19/08/2026
নমস্কার, প্রিয় পাঠক-পাঠিকা বৃন্দ! আমি আপনাদের লেখক SB Bubai (Sangram), আবার ফিরে এলাম মহাভারতের সেই মহাকাব্যিক ও রোমাঞ্চকর জগৎ নিয়ে।
"রাত্রির অন্ধকারে যখন আলো হয়ে উঠেছিলো অস্ত্রের ঝলকানি, ঠিক তখনই এক পরম মিত্রের বুকে খড়্গ তুলে ধরতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি অশ্বত্থামা!"
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কৌরব শিবিরের দুই মহাশক্তিধর যোদ্ধা - অশ্বত্থামা ও কর্ণ। কিন্তু মহাভারতের সেই ভয়াল রাত্রি যুদ্ধে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত এসেছিলো, যখন ক্রোধান্ধ অশ্বত্থামা নিজের পরম সখাপ্ৰতিম কর্ণকে বধ করার জন্য তলোয়ার উঁচিয়ে উন্মত্তের মতো ধাওয়া করেছিলেন!
কী এমন ঘটেছিল সেই রাতে?
কোন্ তিক্ত সত্য বা মারাত্মক অপমানে শান্ত পরমজ্ঞানী দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা রূপ নিয়েছিলেন এক বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির?
অশ্বত্থামার সেই সংহারী ক্রোধ এবং কর্ণের সাথে তাঁর সেই ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আসল রহস্য জানতে - পড়ে ফেলুন আজকের পর্বটি শেষ পর্যন্ত!
এই রাতের যুদ্ধে পাণ্ডবদের অতুলনীয় শক্তি দেখে দুর্যোধন কর্ণের কাছে গেলেন এবং বললেন - "হে মিত্রবৎসল কর্ণ! মিত্রের কর্তব্য পালনের উপযুক্ত সময় এসেছে।
ক্রোধে ভরা পাঞ্চাল, মৎস্য তথা পাণ্ডব মহারথীরা গর্জন করে সাপের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে... তাদের চারদিক ঘিরে থাকা আমার সমস্ত মহারথী যোদ্ধাদের তুমি আজকে যুদ্ধভূমিতে রক্ষা করো। দেখো, এই বিজয়ে প্রফুল্ল হওয়া পাণ্ডব তথা ইন্দ্রের সমান পরাক্রমী বহু সংখ্যক পাঞ্চাল মহারথী কেমন উৎসাহে জয়ধ্বনি করছে।"
দুর্যোধনের কথা শুনে কর্ণ বললেন - "রাজন, যদি সাক্ষাৎ ইন্দ্রও এখানে কুন্তীকুমার অর্জুনের রক্ষার জন্য চলে আসেন, তবুও তাঁকে শীঘ্রই পরাজিত করে আমি পাণ্ডুপুত্র অর্জুনকে অবশ্যই বধ করবো। হে ভরতনন্দন, তুমি ধৈর্য ধারণ করো... আমি তোমার কাছে সত্য প্রতিজ্ঞা করে বলছি যে, যুদ্ধস্থলে আসা পাণ্ডব তথা পাঞ্চালদের নিশ্চয়ই বধ করবো।
যেভাবে অগ্নিকুমার কার্তিক তারকাসুরের বিনাশ করে ইন্দ্রকে বিজয়ী করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আমি আজ তোমাকে জয় প্রদান করবো।
কুন্তীর সব পুত্রের মধ্যে অর্জুনই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, তাই আমি ইন্দ্রের দেওয়া অমোঘ শক্তি অর্জুনের ওপরে প্রয়োগ করবো।
মহান ধনুর্ধর অর্জুন নিহত হলে তার ভাইয়েরা তোমার বশীভূত হবে অথবা পুনরায় বনে চলে যাবে। আমি আমার বাণসমূহ দিয়ে রণভূমিতে আসা পাঞ্চাল এবং বৃষ্ণিবংশীদেরও টুকরো টুকরো করে সমগ্র পৃথিবী তোমাকে উপহার দেবো।"
কর্ণ যখন এই কথা দুর্যোধনকে বলছিলেন,.. তখনই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শরদ্বানপুত্র মহাবলী কৃপাচার্য হাসিমুখে এসে কর্ণকে বললেন - "কর্ণ, খুব ভালো! হে রাধাপুত্র, যদি কথা বললেই কাজ সিদ্ধ হয়ে যেতো, তাহলে তোমার মতো সহায় পেয়ে কুরুরাজ দুর্যোধন ধন্য হয়ে যেতেন!
