LBN Bangla

LBN Bangla Bengali News

একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগের রাতেই যা হল, সেটা গত কয়েক বছরে তৃণমূলের শহিদ দিবস ঘিরে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা বলা যায়।সোমবার রা...
21/07/2026

একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগের রাতেই যা হল, সেটা গত কয়েক বছরে তৃণমূলের শহিদ দিবস ঘিরে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা বলা যায়।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৈরি হওয়া একুশের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ব্যানার-হোর্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাইকের সংযোগও কেটে দেওয়া হয়। অথচ এই মঞ্চ তৈরির অনুমতিই দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, শর্তসাপেক্ষে। খবর পেয়ে রাতেই সভাস্থলে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেনরা — আর সারারাত মঞ্চের সামনে অবস্থান করেন।

মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি শুনানির আবেদন করেন আইনজীবী অর্ক নাগ। বিচারপতি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রকে সরাসরি প্রশ্ন করেন — আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন সহযোগিতা করল না? জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের কাছে ঘটনার কোনও তথ্যই নেই। এরপরেই মামলা গ্রহণ করে পুলিশকে সভাস্থলের নিরাপত্তা অবিলম্বে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় আদালত।

৩৩ বছর পর ফাইল খুলল। আর যেটা বেরোল, সেটা শুধু পুরনো একটা মামলার কাগজ নয় — একটা গোটা রাজনৈতিক লিগ্যাসির লড়াই।সোমবার বিধ...
20/07/2026

৩৩ বছর পর ফাইল খুলল। আর যেটা বেরোল, সেটা শুধু পুরনো একটা মামলার কাগজ নয় — একটা গোটা রাজনৈতিক লিগ্যাসির লড়াই।

সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে হাতে সেই ফাইল খুললেন, যেটা ১৫ বছর ধরে বন্ধ ছিল — বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিচালনা নিয়ে। ২০১১-য় ক্ষমতায় এসে এই কমিশন গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই, কিন্তু রিপোর্ট কোনওদিন প্রকাশ্যে আসেনি। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, কমিশন সেই গুলিচালনাকে বলেছে "উসকানি ছাড়া, অপ্রয়োজনীয়" — আর পুলিশ কমিশনার-আধিকারিকদের তৎকালীন রিপোর্টের সঙ্গে নাকি এর মিল নেই।

যেটা সবচেয়ে চোখে লাগার মতো — টাকার হিসেব। শুভেন্দুর কথায়, কমিশন সুপারিশ করেছিল নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ আর আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য। বাস্তবে নাকি তৃণমূল সরকার দিয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ আর ১৫ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শহিদ পরিবারগুলো চাইলে এখন ফ্রেশ এফআইআর করতে পারবে, আর রিলিফ ফান্ড থেকে কমিশনের সুপারিশ মতো টাকাও দেওয়া হবে।

এবার আসল গল্পটা বুঝতে গেলে একটু পিছনে ফিরতে হবে। ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই, সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান। সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় — পরে যিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েন, আর এই দিনটাকেই দলের "শহিদ দিবস" বানান। এটাই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় বার্ষিক ইভেন্ট, প্রতি বছর ধর্মতলায়। মজার ব্যাপার হল — সেদিন যাঁর নির্দেশে গুলি চলেছিল বলে অভিযোগ, সেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তকেই পরে বিধায়ক-মন্ত্রী করেছিলেন মমতা। এই বৈপরীত্য নিয়ে কংগ্রেস আর তৃণমূলের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।

এই রিপোর্ট প্রকাশের টাইমিংটাও নেহাত কাকতালীয় নয়। আগামীকাল ৩৩তম শহিদ দিবস, কিন্তু এবার সেটা আর এক জায়গায়, এক দলের হাতে নেই। তৃণমূলের ভাঙনের জেরে এবার তিনটে আলাদা রাজনৈতিক শিবির আলাদাভাবে শহিদ তর্পণ করবে — মমতা নিজে এবার ধর্মতলার বদলে তারামণ্ডলের সামনে অনুষ্ঠান করবেন, আর প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ মিনারে বড় সমাবেশ করে সরাসরি মমতাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, এই বলে যে ২১ জুলাইয়ের "আসল উত্তরাধিকার" আসলে কংগ্রেসেরই। অর্থাৎ এবারের শহিদ দিবস শুধু স্মরণসভা নয়, এই দিনটার মালিকানা নিয়ে একটা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই।

