10/08/2026
‘ েরঙ্গা’য় #সাঁকরাইল #ইন্ডাস্ট্রিয়াল_পার্কে #মহামিছিল! #জাতীয় #পতাকা হাতে #একসঙ্গে #মালিক- #শ্রমিক, ৪০০-৫০০ #শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অংশগ্রহণে #তেরঙ্গাময় গোটা #শিল্পাঞ্চল
শঙ্খ ভট্টাচাৰ্য :- প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সরকারিভাবে শামিল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কয়েকদিন আগেই রাজ্যে এই কর্মসূচি পালনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ১০ ই অগস্ট কলকাতার রাজপথে জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
এই আবহেই এদিন হাওড়ার সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কেও পালিত হল বিশেষ ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিল্পাঞ্চলের মালিক ও শ্রমিকরা এদিন একসঙ্গে পথে নামেন। হাতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক চত্বর প্রদক্ষিণ করেন তাঁরা। বিভিন্ন কারখানার মালিক, শ্রমিক, কর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক একটি বড় শিল্পাঞ্চল। উদ্যোক্তাদের দাবি, এখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি কারখানা রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লক্ষ মানুষ কাজ করেন। ফলে এত বড় সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পাঞ্চলে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়।সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানা থেকে মালিক ও শ্রমিকরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভিতরে জমায়েত হতে শুরু করেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে একে একে মিছিলে যোগ দেন তাঁরা। এরপর মতিফিডসের ২ নম্বর টাওয়ারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় তেরঙ্গা যাত্রা। জাতীয় পতাকাকে সামনে রেখে মিছিলটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভিতরের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যায়। গোটা শিল্পাঞ্চল ঘুরে নির্দিষ্ট রুটে প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। রাস্তার দু’পাশে থাকা বিভিন্ন কারখানার কর্মীরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। জাতীয় পতাকা হাতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ছিল
চোখে পড়ার মতো।অনুষ্ঠান শেষে খাওয়া-দাওয়ার ও আয়োজন করা হয় |
এদিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মালিক ও শ্রমিকদের একসঙ্গে তেরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেওয়া। একই সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটতে দেখা যায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকদের। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং দেশাত্মবোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই যৌথ কর্মসূচি।ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভিতর দিয়ে মিছিলটি ঘুরে শেষ পর্যন্ত বিকাশ কাস্টিংয়ের সামনে এসে পৌঁছয়। সেখানেই তেরঙ্গা যাত্রার সমাপ্তি হয়। পুরো কর্মসূচি জুড়ে জাতীয় পতাকা হাতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
এদিন এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তথা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রেসিডেন্ট বিকাশ মাধোগোরিয়া বলেন,'হর ঘর তেরঙ্গা’ শুধু নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নয়। এর সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের আবেগ, দেশপ্রেম এবং জাতীয় ঐক্যের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আমরা এই তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করেছি। এখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি কারখানা রয়েছে এবং প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। তাই এত বড় একটা জায়গায় মালিক, শ্রমিক, কর্মচারী—সকলকে একসঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটতে পারাটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
আমরা চাই, ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণি বা কোনও নির্দিষ্ট দলের কর্মসূচি হয়ে না থেকে প্রত্যেক ভারতবাসীর কর্মসূচি হয়ে উঠুক। যে কোনও মানুষ, যে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ এই তেরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিতে পারেন। জাতীয় পতাকা সবার, দেশ সবার—এই বার্তাটাই আমরা আজ দিতে চেয়েছি।বিশেষ করে মালিক এবং শ্রমিকরা আজ একসঙ্গে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করি, কিন্তু দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্বও রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই আজ সকলে একসঙ্গে পথে নেমেছি।
এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়। মিছিল যাতে সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা গোটা যাত্রাপথে নজর রাখেন। শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং যান চলাচল যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সিকিউরিটি ইনচার্জ মনোজ ওঝা | তিনি জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। মালিক ও শ্রমিকদের এই যৌথ কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে শেষ হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ মণ্ডল। তিনি ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাধীনতা দিবসের আগে সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এই তেরঙ্গা যাত্রায় একসঙ্গে পা মেলালেন শিল্পপতি থেকে শ্রমিক—বিভিন্ন স্তরের মানুষ। শিল্পাঞ্চলের ভিতর দিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে এই পদযাত্রায় উঠে এল দেশাত্মবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং মালিক-শ্রমিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণের বার্তা।