09/09/2026
বাগেশ্বর বাবা: অভিযোগ, FIR ও আইনি বিতর্কের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি সাধারণভাবে বাগেশ্বর বাবা বা বাগেশ্বর ধাম সরকার নামে পরিচিত, তাঁর ধর্মীয় বক্তব্য, ‘দিব্য দরবার’ এবং কথিত অলৌকিক ক্ষমতার কারণে ভারতজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। একইসঙ্গে তাঁর কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ, পুলিশি তদন্ত এবং মামলা হয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি—কারও বিরুদ্ধে FIR বা অভিযোগ হওয়া মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নাগপুরে যুক্তিবাদী সংগঠন অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি তাঁর ‘দিব্য দরবার’ ও ‘প্রেত দরবার’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। অভিযোগ ছিল, তাঁর কার্যকলাপ অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিকতার প্রচার করছে এবং Maharashtra Anti-Superstition and Black Magic Act-এর আওতায় পড়তে পারে। নাগপুর পুলিশ ভিডিও ও অভিযোগকারীর দেওয়া প্রমাণ পরীক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, ওই আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি FIR হিসেবে এগোয়নি এবং তাঁকে clean chit দেওয়া হয়।
এরপর মার্চ ২০২৩-এ রাজস্থানের উদয়পুরে তাঁর একটি ধর্মীয় সভার বক্তব্য নিয়ে গুরুতর বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি কুম্ভলগড় দুর্গে সবুজ পতাকার পরিবর্তে গেরুয়া পতাকা লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তাঁর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশ IPC 153-A-সহ ধারায় FIR করে। রাজস্থান হাইকোর্টের নথিতে FIR No. 113/2023-এর ক্ষেত্রে 153-A, 295-A এবং 511 IPC-এর উল্লেখ রয়েছে। ১০ এপ্রিল ২০২৩-এ হাইকোর্ট তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার না করার অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয় এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেয়। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে চূড়ান্ত দণ্ড হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালেই বিহারের মুজফ্ফরপুরে তাঁর বিরুদ্ধে একটি court complaint দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে এবং নিজেকে হনুমানের অবতার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগে IPC 295-A, 298 ও 505 ধারার কথা উল্লেখ করা হয়। এটি পুলিশের FIR-এর পরিবর্তে আদালতে করা complaint case ছিল। পরবর্তী সময়ে এই মামলার চূড়ান্ত রায় বা conviction-এর নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে জুমদেব মহারাজ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য নিয়েও অভিযোগ ওঠে। তবে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত FIR নম্বর বা মামলার চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে নিশ্চিত FIR হিসেবে গণনা করা ঠিক হবে না।
২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নারী পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালেও, যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে নারী পাচারের FIR হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং বাগেশ্বর ধাম জনসেবা সমিতি অভিযোগকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস দুর্গাপূজার সময় মাছ-মাংস খাওয়া বা বিক্রি না করার বিষয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। সেই সময় পর্যন্ত এটি complaint stage-এ ছিল; FIR, charge-sheet বা আদালতের রায়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—২০২৬ সালে তাঁর ভাই শালিগ্রাম গর্গের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়। এটি ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নিজের মামলা নয়। শাস্ত্রীও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
সুতরাং, বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক থাকলেও, প্রতিটি অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। নাগপুরের অভিযোগে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রমাণ পায়নি, উদয়পুরের মামলায় আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল, আর অন্যান্য কয়েকটি ঘটনা এখনও অভিযোগ বা বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে।