11/12/2025
লেখাটা একটু ধৈর্য ধরে পড়ুন 👇🏻
আজকাল নতুন মায়েরা যখন বলেন—
“এক বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত নুন নয়”,
“দুই বছর পর্যন্ত চিনি নয়”,
“মধু, তালমিছরি একদমই নয়”,
“সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করা ঠিক নয়”,
“আগের তুলনায় ভ্যাকসিন অনেক বেড়েছে”—
তখন ঘরের বড়রা অবাক হয়ে যান!
তাদের প্রশ্নগুলোও খুব পরিচিত—
“আমরা কি বাচ্চা মানুষ করিনি?”
“নুন না দিলে বাচ্চা খাবে কী?”
“অল্প একটু মিষ্টি দিলে ক্ষতি কোথায়?”
“তালমিছরি দিলে তো জল খায়!”
“সরিষার তেল ছাড়া বাচ্চা কীভাবে বড় হবে?”
“আমাদের সময়ে এত টিকা লাগেনি, তবু তো মানুষ হয়েছি!”
এইসব কথা আজকের মায়েদের প্রতিদিনই শুনতে হয়।
যারা বলেন, তাদের দোষ নেই—কারণ তাদের সময়ে না ছিল এই চিকিৎসাবিজ্ঞান, না ছিল এত তথ্যের সহজলভ্যতা। তাই নিয়মগুলো হঠাৎ কঠোর মনে হয়।
কিন্তু একটা প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ—
🔍 আগের দিনে শিশু মৃত্যুর হার কত ছিল, জানেন?
📌 ১৯৮০-এর দশকে
প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ১৩০ জন এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যেত।
প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শিশুহারা হওয়ার যন্ত্রণা ছিল সাধারণ ঘটনা।
📌 আজ
সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫–৩০ জনে।
অর্থাৎ শিশুমৃত্যু প্রায় ৫ গুণ কমেছে।
কেন কমেছে?
কারণ—
✅ চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে
✅ মা-বাবার সচেতনতা বেড়েছে
✅ টিকা সহজলভ্য হয়েছে
✅ বাচ্চার খাবার, স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি—সব বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা তৈরি হয়েছে
আগে যেগুলো ছিল না—
♦️ অনেক টিকা ছিল না—তাই হাম, ডিপথেরিয়া, কুকুরে খাওয়ার মতো কাশি এসব রোগে শিশুর প্রাণ যেত।
♦️ ORS বা স্যালাইন প্রচলিত ছিল না—ডায়রিয়া মানেই জীবন বিপন্ন।
♦️ চিকিৎসা পৌঁছাত না—সাধারণ জ্বরও মারাত্মক হয়ে উঠত।
♦️ নুন, চিনি, মধু, সরিষার তেল—এসবকে ভালোবাসার অংশ মনে করা হতো, কিন্তু তা যে কিডনি, লিভার ও ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতো, তা কেউ জানত না।
🩺 এখনকার শিশুরা সুস্থ থাকে কারণ—
🌼 জন্ম থেকেই বৈজ্ঞানিক নিয়মে যত্ন পাচ্ছে
🌼 সময়মতো টিকা পাচ্ছে
🌼 কুসংস্কারের বদলে সচেতনতা বাড়ছে
🌼 বিন্দুমাত্র চিনি–নুন ছাড়াই তারা বড় হচ্ছে, তবুও পুরোপুরি সুস্থ
❤️ আগে জীবন টিকে থাকত ভাগ্যের উপর,
এখন জীবন টিকে থাকে বিজ্ঞানের উপর।
আজকের মা-বাবারা যে সন্তানকে সঠিক তথ্য দিয়ে বড় করতে চাইছেন—
এটাই প্রমাণ,
ভালোবাসা মানে শুধু স্নেহ নয়, সঠিক জ্ঞানও। 🌼
---
⭐