29/04/2026
টাকা তুলতে চাই প্রমাণ,বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই
ব্যাংক থেকে ১৯,৩০০ টাকা পাওয়ার জন্য কবর খুঁড়ে বোনের কঙ্কাল তুলে আনলেন জিতু মুন্ডা।
কেওনঝড়,উড়িষ্যায় সরকারী"উড়িষ্যা গ্রামীণ ব্যাংক"-এ জিতুর বোনের অ্যাকাউন্ট ছিলো।সেখানে তিনি টাকা জমাতেন।মাস দুয়েক আগে তিনি মারা যান। অ্যাকাউন্টে ছিল ১৯৩০০ টাকা।জিতু সেই টাকা চাইতে গেলে ব্যাংক বারবার বলে,যার অ্যাকাউন্ট তাকে আসতে হবে টাকা পেতে গেলে।সে যদি মারা গিয়েই থাকে তবে তার সপক্ষে কাগজপত্র লাগবে,
জিতু এত কথা ঠিক বুঝতে পারেননি।জিতুকে বারবার হ্যারাস না করে ব্যাংক নিজে এই কাজ করতে পারতো বা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গিয়েও কাজটা করানো যেতো।তা না করায় জিতু অনন্যোপায় হয়ে,তাঁর বোন যে সত্যিই মারা গেছেন তা বোঝানোর জন্য কবর খুঁড়ে কংকাল হাড়গোড় বার করে একটা বস্তায় ভরে তিন কিলোমিটার হেঁটে ব্যাংকে আসেন।
নিমেষে লোক জানাজানি হয়।সব কথা জেনে কারো চোখে জল,কেউ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে।শেষে পুলিশ এসে ডেথ সার্টিফিকেট সম্পর্কে বোঝানোর পর জিতু শান্ত হন এবং বোনের কংকাল পুনরায় কবরস্থ করেন৷
ভাবতে অবাক লাগছে এই যে,১৯৩০০ টাকার জন্য একজন মানুষ যিনি বারবার ব্যাংকে যাচ্ছেন,বারবার তাকে কাগজের কথা বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কথা বলে ফেরানো যাচ্ছে,তাকে শেষে বোনের কংকাল ব্যাংকে এনে প্রমাণ দিতে হলো যে বোন মারা গেছে,সে তার দাদা,তার টাকাটা প্রয়োজন!কেন,আদিবাসী বলে?
একটা সরকারী ব্যাংকের বেতনভুক কর্মচারীও এদেশের সরকারের মতোই আদিবাসী বা প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে এরকম আচরণ করা শিখে গেছেন?আমাদের নাকি বিরাট বড় গণতান্ত্রিক দেশ?আমাদের নাকি বিরাট স্বাধীন দেশ?সেই দেশে মানুষের এই মূল্য দাঁড়িয়েছে মানুষের কাছে?