Puran Kotha Samgra

Puran Kotha Samgra যদি আপনি ইতিহাস ও ধর্মীয় বিষয়ে আগ্রহী হন এবং গভীর আলোচনায় অংশ নিতে চান, তাহলে এই পেজটি আপনার জন্য.....,,. আসুন, একসাথে সত্যের পথে চলি।
(1)

22/08/2026

মহিষাসুরের জন্ম রহস্য 😧

অপ্সরাদের শুধু রূপবতী বা স্বর্গের নর্তকী হিসেবে দেখা হলেও, ভারতীয় পৌরাণিক ইতিহাস ও মহাভারতের গভীরে তাঁদের অস্তিত্ব কেবল...
22/08/2026

অপ্সরাদের শুধু রূপবতী বা স্বর্গের নর্তকী হিসেবে দেখা হলেও, ভারতীয় পৌরাণিক ইতিহাস ও মহাভারতের গভীরে তাঁদের অস্তিত্ব কেবল বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না।
অপ্সরাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো - তাাঁরা ছিলেন স্বর্গলোকের সবচেয়ে স্বাধীন, ক্ষমতাবান এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত নারী সত্তা।

‘অপ্‌’ অর্থ জল এবং ‘সৃ’ অর্থ বিচরণ করা। সমুদ্রমন্থনের সময় ক্ষীরসমুদ্রের জলমন্থন থেকে তাঁদের উৎপত্তি।
অন্যান্য দেবী বা নারীদের মতো অপ্সরাদের কোনো একক পতি, গৃহ বা পারিবারিক বন্ধন নেই ।
প্রাচীন সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁরাই ছিলেন একমাত্র নারী সমাজ, যারা সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিজস্ব ইচ্ছার মালিক এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সব ধরণের সামাজিক ও বৈবাহিক বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত।

অপ্সরাদের সৌন্দর্য কেবল নান্দনিক না, তা দেবলোক ও ইন্দ্রের সবচেয়ে বড়ো রাজনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার।

মর্ত্যের কোনো ঋষি বা মানব যখন কঠোর তপস্যা করে ইন্দ্রের সিংহাসনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতেন, তখন কোনো সেনাবাহিনী নয় - ইন্দ্র পাঠাতেন অপ্সরাদের।

সুন্দ ও উপসুন্দ নামক দুই অসুর ভাইকে ধ্বংস করতে বিশ্বকর্মা তিলোত্তমাকে সৃষ্টি করেছিলেন। তিলোত্তমার রূপে মুগ্ধ হয়ে দুই ভাই পরস্পরকে হত্যা করে।

ঋষি বিশ্বামিত্রের কঠোর তপস্যা ভঙ্গ করতে মেনকাকে ব্যবহার করা হয়, যার পরিণতিতে জন্ম নেন মহাভারতের অন্যতম মূল চরিত্র শকুন্তলা।

স্বর্গলোকের সবচেয়ে সুন্দরী অপ্সরা উর্বশী যখন পাণ্ডব অর্জুনের প্রতি অনুরাগী হন, তখন অর্জুন তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন।
কারণ উর্বশী ছিলেন পুরূরবার স্ত্রী, যাঁর বংশে অর্জুনের জন্ম। ফলে অর্জুন তাঁকে 'মাতা' হিসেবে সম্বোধন করেন। একজন অপ্সরাকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা স্বর্গেও বিরল ঘটনা ছিলো।
ক্রুদ্ধ হয়ে উর্বশী অর্জুনকে নপুংসক হওয়ার অভিশাপ দেন, যা পরবর্তীতে অজ্ঞাতবাসের সময় অর্জুনকে 'বৃহন্নলা' রূপ ধারণ করে আত্মগোপন করতে সাহায্য করেছিলো।

মহাকাব্যের অনুসারে, যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব বীর ধর্মযোদ্ধা প্রাণ ত্যাগ করতেন, অপ্সরাগণই দিব্য রথে করে তাঁদের আত্মা স্বর্গে নিয়ে যেতেন এবং স্বর্গের সুখে তাঁদের সেবা করতেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অপ্সরাগণ কেবল স্বর্গের রূপসী নারী ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন নিয়তি, সময় এবং দেবতাদের ইচ্ছাপূরণের এক অমোঘ মাধ্যম।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

একদা চন্দ্রবংশীয় রাজা কার্তবীর্যার্জুন ( সহস্রার্জুন) শিকার সূত্রে ভ্রমণ করতে করতে মহর্ষি জমদগ্নির আশ্রমে উপস্থিত হন।মহ...
21/08/2026

একদা চন্দ্রবংশীয় রাজা কার্তবীর্যার্জুন ( সহস্রার্জুন) শিকার সূত্রে ভ্রমণ করতে করতে মহর্ষি জমদগ্নির আশ্রমে উপস্থিত হন।

মহর্ষি তাঁর অলৌকিক হোমধেনুর ( কামধেনু) কৃপায় রাজাকে সমগ্র সৈন্যসামন্তসহ সসম্মানে বিপুল আতিথ্য প্রদান করেন। রাজা আশ্রম ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর, কার্তবীর্যার্জুনের পুত্রেরা অন্যায়ভাবে আশ্রমে পুনরায় ফিরে আসে। তারা মহর্ষি জমদগ্নিকে লাঞ্ছিত করে আশ্রম থেকে কামধেনুকে বলপূর্বক হরণ করে নিজেদের রাজধানী মহিষ্মতীর দিকে নিয়ে যায়।

আশ্রমে ফিরে পরশুরাম পিতা-মাতার অপমান ও অশ্রুপাত দেখে ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠেন। তিনি একাকী তাঁর বিখ্যাত 'পরশু' ( মহাদেবের প্রদত্ত কুঠার), ধনু এবং অক্ষয় তূণীর কাঁধে নিয়ে মহিষ্মতী নগরীর দিকে দ্রুত ধাওয়া করেন।

​পরশুরাম মহিষ্মতীর সিংহদ্বারে পৌঁছে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কার্তবীর্যার্জুন প্রথম পর্যায়ে পরশুরামকে একজন সাধারণ ঋষিপুত্র মনে করে তাঁর বিরুদ্ধে মহিষ্মতীর বিশাল চতুরঙ্গিনী সেনা ( রথ, হস্তী, অশ্ব ও পদাতিক বাহিনী) প্রেরণ করেন।

পরশুরাম একা দাঁড়িয়ে পরম বেগে তাঁর পরশু এবং বাণ চালনা করতে শুরু করেন। তিনি চোখের পলকে শত শত রথ, হস্তী ও অশ্বারোহীকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। পরশুরামের কুঠারের আঘাতে গোটা রণক্ষেত্র রক্তে প্লাবিত হয়।

অর্জুনের পরাক্রমশালী বীর সেনাপতিরা পরশুরামকে ঘেরাও করার চেষ্টা করলে, পরশুরাম অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে সবাইকে একে একে সংহার করেন। সেনাদল ছত্রভঙ্গ হয়ে প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করে।

​নিজের বিশাল বাহিনীর এই বিপর্যয় দেখে এবং পরশুরামের অলৌকিক বীরত্ব প্রত্যক্ষ করে কার্তবীর্যার্জুন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তিনি স্বয়ং বিশাল রথে আরোহণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন।

