঞা!

কলিযুগের স্বার্থপর পৃথিবীর মানুষ হয়তো এই ত্যাগের মূল্য বুঝবে না।
যেখানে সামান্য এক নারীর প্রেমে মানুষ আজ বৃদ্ধ পিতাকে পর করে দেয়, সেখানে আজ থেকে হাজার বছর আগে আমি আমার পিতার সামান্য একটু হাসির জন্য নিজের যৌবন, সিংহাসন এবং ভবিষ্যৎ বংশের আশা চিরতরে ত্যাগ করেছিলাম । আর এভাবেই আমি দেবব্রত হয়ে উঠেছিলাম 'ভীষ্ম'।

কাশীর রাজসভায় তিন কন্যার হরণ, আর অম্বার সেই তীব্র অভিমান - মহাকালের চক্রে যে আমারই মৃত্যুর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো!
আমি তো নারী জাতিকে চিরকাল সম্মানই জানাতে চেয়েছিলাম,... অথচ নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস, এক নারীর অপমানের প্রতিশোধেই আমার পতন হলো!

​ধর্ম যেনো সূর্য, আর প্রেম যেনো চন্দ্র - এমনটাই তো আমি জেনেছিলাম;
একটিমাত্র বচনে বন্ধনগ্রস্ত হয়ে আমি - শুধু আসল কর্ম চিনতে পারিনি!

দুঃখ আর তীব্র পীড়াসমূহের,
এক চরম গ্রাস আমি হয়ে রইলাম;
নিজের প্রতিজ্ঞায় অবরুদ্ধ হয়ে - অধর্মের এক দাস আমি হয়ে রইলাম!

কুরুবংশের ওপর অস্ত্র তুলে,.. করতে পারিনি দেশদ্রোহ আমি...
অথচ মহাভারতের মূল কারণ - শুধু ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ পুত্রমোহ ছিলো।

অপমান কুলবধূর চোখের সামনে দেখেও,
আমি মৌন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম;..
না জানি কোন সেই মিথ্যা ধর্ম ছিলো - যেটাতে আমি আজীবন অটল রইলাম!

আরে পাঞ্চালীর এই চরম অপমান,
তোমাদের যুগে এই শিক্ষাই দেবে - নারীর যদি হয় এভাবে অপমান,... তবে এই ধরায় মহাশূন্যের ধ্বংস নেমে আসবে।

​নরমুণ্ডের স্তূপ হবে চারিপাশে,
রুদ্র তাণ্ডব হয়ে যাবে রণভুমিতে;
যখন সুপ্ত ধর্ম পুনরায় স্থাপনা করতে হবে - তখন পার্থের সঙ্গে গোবিন্দ নিশ্চয়ই আসবেন।

ধর্মযুদ্ধের বলি হওয়া সেইসব জন,
মিথ্যা ছিলো নাকি সত্য ছিলো?
জ্ঞান আমার শুধু এতটাই আছে - তারা প্রত্যেকেই আমার সন্তান ছিলো।

পাণ্ডব হোক বা কৌরব - প্রতিটি মৃত্যুতে আমি নীরবে কেঁদেছি....
শূল শয্যা ( শরশয্যা) শুধু চোখে দেখার মতো প্রত্যক্ষ ছিলো,... কিন্তু আসলে আমি আপনজনদের শবের ওপর শুয়েছিলাম!

জঙ্ঘা ভাঙল যখন দুর্যোধনের আর অভিমন্যুর মতো আমার সন্তানদের লাশ পড়লো ভুরি ভুরি;
সেই রণের মহাকুম্ভে জয় হলো যারই হোক - কিন্তু আত্মা ছটফট করেছে শুধু আমারই।

বচনের অন্ধ পালন করতাম আমি?
নাকি পালন করতাম পরম সত্য ধর্মের?
আরে, কথা তো আমার স্নেহের পুত্রদের ছিলো - কী করে বিস্মরণ হয়ে গিয়েছিলো আমার সৎকর্মের?

​অভাগা এক পিতামহ ছিলাম আমি, যার নিজের কুলের ওপর - গ্রাস করতে এক কুৎসিত কালো দৃষ্টি এসেছিলো.....
ধর্ম তো আমার পক্ষে ছিলো না - তাই আমার মহাশক্তি ও বীরত্ব কোনো কাজে আসেনি।

​আমার সেই প্রলয়ংকরী যুদ্ধ কৌশল দেখে,
মাধবের মনে পরম ক্রোধ হলো...
"পার্থ কোনোদিন ত্যাগ করবে না পিতামহের এই মোহকে"... এমন কিছু তাঁর দিব্য বোধ হলো।

যখন আমি রণক্ষেত্রে নির্মম নরসংহার করলাম,
সেই কালান্তক দৃশ্য বড়োই বক্র ছিলো;
আমায় বধ করার একমাত্র হেতু - মাধব তুলেছিলেন তারপর তাঁর সুদর্শন চক্র।

জ্ঞাত ছিলো আমারও মনে - যে যোদ্ধা হিসেবে আমি কতোটা নিপুণ.... সয়প রশুরামকে পর্যন্ত যিনি নিরস্ত্র করেছেন - "আমাকে মারার মতো গোয়ালা তুই কে রে?"

আরে, পরম নারায়ণকে চিনতে পেরে - আমি অধর্মের এই জীর্ণ নৌকা বেছে বসলাম...
জীবনের শুধু এই একটিমাত্র ভুলের জন্য - আজ এই মরণাপন্ন শয্যা বেছে বসলাম!

