30/05/2026
কি পশ্চিমবঙ্গবাসি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন!
দিনটি ছিলো ২০১৩ সালের ৭ই জুন। জেলা সদর বারাসাত থেকে বাসে এসে হাইওয়েতে নেমেছিল শিপ্রা ঘোষ নামে বছর সতেরোর এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী। একে তো তখন দুপুর দুটো কি আড়াইটে তার ওপরে টিপটিপ করে বৃষ্টি, স্বভাবতই নির্জন চারদিক। মেঠো পথ ধরে একাই মেয়েটা রওয়ানা দিলো কামদুনি গ্রামে তার বাড়ির দিকে।
পথিপার্শ্বে পরিত্যক্ত এক কারখানায় তখন মদ্যপান করছিলো আট নয়জন যুবক। ফাঁকা রাস্তায় মেয়েটিকে দেখে তারা সুযোগ ছাড়লো না। অভাগী মেয়েটাকে তারা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হলোনা, জান্তব প্রবৃত্তিতে দুইপা ধরে নাভি অব্দি চিরে খুন করলো। শেষ হয়ে গেল লেখাপড়া শিখে এক পল্লী তরুণীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।
ঘটনার পর গর্জে ওঠে কামদুনি। দলমত-নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় গ্রামবাসীরা । লাগাতার অবরোধে অচল করে দেয় জাতীয় সড়ক। মূলত যে মেয়েদুটির নেতৃত্বে গর্জে উঠেছিল গোটা কামদুনি গ্রাম, তাদের একজন ছিল নিহতের বন্ধু..... টুম্পা কয়াল। 🛑
১৭ই জুন মুখ্যমন্ত্রী আসেন ওই গ্রামে। নিহতের পরিবার ছাড়া আর কারও সাথে কথা বলতে চাননি সেদিন, আর তাতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামের লোকজন।
তারা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এই গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করে। তাঁর চোখে চোখ রেখে সে দিন টুম্পা তার বন্ধুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের খুনের বিচার চেয়েছিল। সঙ্গে ছিলো মৌসুমী কয়ালের মতো আরও অনেক গ্রামের মেয়ে-বৌ। এতেই খেপে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই তরুণীকে বিরোধী তকমা লাগিয়ে দেন। বলেই ফেলেন, ওরা সিপিএম এবং মাওবাদী। ক্ষুব্ধ হয় কামদুনির সাধারণ মানুষ। আর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে খবরের শিরোনামে উঠে আসে ‘অখ্যাত’ কামদুনি গ্রামের দুই ‘অখ্যাত’ মেয়ে৷ 🥀🥀
গ্রামেরই মেয়ে এবং বধূ টুম্পার এই ‘ঔদ্ধত্য’ মোটেই ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় শাসক দলের নেতারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর কামদুনি সফরের পরের দিনই হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল টুম্পা কয়ালের পরিবারকে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা৷ সেই খবর জেনে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে টুম্পা মৌসুমিদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন৷ তারপর অবশ্য আর কোনও হুমকি আসেনি, কিন্তু আতঙ্কও পিছু ছাড়েনি৷ বন্ধ হয়ে যায় তাদের বাড়ি থেকে বেরুনো। বেশ কিছুদিন থাকে তারা গৃহবন্দী হয়ে।
২০১৩ সালেই টুম্পা জীবনে প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েছিল কামদুনির এক বুথে। ধমকে চমকে বার করে দেওয়া হয়, ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। সেই থেকে সে আর কখনও ভোট দেয়নি। শত আহ্বানেও দূরে থেকেছে রাজনীতি থেকে।
গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে তারপর, আটবছর পরে আজও বিচার পায়নি কামদুনির মেয়েটি। নিম্ন আদালতে তিনজনের ফাঁসি ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হলেও আপীলের ফলে মামলা এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। বিচারক বদল হয়েছে তিনবার। নির্ভয়া কান্ডের রায়দানের পর আশায় বুক বেঁধে বসে আছেন শিপ্রার মা বাবা, কিন্তু আর কতদিন ?