কার্তবীর্যার্জুন তাঁর যোগবলে ১,০০০ টি হাত প্রকাশ করেন। তিনি একই সাথে পাঁচশত ধনুকে জ্যা রোপণ করেন এবং অপর পাঁচশত হাতে হাজার হাজার বাণ ধারণ করেন।

কার্তবীর্যার্জুন একযোগে পরশুরামের ওপর শরবৃষ্টি শুরু করেন। পরশুরামের ওপর বান, শক্তি, তোমর, মুদ্গর, গদা ও প্রাস অস্ত্র চারদিক থেকে ধেয়ে আসে। আকাশ বাণের মেঘে ঢেকে যায়।

ভগবান পরশুরাম অত্যন্ত লাঘবে তাঁর ধনু থেকে বাণ ছুড়ে কার্তবীর্যার্জুনের ছোঁড়া সমস্ত অস্ত্র ও বাণকে শূন্যেই কেটে টুকরো টুকরো করে দেন। এরপর পরশুরাম দিব্যাস্ত্র প্রয়োগ করে অর্জুনের রথ ধ্বংস করেন, রথের অশ্বদের বধ করেন এবং ধ্বজ কেটে ফেলেন।

​রথ হারিয়ে কার্তবীর্যার্জুন ভূমিতে অবস্থান নিয়েই তাঁর হাজার হাত দিয়ে বিশাল বিশাল পর্বতশৃঙ্গ ও উপড়ানো বৃক্ষ তুলে পরশুরামের দিকে নিক্ষেপ করতে থাকেন।

পরশুরাম তাঁর ধারালো পরশু ( কুঠার) হাতে নিয়ে বাতাসের বেগে কার্তবীর্যার্জুনের দিকে ধাবিত হন। তিনি এক এক আঘাতে কার্তবীর্যার্জুনের একের পর এক হাত কাটতে শুরু করেন।
মহাভারতের বর্ণনানুসারে, পরশুরাম যেভাবে কোনো বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলেন, ঠিক সেভাবেই অত্যন্ত নির্মম ও নিখুঁতভাবে কার্তবীর্যার্জুনের হাজারটি হাত কেটে ফেলেন।

হাজার বাহু বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রক্তে প্লাবিত ও শক্তিহীন কার্তবীর্যার্জুন কেবল বিশাল ধড়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকেন। তখন পরশুরাম তাঁর তীক্ষ্ণ পরশুর এক চূড়ান্ত আঘাতে কার্তবীর্যার্জুনের মস্তক ছেদন করেন।

​সম্রাট কার্তবীর্যার্জুন পাপিত হয়ে রণক্ষেত্রে ঢলে পড়েন। তাঁর নিশ্চিত পতন দেখে অবশিষ্ট সৈন্যবাহিনী এবং কার্তবীর্যার্জুনের পুত্ররা প্রাণভয়ে পলায়ন করে।
পরশুরাম হোমধেনু ও তার বাছুরকে উদ্ধার করে সসম্মানে মহর্ষি জমদগ্নির আশ্রমে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তবে এই যুদ্ধের আগুন এখানেই নিভে যায়নি; এই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই পরবর্তীতে কার্তবীর্যার্জুনের পুত্ররা মহর্ষি জমদগ্নিকে হত্যা করে, যার ফলে পরশুরামের মহাজাগতিক ২১ বার ক্ষত্রিয় সংহারের প্রতিজ্ঞা জন্ম নেয়।

এটার পরবর্তী ঘটনা জানতে হলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

20/08/2026

মহাদেবের ৫১ ভৈরবের ইতিহাস 😊

সহস্র বছর আগের কথা, 'শ্বেতকী' নামে একজন ধার্মিক ও পরাক্রমী রাজা ছিলেন। তিনি সর্বদা যাগ-যজ্ঞ ও দেবপূজায় লিপ্ত থাকতেন।একদি...
20/08/2026

সহস্র বছর আগের কথা, 'শ্বেতকী' নামে একজন ধার্মিক ও পরাক্রমী রাজা ছিলেন। তিনি সর্বদা যাগ-যজ্ঞ ও দেবপূজায় লিপ্ত থাকতেন।

একদিন রাজা শ্বেতকীর মনে ইচ্ছা জাগলো তিনি ১০০ বছরব্যাপী এক বিশাল অখণ্ড যজ্ঞ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু এত দীর্ঘ ও কঠিন যজ্ঞ সম্পন্ন করতে ঋষি-মুনিরা রাজি হলেন না।

হতাশ হয়ে রাজা শ্বেতকী ভগবান শংকরের আরাধনা শুরু করলেন। কঠোর তপস্যার পর ভগবান শিব সন্তুষ্ট হয়ে প্রকট হলেন এবং বরস্বরূপ ১২ বছরব্যাপী এক বিশেষ ব্রত পালনের নির্দেশ দিলেন।

শ্বেতকী যাতে সফলভাবে সেই ব্রত পালন করতে পারে তাই ভগবান শিব ঋষি দুর্বাসাকে নির্দেশ দিলেন শ্বেতকীর ১০০ বছরব্যাপী যজ্ঞ সম্পন্ন করিয়ে দেওয়ার জন্য।

মহর্ষি দুর্বাসা শ্বেতকীর যজ্ঞ সম্পন্ন করালেন। ১০০ বছর ধরে অবিরাম যজ্ঞকুণ্ডে প্রচুর পরিমাণে ঘি আস্তুতি হিসেবে পাওয়ার ফলে অগ্নিদেবের তীব্র অরুচি ও মন্দাগ্নি দেখা দিলো। তিনি আহার গ্রহণ করতে অক্ষম হয়ে পড়লেন।

অগ্নিদেব আরোগ্য লাভের জন্য ভগবান ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মা তাঁকে পরামর্শ দিলেন, "তুমি খাণ্ডব বনে যাও। সেখানে নানাবিধ দিব্য ঔষধি বনস্পতি রয়েছে।
সমগ্র খাণ্ডব বন দাহন করে বনস্পতি ভক্ষণ করলেই তোমার এই অরুচি ও দুর্বলতা দূর হবে।

প্রজাপতি ব্রহ্মার পরামর্শে অগ্নিদেব খাণ্ডব বন দাহন করতে উদ্যত হলেন। কিন্তু সেই বনে সাপের রাজা তক্ষক তাঁর পরিবারসহ বাস করতেন। তক্ষক ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রের পরম সখা। ফলে অগ্নিদেব যখনই বন দাহন করতে যেতেন, ইন্দ্র মেঘ পাঠাতেন এবং মুষলধারে জল বর্ষণ করে আগুন নিভিয়ে দিতেন।
ছ'বার ব্যর্থ হওয়ার পর অগ্নিদেব একজন ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের কাছে সাহায্য চাইতে এলেন। সেই সময় অর্জুন ও কৃষ্ণ যমুনাতীরে বিশ্রাম করছিলেন।

অগ্নিদেব নিজের প্রকৃত পরিচয় দিয়ে অর্জুন ও কৃষ্ণের কাছে আহারের ( খাণ্ডব বন দাহনের) প্রার্থনা করলেন।
অর্জুন ও কৃষ্ণ তা মেনে নিলেন। অর্জুনকে যুদ্ধ করার জন্য অগ্নিদেব বরুণদেবের কাছ থেকে বিশ্বখ্যাত 'গাণ্ডীব' ধনুক, দুটি অক্ষয় তূণীর এবং একটি বিশেষ রথ এনে দিলেন। আর শ্রীকৃষ্ণকে দিলেন সুদর্শন চক্র ও কৌমোদী গদা।

