15/12/2025
গতকাল ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ দৈনিক সংবাদপত্র 'যুগশঙ্খ'র রবিবারের বৈঠকে প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা একটি ছোটগল্প 'ঘটনা দুর্ঘটনা'। আমার প্রিয় বন্ধুদের পড়ার জন্য গল্পটির একটি আলোকচিত্র পোস্ট করলাম, একইসঙ্গে গল্পের ওয়ার্ড ফাইল সংযোজন করলাম।
কাজল সেন
ঘটনা দুর্ঘটনা
কর্মসূত্রে এই শিল্পাঞ্চলে আমার আগমন এবং বসবাস। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, তারাই আমার থাকার ব্যবস্থা করেছে। নির্জন পরিবেশে একটি বহুতলের প্রশস্ত ফ্ল্যাট, যাতে দৈনন্দিন জীবনধারণের যাবতীয় ব্যবস্থা আছে। ইচ্ছে ছিল, আমার অবসরপ্রাপ্ত মা-বাবা আমার কাছেই থাকুন। কিন্তু দাবীটা অনায্য, কেননা আমার অগ্রজ আরও দুজন দাদা ও দিদি আছে।
তা একা থাকতে মন্দ লাগে না। সকাল সকাল রান্না করার দিদি চলে আসে। সকালের জলখাবার, দুপুর ও রাতের খাবার আমার অফিস যাবার আগেই গুছিয়ে রাখে। ন’টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাই। বেলা সাড়ে বারোটায় ফ্ল্যাটে ফিরে খাওয়া সেরে দুটো নাগাদ আবার অফিসে পৌঁছে যাই। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে নেমে আসে। ফ্ল্যাট থেকে অফিসের দূরত্ব সামান্যই, নিজস্ব বাইকেই সর্বত্র আসা-যাওয়া করি। অলস সময়ে স্বপ্ন দেখি, অদূর ভবিষ্যতে বিয়ে করে সংসার সাজানোর। সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনে ও মানসিকতায় এটুকুই তো কাম্য!
তবে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। প্রতিদিন বাইকে রাস্তাকে শাসন করা যদি ঘটনা হয়, তাহলে যে কারণেই হোক না কেন, উড়ন্ত শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়া অবশ্যই দুর্ঘটনা। হতে পারে, বাইক যে চালাচ্ছে, তার নিজেরই অসতর্কতায় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারা, বা খারাপ রাস্তার কারণে বাইকের চাকা পিছলে যাওয়া, অথবা অন্য কোনো গাড়ি বা মানুষ বা জন্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়া। কিন্তু একথা তো অস্বীকার করা যায় না যে, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউই দুর্ঘটনায় অংশগ্রহণ করে না। করবেই বা কেন! যেখানে প্রাণ সংশয়!
এই যেমন আমার দুর্ঘটনার কথাই বলি। সেদিন রোববার। বিকেলে বাইকে রওয়ানা হয়েছিলাম আমার এক সহকর্মীবন্ধুর প্রথম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য। মাথায় হেলমেট ছিল। নিজের খেয়ালে গুনগুন আরাধনা ছবির সেই চিরন্তন গান, বিশেষত যা অবিবাহিত যে কোনো যুবকের একান্ত আরাধনাসঙ্গীত, আমার স্বপ্নের রানী কবে আসবি তুই…! উল্লেখ না করলেও চলে, যে নারী এখনও পর্যন্ত আমার অদেখা অচেনা অজানা অধরা, সেই বিমূর্ত নারীর প্রেমে তখন আমি আত্মহারা। আর ঠিক তখনই আচমকা কী যে হলো, কিছুই বুঝতে পারলাম না। একটু পরে যখন বোঝার অবস্থায় ফিরলাম, আবিষ্কার করলাম, আমি বাইক থেকে ছিটকে পড়েছি ফুটপাথে। হেলমেটের কারণে মাথা অবশ্য ফাটেনি, কিন্তু সারা শরীর যেন থেঁতলে গেছে, গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। মাথা ঘোরাতেই দেখলাম, কিছুটা দূরে আমার বাইকটা কেৎরে পড়ে আছে আর তার