17/06/2026
জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েই ইস্তফা! শুভেন্দুর নেতৃত্বে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রদীপ সরকারের!
তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদে নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করলেন খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়নে সামিল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তবে আপাতত কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে প্রদীপ সরকার বলেন, মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। তাঁর কথায়, “গতকাল রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পেলাম আমাকে জেলা সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি।”
দলীয় পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, যখন তিনি বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন, তখনও কাজ করার সুযোগ পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এমকেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান করা হলেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁকে সই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
প্রদীপ সরকারের বক্তব্য, “যখন পদে ছিলাম তখন কাজ করতে পারিনি। আর আজ যখন দল ক্ষমতায় নেই, তখন পদ নিয়ে কী করব?”
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, তাঁদের নেতৃত্বে রাজ্য ও খড়্গপুরে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলায় উন্নয়ন হচ্ছে, খড়্গপুরে উন্নয়ন হচ্ছে। শুভেন্দুদা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার একজন ছেলে হিসেবে আমরা গর্বিত।”
এছাড়াও তিনি জানান, শুভেন্দু অধিকারীর সহায়তাতেই তিনি প্রথমবার বিধায়ক হতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই তাঁর নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজে সামিল হতে এবং পাশে থাকতে চান।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, তবুও আপাতত কাউন্সিলর পদে বহাল থাকছেন প্রদীপ সরকার। তাঁর যুক্তি, মানুষের পরিষেবা দেওয়ার স্বার্থেই তিনি এই পদটি রাখছেন। তবে দলীয় কর্মীরা যদি না চান, তাহলে ভবিষ্যতে সেই পদও ছেড়ে দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস যখন করেছি, তখন দিদিকে আদর্শ মেনে করেছি। তাই তাঁর ছবি রেখেছিলাম। আজ দল ছেড়ে দিয়েছি, তাই দিদির ছবি সরিয়ে দিয়েছি। ভয় পেয়ে দল ছাড়িনি, ছাড়লে অনেক আগেই ছাড়তে পারতাম।”
প্রদীপ সরকার আরও বলেন, বর্তমানে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। খড়্গপুরের বহু মানুষ ও কয়েকজন কাউন্সিলর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।
শেষে তিনি বলেন, “রাজনীতি করব, মানুষের জন্য কাজ করব। মানুষের উপকার করার জন্যই কাউন্সিলর হিসেবে আপাতত থাকছি।”
প্রদীপ সরকারের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।