কর্ণ, তুমি কুরুনন্দন দুর্যোধনের সামনে তো খুব বাড়িয়ে কথা বলো... কিন্তু কোনোদিন তোমার পরাক্রম দেখতে পাওয়া যায়নি, আর না তো তার কোনো ফল সামনে এসেছে! সুতনন্দন, পাণ্ডুপুত্রদের সঙ্গে যুদ্ধস্থলে তোমার অনেকবার সামনাসামনি হয়েছে, কিন্তু সর্বত্রই পাণ্ডবদের কাছে তুমি পরাস্ত হয়েছ।
'কর্ণ' মনে আছে তোমার? যখন গন্ধর্বরা দুর্যোধনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো? সেই সময় সমস্ত সেনা তো যুদ্ধ করছিলো, আর তুমি একাই সবার আগে পলায়ন করেছিলে!
কর্ণ,... বিরাটনগরেও সম্পূর্ণ কৌরব সেনাবাহিনী একত্রিত হয়েছিলো, কিন্তু অর্জুন একাই সবাইকে হারিয়ে দিয়েছিলো... আর সেখানে তুমিও ছিলে! কর্ণ, তুমিও তোমার ভাইদের সঙ্গে পরাস্ত হয়েছিলে। রণভূমিতে একা অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি তো তোমার নেই... তাহলে শ্রীকৃষ্ণসহ সম্পূর্ণ পাণ্ডবদের জয় করার উৎসাহ কীভাবে দেখাও? যাও, চুপচাপ যুদ্ধ করো! তুমি বচালতা অনেক করো... যে কিছু না বলেই পরাক্রম দেখায়, সেই-ই প্রকৃত শূরবীর, আর সেটাই সৎপুরুষের ব্রত।
যাও কর্ণ, তুমি শরৎকালের নিষ্ফল মেঘের মতো গর্জন করেও নিষ্ফলই প্রমাণ হও, কিন্তু রাজা দুর্যোধনের এই কথা বোঝার ক্ষমতা নেই। রাধানন্দন, যতোক্ষণ তুমি অর্জুনকে না দেখছো, ততক্ষণ গর্জন করে নাও... কারণ যিনি নিজের পরাক্রমে ভগবান শংকরকেও সন্তুষ্ট করেছেন, সেই অর্জুনকে কে বধ করতে পারবে?"
কৃপাচার্যের এরকম কথা শুনে কর্ণ বিষণ্ণ হয়ে গেলেন এবং তিনি কৃপাচার্যকে বললেন - "শূরবীরেরা বর্ষাকালের মেঘের মতো সব সময় গর্জন করে আর ঠিক ঋতুতে রোপণ করা বীজের মতো শীঘ্রই ফলও দেয়।
যুদ্ধস্থলে মহৎ ভার বহনকারী শূরবীর যদি যুদ্ধের মধ্যে নিজের প্রশংসার কথা বলেও ফেলে, তবে আমি তাতে তাদের কোনো দোষ দেখছি না।
পুরুষ নিজের মন থেকে যে ভার বহনের নিশ্চয়তা করে, দেবতা অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন। আমি মন থেকে যে কার্যভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটার সিদ্ধিতেই আমার এই দৃঢ় নিশ্চয়তা সহায় হচ্ছে।
হে বিপ্রবর, আমি কৃষ্ণ ও সাত্যকি সহ সমস্ত পাণ্ডবদের যুদ্ধে বধের নিশ্চয়তা করে যদি গর্জন করে থাকি, তবে তাতে তোমার কী ক্ষতি হচ্ছে? শরৎকালের মেঘের মতো শূর বীরেরা ব্যর্থ গর্জন করে না... বিদ্বান পুরুষ প্রথমে নিজের সামর্থ্য বোঝেন, তারপর গর্জন করেন।
হে গৌতম, আজ আমি রণভূমিতে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনকে জয় করার জন্য মনে মনে উৎসাহ রাখি, এজন্যই গর্জন করি।।
হে ব্রাহ্মণ, আমার এই গর্জনের ফল দেখে নিয়ো; আমি যুদ্ধে কৃষ্ণ, সাত্যকি তথা অনুগামীদের সহ পাণ্ডবদের বধ করে এই ভূমণ্ডলের নিষ্কণ্টক রাজ্য দুর্যোধনকে দান করবো।"
এর পর কৃপাচার্য বললেন - "হে সূতপুত্র, তোমার এই খামখেয়ালি গল্পের নিরর্থক প্রলাপ আমার কাছে বিশ্বাসের যোগ্য নয়।