বাণে বাণে বিদ্ধ শরীর আমার, ধরিত্রীর স্পর্শও আজ মেলেনি,... মৃত্যুর দ্বারে দাঁড়িয়েও গঙ্গাপুত্রের কণ্ঠ আজ শুষ্ক, পিপাসার্ত।
হে পার্থ! পিতামহের অন্তিম তৃষ্ণা কি তুই মেটাবি না?
অর্জুনের গাণ্ডীব থেকে ছুটে গেলো এক দিব্য বাণ,
মা ধরিত্রীর বুক চিরে সশব্দে জেগে উঠলেন মাতা গঙ্গা।
সেই পবিত্র জলের ধারা যখন আমার শুষ্ক ওষ্ঠ স্পর্শ করলো,... তখন বুঝলাম - সন্তানের দেওয়া এই জলের তৃষ্ণাই ছিলো আমার পরম মুক্তি।

আরে নারায়ণকে ছলিয়া ( ছলনাময়) বলা মূর্খের দল, তোমরা অধর্মের ঘুনে পিষে যেও না...
আমি তো তাও বীরের মতো তীরের শয্যা পেয়েছিলাম - তোমরা যেন পাপের টানে কোথাও বল্লমের ওপর শুয়ে পড়ো না।

উত্তরায়ণের সেই পবিত্র আলোর প্রতীক্ষায়,
আজও আমি গণনা করছি আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস;
সিংহাসনের দাসত্ব আমায় আজীবন বন্দি রাখলেও,
মৃত্যুর ক্ষণে আমি এক মুক্ত, তৃপ্ত আত্মপরিচয়।

পরবর্তী কবিতা মহাভারতের কোন চারিত্রের ওপরে চান সেটা কমেন্ট করে বলুন।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

এই দেশের যেকোনো তরুণকে জিজ্ঞেস করুন, মাদার তেরেসা কে? দেশের ৯০ শতাংশ হিন্দু তরুণ বলে দেবে যে ইনি মাদার তেরেসা।সবাই তাকে ...
18/05/2026

এই দেশের যেকোনো তরুণকে জিজ্ঞেস করুন, মাদার তেরেসা কে? দেশের ৯০ শতাংশ হিন্দু তরুণ বলে দেবে যে ইনি মাদার তেরেসা।
সবাই তাকে চেনে। কিন্তু এই দেশের তরুণদের মালব সাম্রাজ্যের দূরদর্শী শাসক দেবী অহল্যাবাই হোল্কারের ছবি দেখান, তারা চিনবে না। এই দেশের জন্য প্রকৃত আদর্শ কি অহল্যাবাই হোল্কার, নাকি কুখ্যাতিতে ঘেরা মাদার তেরেসা?

নিশ্চয়ই অহল্যাবাই হোল্কার! যিনি উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত - সারা জীবন ভাঙা মন্দিরগুলো গড়েই গেছেন।
কাশী বিশ্বনাথ থেকে শুরু করে সোমনাথ, দ্বকারকা থেকে পুরী - ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে তার অবদান অতুলনীয়।
অথচ আজ হিন্দু সমাজের কাছে তিনি গৌণ হয়ে গেছেন, মুখ্য নন।

আজ হিন্দু সমাজ কাকে মানে? মাদার তেরেসা কে - যাকে তথাকথিত ‘মানবতার প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে!

​কিন্তু মাদার তেরেসার আসল সত্য কি আপনারা জানেন? ১৯৫০ সালে তিনি একটি সংস্থা তৈরি করেন - 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'।
যার অধীনে তিনি 'নির্মল হৃদয়' হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা করেন। নির্মল হৃদয় তৈরি করার পর সারা বিশ্বে এই প্রচার করা হয়েছিল যে তিনি মানবতার সেবিকা। কিন্তু সমালোচকদের মতে, সত্যটা হলো এই যে, তিনি মানবতার সেবিকা নন, বরং চরম অবহেলার প্রতীক ছিলেন।

আর এটা কোনো সাধারণ দাবি নয়। উনার ওখানে একজন ভলান্টিয়ার ছিলেন - যুক্তরাজ্য প্রবাসী চিকিৎসক ডক্টর অরূপ চ্যাটার্জি।
তিনি একটি বিখ্যাত বই লিখেছেন—‘Mother Teresa: The Untold Story’ (পরবর্তীতে যা 'Mother Teresa: The Final Verdict' নামেও প্রকাশিত হয়)।
সেই বইতে তিনি এই রহস্য উন্মোচন করেছেন যে, মাদার তেরেসার ওখানে যে নতুন সিরিঞ্জ, ইনজেকশন বা গ্লাভস আসত, সেগুলো বাক্সের ভেতরে বন্ধই পড়ে থাকত।
তা সত্ত্বেও সেখানে রোগীদের ওপর একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করাতেন, যাতে তারা তাড়াতাড়ি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর তিনি নাকি বলতেন - "এই কষ্ট হলো যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা।"

​কিন্তু সেই মাদার তেরেসার যখন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো, হার্ট অ্যাটাক হলো - তখন তিনি সেই পুরনো সিরিঞ্জ বা সাধারণ ব্যবস্থা ব্যবহার করেননি।
সেই মাদার তেরেসা কলকাতার সবচেয়ে হাইটেক ও ব্যয়বহুল হাসপাতাল - বিএম বিড়লা হার্ট Research ইনস্টিটিউটে গিয়ে ভর্তি হলেন এবং বিশ্বমানের চিকিৎসা নিলেন।

সব থেকে বড়ো প্রশ্ন এটাই যদি শারীরিক কষ্ট যীশু খ্রীষ্টের প্রসাদই হয়ে থাকে, তবে মাদার তেরেসা কেনো 'নির্মল হৃদয়' হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা করালেন না?

