17/07/2026
E-20 পেট্রোল বিতর্কে ঐতিহাসিক রায় — গাড়ি বদলে দিতে হবে মারুতিকে, নয়তো ফেরত দিতে হবে সাড়ে ২০ লাখ টাকা!
দেশজুড়ে E20 পেট্রোল নিয়ে যে জলঘোলা চলছিল, তাতে এবার প্রথমবার আইনি সিলমোহর পড়ল। ছত্তিসগড়ের রায়পুর জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এমন এক রায় দিয়েছে, যেখানে E20 পেট্রোলের কারণে গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারী গ্রাহকের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। আর এটাই দেশের প্রথম কনজিউমার কোর্ট রায় বলে মনে করা হচ্ছে, যা কেন্দ্রের ইথানল-ব্লেন্ডেড পেট্রোল প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঘটনাটা কী?
রায়পুরের বাসিন্দা ডাঃ প্রেমরাজ দেবতা ২০২৩ সালে একটি মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা স্ট্রং হাইব্রিড জেটা প্লাস কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, E20 পেট্রোল ভরানোর পর থেকেই গাড়িতে বারবার ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে — পারফরম্যান্স কমে যাওয়া, বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া, মিসফায়ারিং, আর মাইলেজ ক্রমশ কমতে থাকা। বারবার সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি সারাতে দিলেও সমস্যা মেটেনি, উল্টে বড়সড় ইঞ্জিন সংক্রান্ত খরচ হয়ে যায় তাঁর।
অন্যদিকে মারুতি সুজুকি ও ডিলার দুজনেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল, গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে E20 ফুয়েল কম্প্যাটিবল। তাদের যুক্তি ছিল, স্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, ফুয়েলের কোনও দোষ নেই।
কমিশনের রায়ে কী বলা হয়েছে?
এখানেই আসল টুইস্ট। কমিশন স্পষ্ট বলেছে — "বর্তমানে দেশের প্রায় সব পেট্রোল পাম্পেই E20 সহজলভ্য জ্বালানি হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের হাতে অন্য কোনও বিকল্প নেই। যেখানে বিকল্প নেই, সেখানে চালকদের কাছে E20 সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার প্রত্যাশা করা যায় না।"
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই কমিশন গ্রাহকের পক্ষে রায় দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী —
মারুতি সুজুকিকে ৪৫ দিনের মধ্যে গ্রাহকের গাড়িটি একটি নতুন E20-কম্প্যাটিবল মডেল দিয়ে বদলে দিতে হবে, Business Standard
তা না হলে ১৮.২৯ লাখ টাকার গাড়ির পুরো দাম, ১.৮৬ লাখ টাকা RTO ফি এবং ৩৪,৬৪৪ টাকা বিমার প্রিমিয়াম মিলিয়ে মোট ২০.৫০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে, এর পাশাপাশি মানসিক হয়রানির জন্য ১ লাখ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা মেটানো না হলে সুদও গুনতে হবে, এমন কড়া শর্তও বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
বড় প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত
তবে বিতর্ক কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়করি বরাবরই E20-কে সমর্থন করে এসেছেন, দাবি করেছেন E10-কম্প্যাটিবল সব গাড়িই E20-এর জন্য উপযুক্ত এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। এমনকি IIT কানপুরের একটি সমীক্ষাতেও বলা হয়েছিল, E20 ইঞ্জিনের ক্ষতি করার কোনও প্রমাণ নেই, মাইলেজ কমে ৫ শতাংশেরও কম। অথচ একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, নতুন পেট্রোল গাড়ির প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মালিকই ১০ শতাংশের বেশি মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তাই সরকারি অবস্থান আর বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যেকার এই ফারাকটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্নচিহ্ন। রায়পুরের এই রায় নজির হিসেবে দাঁড়ালে, ভবিষ্যতে দেশজুড়ে (পশ্চিমবঙ্গ সমেত) আরও গ্রাহক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পারেন।
LBN বাংলার মত: যাঁদের গাড়িতে সম্প্রতি হঠাৎ মাইলেজ কমে যাওয়া, ইঞ্জিন মিসফায়ার বা বারবার স্টল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাঁদের উচিত সার্ভিস সেন্টারের রিপোর্ট, রিপেয়ার বিল এবং পেট্রোল ভরানোর রসিদ যত্ন করে রেখে দেওয়া — কারণ ভবিষ্যতে এই ধরনের নথিই হতে পারে আইনি লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
#পশ্চিমবঙ্গ