এরপর অগ্নিদেব আবার খাণ্ডব বনে আগুন জ্বালালেন। দেবরাজ ইন্দ্র যখনই বৃষ্টি বর্ষণ করতে লাগলেন, অর্জুন তাঁর বাণ দিয়ে পুরো খাণ্ডব বনের ওপর শরজালে এক বিশাল ছাদ বানিয়ে দিলেন, যার ফলে এক ফোঁটা জলও বনে পড়তে পারলো না।

তক্ষককে রক্ষা করতে এবং অর্জুন-কৃষ্ণকে থামাতে দেবরাজ ইন্দ্র অন্যান্য দেবতাদের সাথে নিয়ে স্বয়ং যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন।
অর্জুন তাঁর ঐন্দ্রাস্ত্রসহ নানা দিব্যাস্ত্র ব্যবহার করে দেবসেনাকে পরাস্ত করলেন এবং কৃষ্ণ তাঁর চক্র দিয়ে আক্রমণকারীদের প্রতিহত করলেন।

খাণ্ডব দাহন চলাকালে তক্ষক নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না ( তিনি কুরুক্ষেত্রে গিয়ে ছিলেন)। তবে বনে আটকে থাকা তাঁর স্ত্রী ও পুত্র অশ্বসেনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ।
যুদ্ধে অর্জুনের বাণে তক্ষকের স্ত্রী মারা যান, কিন্তু পুত্র অশ্বসেন কোনোরকমে পালিয়ে বাঁচেন।

যুদ্ধ যখন চরম রূপ নেয়, ঠিক তখনই আকাশবাণী হলো। আকাশবাণীতে ইন্দ্রকে বলা হলো, "হে দেবরাজ! বিফল প্রয়াস বন্ধ করুন। আপনার সখা তক্ষক খাণ্ডব বনে নেই, তিনি নিরাপদে কুরুক্ষেত্রে আছেন। আর কৃষ্ণ ও অর্জুন হলেন পূর্বজন্মের নর ও নারায়ণের অবতার, যাঁদের পরাস্ত করা দেবতাদের পক্ষেও অসম্ভব।"

আকাশবাণী শুনে ইন্দ্র শান্ত হলেন এবং অর্জুন ও কৃষ্ণের বীরত্বে সন্তুষ্ট হয়ে যুদ্ধ সমাপ্ত করলেন।

অবশেষে অগ্নিদেব সম্পূর্ণ খাণ্ডব বন দাহন করে নিজের অরুচি ও দুর্বলতা দূর করলেন। এই দাহনের সময় অর্জুন ও শ্রী কৃষ্ণের কৃপায় কেবল ছয়জন প্রাণী রক্ষা পেয়েছিলো - তক্ষকের পুত্র অশ্বসেন, মায়াসুর ( দানব স্থপতি) এবং চারটি শার্ঙ্গক পাখি।

এই প্রসঙ্গের মূল শিক্ষা হলো - যেকোনো কিছুর "অতি" বা অতিরিক্ত ব্যবহার ( যেমন ১০০ বছর ধরে ঘৃতাহুতি) ক্ষতির কারণ হয়।
অন্যদিকে, সখ্যতা ও আশ্রিতকে রক্ষা করার জন্য অর্জুন ও কৃষ্ণ যে দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছিলেন, তা ধর্ম ও কর্তব্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

নমস্কার, প্রিয় পাঠক-পাঠিকা বৃন্দ! আমি আপনাদের লেখক SB Bubai (Sangram), আবার ফিরে এলাম মহাভারতের সেই মহাকাব্যিক ও রোমাঞ্চ...
19/08/2026

নমস্কার, প্রিয় পাঠক-পাঠিকা বৃন্দ! আমি আপনাদের লেখক SB Bubai (Sangram), আবার ফিরে এলাম মহাভারতের সেই মহাকাব্যিক ও রোমাঞ্চকর জগৎ নিয়ে।

​"রাত্রির অন্ধকারে যখন আলো হয়ে উঠেছিলো অস্ত্রের ঝলকানি, ঠিক তখনই এক পরম মিত্রের বুকে খড়্গ তুলে ধরতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি অশ্বত্থামা!"

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কৌরব শিবিরের দুই মহাশক্তিধর যোদ্ধা - অশ্বত্থামা ও কর্ণ। কিন্তু মহাভারতের সেই ভয়াল রাত্রি যুদ্ধে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত এসেছিলো, যখন ক্রোধান্ধ অশ্বত্থামা নিজের পরম সখাপ্ৰতিম কর্ণকে বধ করার জন্য তলোয়ার উঁচিয়ে উন্মত্তের মতো ধাওয়া করেছিলেন!
​কী এমন ঘটেছিল সেই রাতে?
​কোন্ তিক্ত সত্য বা মারাত্মক অপমানে শান্ত পরমজ্ঞানী দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা রূপ নিয়েছিলেন এক বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির?

অশ্বত্থামার সেই সংহারী ক্রোধ এবং কর্ণের সাথে তাঁর সেই ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আসল রহস্য জানতে - পড়ে ফেলুন আজকের পর্বটি শেষ পর্যন্ত!

এই রাতের যুদ্ধে পাণ্ডবদের অতুলনীয় শক্তি দেখে দুর্যোধন কর্ণের কাছে গেলেন এবং বললেন - "হে মিত্রবৎসল কর্ণ! মিত্রের কর্তব্য পালনের উপযুক্ত সময় এসেছে।
ক্রোধে ভরা পাঞ্চাল, মৎস্য তথা পাণ্ডব মহারথীরা গর্জন করে সাপের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে... তাদের চারদিক ঘিরে থাকা আমার সমস্ত মহারথী যোদ্ধাদের তুমি আজকে যুদ্ধভূমিতে রক্ষা করো। দেখো, এই বিজয়ে প্রফুল্ল হওয়া পাণ্ডব তথা ইন্দ্রের সমান পরাক্রমী বহু সংখ্যক পাঞ্চাল মহারথী কেমন উৎসাহে জয়ধ্বনি করছে।"

দুর্যোধনের কথা শুনে কর্ণ বললেন - "রাজন, যদি সাক্ষাৎ ইন্দ্রও এখানে কুন্তীকুমার অর্জুনের রক্ষার জন্য চলে আসেন, তবুও তাঁকে শীঘ্রই পরাজিত করে আমি পাণ্ডুপুত্র অর্জুনকে অবশ্যই বধ করবো। হে ভরতনন্দন, তুমি ধৈর্য ধারণ করো... আমি তোমার কাছে সত্য প্রতিজ্ঞা করে বলছি যে, যুদ্ধস্থলে আসা পাণ্ডব তথা পাঞ্চালদের নিশ্চয়ই বধ করবো।
যেভাবে অগ্নিকুমার কার্তিক তারকাসুরের বিনাশ করে ইন্দ্রকে বিজয়ী করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আমি আজ তোমাকে জয় প্রদান করবো।