পাশেই একটা নীলরঙের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। না বোঝার কোনো কারণ নেই যে, এই গাড়ির সঙ্গেই আমার বাইকের ঠোকাঠুকি হয়েছে। কীভাবে হয়েছে, তা জানা নেই। আমি তো বাইক ভিড়িয়ে দিইনি ঐ গাড়িতে! বরং গাড়িটাই চড়াও হয়েছিল আমার ওপর। আর তারপরেই ঘটল সেই ভয়ানক কান্ডটা। রাস্তার লোকেরা তখন ছুটে আসছে ঘটনাস্থলে। তারা নিশ্চিত আমাকে উদ্ধার করার জন্যই ছুটে আসছে! কিন্তু তাদের ছুটে আসতে দেখে, সম্ভবত প্রবল নার্ভাস হয়ে, নীল গাড়ির চালক পালাবার চক্করে প্রচন্ডবেগে অ্যাক্সিলেটরে পায়ের চাপ দিল। দেখলাম, প্রথমে গাড়িটা একটা গোত্তা খেল। তারপরই ছিটকে পড়ল ফুটপাথে রীতিমতো একটা ডিগবাজী মেরে।
ব্যস এইটুকুই। আমার আর জানার কোনো অবকাশ ছিল না। আমি জ্ঞান হারালাম। যখন অল্প অল্প জ্ঞান ফিরে এলো, তখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাসপাতালের শয্যায়। আধো আধো চোখ মেলে দেখলাম, আমার অফিসের এক সহকর্মীবন্ধু শয্যার পাশে একটা চেয়ারে বসে আছে। কিন্তু তখন কথা বলার অবস্থায় ছিলাম না। আমার জ্ঞান ফিরে আসার খবরটা নার্সকে দেবার জন্য সে দৌড়ল। সামান্য মাথা ঘুরিয়ে মনে হলো, আমার বেডের পাশাপাশি আরও কয়েকটা বেডে আরও পেশেন্ট আছে।
আমি কখনই এটা ভাবিনি যে, সেই নীল গাড়ির চালক আমাকে ইচ্ছে করে ধাক্কা মেরেছে। হয়তো গাড়ি চালাতে সামান্য অসতর্কতার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে! আমার আদৌ জানা নেই সেই চালকের নাম পরিচয়। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে সেই চালকের কী হয়েছে, এখন কেমন আছে, জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলাম। কেননা সেদিন জ্ঞান হারাবার আগে সেই ভয়ানক কান্ডটা প্রত্যক্ষ করেছিলাম। চালক গাড়ি নিয়ে পালাতে চেয়েছিল। এবং এই পালানোর চেষ্টাটা খুবই স্বাভাবিক। পথে কোনো দুর্ঘটনা হলে, যে ব্যক্তি আহত হয়, তাকে যেমন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাবার দায়িত্ব থাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষদের; তেমনি যে ব্যক্তি অক্ষত থাকে, তাকে বেধড়ক প্যাঁদানোর একটা অলিখিত নিয়মও থাকে। হাসপাতালে থাকাকালীন আমি আমার সহকর্মী বন্ধুদের কাছে খোঁজখবর করেছিলাম। তারা সন্ধান করে জানিয়েছিল, সেই গাড়িতে শুধু চালক নয়, সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। দুর্ঘটনায় স্বামীর সেখানেই মৃত্যু হয়েছিল, স্পটডেথ, আর তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং তিনি এই হাসপাতালেই এখনও চিকিৎসারত। খবরটা জেনে আমি মর্মাহত হয়েছিলাম। একটা তাজা প্রাণ এভাবে শেষ হয়ে গেল! ব্যাপারটা কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছিলাম না। আর তখনই ঠিক করলাম, আমাকে দেখা করতে হবে সেই মৃতব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে। আমি জানি, আমার কোনো দায় নেই। দুর্ঘটনার প্রথম পর্বে আমি বাইক চালাতে চালাতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। তাতে আমার ত্রুটি ছিল না, গাড়ির চালকের ত্রুটি থাকলেও থাকতেও পারে। কিন্তু দুর্ঘটনার দ্বিতীয় পর্বে আমার আদৌ কোনো ভূমিকাই ছিল না। চালকের হঠকারী সিদ্ধান্তই তাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এটা কখনই কাম্য ছিল না।