সমালোচকদের মতে, নির্মল হৃদয় হাসপাতাল তো কোনো প্রকৃত হাসপাতালই ছিলো না, ওটা একটা নরককুণ্ড ছিলো, যেখানে মানুষকে শুধু মরার জন্য নিয়ে আসা হতো।
তিনি মানুষকে বাঁচাতেন না, শুধু বাইবেল দিতেন। আর মানুষটি যখন মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তো, তখন নির্দেশ ছিলো যে তার মাথায় হাত রেখে তাকে 'ব্যাপটাইজ' (Baptize) করা হোক।
অর্থাৎ গোপনে তাকে খ্রীষ্টান বানানো হোক। খ্রীষ্টান বানিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দেওয়া হতো।

​অরূপ চ্যাটার্জি তো ভারতের মানুষ, হতে পারে তর্কের খাতিরে কেউ বলতে পারে তিনি কোনো প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন বা গল্প সাজিয়েছেন।
কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ার বহু নিরপেক্ষ গবেষক ও কর্মীও একই সত্য তুলে ধরেছেন.....
​মেরি লাউডন (Mary Loudon) মাদার তেরেসার হাসপাতালের এই প্রাক্তন কর্মী নিজের ইন্টারভিউতে ঠিক এই একই অব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

ডক্টর রিচার্ড ডান (Dr. Richard Fox): ল্যানসেট (The Lancet) মেডিকেল জার্নালের বিখ্যাত সম্পাদক ডক্টর রিচার্ড ফক্স (যাকে পাঠে রিচার্ড ডান বলা হয়েছে) ১৯৯৪ সালে কলকাতা পরিদর্শনের পর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
ইংল্যান্ড থেকে সেবা করার উদ্দেশ্যে আসা চিকিৎসকরা যখন দেখলেন যে মাদার তেরেসা নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, তার ঠিক পরের বছরই তারা সেবার মনোভাব নিয়ে এখানে আসেন। কিন্তু এখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে তারা বলেন - মাদার তেরেসা তো জিরো থেকেও নিচে।
এখানে তো হিন্দুদের মন্দিরগুলোই নিঃস্বার্থভাবে এত সেবা করে। আসল নোবেল প্রাইজের দাবিদার তো এরা! মাদার তেরেসার 'নির্মল হৃদয়' তো একটা ড্রেন।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর.... ডেল লিটেন (Dale Litten), টিম স্টুয়ার্ট (Tim Sturgeon), ডক্টর জ্যাক প্রেগার (Dr. Jack Preger), এবং প্রাক্তন নান সুসান শিল্ডস (Susan Shields) - সবাই এই একই কথা বলেছেন যে, মাদার তেরেসা মানবতার সেবিকা নন, মাদার তেরেসা ধর্মান্তকরণের দেবী, মানবতার দেবী নন।
বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ক্রিস্টোফার হিচেন্স তো তার ওপর আস্ত একটি বই ও ডকুমেন্টারি লিখেছিলেন, যার নাম ছিলো ‘Hell's Angel’ (নরকের দেবদূত)।

আমাদের বছরের পর বছর ধরে মিথ্যে শেখানো হয়েছে যে মাদার তেরেসা একজন দেবী।
তিনি দেবী নন, মাদার তেরেসা হলেন এক বিতর্কিত ও কুৎসিত সত্যের প্রতিচ্ছবি।

এই দেশের আসল দেবী ও আদর্শ হলেন দেবী অহল্যাবাই হোল্কার - যিনি ত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজকে গড়ে তুলেছিলেন।

এখন দিন শেষে একটাই প্রশ্ন আপনাদের কাছে আমাদের প্রকৃত আদর্শ কে?

​ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে আজ এই প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে... এই দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রকৃত আদর্শ আসলে কে?

​দেবী অহল্যাবাই হোল্কার.... যিনি ন্যায়বিচার, সাহসিকতা, সনাতন সংস্কৃতির পুনরুত্থান এবং স্বনির্ভরতার প্রতীক?
​নাকি মাদার তেরেসা... 'যাকে ঘিরে সমাজসেবার আড়ালে ধর্মান্তরকরণ এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কুখ্যাতি জড়িয়ে রয়েছে?

​"যে জাতি তার প্রকৃত বীর ও গৌরবময় ইতিহাসকে ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎ দিশাহীন হয়ে পড়ে।"

​আমাদের আত্মপরিচয় ও জাতীয়তাবোধকে জাগ্রত করতে হলে পাঠ্যবই থেকে শুরু করে তরুণদের চিন্তাভাবনায় দেবী অহল্যাবাই হোল্কারের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের অবদানকে ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

মহাভারত কালে অনেক অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিলো। তবে অনেক মানুষের আগ্রহ এমন সব অস্ত্রের ব্যাপারে জানার থাকে, যা সবচেয়ে বেশি শ...
17/05/2026

মহাভারত কালে অনেক অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিলো। তবে অনেক মানুষের আগ্রহ এমন সব অস্ত্রের ব্যাপারে জানার থাকে, যা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিলো।
এমন অস্ত্র, যা সহজে কেটে ফেলা বা প্রতিহত করা যেতো না।
এই লেখাতে আপনারা মহাভারত কালের এমন কিছু মহাশক্তিশালী অস্ত্রের ব্যাপারে জানতে পারবেন।

প্রস্বাপন অস্ত্র - এটি পিতামহ ভীষ্মের সবচেয়ে বড়ো "গোপন" অস্ত্র ছিলো এই প্রস্বাপন অস্ত্র এই অস্ত্র আর এর কাট করো কাছে ছিলো না ।
মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত না হলেও, এর উল্লেখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভগবান পরশুরামের সাথে যুদ্ধের সময় ভীষ্ম এই অস্ত্রটি স্মরণ করেছিলেন আর এটার প্রত্যুত্তর না থাকায় পরশুরাম হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এই অস্ত্রের ক্ষমতা ছিলো সমস্ত শত্রুকে এক লহমায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে দেওয়া।

যম অস্ত্র - এটি কেবল একটি সাধারণ বাণ নয় একে কালদণ্ড বলা হয়েছে। সৃষ্টির অন্তিমকালে মহাবিশ্ব ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এই দণ্ড।
​এই অস্ত্রের কোনো ব্যর্থতা নেই। একবার নিখুঁতভাবে লক্ষ্য স্থির করে নিক্ষেপ করা হলে শত্রুর মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত।
এটি লক্ষ্যবস্তুর শুধু শরীর নয়, বরং তার ভেতরের সমস্ত 'প্রাণশক্তি' বা আত্মাকে নিমেষের মধ্যে শুষে নেয়।

​মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে হাতেগোনা কয়েকজন পরম যোদ্ধার কাছেই কেবল এই অস্ত্রের জ্ঞান ছিলো
​অর্জুনের প্রাপ্তি - বন পর্বে যখন অর্জুন দিব্যাস্ত্রের সন্ধানে স্বর্গলোকে যান, তখন যমরাজ স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে অর্জুনকে তাঁর এই কালদণ্ড উপহার দেন।
​ভীষ্ম ও দ্রোণাচার্য - কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় পিতামহ ভীষ্ম এবং আচার্য দ্রোণের অস্ত্রাগারেও এই মারাত্মক অস্ত্রটি সংরক্ষিত ছিলো।

যুদ্ধক্ষেত্রে যখনই এই অস্ত্র আবাহন করা হতো, তখনই চারপাশের আকাশ অন্ধকার হয়ে যেতো, উল্কাপাত হতো এবং প্রচণ্ড অমঙ্গলজনক ঝড় শুরু হতো।
এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিলো যে, এর পাল্টা আঘাত হিসেবে অন্য কোনো শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র ব্যবহার করে একে শান্ত করতে হতো।

যম অস্ত্র মূলত সময়ের অমোঘ নিয়মকে নির্দেশ করে। এটি এমন এক মহাজাগতিক শক্তি, যার মুখোমুখি হলে কোনো নশ্বর জীবেরই বেঁচে ফেরার উপায় থাকে না।


আগ্নেয়াস্ত্র - যেভাবে বৃষ্টিতে জল ঝরে, ঠিক তেমনি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে আগুন বর্ষণ হতো। এটি ব্যবহারকারী এর থেকে উৎপন্ন হওয়া অগ্নির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো।
এই অস্ত্রটি প্রায় সব যোদ্ধার কাছেই ছিলো, কারণ এটিকে সহজে মন্ত্র সিদ্ধ করে লাভ করা যেতো।


ইন্দ্রাস্ত্র - ইন্দ্রকে পৃথিবীতে আকাশ থেকে পাওয়া শক্তির স্বামী মনে করা হয়।
ইন্দ্রাস্ত্র ব্যবহার করলে আকাশে অসংখ্য তীরের বর্ষণ হতে থাকতো।
ইন্দ্রাস্ত্র এবং ইন্দ্রের বজ্রকে কখনো কখনো একই মনে করা হয়, তবে এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে।


সূর্যাস্ত্র - এই অস্ত্রের ব্যবহারের ফলে মনমতো পরিমাণে সূর্য দেবের সমান আলো উৎপন্ন করা যেতো। এর ব্যবহারে খুব বেশি পরিমাণে চারদিকে উত্তাপ সৃষ্টি হয়ে যেতো, যার কারণে জলের সব উৎস শুকিয়ে যেতো।
এই অস্ত্রের ব্যবহার বিশেষ পরিস্থিতিতেই করা হতো, কারণ প্রকৃতির ওপর এর খুব ব্যাপক প্রভাব পড়তো।


বজ্রাস্ত্র - ইন্দ্রের প্রধান অস্ত্র ছিলো বজ্রাস্ত্র, যা ঋষি দধীচির হাড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো।
বজ্রকে কোনো একটি লক্ষ্যের ওপর কেন্দ্র করে চালানো হতো। এটি এত বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রবাহ উৎপন্ন করত যে শত্রুর হৃদস্পন্দন তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যেতো।


রুদ্রাস্ত্র - এটি প্রভু শিবের একটি অদ্ভুত ও বিনাশকারী অস্ত্র।
যখনই এই অস্ত্রের আহ্বান করা হতো, তখন ১১ জন রুদ্রের শক্তি এর মধ্যে এসে সমাহিত হতো। এর আহ্বান মাত্রই শত্রু সেনার মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেতো।
রুদ্রাস্ত্র ভয়ংকর ঝড় এবং বৃষ্টি মিলিয়ে এমন এক তুফান তৈরি করত, যা হাজারো শত্রুকে একসাথে ধ্বংস করে দিতো।

নারায়ণাস্ত্র - নারায়ণাস্ত্র স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর এক পরম বিধ্বংসী সৃষ্টি, যা তিনি সত্যযুগে নির্মাণ করেছিলেন। এই মহাশক্তিধর অস্ত্রটি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে আহ্বান করা হতো, তখন আকাশজুড়ে এক প্রলয়ংকরী দৃশ্যের অবতারণা হতো।
একই সাথে প্রকট হতো একাদশ রুদ্রের রুদ্ররূপ, ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, গদা এবং মহাকালের ধ্বংসকারী ত্রিশূলের মতো অজস্র মারণাস্ত্র।
শত্রুর পক্ষে এই নারায়ণাস্ত্রকে প্রতিহত করা বা কেটে ফেলা সম্পূর্ণ অসম্ভব ছিলো। এটি সনাতন ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের শ্রেণীতে গণ্য হয়।

বৈষ্ণবাস্ত্র - ভগবান বিষ্ণুর তৈরি করা এই বিশেষ অস্ত্রের মূল শক্তি লুকিয়ে ছিলো এর অবিশ্বাস্য এবং অজেয় গতির মধ্যে।
বৈষ্ণবাস্ত্রের প্রয়োগকৌশল ছিলো বেশ চমকপ্রদ - এটি শত্রুর দিকে সরাসরি নিক্ষেপ না করে প্রথমে আকাশের দিকে ছোঁড়া হতো।
আকাশ অভিমুখে যাওয়ার সময় এটি তার পূর্ণ গতিবেগ সঞ্চয় করতো। এরপর আকাশ থেকে তীব্র বিদ্যুতের গতিতে তা ধেয়ে আসতো শত্রুর বুকে।
এই অস্ত্রের গতি এতই সংহারক ছিলো যে, শত্রু একে কাটার জন্য নিজের ধনুকে তীর জোড়ার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পেতো না।

