02/04/2025
#লাল_কেল্লার_লালিমায়_এক_চিরস্থায়ী_স্মৃতি
সকালবেলা দিল্লির আকাশে সূর্য তখনো মিষ্টি কমলা আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই সোনালি আলোয় জ্বলজ্বল করছে এক ঐতিহাসিক বিস্ময়— লাল কেল্লা। বিশাল লাল বেলে পাথরের প্রাচীর যেন শতাব্দীর স্মৃতি বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে, সময়ের সাক্ষী হয়ে। দূর থেকে দেখলেই মনে হয়, যেন এক গর্বিত সম্রাট, যার অস্তিত্ব আজও অটুট, যার বুকে আজও বাজে রাজসিক ইতিহাসের প্রতিধ্বনি।
প্রবেশপথে পৌঁছাতেই চোখে পড়ে লাহোর গেট, লাল কেল্লার প্রধান প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশদ্বার দিয়ে একসময় ঢুকতেন মুঘল সম্রাটেরা, সেনাপতিরা, দূতেরা, আরবের বণিকেরা। সেই একই পথে পা ফেলার মুহূর্তে যেন অনুভব করলাম অতীতের রাজকীয় গাম্ভীর্য, ইতিহাসের হেঁটে যাওয়া পায়ের ছাপ!
প্রথমেই পৌঁছালাম দেওয়ান-ই-আম, যেখানে একসময় মুঘল সম্রাটেরা সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতেন। লাল বেলে পাথরে তৈরি এই বিশাল হলের মাঝখানে রাজসিংহাসনের জায়গাটা এখনও গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হলো, যেন সম্রাট শাহজাহানের ছায়া এখনো এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, চোখের সামনে ভেসে উঠল সেদিনের জমকালো দরবারের দৃশ্য!
এরপর প্রবেশ করলাম রঙ মহল, যেখানে মুঘল সম্রাটের বেগমরা সময় কাটাতেন। এরপর গেলাম দেওয়ান-ই-খাস, যেখানে সম্রাট রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। সোনালি খোদাই করা মার্বেলের স্তম্ভ, রূপোর কারুকাজ, আর একসময় যেখানে ছিল পৃথিবীখ্যাত ময়ূর সিংহাসন—যার গায়ে ছিল অগণিত হীরা-জহরত,
যখন বেরিয়ে আসছি, সূর্য তখন গোধূলির রঙে কেল্লার গায়ে এক সুবর্ণ আভা মেখে দিয়েছে। মনে হলো, যেন কেল্লার প্রতিটি ইটের মাঝে জমে আছে অগণিত গল্প, অসংখ্য হাসি-কান্নার স্মৃতি, যুদ্ধের গর্জন, আর মুঘল সাম্রাজ্যের স্বপ্ন। এই লাল প্রাচীরের রক্তিম ছোঁয়া শুধু এক অতীত নয়, এটি এক চিরজাগ্রত মহাকাব্য!
বিদায় নিলাম, কিন্তু লাল কেল্লার ঐশ্বর্য আর মোহময়তা আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে রইল...