কুন্তীর সব পুত্রের মধ্যে অর্জুনই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, তাই আমি ইন্দ্রের দেওয়া অমোঘ শক্তি অর্জুনের ওপরে প্রয়োগ করবো।
মহান ধনুর্ধর অর্জুন নিহত হলে তার ভাইয়েরা তোমার বশীভূত হবে অথবা পুনরায় বনে চলে যাবে। আমি আমার বাণসমূহ দিয়ে রণভূমিতে আসা পাঞ্চাল এবং বৃষ্ণিবংশীদেরও টুকরো টুকরো করে সমগ্র পৃথিবী তোমাকে উপহার দেবো।"

কর্ণ যখন এই কথা দুর্যোধনকে বলছিলেন,.. তখনই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শরদ্বানপুত্র মহাবলী কৃপাচার্য হাসিমুখে এসে কর্ণকে বললেন - "কর্ণ, খুব ভালো! হে রাধাপুত্র, যদি কথা বললেই কাজ সিদ্ধ হয়ে যেতো, তাহলে তোমার মতো সহায় পেয়ে কুরুরাজ দুর্যোধন ধন্য হয়ে যেতেন!
কর্ণ, তুমি কুরুনন্দন দুর্যোধনের সামনে তো খুব বাড়িয়ে কথা বলো... কিন্তু কোনোদিন তোমার পরাক্রম দেখতে পাওয়া যায়নি, আর না তো তার কোনো ফল সামনে এসেছে! সুতনন্দন, পাণ্ডুপুত্রদের সঙ্গে যুদ্ধস্থলে তোমার অনেকবার সামনাসামনি হয়েছে, কিন্তু সর্বত্রই পাণ্ডবদের কাছে তুমি পরাস্ত হয়েছ।

'কর্ণ' মনে আছে তোমার? যখন গন্ধর্বরা দুর্যোধনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো? সেই সময় সমস্ত সেনা তো যুদ্ধ করছিলো, আর তুমি একাই সবার আগে পলায়ন করেছিলে!

কর্ণ,... বিরাটনগরেও সম্পূর্ণ কৌরব সেনাবাহিনী একত্রিত হয়েছিলো, কিন্তু অর্জুন একাই সবাইকে হারিয়ে দিয়েছিলো... আর সেখানে তুমিও ছিলে! কর্ণ, তুমিও তোমার ভাইদের সঙ্গে পরাস্ত হয়েছিলে। রণভূমিতে একা অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি তো তোমার নেই... তাহলে শ্রীকৃষ্ণসহ সম্পূর্ণ পাণ্ডবদের জয় করার উৎসাহ কীভাবে দেখাও? যাও, চুপচাপ যুদ্ধ করো! তুমি বচালতা অনেক করো... যে কিছু না বলেই পরাক্রম দেখায়, সেই-ই প্রকৃত শূরবীর, আর সেটাই সৎপুরুষের ব্রত।

যাও কর্ণ, তুমি শরৎকালের নিষ্ফল মেঘের মতো গর্জন করেও নিষ্ফলই প্রমাণ হও, কিন্তু রাজা দুর্যোধনের এই কথা বোঝার ক্ষমতা নেই। রাধানন্দন, যতোক্ষণ তুমি অর্জুনকে না দেখছো, ততক্ষণ গর্জন করে নাও... কারণ যিনি নিজের পরাক্রমে ভগবান শংকরকেও সন্তুষ্ট করেছেন, সেই অর্জুনকে কে বধ করতে পারবে?"

কৃপাচার্যের এরকম কথা শুনে কর্ণ বিষণ্ণ হয়ে গেলেন এবং তিনি কৃপাচার্যকে বললেন - "শূরবীরেরা বর্ষাকালের মেঘের মতো সব সময় গর্জন করে আর ঠিক ঋতুতে রোপণ করা বীজের মতো শীঘ্রই ফলও দেয়।
যুদ্ধস্থলে মহৎ ভার বহনকারী শূরবীর যদি যুদ্ধের মধ্যে নিজের প্রশংসার কথা বলেও ফেলে, তবে আমি তাতে তাদের কোনো দোষ দেখছি না।

পুরুষ নিজের মন থেকে যে ভার বহনের নিশ্চয়তা করে, দেবতা অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন। আমি মন থেকে যে কার্যভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটার সিদ্ধিতেই আমার এই দৃঢ় নিশ্চয়তা সহায় হচ্ছে।

হে বিপ্রবর, আমি কৃষ্ণ ও সাত্যকি সহ সমস্ত পাণ্ডবদের যুদ্ধে বধের নিশ্চয়তা করে যদি গর্জন করে থাকি, তবে তাতে তোমার কী ক্ষতি হচ্ছে? শরৎকালের মেঘের মতো শূর বীরেরা ব্যর্থ গর্জন করে না... বিদ্বান পুরুষ প্রথমে নিজের সামর্থ্য বোঝেন, তারপর গর্জন করেন।
হে গৌতম, আজ আমি রণভূমিতে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনকে জয় করার জন্য মনে মনে উৎসাহ রাখি, এজন্যই গর্জন করি।।

হে ব্রাহ্মণ, আমার এই গর্জনের ফল দেখে নিয়ো; আমি যুদ্ধে কৃষ্ণ, সাত্যকি তথা অনুগামীদের সহ পাণ্ডবদের বধ করে এই ভূমণ্ডলের নিষ্কণ্টক রাজ্য দুর্যোধনকে দান করবো।"

​এর পর কৃপাচার্য বললেন - "হে সূতপুত্র, তোমার এই খামখেয়ালি গল্পের নিরর্থক প্রলাপ আমার কাছে বিশ্বাসের যোগ্য নয়।
কর্ণ, তুমি সর্বদাই শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন তথা পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠিরের ওপরে দোষারোপ করে থাকো, কিন্তু বিজয় সেই পক্ষেরই হবে যেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন বিদ্যমান আছেন।
যদি দেবতা, গন্ধর্ব, যক্ষ, মনুষ্য, নাগ ও রাক্ষসেরাও কবচ পরিধান করে যুদ্ধের জন্য চলে আসে, তবুও রণভূমিতে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনকে কেউ জয় করতে পারবে না।

যিনি ধর্মপুত, ব্রহ্মভক্ত, সত্যবাদী, জিতেন্দ্রিয়, গুরু ও দেবতাকে সমাদর করেন, সর্বদা ধর্মপরায়ণ, অস্ত্রবিদ্যায় বিশেষ কৌশলী, ধৈর্যবান ও কর্তব্যপরায়ণ - সেই যুধিষ্ঠির! তাঁর বলবান ভাইয়েরাও সম্পূর্ণ অস্ত্রবিদ্যার কলা আয়ত্ত করেছেন।

তাঁরা গুরুসেবাপরায়ণ, বিদ্বান ও ধর্মতৎপর... তাঁদের সম্বন্ধী ও বান্ধবদের মতো পরাক্রমী যোদ্ধারা তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁরা প্রহার করায় দক্ষ। যাঁদের নাম তুমি জানো, তাও আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিতে চাই - ধৃষ্টদ্যুম্ন, শিখণ্ডী, চন্দ্রসেন, রুদ্রসেন, ধ্রুবধর, দামচন্দ্র, সিংহচন্দ্র, দ্রুপদের পুত্রগণ তথা মহান অস্ত্রবেত্তা দ্রুপদ, যাঁর জন্য অনেক যোদ্ধা যুদ্ধে নিজের প্রাণ বলিদান দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।