ব্রহ্মশিরা অস্ত্র - ব্রহ্মশিরা অস্ত্র ছিলো স্বয়ং ব্রহ্মাস্ত্রেরই এক চরম ও পরিমার্জিত রূপ।
এই অলৌকিক অস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, যেকোনো সাধারণ ভৌত পদার্থের মধ্যেই এর মহাশক্তি সঞ্চারিত করা যেতো - এমনকি সামান্য এক টুকরো ঘাসকেও মন্ত্রপূত করে এই মহাসংহারক অস্ত্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব ছিলো।

ব্রহ্মশিরা অস্ত্রের আবাহন মাত্রই মেঘহীন আকাশে ভয়ঙ্কর বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করতো এবং চারপাশের পরিবেশ এক গভীর আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যেতো। এর বজ্রনির্ঘোষ শব্দে পুরো আকাশ প্রকম্পিত হতো এবং গাছপালা ও বিশাল পর্বতমালাও কাঁপতে শুরু করতো।
দেবতাদের পর্যন্ত সমূলে বিনাশ করার মতো ভীষণ ক্ষমতা ছিলো এই অস্ত্রের।

শক্তি বা বসাবী শক্তি - 'বসাবী' মূলত দেবরাজ ইন্দ্রেরই অপর এক নাম। এই অস্ত্রের একটি রূপ হলো ইন্দ্রের বজ্রাস্ত্র, তবে ক্ষমতার দিক থেকে বসাবী শক্তিকে মূল বজ্রের চেয়ে কিছুটা কম শক্তিশালী মনে করা হয়।
তা সত্ত্বেও এটি ছিলো একটি 'অমোঘ অস্ত্র' - অর্থাৎ যার আঘাত কখনোই ব্যর্থ হয় না।

কর্ণ এই অমোঘ অস্ত্রটি অর্জুনকে বধ করার জন্য পরম যত্নে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের চতুর রণকৌশলে মায়াবী ঘটোৎকচ কুরুক্ষেত্রের ময়দানে এমন তাণ্ডব শুরু করে যে, কর্ণ বাধ্য হয়ে ঘটোৎকচের ওপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করে ফেলেন।
বসাবী শক্তির কোনো প্রত্যুত্তর অর্জুনের কাছে ছিলো না এবং এই একটি অস্ত্রের শক্তিতেই কৌরবেরা অর্জুনকে বধ করে মহাভারত যুদ্ধ জিতে যেতে পারতো। কিন্তু প্রভু শ্রীকৃষ্ণের তীক্ষ্ণ নজর থেকে কোনো কিছুই বাদ যায় না...

ব্রহ্মাণ্ড অস্ত্র - ব্রহ্মাস্ত্র, ব্রহ্মশিরা অস্ত্র এবং ব্রহ্মাণ্ড অস্ত্র - এই তিনটি অস্ত্রের মধ্যে ব্রহ্মাণ্ড অস্ত্রই ছিলো সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক।

যেভাবে ব্রহ্মাস্ত্রের মুখে ভগবান ব্রহ্মার একটি মাথা প্রকট হয়, ঠিক সেভাবেই ব্রহ্মাস্ত্রের পরিমার্জিত রূপ ‘ব্রহ্মশিরা’ অস্ত্রের মুখে ব্রহ্মার চারটি মাথা প্রকট হয়। আর এই সিরিজের পরবর্তী পরিমার্জিত রূপ হলো ‘ব্রহ্মাণ্ড অস্ত্র’, যার মুখে ভগবান ব্রহ্মার পাঁচটি মাথা প্রকট হতো।

এই অস্ত্রটি মূলত একটি রক্ষামূলক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যার শক্তি যেকোনো অস্ত্রকে পেছনে ঠেলে দিতে পারতো।
তবে এই অস্ত্রের শক্তিকে যদি বিরাট রূপে প্রকাশ করা হতো, তবে তা শুধু পৃথিবী নয়, বরং পুরো সৌরজগৎ পর্যন্ত ধ্বংস করতে পারতো।

পুরাণে লেখা আছে যে, ব্রহ্মাণ্ড অস্ত্রের প্রয়োগে সমুদ্র ফুটতে শুরু করে, ভূমি ও পর্বত নিজের স্থান ছেড়ে বাতাসে দুলতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত সবকিছু পুড়ে এমনভাবে ভস্ম হয়ে যায় যে, তার ছাইটুকুও অবশিষ্ট থাকে না।

পাশুপতাস্ত্র - পাশুপতাস্ত্র এমন একটি অলৌকিক অস্ত্র 'যা শুধু ধনুক থেকেই নয়, বরং চোখের ইশারায়, শব্দের নির্দেশে এবং মনে চিন্তা করার মাধ্যমেই চালানো যেতো।

মহাভারতে এটি শুধু বাণ বা তীরের রূপেই উপস্থিত ছিলো, যাকে কেবল একটি শক্তিশালী ধনুক থেকেই চালানো যেতো।
এই অস্ত্র দ্বারা করা ধ্বংসলীলা কোনোভাবেই পুনরায় ঠিক করা সম্ভব নয়।

মান্যতা রয়েছে যে, ভগবান শিব পাশুপতাস্ত্র দিয়ে দৈত্যদের সংহার করেন এবং ভগবান শিব যুগের শেষে এই পাশুপতাস্ত্র দিয়েই সৃষ্টি ধ্বংস করবেন।