একটা কথা স্পষ্ট করে বলে রাখা দরকার — উপরের বেশিরভাগ তথ্যই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভায় পড়ে শোনানো রিপোর্ট আর তাঁর নিজের বক্তব্য থেকে আসা। কমিশনের সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখনও স্বতন্ত্রভাবে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ হয়নি, আর আজকের এই ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনও আমাদের হাতে আসেনি। সেটা এলে আমরা আপডেট করব।

কাল যখন তিনটে আলাদা মঞ্চে তিনটে আলাদা "শহিদ দিবস" হবে, তখন বোঝা যাবে — এই রিপোর্ট প্রকাশ আসলে একটা রাজনৈতিক দিনকে আরও জটিল করে তুলল, নাকি ৩৩ বছর ধরে ঝুলে থাকা প্রশ্নগুলোর একটা সদুত্তর দিল। সেটা সময়ই বলবে।

বাংলার শিল্পমানচিত্রে নতুন পালক! বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শিল্প-উদ্যোগ। শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন...
17/07/2026

বাংলার শিল্পমানচিত্রে নতুন পালক! বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শিল্প-উদ্যোগ। শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন কারখানা পুরোদমে চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় আরও একাধিক ছোট-মাঝারি অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাঁকুড়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর আর্থ-সামাজিক ছবিটাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঞ্চ থেকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলা থেকে আর কাউকে কাজের খোঁজে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে যেতে হবে না, সেটাই লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "সরকারের সঙ্গে যাঁরা একজোট হয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের স্বাগত জানাই।"

আর এখানেই আসল মজাটা — এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘোষণা নয়। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৯ সপ্তাহের মধ্যেই ডানকুনিতে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের সম্প্রসারণের পর এবার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, আগামীকাল ধূলাগড়ে অমিত শাহের হাত ধরে আমূল প্ল্যান্টের ভার্চুয়াল উদ্বোধন হবে, অগস্টের পর দুর্গাপুরে প্রায় ৪ হাজার কোটির নতুন বিনিয়োগ আসছে, আদানি গোষ্ঠী নিউটাউনে হাসপাতাল গড়ছে, আর পুজোর আগেই হরিণঘাটায় চালু হয়ে যাবে ফ্লিপকার্টের নতুন ইউনিট। অর্থাৎ, রাজ্যে বিনিয়োগের গতি এখন রীতিমতো চোখে পড়ার মতো।

শ্যাম স্টিল অবশ্য বাংলার মাটিতে নতুন নাম নয় — গত ৬০ বছর ধরে রাজ্যেই ব্যবসা চালিয়ে আসা এই সংস্থার ইতিমধ্যেই একাধিক পূর্ণ অটোমেটেড কারখানা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মেজিয়ার এই নতুন, বড়সড় সম্প্রসারণ।

সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটাই হল— এই ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হয়, আর সত্যিই কতজন স্থানীয় ছেলে-মেয়ে কাজ পান, সেটা সময়ই বলবে। তবে আপাতত মেজিয়ার মাটিতে যে বড় বিনিয়োগ পা রাখল, সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই।
আপনাদের কী মনে হয়, এই ধরনের বড় শিল্প-বিনিয়োগ সত্যিই স্থানীয় বেকারত্বের ছবিটা বদলাতে পারবে? কমেন্টে জানান।

#বাঁকুড়া #মেজিয়া

E-20 পেট্রোল বিতর্কে ঐতিহাসিক রায় — গাড়ি বদলে দিতে হবে মারুতিকে, নয়তো ফেরত দিতে হবে সাড়ে ২০ লাখ টাকা!দেশজুড়ে E20 পে...
17/07/2026

