22/07/2026
বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ এষা ভট্টাচার্যকে নিয়ে সামনে এসেছে এক হৃদয়বিদারক খবর। কয়েক বছর আগে স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০২৬ সালের মে মাসে আবারও তাঁর শরীরে ধরা পড়েছে স্তন ক্যান্সার। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অনুরাগীদের মধ্যে।
সম্প্রতি অভিনেত্রীর মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য নিজের ভ্লগে মায়ের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ তাঁদের পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়ঙ্কর ছিল। প্রথমে কেমোথেরাপির জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসার সময় একের পর এক জটিলতা তৈরি হয়। দু'বার কেমো দেওয়ার পর এষা ভট্টাচার্যের ডান হাতের শিরা আর ব্যবহারযোগ্য ছিল না। তাই চিকিৎসকদের কেমো পোর্ট বসাতে হয়।
কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি সমস্যা। কেমো পোর্ট বসানোর জায়গাটি ঠিকমতো শুকোতে না চাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কেমোথেরাপি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংক্রমণ এড়াতে তাঁকে অতিরিক্ত ওষুধও খেতে হয়। পরে চিকিৎসকরা বাঁ হাত দিয়ে কেমো দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝপথেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেটের সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। রক্ত, ইনজেকশন এবং বিভিন্ন ওষুধ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
অবশেষে চিকিৎসকরা কেমো পোর্ট খুলে অন্য উপায়ে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থা এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে তাঁকে রাতারাতি আইসিইউ-তে স্থানান্তর করতে হয়। প্রেরণা জানিয়েছেন, সেই দু'দিন তিনি এবং তাঁর বাবা শুধু একটাই প্রার্থনা করেছিলেন—হাসপাতাল থেকে যেন কোনও খারাপ খবর না আসে। ভাগ্যক্রমে দু'দিন পর এষা ভট্টাচার্য আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে ফিরলেও তাঁর কষ্ট এখনও শেষ হয়নি। সারা শরীরে র্যাশ, জ্বর এবং তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা তাঁকে ভোগাচ্ছে। এমনকি আগেরবার ছ'টি কেমো নেওয়ার পর চুল পড়তে শুরু করলেও এবার একটি কেমো সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই চুল ঝরতে শুরু করেছে।
তবুও পরিবার আশাবাদী। স্বামী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং মেয়ে প্রেরণা প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর পাশে রয়েছেন। হাসপাতালের সমস্ত দায়িত্ব থেকে শুরু করে মানসিকভাবে সাহস জোগানো—সবকিছুই তাঁরা একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। চিকিৎসকরাও নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবার ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় নিজের চুল হারিয়েও ভেঙে পড়েননি এষা ভট্টাচার্য। প্রথমে উইগ ব্যবহার করলেও পরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ন্যাড়া মাথাতেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সেই অদম্য সাহস এবং ইতিবাচক মানসিকতা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
এবারও সকলের বিশ্বাস, আগের মতোই জীবনের এই কঠিন পরীক্ষাতেও জয়ী হয়ে ফিরবেন তিনি। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে অসংখ্য অনুরাগী অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। আমরাও প্রার্থনা করি, খুব শিগগিরই সুস্থ হয়ে আবার হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে ফিরুন এষা ভট্টাচার্য।