যাঁদের পক্ষে রাক্ষস ঘটোৎকচের মতো মহান যোদ্ধা যুদ্ধ করছে, তাঁদের তুমি আঘাত করতে পারবে না! পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠিরের এরকম তথা আরও অনেক গুণ আছে... ভীমসেন আর অর্জুন যদি চান, তবে নিজের অস্ত্রবল দিয়ে দেবতা, অসুর, মনুষ্য, যক্ষ, রাক্ষস, ভূত ও নাগসহ সম্পূর্ণ জগৎ বিনাশ করতে পারেন!
যুধিষ্ঠিরও রোষভরা দৃষ্টিতে তাকালে এই ভূমণ্ডলকে ভস্ম করতে পারেন।

কর্ণ,.. যাঁদের জন্য অনন্ত বলশালী ভগবান শ্রীকৃষ্ণও কবচ ধারণ করে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন... সেই শত্রুকে যুদ্ধে জয় করার সাহস তুমি কীভাবে করো? হে সূতপুত্র, তুমি যে সর্বদাই যুদ্ধভূমিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে যুদ্ধ করার উৎসাহ দেখাও, এটা তোমার মহান ও অমার্জনীয় অপরাধ!"

কৃপাচার্যের এই কথা শুনে রাধাপুত্র কর্ণ খিলখিল করে হেসে ফেললেন এবং শরদ্বানপুত্র গুরু কৃপাচার্যকে বললেন - "হে ব্রাহ্মণ, পাণ্ডবদের বিষয়ে তুমি যা বললে সেগুলো সব সত্য। শুধু এটাই নয়, পাণ্ডবদের মধ্যে আরও অনেক গুণ আছে... এটাও ঠিক যে কুন্তীর পুত্রদের রণভূমিতে ইন্দ্র, আদি দেবতা, দৈত্য, যক্ষ, গন্ধর্ব, পিশাচ, নাগ ও রাক্ষসেরাও জয় করতে পারবে না; কিন্তু আমি ইন্দ্রের দেওয়া অস্ত্র দিয়ে কুন্তীর পুত্রদের জয় করবো। হে ব্রাহ্মণ, আমাকে ইন্দ্র অমোঘ শক্তি দিয়ে রেখেছেন, যা দিয়ে আমি যুদ্ধে সব্যসাচী অর্জুনকে অবশ্যই বধ করবো।

​পাণ্ডুপুত্র অর্জুন নিহত হওয়ার পর, তাকে ছাড়া তার সহোদর ভাইয়েরা কীভাবে এই পৃথিবীতে রাজ্য ভোগ করবে?
তারা সবাই বিনষ্ট হয়ে গেলে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে এবং সারা পৃথিবীর ওপরে রাজা দুর্যোধনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। হে ব্রাহ্মণ, এই সংসারে সুনীতিপূর্ণভাবে সব কাজ সিদ্ধ হয়, এতে সংশয় নেই।

এই কথা বুঝেই আমি গর্জন করি... তুমি তো ব্রাহ্মণ, তার ওপরে বৃদ্ধ। তোমার মধ্যে যুদ্ধ করার শক্তিই নেই। এরপরও তুমি কুন্তীর পুত্রদের প্রতি স্নেহ রাখো, এজন্য মোহবশে আমার অপমান করছো।
দুর্ভীতি ব্রাহ্মণ, তুমি যদি পুনরায় এরকম আমার অপ্রিয় লাগে সেরকম কথা বলো, তবে আমি তলোয়ার তুলে তোমার জিব কেটে ফেলবো!

হে দুর্বুদ্ধি ব্রাহ্মণ, তুমি যে যুদ্ধস্থলে সমস্ত কৌরব সেনাকে ভয় দেখানোর জন্য পাণ্ডবদের গুণগান করছো, সেই বিষয়ে আমি যে যথার্থ কথা বলছি তা শুনে নাও - দুর্যোধন, দ্রোণ, শকুনি, দুর্মুখ, জয়, দুঃশাসন, মদ্ররাজ শল্য, তুমি স্বয়ং, সোমদত্ত, ভূরিশ্রবা, অশ্বত্থামা - এই যুদ্ধকুশল বীরেরা যেখানে কবচ ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে কোন মনুষ্য তাঁদের জয় করতে পারবে?
শত্রু ইন্দ্রের সমতুল্য বলবান হলেও এদের কিছুই করতে পারবে না... যাঁরা শূরবীর, অস্ত্রজ্ঞ, বলবান, সর্বপ্রাপ্তির অভিলাষী, ধর্মজ্ঞ এবং যুদ্ধকৌশলে দেবতাদেরও পরাজিত করতে পারেন, সেই বীরগণ কুরুরাজ দুর্যোধনের জয় চেয়ে পাণ্ডবদের বধের ইচ্ছায় সংগ্রামে কবচ বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

আমি তো বড়ো বড়ো বলবান যোদ্ধার জয়লাভকেও দেবতাদের অধীন মনে করি। দৈবাধীন হওয়ার কারণেই মহাবাহু ভীষ্ম আজ হাজার বাণে বিদ্ধ হয়ে রণভূমিতে শয়ন করে আছেন।

বিকর্ণ, চিত্রসেন, বাহ্লিক, ভূরিশ্রবা, জয়দ্রথ, জলসন্ধ, সুদক্ষিণ, রথীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পরাক্রমী ভগদত্ত - আরও অনেক রাজা যাঁরা দেবতাদের জন্যও অত্যন্ত দুর্জয় ছিলেন, কিন্তু সেই প্রবল শূরবীর নরেশদেরও পাণ্ডবরা যুদ্ধে বধ করেছে; তুমি এতে দৈবানুকূল্য ছাড়া দ্বিতীয় আর কী কারণ মনে করো?

হে ব্রাহ্মণ, তুমি দুর্যোধনের যে শত্রুদের সর্বদা গুণগান করো, তাদেরও তো হাজার হাজার শূরবীর মারা গেছে! কৌরব ও পাণ্ডব উভয় দলেরই সেনা প্রতিদিন বিনষ্ট হচ্ছে... আমি তো এতে পাণ্ডবদের বিশেষ কোনো প্রভাব দেখতে পাচ্ছি না।

ব্রাহ্মণ, তুমি যাদের সর্বদা বলবান মনে করো, তাদের সাথেই আমি সংগ্রামভূমিতে দুর্যোধনের লাভের জন্য পুরো শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবো; জয় তো দেবতার অধীন!"