E-20 পেট্রোল বিতর্কে ঐতিহাসিক রায় — গাড়ি বদলে দিতে হবে মারুতিকে, নয়তো ফেরত দিতে হবে সাড়ে ২০ লাখ টাকা!
দেশজুড়ে E20 পেট্রোল নিয়ে যে জলঘোলা চলছিল, তাতে এবার প্রথমবার আইনি সিলমোহর পড়ল। ছত্তিসগড়ের রায়পুর জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এমন এক রায় দিয়েছে, যেখানে E20 পেট্রোলের কারণে গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারী গ্রাহকের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। আর এটাই দেশের প্রথম কনজিউমার কোর্ট রায় বলে মনে করা হচ্ছে, যা কেন্দ্রের ইথানল-ব্লেন্ডেড পেট্রোল প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ঘটনাটা কী?
রায়পুরের বাসিন্দা ডাঃ প্রেমরাজ দেবতা ২০২৩ সালে একটি মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা স্ট্রং হাইব্রিড জেটা প্লাস কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, E20 পেট্রোল ভরানোর পর থেকেই গাড়িতে বারবার ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে — পারফরম্যান্স কমে যাওয়া, বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া, মিসফায়ারিং, আর মাইলেজ ক্রমশ কমতে থাকা। বারবার সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি সারাতে দিলেও সমস্যা মেটেনি, উল্টে বড়সড় ইঞ্জিন সংক্রান্ত খরচ হয়ে যায় তাঁর।

অন্যদিকে মারুতি সুজুকি ও ডিলার দুজনেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল, গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে E20 ফুয়েল কম্প্যাটিবল। তাদের যুক্তি ছিল, স্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, ফুয়েলের কোনও দোষ নেই।

কমিশনের রায়ে কী বলা হয়েছে?
এখানেই আসল টুইস্ট। কমিশন স্পষ্ট বলেছে — "বর্তমানে দেশের প্রায় সব পেট্রোল পাম্পেই E20 সহজলভ্য জ্বালানি হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের হাতে অন্য কোনও বিকল্প নেই। যেখানে বিকল্প নেই, সেখানে চালকদের কাছে E20 সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার প্রত্যাশা করা যায় না।"

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই কমিশন গ্রাহকের পক্ষে রায় দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী —

মারুতি সুজুকিকে ৪৫ দিনের মধ্যে গ্রাহকের গাড়িটি একটি নতুন E20-কম্প্যাটিবল মডেল দিয়ে বদলে দিতে হবে, Business Standard
তা না হলে ১৮.২৯ লাখ টাকার গাড়ির পুরো দাম, ১.৮৬ লাখ টাকা RTO ফি এবং ৩৪,৬৪৪ টাকা বিমার প্রিমিয়াম মিলিয়ে মোট ২০.৫০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে, এর পাশাপাশি মানসিক হয়রানির জন্য ১ লাখ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা মেটানো না হলে সুদও গুনতে হবে, এমন কড়া শর্তও বেঁধে দিয়েছে কমিশন।

বড় প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত
তবে বিতর্ক কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়করি বরাবরই E20-কে সমর্থন করে এসেছেন, দাবি করেছেন E10-কম্প্যাটিবল সব গাড়িই E20-এর জন্য উপযুক্ত এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। এমনকি IIT কানপুরের একটি সমীক্ষাতেও বলা হয়েছিল, E20 ইঞ্জিনের ক্ষতি করার কোনও প্রমাণ নেই, মাইলেজ কমে ৫ শতাংশেরও কম। অথচ একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, নতুন পেট্রোল গাড়ির প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মালিকই ১০ শতাংশের বেশি মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তাই সরকারি অবস্থান আর বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যেকার এই ফারাকটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্নচিহ্ন। রায়পুরের এই রায় নজির হিসেবে দাঁড়ালে, ভবিষ্যতে দেশজুড়ে (পশ্চিমবঙ্গ সমেত) আরও গ্রাহক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পারেন।
LBN বাংলার মত: যাঁদের গাড়িতে সম্প্রতি হঠাৎ মাইলেজ কমে যাওয়া, ইঞ্জিন মিসফায়ার বা বারবার স্টল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাঁদের উচিত সার্ভিস সেন্টারের রিপোর্ট, রিপেয়ার বিল এবং পেট্রোল ভরানোর রসিদ যত্ন করে রেখে দেওয়া — কারণ ভবিষ্যতে এই ধরনের নথিই হতে পারে আইনি লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