হাসপাতাল থেকে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে কিছুদিন ছুটিতেই ছিলাম। ইতিমধ্যে মা-বাবা এসে আমার কাছেই ছিলেন কিছুদিন। দাদা দিদিও এসে দেখা করে ফিরে গেছে। প্রথমটা চলাফেরায় খুবই অসুবিধে হতো, যন্ত্রণা হতো। ফ্ল্যাটের বাইরে যেতে পারতাম না। কিন্তু বেশিদিন ঘরে বসে থাকাও যায় না। চাকরির ব্যাপার, অফিসে জয়েন করা জরুরি। তাছাড়া মাথার মধ্যে সমানেই পাক খাচ্ছে, আহত সেই মহিলার সঙ্গে দেখা করার কথা। সহকর্মীবন্ধুরা আমাকে জানিয়েছিল, সেই মহিলা এখনও হাসপাতালেই আছে, ছাড়া পায়নি। অনুমান করতে অসুবিধে হয় না, দুর্ঘটনার দরুন তার আঘাত কতটা সাংঘাতিক ছিল শারীরিক ক্ষেত্রে, তার পাশাপাশি স্বামীকে হারানোর চূড়ান্ত মানসিক আঘাত।
একদিন বিকেলে অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে হাসপাতালে গেলাম। বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত ভিজিটিং আওয়ারস। মহিলার হাসপাতালের ওয়ার্ড নম্বর, বেড নম্বর আগেই সংগ্রহ করেছিলাম। মহিলাকে খুঁজে নিতে অসুবিধে হলো না।
মনে মনে ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না, মহিলার মুখোমুখি হয়ে কী বলব, দেখতে আসার কী অজুহাত দেখাব! মহিলাই বা কীভাবে আমাকে গ্রহণ করবেন অথবা চরম বিদ্বেষে প্রত্যাখ্যান করবেন কিনা! তার স্বামীর অযাচিত মৃত্যুর জন্য কি আমাকেই দায়ী করবেন!
মহিলা সারাটা শরীর চাদরে ঢেকে শুয়েছিলেন, তবে জেগেই ছিলেন। আমি তার বেডের পাশে দাঁড়িয়ে সম্বোধন করলাম, মিসেস কাপুর!
মহিলা চোখ ফিরিয়ে আমাকে দেখলেন। চেনার কোনো প্রশ্নই নেই। হাঁ করে তাকিয়ে থাকলেন আমার মুখের দিকে। কিছুটা অপ্রস্তুত।
বললাম, আমাকে আপনি চিনবেন না। আপনি আমাকে কখনও দেখেনওনি। যেমন আপনাকেও আজ আমি প্রথম দেখলাম।
মহিলা কিছু বুঝতে পারছিলেন না। বললেন, আমি বসব, নিজের চেষ্টায় বসতে পারি না। একটু হেল্প করবেন?
আমি তাকে বিছানায় উঠে বসতে সাহায্য করলাম।
বললেন, আপনি আমাকে চেনেন না, অথচ দেখা করতে এসেছেন! আশ্চর্য তো!
আমি বললাম, কোনো চাপ নেবেন না। আপনি এখনও অসুস্থ সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর। আমার আরও আগে আপনার কাছে আসা উচিত ছিল, কিন্তু আসতে পারিনি, কেননা আমি নিজেও অসুস্থ ছিলাম। তা এখন আপনি কতটা ভালো আছেন?
মহিলা কিছুটা সন্দিগ্ধ কন্ঠস্বরে বললেন, আপনি সেদিনের দুর্ঘটনার কথা জানেন? কীভাবে? আপনি কি সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন?
একটু ইতঃস্তত করে বললাম, হ্যাঁ ছিলাম। তবে আপনার কথা আমি জানতাম না, পরে জেনেছিলা ম।
মহিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, আচ্ছা, বুঝেছি। কিন্তু সে তো বেশ কিছুদিন আগের কথা। কেউ তো আর আমার কথা মনে রাখেনি। কেউ দেখতেও আসে না।
বললাম, কেন, আপনার বাড়ির কেউ আসে না? আত্মীস্বজন বন্ধুবান্ধব?
-আমার কেউ নেই। যারা ছিল, তারা সবাই সরে গেছে। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনায় আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য আমাকেই দায়ী বলে মনে করে সবাই।
-সেকী! কেন?