কর্ণ যখন এসব কথা কৃপাচার্যকে বলছিলেন, তখন এসব কথা অশ্বত্থামা শুনছিলেন।
কর্ণকে কটু বচন বলতে দেখে অশ্বত্থামা দ্রুত তলোয়ার তুলে কর্ণের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। যেভাবে সিংহ হাতির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ঠিক সেভাবেই প্রচণ্ড ক্রোধে ভরা দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা কুরুরাজ দুর্যোধনের সামনে কর্ণের ওপরে আক্রমণ করলেন।

অশ্বত্থামা বললেন - "দুর্বুদ্ধি, নরাধম! আমার মামা সম্পূর্ণ জগতের শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর ও শূরবীর।
তিনি অর্জুনের সত্য গুণের ব্যাখ্যা করছিলেন, তাও তুই হিংসার কারণে নিজের বীরত্বের গল্প বানিয়ে ও অহংকারে মত্ত হয়ে আজ যুদ্ধে কাউকে গণনা না করে তাঁকে অপমান করছিস... এটার কারণ কী?
যখন যুদ্ধস্থলে গাণ্ডীবধারী অর্জুন তোকে পরাস্ত করে, তোকে দেখতে দেখতেই জয়দ্রথকে বধ করেছিলো? সেই সময় তোর পরাক্রম কোথায় ছিলো? তোর অস্ত্রশস্ত্র কোথায় চলে গিয়েছিলো.. রে সূতধম? যিনি সমরাঙ্গনে প্রথমে সাক্ষাৎ মহাদেবের সাথে যুদ্ধ করেছেন, তাঁকে শুধু মনোরথ দিয়ে জয়ের ব্যর্থ ইচ্ছা প্রকাশ করছিস!

দুর্বুদ্ধি,... যিনি সমস্ত সস্ত্রধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তথা শ্রীকৃষ্ণের সাথে থাকার কারণে যাঁকে ইন্দ্রসহ সব দেবতা ও অসুরেরা জয় করতে পারবে না,..........।

সেই অপরাজিত বীর অর্জুনকে জয় করার জন্য এই রাজাদের সামনে তোর কী শক্তি আছে?

দুর্বুদ্ধি, নরাধম কর্ণ! তুই দাঁড়িয়ে দেখ, আমি এখনই তোর মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দিচ্ছি!"

এইভাবে বেগে উঠে আসা অশ্বত্থামাকে মহা তেজস্বী রাজা দুর্যোধন তথা মনুষ্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কৃপাচার্য আটকে দিলেন।

কর্ণ বললেন - "কুরুশ্রেষ্ঠ, এই দুর্বুদ্ধি ও নীচ ব্রাহ্মণ নিজেকে খুব শূরবীর ভাবছে! যদি যুদ্ধ করা জানা থাকে তবে ওকে ছেড়ে দাও, আজ সে আমার পরাক্রম দেখুক!"

অশ্বত্থামা বললেন - "দুর্বুদ্ধি, আমি তোর এই অপরাধ ক্ষমা করলাম... তোর এই বেড়ে যাওয়া অহংকার অর্জুনই চূর্ণ করবে।"

তারপর তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থামাতে থামাতে দুর্যোধন বললেন - "পরকে সম্মানকারী অশ্বত্থামা প্রসন্ন হন, আর আপনার ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
কর্ণের ওপরে আপনার কোনো প্রকার ক্রোধ করা উচিত নয়... আপনার ওপরে, কর্ণের ওপরে তথা কৃপাচার্য, দ্রোণাচার্য, মদ্ররাজ শল্য ও শকুনির ওপরে মহান কার্যভার রাখা হয়েছে, আপনি প্রসন্ন হন।"

এটি ছিলো মহাভারতের দ্রোণ পর্বের ১৫৮তম ( ১৩৩-১৩৪) অধ্যায়।

এটার পরবর্তী ঘটনা যদি জানার ইচ্ছা হয়... তাহলে সেটা কমেন্ট বলবেন।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

18/08/2026

Rudra form of Maa Vaishno Devi 😧

যখন লঙ্কাপতি রাবণ তাঁর শক্তির দম্ভে স্বর্গ ও মর্ত্য কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, সেই সময় মহিমান্বিত রাজা কার্তবীর্যার্জুন মাহিষ্...
18/08/2026

যখন লঙ্কাপতি রাবণ তাঁর শক্তির দম্ভে স্বর্গ ও মর্ত্য কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, সেই সময় মহিমান্বিত রাজা কার্তবীর্যার্জুন মাহিষ্মতী সাম্রাজ্য শাসন করতেন। তিনি নাহুষ, যযাতি ও যদুর মতো প্রথম সারির চন্দ্রবংশীয় রাজাদের যোগ্য বংশধর ছিলেন।

তাঁর পিতা রাজা কৃতবীর্য দীর্ঘকাল নিঃসন্তান ছিলেন। সন্তান লাভের আশায় কৃতবীর্যের প্রধানা মহিষী পদ্মিনী দেবী অনুসূয়ার শরণাপন্ন হন। দেবী অনুসূয়ার পরামর্শ ও বিধান অনুযায়ী রাজা ও রানী বনে গিয়ে কঠোর নিয়ম পালন করে তপস্যা শুরু করেন।

দেবী অনুসূয়ার নির্দেশিত অতি পবিত্র 'পদ্মিনী একাদশী' ব্রত ও তপস্যার ফলে ভগবান দত্তাত্রেয় ( যিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশশ্বরের সমন্বিত রূপ ও বিষ্ণুর অংশাবতার) তাঁদের সম্মুখে আবির্ভূত হন। ভগবান দত্তাত্রেয় রাজাকে বর চাইতে বললে, রাজা এমন এক পুত্রের প্রার্থনা করেন যাকে কোনো দেব, দানব, মানব, রাক্ষস বা অপদেবতা সহজে পরাজিত করতে পারবে না।

শীঘ্রই রাজপরিবারে এক মহাতেজস্বী রাজকুমারের জন্ম হয়। কৃতবীর্যের পুত্র হওয়ায় তাঁর নাম হয় কার্তবীর্যার্জুন। তিনি এক হাজার বাহু (হাত) নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে তাঁকে সহস্রার্জুন নামেও ডাকা হতো।

রাজা হয়ে তিনি নিজের গুরু ও ভগবান দত্তাত্রেয়ের ১০,০০০ বছর ধরে কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনা করেন। দত্তাত্রেয় দেব প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বহু অলৌকিক বরদান করেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী হাজারটি শক্তিশালী বাহুর প্রকাশ এবং তা কেটে গেলে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ক্ষমতা।

সমগ্র পৃথিবী জয় করার অপরাজিত পরাক্রম ও ধন-সম্পদ।

ধর্ম, ন্যায় ও ক্ষত্রিয় কর্তব্য সফলভাবে পালন করার শক্তি।

শত্রুদের ওপর বিজয় এবং রাজ্যে আসা যেকোনো বিপর্যয় রোখার অলৌকিক ক্ষমতা।

তাঁর তপস্যার অন্যতম শর্ত ছিলো - তিনি কেবল তাঁর চেয়েও অধিক শক্তিশালী কোনো মহাবীর বা ঈশ্বরের হাতেই মৃত্যুবরণ করবেন।

বরদানের প্রভাবে কার্তবীর্যার্জুন এক মহাপ্রতাপশালী চক্রবর্তী সম্রাটে পরিণত হন।

তিনি নাগরাজ কার্কোটককে পরাজিত করে মাহিষ্মতীকে নিজের রাজধানী বানান। তিনি নিজের যৌগিক ও অলৌকিক শক্তি দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারতেন।

সম্পূর্ণ ত্রিভূবনে এমন কেউ ছিলো না 'যে তাকে বলিদান, দান, তপস্যা, কর্তব্য, শক্তি, দয়া, উদারতা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে তার সমান করতে পারতো।