কর্ণ, তুমি সর্বদাই শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন তথা পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠিরের ওপরে দোষারোপ করে থাকো, কিন্তু বিজয় সেই পক্ষেরই হবে যেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন বিদ্যমান আছেন।
যদি দেবতা, গন্ধর্ব, যক্ষ, মনুষ্য, নাগ ও রাক্ষসেরাও কবচ পরিধান করে যুদ্ধের জন্য চলে আসে, তবুও রণভূমিতে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনকে কেউ জয় করতে পারবে না।
যিনি ধর্মপুত, ব্রহ্মভক্ত, সত্যবাদী, জিতেন্দ্রিয়, গুরু ও দেবতাকে সমাদর করেন, সর্বদা ধর্মপরায়ণ, অস্ত্রবিদ্যায় বিশেষ কৌশলী, ধৈর্যবান ও কর্তব্যপরায়ণ - সেই যুধিষ্ঠির! তাঁর বলবান ভাইয়েরাও সম্পূর্ণ অস্ত্রবিদ্যার কলা আয়ত্ত করেছেন।
তাঁরা গুরুসেবাপরায়ণ, বিদ্বান ও ধর্মতৎপর... তাঁদের সম্বন্ধী ও বান্ধবদের মতো পরাক্রমী যোদ্ধারা তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁরা প্রহার করায় দক্ষ। যাঁদের নাম তুমি জানো, তাও আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিতে চাই - ধৃষ্টদ্যুম্ন, শিখণ্ডী, চন্দ্রসেন, রুদ্রসেন, ধ্রুবধর, দামচন্দ্র, সিংহচন্দ্র, দ্রুপদের পুত্রগণ তথা মহান অস্ত্রবেত্তা দ্রুপদ, যাঁর জন্য অনেক যোদ্ধা যুদ্ধে নিজের প্রাণ বলিদান দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।
যাঁদের পক্ষে রাক্ষস ঘটোৎকচের মতো মহান যোদ্ধা যুদ্ধ করছে, তাঁদের তুমি আঘাত করতে পারবে না! পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠিরের এরকম তথা আরও অনেক গুণ আছে... ভীমসেন আর অর্জুন যদি চান, তবে নিজের অস্ত্রবল দিয়ে দেবতা, অসুর, মনুষ্য, যক্ষ, রাক্ষস, ভূত ও নাগসহ সম্পূর্ণ জগৎ বিনাশ করতে পারেন!
যুধিষ্ঠিরও রোষভরা দৃষ্টিতে তাকালে এই ভূমণ্ডলকে ভস্ম করতে পারেন।
কর্ণ,.. যাঁদের জন্য অনন্ত বলশালী ভগবান শ্রীকৃষ্ণও কবচ ধারণ করে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন... সেই শত্রুকে যুদ্ধে জয় করার সাহস তুমি কীভাবে করো? হে সূতপুত্র, তুমি যে সর্বদাই যুদ্ধভূমিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে যুদ্ধ করার উৎসাহ দেখাও, এটা তোমার মহান ও অমার্জনীয় অপরাধ!"
কৃপাচার্যের এই কথা শুনে রাধাপুত্র কর্ণ খিলখিল করে হেসে ফেললেন এবং শরদ্বানপুত্র গুরু কৃপাচার্যকে বললেন - "হে ব্রাহ্মণ, পাণ্ডবদের বিষয়ে তুমি যা বললে সেগুলো সব সত্য। শুধু এটাই নয়, পাণ্ডবদের মধ্যে আরও অনেক গুণ আছে... এটাও ঠিক যে কুন্তীর পুত্রদের রণভূমিতে ইন্দ্র, আদি দেবতা, দৈত্য, যক্ষ, গন্ধর্ব, পিশাচ, নাগ ও রাক্ষসেরাও জয় করতে পারবে না; কিন্তু আমি ইন্দ্রের দেওয়া অস্ত্র দিয়ে কুন্তীর পুত্রদের জয় করবো। হে ব্রাহ্মণ, আমাকে ইন্দ্র অমোঘ শক্তি দিয়ে রেখেছেন, যা দিয়ে আমি যুদ্ধে সব্যসাচী অর্জুনকে অবশ্যই বধ করবো।
পাণ্ডুপুত্র অর্জুন নিহত হওয়ার পর, তাকে ছাড়া তার সহোদর ভাইয়েরা কীভাবে এই পৃথিবীতে রাজ্য ভোগ করবে?