#পশ্চিমবঙ্গ

যাঁর জীবনকাহিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল '৩ ইডিয়টস'-এর সেই বিখ্যাত চরিত্রকে, যিনি লাদাখের রুক্ষ পাহাড়ে জল সংকট মেটাতে বান...
15/07/2026

যাঁর জীবনকাহিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল '৩ ইডিয়টস'-এর সেই বিখ্যাত চরিত্রকে, যিনি লাদাখের রুক্ষ পাহাড়ে জল সংকট মেটাতে বানিয়েছিলেন 'আইস স্তূপা', যিনি নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন সোলার-চালিত স্কুল SECMOL — সেই সোনম ওয়াংচুক আজ ফের অনশনে। কিন্তু এবার নিজের জন্য নয়, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের জন্য।
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র (CJP) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁর এই লড়াই — দাবি একটাই, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় নিয়ে ইস্তফা দিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মে মাসের সেই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন অসংখ্য পরীক্ষার্থী।

অথচ এই মানুষটার জন্য এটাই প্রথম লড়াই নয়। ২০২৩ সালে খারদুং লা পাসে জলবায়ু সংকট নিয়ে অনশন করার জন্য তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। ২০২৪-এ লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে টানা ২১ দিন অনশন করেছিলেন। এমনকি ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে লে-তে হওয়া প্রতিবাদ সহিংস হয়ে ওঠার পর তাঁকে দায়ী করে কড়া জাতীয় সুরক্ষা আইন (NSA)-এ প্রায় ছ'মাস বিনা বিচারে জেলবন্দি রাখা হয়েছিল। এই বছরের মার্চে ছাড়া পান তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার বদলে আবার নেমে পড়েছেন রাস্তায় — এবার অন্য কারও জন্য, দেশের ছাত্রসমাজের জন্য।

অনশনের ১৭-১৮ দিন পার হতে হতেই শরীর ভেঙে পড়েছে তাঁর। প্রায় সাড়ে ৮ কেজি ওজন কমে গিয়েছে এই কয়েকদিনে। অখিলেশ যাদবের মতো একাধিক বিরোধী নেতা, অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের মতো পরিচিত মুখ — সবাই গিয়ে অনুরোধ করেছেন অনশন প্রত্যাহারের। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সহকর্মীদের ভাষায়, বারবার জিজ্ঞেস করলেও তিনি একটাই প্রশ্ন করছেন — সরকার কেন কথা বলতে রাজি হচ্ছে না?

এই অবস্থায় জরুরি চিকিৎসার আর্জি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলেও, বুধবারের শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে কোনও আইনজীবীই ছিলেন না বলে আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়ের বেঞ্চ বিষয়টিকে 'জরুরি' বলে চিহ্নিত করে মামলা মুলতুবি রেখেছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

একজন মানুষ, যিনি সারাজীবন শুধু শিক্ষা আর পরিবেশের জন্য লড়ে গেছেন, আজ নিজের জীবন বাজি রেখে বসে আছেন রাস্তায়।

প্রশ্ন এখন একটাই, দেশ কি এভাবেই হারাতে বসেছে তার একজন প্রকৃত রত্নকে?

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বুধবার দুপুরে হঠাৎই হাজির হন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেম্বারে। সা...
15/07/2026

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বুধবার দুপুরে হঠাৎই হাজির হন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেম্বারে। সাদা পাঞ্জাবি, চোখে কালো রোদচশমা— ঋতব্রতর পাশেই বসে তিনি ঘোষণা করেন, কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন তিনি।