ভগবান শিবের ত্রিশূলে তিনটি শূল থাকে, যেখানে পাশুপতাস্ত্রে রয়েছে চারটি শূল। এমনটা মনে করা হয় যে, শিবোর ত্রিশূল এবং তাঁর বাহন নন্দী ষাঁড়ের অপার শক্তি মিলিত হয়ে এই অস্ত্রের নির্মাণ হয়েছিলো। অর্থাৎ, এর মধ্যে নন্দীর মহাশক্তিও নিহিত রয়েছে।

​এই মূল অস্ত্রগুলো ছাড়াও মহাভারত কালে আরও অনেক অলৌকিক ও অদ্ভুত অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যেতো, যেগুলোর নাম নিম্নরূপ 👇

​পর্জন‍্য অস্ত্র
​ভার্গবাস্ত্র
​মহেন্দ্রে অস্ত্র
​গরুড় অস্ত্র
​বায়ব‍্য অস্ত্র
​একাগ্নি অস্ত্র
​পাশ অস্ত্র
​শূল অস্ত্র
​সম্মোহন অস্ত্র
​মোহিনী অস্ত্র

এই ভয়াবহ অস্ত্রগুলোর মধ্যে কোন অস্ত্রটি আপনার সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক মনে হয়, তা আমাকে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে অবশ্যই জানান।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

মিথ্যা অপবাদ আর অধর্মীদের বিষাক্ত বাক্যবাণে আজ আমি পরিশ্রান্ত।আমি হিন্দু ইতিহাসের বুক চিরে বেরিয়ে আসা অগ্নিসম তেজস্বী মহ...
16/05/2026

মিথ্যা অপবাদ আর অধর্মীদের বিষাক্ত বাক্যবাণে আজ আমি পরিশ্রান্ত।
আমি হিন্দু ইতিহাসের বুক চিরে বেরিয়ে আসা অগ্নিসম তেজস্বী মহর্ষি ভরদ্বাজ নন্দন - গুরু দ্রোণ বলছি...
​তোমরা যারা আমাকে ‘অহংকারী’ বলে আজ সাধু সেজে বসে আছো, তোমাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন - তোমরা কি আদৌও কখনো ধর্মগ্রন্থ উল্টে দেখেছো?
নাকি কেবল লোকমুখে শোনা অর্ধসত্যকে সম্বল করে এক ব্রাহ্মণের আজীবনের তপস্যাকে বিচার করতে এসেছো ?

তোমরা সেই যন্ত্রণার কী বুঝবে?
ইতিহাসের পাতায় তোমরা কেবল বীরত্বের কাহিনী পড়ো, কিন্তু এক হতভাগ্য পিতার বুকের দাবানলের খবর কি রাখো?

যখন দেখেছিলাম আমার অবোধ পুত্র অশ্বত্থামা ক্ষুধার জ্বালায় ছাতু গোলানো জলকে দুধ ভেবে পরম তৃপ্তির সাথে পান করছে, তখন অভাবের সেই নগ্ন রূপ আমার পিতৃত্বকে বিদ্ধ করেছিলো।
তোমরা কেবল অঙ্গরাজ কর্ণের দুঃখই দেখলে, যিনি আজীবন বন্ধুর রাজপ্রাসাদে রাজসুখে অতিবাহিত করলেন।

আর আমি? শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর হয়েও নিজের সন্তানের জন্য একটি গাভীর অধিকারটুকু পাইনি।
নিঃস্ব, নিরুপায় হয়ে সেদিন আমি সমাজের দ্বারে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
​সেদিন দ্রুপদের দর্পিত সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো আমার ক্ষুধার্ত পুত্র আর রিক্তহস্তা সহধর্মিণী কৃপি।
আমার কোনো ভিক্ষার অভিলাষ ছিলো না, আমি গিয়েছিলাম কেবল শৈশবের সেই পবিত্র বন্ধুত্বের অধিকারে - একটি গাভী চেয়েছিলাম মাত্র। কিন্তু ক্ষমতার মদমত্ততায় অন্ধ পাঞ্চালরাজ ভরা সভায় আমাকে চাবুকের মতো শব্দে বিদ্ধ করলেন - 'দরিদ্র আর ধনীর বন্ধুত্ব অসম্ভব।
সম্পর্কের সেই গরিমা সেদিন ধুলোয় মিশে গিয়েছিলো.... সৌজন্যের সেই সামান্যতম প্রকাশটুকুও তিনি দেখাননি।

তবুও আমার মনে কোনো অন্ধ প্রতিহিংসা ছিলো না।
যদি কেবল প্রতিশোধই কাম্য হতো, তবে আমার তপোবলে অর্জিত দিব্যাস্ত্রের এক ঝলকে সেদিনই পাঞ্চাল ভস্মীভূত হয়ে যেতো... ওই মাটিতেই বিলীন করে দিতাম আমার বন্ধুর অহঙ্কারী বংশকে। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরেছিলাম।

মনে মনে সংকল্প করেছিলাম - আমার উপযুক্ত শিষ্যই একদিন আমার বিদ্যার এবং অপমানের যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে আনবে।
দুঃখের সেই ঘন অন্ধকারেই আমি মানুষের ছদ্মবেশ আর প্রকৃত সম্পর্কের ব্যবধান চিনতে পেরেছিলাম।
​আমার গুরুদক্ষিণা ছিলো দ্রুপদের দর্প চূর্ণ করা, তার প্রাণনাশ করা নয়।

ক্ষত্রিয় দম্ভকে পরাজিত করে আমি তাকে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং অর্ধেক রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ক্ষমতার দম্ভের বিপরীতে এটাই ছিলো একজন ব্রাহ্মণের প্রকৃত উদারতা ও শ্রেষ্ঠত্ব।

শোনো হে মর্ত্যবাসী, যে শিষ্যের অটল একাগ্রতা আর সমুদ্রের মতো অসীম ধৈর্য ছিলো, সেই পার্থকেই আমি নিজ হাতে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে বসিয়েছি।
ওরে মহামূর্খরা! অন্ধ আবেগে ভেসে না গিয়ে অন্তত মহাকাব্য ও ধর্মগ্রন্থগুলো খুলে দেখো - আমি কোনোদিন কোনো যোগ্য শিষ্যকেই জ্ঞানদান থেকে বঞ্চিত করিনি।