তারা সবাই বিনষ্ট হয়ে গেলে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে এবং সারা পৃথিবীর ওপরে রাজা দুর্যোধনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। হে ব্রাহ্মণ, এই সংসারে সুনীতিপূর্ণভাবে সব কাজ সিদ্ধ হয়, এতে সংশয় নেই।
এই কথা বুঝেই আমি গর্জন করি... তুমি তো ব্রাহ্মণ, তার ওপরে বৃদ্ধ। তোমার মধ্যে যুদ্ধ করার শক্তিই নেই। এরপরও তুমি কুন্তীর পুত্রদের প্রতি স্নেহ রাখো, এজন্য মোহবশে আমার অপমান করছো।
দুর্ভীতি ব্রাহ্মণ, তুমি যদি পুনরায় এরকম আমার অপ্রিয় লাগে সেরকম কথা বলো, তবে আমি তলোয়ার তুলে তোমার জিব কেটে ফেলবো!
হে দুর্বুদ্ধি ব্রাহ্মণ, তুমি যে যুদ্ধস্থলে সমস্ত কৌরব সেনাকে ভয় দেখানোর জন্য পাণ্ডবদের গুণগান করছো, সেই বিষয়ে আমি যে যথার্থ কথা বলছি তা শুনে নাও - দুর্যোধন, দ্রোণ, শকুনি, দুর্মুখ, জয়, দুঃশাসন, মদ্ররাজ শল্য, তুমি স্বয়ং, সোমদত্ত, ভূরিশ্রবা, অশ্বত্থামা - এই যুদ্ধকুশল বীরেরা যেখানে কবচ ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে কোন মনুষ্য তাঁদের জয় করতে পারবে?
শত্রু ইন্দ্রের সমতুল্য বলবান হলেও এদের কিছুই করতে পারবে না... যাঁরা শূরবীর, অস্ত্রজ্ঞ, বলবান, সর্বপ্রাপ্তির অভিলাষী, ধর্মজ্ঞ এবং যুদ্ধকৌশলে দেবতাদেরও পরাজিত করতে পারেন, সেই বীরগণ কুরুরাজ দুর্যোধনের জয় চেয়ে পাণ্ডবদের বধের ইচ্ছায় সংগ্রামে কবচ বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকবেন।
আমি তো বড়ো বড়ো বলবান যোদ্ধার জয়লাভকেও দেবতাদের অধীন মনে করি। দৈবাধীন হওয়ার কারণেই মহাবাহু ভীষ্ম আজ হাজার বাণে বিদ্ধ হয়ে রণভূমিতে শয়ন করে আছেন।
বিকর্ণ, চিত্রসেন, বাহ্লিক, ভূরিশ্রবা, জয়দ্রথ, জলসন্ধ, সুদক্ষিণ, রথীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পরাক্রমী ভগদত্ত - আরও অনেক রাজা যাঁরা দেবতাদের জন্যও অত্যন্ত দুর্জয় ছিলেন, কিন্তু সেই প্রবল শূরবীর নরেশদেরও পাণ্ডবরা যুদ্ধে বধ করেছে; তুমি এতে দৈবানুকূল্য ছাড়া দ্বিতীয় আর কী কারণ মনে করো?
হে ব্রাহ্মণ, তুমি দুর্যোধনের যে শত্রুদের সর্বদা গুণগান করো, তাদেরও তো হাজার হাজার শূরবীর মারা গেছে! কৌরব ও পাণ্ডব উভয় দলেরই সেনা প্রতিদিন বিনষ্ট হচ্ছে... আমি তো এতে পাণ্ডবদের বিশেষ কোনো প্রভাব দেখতে পাচ্ছি না।
ব্রাহ্মণ, তুমি যাদের সর্বদা বলবান মনে করো, তাদের সাথেই আমি সংগ্রামভূমিতে দুর্যোধনের লাভের জন্য পুরো শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবো; জয় তো দেবতার অধীন!"