আসল টুইস্টটা কোথায়?
ছাব্বিশের ভোটে হারের পর তৃণমূল দু'ভাগ হয়ে গিয়েছিল। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অনুব্রত মণ্ডলের মতো হেভিওয়েটরা একে একে পাড়ি দেন ঋতব্রত শিবিরে। সেই ভাঙনের মধ্যেও মমতার পাশে অবিচল ছিলেন মদন। পুরস্কারও পেয়েছিলেন— কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁকে করা হয় দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, পরে ফিরহাদকে সরিয়ে বিধানসভার মুখ্য সচেতক পদেও বসানো হয় তাঁকে।
সেই মদনই এবার সরে দাঁড়ালেন। আর টাইমিংটা লক্ষণীয়— কামারহাটি পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করেছে ইডি। এর আগে জুন মাসে তাঁর ভবানীপুর ও দক্ষিণেশ্বরের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। মঙ্গলবার রাতে ঋতব্রত-শিবিরের নেতা সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে দীর্ঘ গোপন বৈঠকও সেরে আসেন মদন।

তাহলে প্রশ্নটা এখানেই— এটা কি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নাকি ইডি-র চাপ সামলাতেই "নিরাপদ শিবির" খুঁজে নেওয়া? দলের অন্দরেও এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই মুহূর্তে মদন বা ঋতব্রত শিবির— কোনও পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে LBN বাংলা নজর রাখছে, নতুন আপডেট এলেই জানানো হবে।

আপনার কী মনে হয়— এটা বিশ্বাসঘাতকতা, নাকি বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত? কমেন্টে জানান।

রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ বিতর্কে নতুন মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার সুপ্রিম কোর্টে থাকা ওবিসি সংরক্ষণ মামলা প্র...
14/07/2026

রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ বিতর্কে নতুন মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার সুপ্রিম কোর্টে থাকা ওবিসি সংরক্ষণ মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী কুনাল মিমানি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে চিঠি পাঠিয়ে এই মামলা জরুরি ভিত্তিতে শোনার আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু এই খবরটা বুঝতে হলে গোটা কাহিনিটা একটু পিছন থেকে ধরতে হবে।
শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন তৃণমূল সরকার ৭৭টি সম্প্রদায়কে নতুন করে ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুযোগ দেয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন অমলচন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ ছিল, আইনি প্রক্রিয়া ঠিকমতো না মেনেই এই তালিকা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ২২ মে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় রায় দেয় — ২০১০ সালের আগের ৬৬টি সম্প্রদায়ের শংসাপত্র বৈধ থাকলেও, পরে যোগ হওয়া ৭৭টি সম্প্রদায়ের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া আইন মেনে হয়নি। ফলে একধাক্কায় বাতিল হয়ে যায় প্রায় ১২ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি বহাল থাকে — শুধু নতুন করে সার্টিফিকেট ব্যবহারে রাশ টানা হয়।
তখনকার সরকার সুপ্রিম কোর্টে গেল কেন?
এত বড়সংখ্যক সার্টিফিকেট বাতিল হওয়াটা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় ধাক্কা ছিল তৃণমূলের জন্য। তাই তৎকালীন রাজ্য সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। এই মামলা চলাকালীনই রাজ্য সরকার আরেকটা কাজ করে বসে — পুরনো তালিকায় কিছু রদবদল করে, নতুন ৭৬টি সম্প্রদায় যোগ করে মোট ১৪০টি সম্প্রদায়ের একটা নতুন ওবিসি তালিকা প্রকাশ করে দেয়, হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা না করেই। স্বাভাবিকভাবেই এই নতুন তালিকা নিয়েও ফের মামলা হয়, আর ২০২৫ সালের জুনে হাইকোর্ট এটার ওপরেও স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে একটা মামলা থেকে আসলে তিনটে সমান্তরাল আইনি লড়াই তৈরি হয়ে যায়।
এখনকার সরকার মামলা তুলে নিতে চাইছে কেন?
বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে, তৃণমূল সরকার ওবিসি সংরক্ষণকে ধর্মের ভিত্তিতে ব্যবহার করেছে, প্রকৃত অনগ্রসর সম্প্রদায়কে বঞ্চিত রেখে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দিয়েছে — ভোটের আগে থেকেই এটা তাদের বড় প্রচারের বিষয় ছিল। এখন ক্ষমতায় এসে তারা তৃণমূল আমলে তৈরি সেই পুরনো তালিকাটাকে আর আদালতে গিয়ে রক্ষা করতে চাইছে না। মামলা তুলে নেওয়ার অর্থ, তারা হাইকোর্টের ২০২৪ সালের রায় মেনে নিচ্ছে, এবং এবার নিজেদের মতো করে নতুন সমীক্ষা চালিয়ে নতুন নিয়মে ওবিসি তালিকা তৈরির পথ খুলে নিতে চাইছে।
তাহলে কি জট পুরোপুরি কেটে গেল?
একদমই না। মূল মামলাকারীর আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু এই মামলা তুলে নিলে সমস্যা মিটবে না, কারণ ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আসলে মোট তিনটি মামলা চলছে। একটা তো এই মামলা, যেটা তোলার আবেদন করা হয়েছে। দ্বিতীয়টা সেই ১৪০ সম্প্রদায়ের নতুন তালিকা নিয়ে, যার ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এখনও বহাল। আর তৃতীয়টা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ওবিসি সংরক্ষণ প্রয়োগ নিয়ে, যেটার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। এছাড়া প্রায় ৪০,০০০ শিক্ষক নিয়োগ-সহ একাধিক সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও এই অনিশ্চয়তার কারণে আটকে আছে।
তাই এই মুহূর্তে যেটা সত্যি, সেটা হলো — রাজ্য সরকার একটা মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছে, সুপ্রিম কোর্ট এখনও তা মঞ্জুর করেনি, আর বাকি দুটো মামলা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের সার্টিফিকেট, চাকরি ও ভর্তির ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি অনিশ্চিত। ওবিসি জট কাটতে এখনও অনেকটা পথ বাকি।