Copied ..কি পশ্চিমবঙ্গবাসি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন!
দিনটি ছিলো ২০১৩ সালের ৭ই জুন। জেলা সদর বারাসাত থেকে বাসে এসে হাইওয়েতে নেমেছিল শিপ্রা ঘোষ নামে বছর সতেরোর এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী। একে তো তখন দুপুর দুটো কি আড়াইটে তার ওপরে টিপটিপ করে বৃষ্টি, স্বভাবতই নির্জন চারদিক। মেঠো পথ ধরে একাই মেয়েটা রওয়ানা দিলো কামদুনি গ্রামে তার বাড়ির দিকে।
পথিপার্শ্বে পরিত্যক্ত এক কারখানায় তখন মদ্যপান করছিলো আট নয়জন যুবক। ফাঁকা রাস্তায় মেয়েটিকে দেখে তারা সুযোগ ছাড়লো না। অভাগী মেয়েটাকে তারা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হলোনা, জান্তব প্রবৃত্তিতে দুইপা ধরে নাভি অব্দি চিরে খুন করলো। শেষ হয়ে গেল লেখাপড়া শিখে এক পল্লী তরুণীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।
ঘটনার পর গর্জে ওঠে কামদুনি। দলমত-নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় গ্রামবাসীরা । লাগাতার অবরোধে অচল করে দেয় জাতীয় সড়ক। মূলত যে মেয়েদুটির নেতৃত্বে গর্জে উঠেছিল গোটা কামদুনি গ্রাম, তাদের একজন ছিল নিহতের বন্ধু..... টুম্পা কয়াল। 🛑
১৭ই জুন মুখ্যমন্ত্রী আসেন ওই গ্রামে। নিহতের পরিবার ছাড়া আর কারও সাথে কথা বলতে চাননি সেদিন, আর তাতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামের লোকজন।
তারা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এই গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করে। তাঁর চোখে চোখ রেখে সে দিন টুম্পা তার বন্ধুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের খুনের বিচার চেয়েছিল। সঙ্গে ছিলো মৌসুমী কয়ালের মতো আরও অনেক গ্রামের মেয়ে-বৌ। এতেই খেপে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই তরুণীকে বিরোধী তকমা লাগিয়ে দেন। বলেই ফেলেন, ওরা সিপিএম এবং মাওবাদী। ক্ষুব্ধ হয় কামদুনির সাধারণ মানুষ। আর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে খবরের শিরোনামে উঠে আসে ‘অখ্যাত’ কামদুনি গ্রামের দুই ‘অখ্যাত’ মেয়ে৷ 🥀🥀
গ্রামেরই মেয়ে এবং বধূ টুম্পার এই ‘ঔদ্ধত্য’ মোটেই ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় শাসক দলের নেতারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর কামদুনি সফরের পরের দিনই হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল টুম্পা কয়ালের পরিবারকে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা৷ সেই খবর জেনে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে টুম্পা মৌসুমিদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন৷ তারপর অবশ্য আর কোনও হুমকি আসেনি, কিন্তু আতঙ্কও পিছু ছাড়েনি৷ বন্ধ হয়ে যায় তাদের বাড়ি থেকে বেরুনো। বেশ কিছুদিন থাকে তারা গৃহবন্দী হয়ে।
২০১৩ সালেই টুম্পা জীবনে প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েছিল কামদুনির এক বুথে। ধমকে চমকে বার করে দেওয়া হয়, ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। সেই থেকে সে আর কখনও ভোট দেয়নি। শত আহ্বানেও দূরে থেকেছে রাজনীতি থেকে।
গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে তারপর, আটবছর পরে আজও বিচার পায়নি কামদুনির মেয়েটি। নিম্ন আদালতে তিনজনের ফাঁসি ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হলেও আপীলের ফলে মামলা এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। বিচারক বদল হয়েছে তিনবার। নির্ভয়া কান্ডের রায়দানের পর আশায় বুক বেঁধে বসে আছেন শিপ্রার মা বাবা, কিন্তু আর কতদিন ?
Copied ..