কর্ণ যখন এসব কথা কৃপাচার্যকে বলছিলেন, তখন এসব কথা অশ্বত্থামা শুনছিলেন।
কর্ণকে কটু বচন বলতে দেখে অশ্বত্থামা দ্রুত তলোয়ার তুলে কর্ণের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। যেভাবে সিংহ হাতির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ঠিক সেভাবেই প্রচণ্ড ক্রোধে ভরা দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা কুরুরাজ দুর্যোধনের সামনে কর্ণের ওপরে আক্রমণ করলেন।
অশ্বত্থামা বললেন - "দুর্বুদ্ধি, নরাধম! আমার মামা সম্পূর্ণ জগতের শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর ও শূরবীর।
তিনি অর্জুনের সত্য গুণের ব্যাখ্যা করছিলেন, তাও তুই হিংসার কারণে নিজের বীরত্বের গল্প বানিয়ে ও অহংকারে মত্ত হয়ে আজ যুদ্ধে কাউকে গণনা না করে তাঁকে অপমান করছিস... এটার কারণ কী?
যখন যুদ্ধস্থলে গাণ্ডীবধারী অর্জুন তোকে পরাস্ত করে, তোকে দেখতে দেখতেই জয়দ্রথকে বধ করেছিলো? সেই সময় তোর পরাক্রম কোথায় ছিলো? তোর অস্ত্রশস্ত্র কোথায় চলে গিয়েছিলো.. রে সূতধম? যিনি সমরাঙ্গনে প্রথমে সাক্ষাৎ মহাদেবের সাথে যুদ্ধ করেছেন, তাঁকে শুধু মনোরথ দিয়ে জয়ের ব্যর্থ ইচ্ছা প্রকাশ করছিস!
দুর্বুদ্ধি,... যিনি সমস্ত সস্ত্রধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তথা শ্রীকৃষ্ণের সাথে থাকার কারণে যাঁকে ইন্দ্রসহ সব দেবতা ও অসুরেরা জয় করতে পারবে না,..........।
সেই অপরাজিত বীর অর্জুনকে জয় করার জন্য এই রাজাদের সামনে তোর কী শক্তি আছে?
দুর্বুদ্ধি, নরাধম কর্ণ! তুই দাঁড়িয়ে দেখ, আমি এখনই তোর মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দিচ্ছি!"
এইভাবে বেগে উঠে আসা অশ্বত্থামাকে মহা তেজস্বী রাজা দুর্যোধন তথা মনুষ্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কৃপাচার্য আটকে দিলেন।
কর্ণ বললেন - "কুরুশ্রেষ্ঠ, এই দুর্বুদ্ধি ও নীচ ব্রাহ্মণ নিজেকে খুব শূরবীর ভাবছে! যদি যুদ্ধ করা জানা থাকে তবে ওকে ছেড়ে দাও, আজ সে আমার পরাক্রম দেখুক!"
অশ্বত্থামা বললেন - "দুর্বুদ্ধি, আমি তোর এই অপরাধ ক্ষমা করলাম... তোর এই বেড়ে যাওয়া অহংকার অর্জুনই চূর্ণ করবে।"
তারপর তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থামাতে থামাতে দুর্যোধন বললেন - "পরকে সম্মানকারী অশ্বত্থামা প্রসন্ন হন, আর আপনার ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
কর্ণের ওপরে আপনার কোনো প্রকার ক্রোধ করা উচিত নয়... আপনার ওপরে, কর্ণের ওপরে তথা কৃপাচার্য, দ্রোণাচার্য, মদ্ররাজ শল্য ও শকুনির ওপরে মহান কার্যভার রাখা হয়েছে, আপনি প্রসন্ন হন।"
এটি ছিলো মহাভারতের দ্রোণ পর্বের ১৫৮তম ( ১৩৩-১৩৪) অধ্যায়।
এটার পরবর্তী ঘটনা যদি জানার ইচ্ছা হয়... তাহলে সেটা কমেন্ট বলবেন।
Writer - SB Bubai (Sangram)
নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।
আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।
(End)
Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.