মহিলা একটু নীরব থেকে বললেন, এসব ব্যক্তিগত ব্যাপার, কাউকে বলা যায় না। তবু যখন জানতে চাইছেন, তাই বলছি, আমার সঙ্গে গুরুদয়ালের সম্পর্ক কখনও কেউ মেনে নেয়নি। আমাদের বাড়িতেও নয়, গুরুদয়ালদের বাড়িতেও নয়। আমরা একদিন তাই পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের পরে বাপের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি কোথাও স্থান পাইনি। গুরুদয়ালের নিজস্ব একটা ব্যবসা ছিল, তাতেই আমাদের সংসার চলত। এখন তো গুরুদয়ালই নেই। ব্যবসা দেখারও কেউ নেই। আমি এখন একা, একদম একা।
কৌতূহলটা হঠাতই মাথায় এলো আমার, তাহলে এই যে আপনি হাসপাতালে এতদিন আছেন, চিকিৎসার খরচ কীভাবে ম্যানেজ করছেন?
মহিলা দুঃখের হাসি হেসে বললেন, আসলে কী জানেন, সেদিন আমরা দুজনে আমাদের গাড়িতে এক পরিচিত বন্ধুর প্রথম বিবাহবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। যাবার আগে কী যে মনে হয়েছিল, আমার যেটুকু সোনার গয়নাগাটি ছিল, সব পরেছিলাম। যদিও জানতাম, সোনার গয়না পরে বাইরে বেরোনো রিস্কের ব্যাপার। যাইহোক, দুর্ঘটনার পর অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আর তখনই সব অলঙ্কার খুলে হাসপাতালেই জমা রাখা হয়েছিল। আমি হাসপাতালের সুপারকে জানিয়েছি, আমার কাছে হার্ডক্যাশ নেই। আপাতত এইসব গয়নাগুলো বন্ধক রেখে যা করার করুন। প্রয়োজনে বিক্রি করে দিন। আমি কোর্টপেপারে সাইন করে দেব। তারপর যা বাকি থাকবে, তা পরে মিটিয়ে দেব। এছাড়া আমার এখন আর কিছুই করার নেই।
-কিন্তু আমি যতটা জানি, হাসপাতালের পুরো বিল মিটিয়ে না দিলে হাসপাতাল থেকে আপনি ছাড়া পাবেন না!
মিসেস কাপুর হাসলেন। করুণ হাসি।
-জানি না, কী করব! আসলে জানেন তো, আমার দুটো পা এতটাই জখম হয়েছিল যে, তা আর সারানো যায়নি, কেটে বাদ দিতে হয়েছে।
কথাটা শুনে চমকে উঠলাম আমি। দুটো পা’ই কেটে বাদ দিতে হয়েছে? মানে আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না? তাহলে বেঁচে থাকবে কীভাবে? কেউ তো দেখারও নেই!
হাসপাতাল থেকে চলে আসার আগে মহিলা প্রশ্ন করলেন, আমার তো অনেক আপনি জানলেন, কিন্তু আপনার কথা তো কিছুই জানালেন না!
হঠাৎই কেমন যেন একটা ঝোঁক চেপে বসল আমার মাথায়। মনে হলো, এভাবে কাপুরুষের মতো আমি পালিয়ে যেতে পারি না! আমি অবশ্যই এই বর্তমান প্রজন্মের একজন আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর ক্যারিয়ারিস্ট। পারবারিক বৃত্তের বাইরে কখনও কারো জন্য চিন্তাভাবনা করিনি। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে আমি যে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তা এড়িয়ে যেতে আমি পারি না। মনের চেতনে না হোক, অবচেতনে যেটুকু দায়বদ্ধতা আছে, তাকেই অবলম্বন করে আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। মিসেস কাপুরকে বললাম, তাহলে শুনুন, সেদিন দুর্ঘটনা ঘটেছিল আমার বাইকের সঙ্গে আপনাদের গাড়ির সংঘর্ষ হওয়া্র কারণে। আমি বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলাম। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এই হাসপাতালেই ছিলাম। আপনাদের গাড়ি উলটে যাওয়াও দেখেছিলাম। তবে জানা ছিল না গাড়িতে আপনারা ছিলেন। সেইসঙ্গে আরও একটা কথা বলে যাচ্ছি, এবার থেকে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে য়ামি আপনার কাছে আসব। আপনার চিকিৎসার জন্য যে বিল হবে তা আমি পেমেন্ট করব। আপনাকে দেখে আমার সমবয়সী বলে মনে হচ্ছে। যদি আপনার কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আপনি আমার সঙ্গে আমার ফ্ল্যাটে যেতে পারেন। সেখানেই থাকবেন। আমি আমার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের রাজী করাব। আর আপনার চলাফেরার ভাবনাটাও মাথায় থাকল। দেখাযাক, কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা যত তাড়াতাড়ি করা যায়!