৮৫,০০০ বছর ধরে চলা তাঁর শাসনকালে রাজ্যে কোনো দারিদ্র্য, দুঃখ বা অরাজকতা ছিলো না। তিনি একবারে ৫০০টি বাণ নিক্ষেপ করতে এবং ৫০০০টি বাণ প্রতিরোধ করতে পারতেন।

একদা কার্তবীর্যার্জুন তাঁর স্ত্রীদের নিয়ে নর্মদা নদীতে জলকেলিতে মগ্ন ছিলেন।
রানীদের অনুরোধে নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য কার্তবীর্যার্জুন নদীর মাঝখানে শুয়ে নিজের ১০০০টি বাহু ছড়িয়ে দিয়ে নর্মদার গতিপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেন। এর ফলে উজানের দিকে জলস্তর হু-হু করে বাড়তে থাকে এবং নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে।

সেই সময় কাছেই নর্মদার তীরে লঙ্কাপতি রাবণ শিবলিঙ্গ স্থাপন করে শিবপূজায় মগ্ন ছিলেন। সহসা নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠে তাঁর পূজার স্থান ও শিবলিঙ্গ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
রাবণ ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর মন্ত্রীদের কারণ অনুসন্ধান করতে পাঠান। মন্ত্রীরা ফিরে এসে ১০০০ বাহুবিশিষ্ট কার্তবীর্যার্জুন কর্তৃক নদীর জল আটকে রাখার সত্যতা জানান।

রাবণ ক্ষিপ্ত হয়ে পুষ্পক বিমানে চেপে গদা হাতে কার্তবীর্যার্জুনের মুখোমুখি হন এবং তাঁকে যুদ্ধের আহ্বান জানান।
দুই মহাবীরের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে কার্তবীর্যার্জুন রাবণকে পরাস্ত ও অচেতন করে ফেলেন। এরপর তিনি রাবণকে বন্দী করে মাহিষ্মতীতে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে রাবণের পিতামহ মহর্ষি পুলস্ত্য মাহিষ্মতীতে এসে কার্তবীর্যার্জুনের কাছে অনুরোধ জানালে, কার্তবীর্যার্জুন রাবণকে মুক্ত করে দেন এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়।

পরবর্তীতে সর্বজয়ী হওয়ার অহঙ্কারে কার্তবীর্যার্জুন একবার দেবরাজ বরুণকে জিজ্ঞেস করেন - "আমার চেয়ে শক্তিশালী কেউ কি এই ধরাতলে আছে?" বরুণদেব উত্তর দেন - "মহর্ষি জমদগ্নির কনিষ্ঠ পুত্র পরশুরাম তোমার চেয়েও অধিক শক্তিশালী এবং তিনিই তোমাকে পরাজিত করতে সমর্থ।"

এ কথা শুনে কার্তবীর্যার্জুন ক্ষুব্ধ হন। একদিন তিনি ও তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী শিকার করতে করতে মহর্ষি জমদগ্নির আশ্রমে উপস্থিত হন।
ঋষি জমদগ্নি তাঁর দিব্য গাভী কামধেনুর অলৌকিক শক্তিতে রাজা ও তাঁর পুরো বাহিনীকে রাজকীয় ভোজন করান।
কামধেনুর অলৌকিক ক্ষমতা দেখে কার্তবীর্যার্জুন লোভসংবরণ করতে পারেননি। তিনি ঋষির কাছে গাভীটি প্রার্থনা করেন। কিন্তু আশ্রমে দেবকার্য ও অতিথিসেবায় নিয়োজিত এই গাভী দিতে ঋষি অস্বীকার করলে, কার্তবীর্যার্জুন অন্যায়ভাবে বলপূর্বক কামধেনুকে (বা তার বাছুরকে) নিজের রাজধানী মাহিষ্মতীতে নিয়ে যান।

পরশুরাম আশ্রমে ফিরে এই অন্যায় সম্পর্কে জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন। তিনি একা হাতে কার্তবীর্যার্জুনের প্রেরিত ১৭ অক্ষৌহিণী সেনাকে বিনাশ করে মাহিষ্মতীর দ্বারে উপস্থিত হন। কার্তবীর্যার্জুন তাঁর দিব্য রথে চড়ে হাজার বাহু দিয়ে একযোগে ৫০০টি বাণ ও নানান অস্ত্র বর্ষণ করতে থাকেন। কিন্তু ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরমবীর পরশুরাম তাঁর সমস্ত বাণ ও পাথর প্রতিহত করেন। অতঃপর পরশুরাম নিজ ধনুকের বাণে কার্তবীর্যার্জুনের রথ ও সারথি বিনষ্ট করেন এবং ভগবান শিবের দেওয়া তীক্ষ্ণ পরশু (কুঠার) দিয়ে কার্তবীর্যার্জুনের এক হাজার বাহু কেটে ফেলে তাঁকে বধ করেন।

পরবর্তীতে কার্তবীর্যার্জুনের পুত্ররা প্রতিশোধ নিতে আশ্রমে ঢুকে ধ্যানমগ্ন মহর্ষি জমদগ্নিকে হত্যা করে। পিতা হত্যার এই নৃশংসতার বদলা নিতেই ভগবান পরশুরাম পৃথিবী থেকে ২১ বার অত্যাচারী ক্ষত্রিয়দের বিনাশ করার কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন।

রাজা কার্তবীর্যার্জুন যে হেহয় বংশের রাজা ছিলেন, তা চন্দ্রবংশের রাজা যদুর মূল শাখা থেকেই উদ্ভূত। এই যদুবংশেই পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম, কংস, উগ্রসেন, বসুদেব, সাত্যকি, কৃতবর্মা ও অনিরুদ্ধের মতো মহামানবদের জন্ম হয়েছিলো।

কার্তবীর্যার্জুন আর ভগবান পরশুরামের যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা জানতে চান তাহলে সেটা কমেন্টে জানান।
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted - This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra. Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

17/08/2026

যুধিষ্ঠিরের শেষ রূপান্তর 😦

মহাকাব্য মহাভারতের পাতায় ঢাকা পড়ে যাওয়া সেই এক শিহরণ জাগানো সিনেম্যাটিক মুহূর্ত!​রামায়ণ বা মহাভারতের মূলধারার আলোচনায় এ...
17/08/2026

মহাকাব্য মহাভারতের পাতায় ঢাকা পড়ে যাওয়া সেই এক শিহরণ জাগানো সিনেম্যাটিক মুহূর্ত!
​রামায়ণ বা মহাভারতের মূলধারার আলোচনায় এই দৃশ্যটির কথা প্রায় শুনতেই পাওয়া যায় না - অথচ এর গাম্ভীর্য আর নাটকীয়তা যেকোনো দৃশ্যকে টেক্কা দিতে পারে।

আজ নিজেকে একটা প্রশ্ন করা যাক - ‘ভালো মানুষের মুখোশ পরা’ আর ‘ভেতর থেকে আমূল বদলে যাওয়া’ - এই দুটোর মধ্যে আসল তফাতটা ঠিক কোথায়?