আমি অঙ্গরাজ কর্ণকেও বীরত্বের সমস্ত শিক্ষা দিয়েছিলাম।
তার শৌর্য আর নিষ্ঠায় কোনো কমতি ছিলো না, তবুও আমি তাকে কেবল ব্রহ্মাস্ত দিতে অস্বীকার করেছিলাম।
কারণ, আমার দিব্যদৃষ্টির সামনে তখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো এক চরম সত্য - আমার সেই প্রিয় শিষ্যকে রাজসিক দম্ভ আর অধর্মের মায়াজাল আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলো।

যে যোদ্ধা সয়ং মহাগুরু পরশুরামের পবিত্র সান্নিধ্যেও মিথ্যার আশ্রয় নিতে দ্বিধা করেনি, এমনকি কঠোর অভিশাপ পাওয়ার পরেও যে ধর্মশাস্ত্রের গূঢ় ও পবিত্র অর্থ অনুধাবন করতে পারেনি..... তোমরাই বিচার করো, তেমন অস্থির চিত্তের যোদ্ধা কি ব্রহ্মাস্ক্রের মতো মহাপ্রলয়ঙ্কারী শক্তির ভার সইবার যোগ্য ছিলো?
যার জীবনের একমাত্র ব্রত কেবল অর্জুনকে বধ করা, যে কেবল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে, সে কি কোনোদিন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কল্যাণ করতে পারতো?

কোন গ্রন্থে লেখা আছে যে আমি কর্ণকে ধিক্কার দিয়েছি? যার নিয়তিতে আমার মৃত্যু লেখা ছিলো, সেই ধৃষ্টদ্যুম্নকেও আমি শিষ্য হিসেবে স্বীকার করে অস্ত্রশিক্ষা দিয়েছি।
​মনে রেখো, অস্ত্র কেবল পেশিশক্তি নয়, তা ধারণ করার জন্য প্রয়োজন অন্তরের শুদ্ধতা আর ধর্মের প্রতি অবিচল আস্থা।

যখনই একলব্যের প্রসঙ্গ আসবে, ইতিহাসের দরবারে আমার ওপর হাজারো কলঙ্ক লেপন করা হবে। শিক্ষা দিয়ে পয়সা খেয়ে, নিম্নবর্গের রক্ত চুষে খাওয়া এক ‘অধর্মী’ ও ‘নিষ্ঠুর’ গুরু হিসেবে তোমরা আমাকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। কিন্তু আবেগ সরিয়ে রেখে একবার রাজধর্মের দর্পণে তাকিয়ে দেখো।

মনে রেখো, মগধ রাজের একান্ত অনুগত সেই ব্যাধপুত্রকে রণশিক্ষা দেওয়াটা আমার কাছে কেবল ব্যক্তিগত কোনো বিষয় ছিলো না - তা ছিলো সমগ্র আর্যাবর্তের নিরাপত্তার প্রতি এক চরম হুমকি।

একলব্য ছিলো জরাসন্ধের মিত্র। সেই জরাসন্ধ, যে মথুরাকে সতেরো বার আক্রমণ করে ধর্মের গ্লানি ঘটিয়েছিলো এবং বিনাশ করতে চেয়েছিলো যদুবংশকে।
হস্তিনাপুরের প্রধান সমর শিক্ষক হিসেবে আমি জানতাম, শত্রুর মিত্রকে অপরাজেয় করে তোলা মানে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনা।

একলব্যের বৃদ্ধাঙ্গুলির প্রতি আমার কোনো ব্যক্তিগত মোহ ছিলো না, ছিলো হস্তিনাপুরের সিংহাসনের প্রতি আমার চরম দায়বদ্ধতা।
একজন সেনানায়ক হিসেবে আমার ধর্ম ছিলো কুরুরাজ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা, কোনো সম্ভাব্য শত্রুকে ব্রহ্মাস্ত্রের কৌশলে দক্ষ করে তোলা নয়।

আজকের যুগে দাঁড়িয়ে তোমরা যারা নীতি-কথা বলো, তারা কি নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেছো - তোমরা কি আজ কোনো পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী বা শত্রুপক্ষীয় জঙ্গিকে নিজের দেশের সামরিক অস্ত্রাগারের চাবিকাঠি কিংবা পারমাণবিক সংকেত সানন্দে তুলে দেবে?

যদি না দাও, তবে কেনো আমাকে অপরাধী করো? আমার সেই সিদ্ধান্ত কোনো বর্ণের লড়াই ছিলো না, তা ছিলো এক রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষার কঠোর রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল।

​হ্যাঁ, আমি স্বীকার করি - নুন খেয়েছি যাদের, সেই কৌরবদের পক্ষে লড়তে আমি বাধ্য হয়েছিলাম।
যে হস্তিনাপুরের রাজকীয় অন্ন আমার ও আমার পুত্রের ক্ষুধা নিবারণ করেছে, সেই সিংহাসনের প্রতি আনুগত্য ছিলো আমার কুলধর্ম।
আমি ছিলাম রাজধর্ম আর পরিস্থিতির কাছে নিরুপায়... একদিকে বিবেকের দংশন, অন্যদিকে প্রতিজ্ঞার শৃঙ্খল।

আমার পাপ শুধু এটুকুই ছিলো যে, আমি পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলাম।
দরিদ্রের পর্ণকুটিরে দুগ্ধের বদলে পিটুলি গোলা জল খেয়ে বড়ো হওয়া সেই অশ্বত্থামা যখন রুদ্রের অংশ হয়ে জন্মেছিলো, তখন তাকে আমি সাধারণ মানুষের মতো মায়ায় বাঁধতে চেয়েছিলাম।
এক অপরাজেয় দেবত্বকে আমি পিতৃত্বের ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আটকে রাখার যে ভুল করেছি, তার দণ্ড আজও আমি বয়ে বেড়াচ্ছি।