গঙ্গার তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ পেরিয়ে হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ — গ্রিন লাইনের গোটা ১৬.৬ কিলোমিটার রুটে সম্পূর্ণ চালকবিহ...
14/07/2026

গঙ্গার তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ পেরিয়ে হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ — গ্রিন লাইনের গোটা ১৬.৬ কিলোমিটার রুটে সম্পূর্ণ চালকবিহীন মেট্রো চালানোর ট্রায়াল রান হয়ে গেল এই রবিবার। শুধু ট্রায়াল নয়, সঙ্গে ছিল কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (CRS)-র কড়া নিরাপত্তা পরিদর্শনও। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সার্কেলের CRS সুমিত সিংঘল নিজে এসে দেখলেন, গঙ্গার নিচে ৫২০ মিটারের দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার মেট্রো টানেল-সহ ১২টি স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কিনা। এই পরিদর্শনের জন্য সেদিন সকাল ৯টার বদলে বিকেল সাড়ে ৪টেয় প্রথম মেট্রো ছাড়ে।
গোটা প্রক্রিয়াটা কন্ট্রোল হয় সেন্ট্রাল পার্ক ডিপোর অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (OCC) থেকে, রিমোটের মাধ্যমে — যেটা আসলে মেট্রোর অত্যাধুনিক CBTC (কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল) সিস্টেমের 'মস্তিষ্ক'। আধিকারিকদের কথায়, পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা চালু হলে চালকের কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু দরজা খোলা-বন্ধ করার মধ্যে। তবে যাত্রীরা যাতে আতঙ্কিত না হন, তার জন্য শুরুর দিকে কেবিনে চালক উপস্থিত থাকবেনই।
পরিদর্শন সফল হয়েছে। এখন বাকি শুধু একটাই ধাপ — CRS-এর চূড়ান্ত সবুজ সংকেত। সেটা মিললেই যাত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটবে কলকাতার প্রথম চালকবিহীন মেট্রো, প্রাথমিকভাবে গ্রিন লাইনেই। এই ছাড়পত্র এলে দেশের হাতে গোনা কয়েকটা শহরের তালিকায় ঢুকে পড়বে কলকাতা, যেখানে সত্যিকারের স্বয়ংক্রিয় মেট্রো প্রযুক্তি বাস্তবে চলে।
আপনি কি চড়তে রাজি চালকবিহীন মেট্রোয়? কমেন্টে জানান।

Address

204/A/A TELIPARA Lane, BAGER BAGAN
Chatra
712204

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LBN Bangla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to LBN Bangla:

Share