ভালো সাজার অভিনয় বা কৃত্রিম চেষ্টার একটা বাঁধাধরা নিয়ম থাকে, থাকে লোকদেখানো ঢাকঢোল। কিন্তু ভেতরের অহংকার চূর্ণ করে ‘সত্যিই বদলে যাওয়া’? সেটা কোনো সাধারণ পরিবর্তন নয় - সেটা এক চরম, অলৌকিক আধ্যাত্মিক রূপান্তর!

পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ যুধিষ্ঠির ছিলেন স্বয়ং ধর্মরাজের পুত্র। নিয়ম মানাটাই ছিলো তাঁর ধর্ম। দ্যুত সভার অন্যায় আমন্ত্রণ তিনি শুধু নিয়ম মেনে প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি; ভাইদের আর দ্রৌপদীকে বাজি লাগানোর পর নিয়মের ফাঁদে পড়ে পিছু হঠতে পারেননি... এমনকি দ্রোণাচার্যকে বধ করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে গিয়েও তাঁর পা কেঁপে উঠেছিলো।
সারাজীবন তিনি বইয়ের পাতা আর সমাজের বেঁধে দেওয়া ধর্মের নিয়মগুলোকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু মহাভারতের মহামূল্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সাড়ে ১৬ বছর পর ( ১৭ বছর) পর.... অনুশোচনা, চরম অপরাধবোধ আর এক গভীর বিষাদ তাঁকে গ্রাস করেছিলো।
কারণ তিনি ভাবতেন, এই সব ধ্বংসের মূল কারিগর তিনিই।

​অথচ মজার বিষয় হলো, স্বয়ং ‘ধর্মরাজ’ কিন্তু তাঁদের পরিবারের ভেতরেই ছায়া হয়ে বাস করছিলেন - মহামন্ত্রী বিদুর! ঋষি মাণ্ডব্যের অভিশাপের কারণে স্বয়ং ধর্মরাজ মনুষ্য রূপে বিদুর হয়ে জন্মেছিলেন, আর তাঁরই বরদানে জন্মেছিলেন যুধিষ্ঠির।

অভিশাপ আর বরদানের এই দুই রূপ যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মুখোমুখি দাঁড়ালো - ঠিক সেখানেই ঘটল ‘ভালো সেজে থাকা’ থেকে ‘পূর্ণ ভালো হয়ে ওঠা’-র সেই মহাজাগতিক রূপান্তর।

যুদ্ধ শেষের সাড়ে ১৬ বছর পর, মানসিক গ্লানিতে জ্বলতে থাকা যুধিষ্ঠির বনে গিয়ে ধৃতরাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করেন - "কাকা, বিদুর কোথায়?"
ধৃতরাষ্ট্র জানান, বিদুর এখন সব ছেড়ে গভীর বনে সন্ন্যাসী হয়ে ঘুরে বেড়ান।

ঠিক তখনই, বনভূমির এক অদ্ভুত গা ছমছমে নিস্তব্ধতার বুক চিরে হাজির হন বিদুর। উস্কোখুস্কো চুল, লম্বা জটা, শরীরে ধুলোবালি মাখা, সম্পূর্ণ নগ্ন ও কৃশ-রোগা এক অলৌকিক অবয়ব।

যুধিষ্ঠির আবেগাপ্লুত হয়ে ডাকেন, "কাকা বিদুর, থামুন, আমি যুধিষ্ঠির!" কিন্তু বিদুর নিস্পৃহ, নীরব। তিনি বনের গভীরে হাঁটতে থাকেন। যুধিষ্ঠিরও পিছু ছোটেন।

অবশেষে একটি বিশাল গাছের কাণ্ডে ভর দিয়ে বিদুর দাঁড়ান। যুধিষ্ঠির কাছে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলেন, "কাকা, আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি আপনার যুধিষ্ঠির!"

বিদুর কোনো কথা বললেন না। কেবল স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। একদিকে অপরাধবোধ আর হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত এক রাজা, অন্যদিকে পরম সংসারী থেকে পরম বিরক্ত হওয়া এক তত্ত্বদর্শী অবতার! দুজোড়া চোখের নীরবতায় যেন শতাব্দী ধরে জমতে থাকা ধর্মরাজের নিজস্ব সংলাপ সম্পন্ন হচ্ছিলো।

আর ঠিক তখনই ঘটল সেই অভূতপূর্ব ঘটনা!

বিদুরের অক্ষিগোলক থেকে নির্গত হলো এক ঐশ্বরিক তেজ ও মহাজাগতিক জ্যোতি। তাঁর জীবনীশক্তি, তাঁর সমস্ত জ্ঞান ও সত্তা মুহূর্তের মধ্যে বিদুরের শরীর ত্যাগ করে যুধিষ্ঠিরের মধ্যে বিলীন হয়ে গেল!

এক মুহূর্তেই যুধিষ্ঠির উপলব্ধি করলেন - "আমি আর বিদুর আলাদা কেউ নই। আমরা এক।" ধর্মরাজের ক্ষুদ্র অংশটি সেদিন সম্পূর্ণ পূর্ণতায় রূপ নিলো।

যিনি আগে শত্রুর মৃত্যুতেও অনাবিল অপরাধবোধে ভুগতেন, নিয়ম ভাঙার ভয়ে তটস্থ থাকতেন - বিদুরের সেই পরম শক্তি অর্জনের পর, পাণ্ডবদের মহাপ্রস্থান কিংবা দ্বারকার ধ্বংসের মতো চরম বিপদেও যুধিষ্ঠির পরম শান্ত ও নির্লিপ্ত রইলেন। তিনি আর নিয়মের দাস রইলেন না, তিনি স্বয়ং ধর্মে পরিণত হলেন।

আমরা প্রায়ই সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার কসরত করি। কেউ সুবিধা নিলে মন খারাপ করি, কষ্ট পাই। কিন্তু যখন আমরা ভেতর থেকে ‘বিদুর’ হয়ে উঠি - অর্থাৎ আত্মজ্ঞানে পূর্ণ হই - তখন বাইরের কোনো আঘাত বা মানুষের কোনো আচরণ আর আমাদের টলাতে পারে না।

যুধিষ্ঠির থেকে বিদুর, আর বিদুর থেকে যুধিষ্ঠির হয়ে ওঠার এই মহাজাগতিক মিলন আমাদের সেই চিরন্তন মহাতত্ত্বটিই মনে করিয়ে দেয়।

সময় পেলে মহাভারতের আশ্রমবাসিক পর্বের এই অপূর্ব অধ্যায়টি একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন - কথা দিচ্ছি, গায়ে কাঁটা দেবে!
Writer - SB Bubai (Sangram)

নিচে Note আর Warning দেবার পরেও যারা লেখা কপি করে নিজেদের Profile বা Page এ পোস্ট করছেন কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে.... এমনকি Credit পর্যন্ত দিচ্ছেন না তারা সাবধান হয়ে যান কারণ আমার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আমি কিন্তু Copy Right মেরে দেবো। তখন কিন্তু Facebook আপনাদের পেইজ বা প্রোফাইল Down করে দিলে কিছু আর করার থাকবে না।

আপনারা Direct শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন এতে কোনো সমস্যা নেই।

(End)

Noted: This Text is protected under copyright law and copyrighted by Puran Kotha Samgra . Unauthorized copying, posting, may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.

Address

Burdwan

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Puran Kotha Samgra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Puran Kotha Samgra:

Shortcuts

Share