04/10/2024
বাংলা ভাষায় কথা বলে ও বাংলা ভাষাকে ভালোবাসে এমন মানুষের জন্য সুখের খবর।
ভারতে ক্লাসিকাল ল্যাঙ্গুয়েজ বা ধ্রুপদী ভাষার গুরুত্বকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে তুলে ধরার ও সংরক্ষণ ও চর্চা করে মজবুত করার জন্য ভারতীয় প্রাচীন ভাষাগুলোকে 'ধ্রুপদীভাষা'র মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোন ভাষাকে 'ধ্রুপদী ভাষা'র মর্যাদা দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা হয় যে বৈশিষ্ট্য গুলোর জন্য তার মধ্যেঃ
ভাষার প্রাচীনত্ব( ১ হাজার /দেড় হাজার বছরের পুরনো) ,উন্নত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষাটির লিখিত পরম্পরা, অন্য ভাষা থেকে স্বাতন্ত্র্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ।
এই পর্যন্ত ভারতে ১১ টি ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সর্বপ্রথম তামিল ভাষা ভারতীয় ক্লাসিক্যাল ভাষার মর্যাদা পায় ২০০৪ সালে। ২০০৫ সালে সংস্কৃত ভাষা এই মর্যাদা লাভ করে। যথাক্রমে ২০০৮ সালে কন্নড় ও তেলেগু , ২০১৩ সালে মালায়ালম ও ২০১৪ সালে ওড়িয়া ভাষা এই সম্মানে ভূষিত হয়।
২০২৪ সালে অসমীয়া, পালি, প্রাকৃত বাংলা ও মারাঠি এই পাঁচটি ভাষা ভারতীয় ক্লাসিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজের আসনে অধিষ্ঠিত হলো।
ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ কালচার( Ministry of culture) অর্থাৎ সংস্কৃতি মন্ত্রক ও Linguistic Expect Committee (লিঙ্গুইস্টিক এক্সপার্ট কমিটি) যৌথ উদ্যোগ নিয়েই কাজটি সম্পন্ন করে । লিঙ্গুইস্টিক এক্সপার্ট কমিটি ভারতের ইউনিয়ন সরকারের অধীনে কাজ করে। এই কমিটি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে গড়ে উঠেছিল।
যেসব ভাষা এই মর্যাদা লাভ করল ভারত সরকার সেইসব ভাষা রক্ষণাবেক্ষণ ও সেইসব ভাষা বিষয়ে গবেষণা করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বিশেষ লক্ষ্য রাখবে এই ভাষাগুলোতে উচ্চতর বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণার দিকে। এই ভাষার উন্নতিতে অবদান রাখবেন যাঁরা তাঁদের বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সহ যে সমস্ত রাজ্য সরকার ও যেসব সংগঠন ও মানুষের দাবি ও প্রচেষ্টা সক্রিয় অবদান রেখেছে তাঁদের প্রতি রইল অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা।
মেইতি,মৈথিলি সহ ভারতের আরও বেশ কয়েকটি ভাষা এই মর্যাদা লাভ করার জন্য সক্রিয় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ ভারতের একক রাষ্ট্রীয় ভাষা নেই। ভারতের সাংবিধানিক অফিসিয়াল ভাষার সংখ্যা বর্তমানে ২২ টি।
❤❤জয় মানবতা❤❤
কলমে - Asit Bar