আজও আমি অনুশোচনার আগুনে পুড়ছি, কারণ আমিই ছিলাম অভিমন্যুর সেই নির্মম চক্রব্যূহের কারিগর।
ষোলো বছরের সেই কিশোরের রক্তে আমার শ্বেতবস্ত্র রঞ্জিত হয়েছিলো।
কিন্তু ইতিহাসের পাতায় মহাকালের সাক্ষী হয়ে মনে রেখো - সেই অভেদ্য চক্রব্যূহ ভেদ করার ক্ষমতা কেবল আমার প্রিয় শিষ্য অর্জুন আর মহাবীর অভিমন্যুরই ছিলো।
এটি যেমন আমার পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ, তেমনি এক গুরুর জন্য চরম বিয়োগান্তকও বটে।
আমি এমন এক স্রষ্টা, যার সৃষ্টিই শেষ পর্যন্ত তার বিনাশ আর বিলাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

আমার তেজ তখনই স্তিমিত হয়েছিলো, যখন ধর্মের গ্লানি দেখে আমি অস্ত্র ত্যাগ করে যোগস্থ হয়েছিলাম।
ধৃষ্টদ্যুম্ন আমাকে বধ করেনি, আমি স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করেছিলাম।
আমার করুণার কথা তখনই প্রকাশ পেয়েছিলো, যখন স্বয়ং মাধব আমার হৃদয় হাতড়ে দেখেছিলেন। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন - "গুরু দ্রোণই শ্রেষ্ঠ গুরু, যিনি ধনুর্ধরদের জন্মদাতা।"
​আমার জন্ম ছিলো দিব্য, কর্ম ছিলো দিব্য আর আমি রণক্ষেত্রে দিব্য শৌর্য প্রদর্শন করেছি।
ভরদ্বাজ মুনির দ্রোণ থেকে আমার জন্ম, তাই আমি দ্রোণাচার্য।
আমি ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক নায়ক - যে সমাজ থেকে অপমান পেয়েছে কিন্তু সমাজকে দিয়ে গেছে সর্বশ্রেষ্ঠ বীরদের।

"হে কলিযুগের ছদ্মবেশী বিপ্রগণ, তোমাদের এই আস্ফালন কি তবে সত্যের সূর্যকে আড়াল করার এক বৃথা চেষ্টা?
ভালো করে চেয়ে দেখো আমার দিকে - আমি দ্রোণ! আমিই সেই মহীরুহ, যেখানে শাস্ত্রের গাম্ভীর্য আর অস্ত্রের ক্ষিপ্রতা মিলেমিশে একাকার হয়েছে। তোমরা কি সত্যিই বিশ্বাস করো যে, তোমাদের এই ভণ্ডামি ভরা কপট পাণ্ডিত্য দিয়ে আমার ত্যাগের মহিমা আর জ্ঞানের হিমালয়কে পরিমাপ করা সম্ভব?

বিস্মৃত হয়ো না, আমি সেই গান্ধীবধারী অর্জুনের গুরু! যার একাগ্রতা আর শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, সেই বীরশ্রেষ্ঠকে গড়ে তুলেছি আমিই।
আমার শিষ্য যদি বিশ্বজয়ী হতে পারে, তবে চিন্তা করো তার গুরুর স্থান কতো উচ্চে! মহাভারতের রণক্ষেত্রে আমি যে ধর্মের জয়ধ্বনি শুনেছি এবং যা স্বয়ং ঈশ্বর নির্দেশিত, তা তোমাদের মতো ক্ষুদ্রমনাদের অনুভবের অতীত।

আজ যদি আমার অর্জুন এখানে থাকতো, তবে তোমাদের এই স্পর্ধার উত্তর দেওয়ার আগেই তার গাণ্ডীবের অমোঘ টঙ্কারে মেদিনী থরথর করে কেঁপে উঠতো!
ব্রহ্মাণ্ড সাক্ষী, তার গুরুর এই অপমান সহ্য করার আগে সে বিশ্বদহন করতেও দ্বিধা করতো না। কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্রে যার শরসন্ধানে ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারিত হয়েছে, সেই বীর আজ দিগ্বিজয় শেষে তার সমস্ত শৌর্য আমার এই ধুলিমলিন চরণে সঁপে দিতো।

তার ভক্তির সেই লেলিহান অগ্নিশিখায় তোমাদের মতো পাষণ্ডদের আস্ফালন মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যেত।
ওরে অর্জুন! তোর অনুপস্থিতি আজ এই গুরুর হৃদয়কে বজ্রাঘাতের মতো বিদীর্ণ করছে।
তোর অভাব আজ আমাকে বড়ো বেশি নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

আমার জীবন আর কর্মকে যারা বিচারের নিক্তিতে মাপতে আসো, তারা ধৃষ্টতা দেখিও না।
মনে রেখো, সূর্যের বিচার করার যোগ্যতা কোনো মশালধারীর নেই। মহত্ত্ব আর শ্রেষ্ঠত্বের যে সিংহাসনে আমি আসীন, সেখানে তোমাদের এই ক্ষুদ্র বুদ্ধির ডোর পৌঁছানো অসম্ভব। দ্রোণের বিশালত্বকে বাঁধার দুঃসাহস না করে, বরং নিজের অন্তরের অন্ধকার দূর করার চেষ্টা করো ।"

আমি মহর্ষি ভরদ্বাজ নন্দন আচার্য দ্রোণ!

আপনারা যদি চান দ্রোণাচার্যের সম্পূর্ণ জীবনের ওপরে লেখা আসুক... 'তাহলে সেটা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।

Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

Address

Burdwan

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Puran Kotha Samgra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Puran Kotha Samgra:

Share