10/05/2026
গ্যাস্ট্রিক আলসার বা পাকস্থলীর আলসার হলো পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে তৈরি হওয়া এক ধরনের খোলা ক্ষত বা ঘা। এটি সাধারণত তখন ঘটে যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড তার সুরক্ষাকারী শ্লেষ্মার স্তর বা আস্তরণকে (মিউকোসা) ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাধারণ লক্ষণসমূহ:
পেটে ব্যথা: ওপরের পেটে জ্বালাপোড়া বা কামড়ানোর মতো ব্যথা হওয়া। এটি সাধারণত খালি পেটে বেশি অনুভূত হয়।
বদহজম ও গ্যাস: খাবার পর পেট ভার হয়ে থাকা বা ঘনঘন ঢেকুর ওঠা。
বমি ভাব: অনেক সময় বমি ভাব বা সরাসরি বমি হতে পারে。
খাবারে অরুচি ও ওজন হ্রাস: ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং না খাওয়ার ফলে ওজন কমে যাওয়া।
মারাত্মক লক্ষণ: মল বা বমির সাথে রক্ত আসা (মল কালো রঙের হতে পারে), যা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের সংকেত দেয়।
প্রধান কারণসমূহ:
ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ: Helicobacter pylori (H. pylori) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আলসারের অন্যতম প্রধান কারণ।
ব্যথানাশক ওষুধ: দীর্ঘসময় ধরে ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) যেমন—আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিন গ্রহণ করলে পাকস্থলীর আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জীবনযাত্রা: অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার অভ্যাস ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অত্যধিক অ্যাসিড: পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অ্যাসিড তৈরি হওয়া।
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
গ্যাস্ট্রিক আলসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) করা হয়। চিকিৎসার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
ওষুধ: অ্যাসিড কমানোর জন্য পিপিআই (PPI) বা এইচ-২ ব্লকার এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, ক্যাফেইন (চা-কফি) এবং টক জাতীয় ফল এড়িয়ে চলা উচিত।
সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।