18/06/2026
Barn Swallow পাখি আকারে খুব একটা বড় হয় না, লম্বায় লেজ নিয়ে সাধারনত ১৭ – ১৯ সেমি, তার মধ্যে ২ – ৭ সেমি লেজের দৈর্ঘ্য, ডানার বিস্তৃতি প্রায় ৩২ – ৩৪ সেমি এবং ওজনে এরা ১৬ – ২২ গ্রাম হয়ে থাকে । মাথা উপরের থেকে পিঠ পর্য্যন্ত রঙ উজ্জ্বল Steel – Blue হয়ে থাকে , পরে লেজের দিকে এই রঙ অনেক হালকা হয়ে যায়, তাতে হালকা বাদামী আভা থাকে । মাথার সামান্য নীচ থেকে ঠোঁটের নীচ পর্য্যন্ত রঙ লালচে বাদামী রঙের হয়ে থাকে, বুকের দিকের অংশটি সাদা রঙের হয়ে থাকে । ঠোঁট আকারে ছোটো হয় । এদের স্ত্রী ও পুরুষের মধ্যে খুব একটা ফাঁরাক লক্ষ্য করা যায় না মোটামুটি একই রকম দেখতে হয় । তবে যদি একটু ভালো করে লক্ষ্য করা যায় তবে দেখা যাবে পুরুষ পাখির তুলনায় স্ত্রী পাখির লেজের দৈর্ঘ্য কম হয় ও এদের গায়ের রঙ কম উজ্জ্বল হয়ে থাকে । এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hirundo rustica এবং এদেরকে বাংলাতে অনেকে আবার আবাবিল বলে থাকে ।
বাসাটা অনেকটা মৌমাছি বাসার মতন হয় থাকে, পুরুষ ও স্ত্রী পাখি উভয়ে মিলে ঠোঁটে করে কাদা মাটি সংগ্রহ করে তাতে ঘাসের অংশ মিলিয়ে বাসা বানায় । বাসার ভিতর সুরঙ্গর মতো থাকে । কোনো জলাশয় বা লোকালয় অংশে এরা বাসা বাধেঁ এবং এই বাসাতে এরা ৩ – ৭ টি ডিম পাড়ে, ডিমগুলো ক্রীম রঙের বা হালকা দুধে আলতা রঙের হয় এবং তাতে বাদামী রঙের ছিট ছিট দাগ থাকে । এই ডিম ১২ – ১৭ দিনের মাথায় ফুটে বাচ্ছা Barn Swallow বা আবাবিলের জন্ম হয় ।
যেখানে পুকুর বা জলাশয় আছে, কাদা মাখা জমির কাছাকাছি কোনো তারের উপর ভাঙ্গা ডালপালার উপর এদেরকে বসতে দেখা যাচ্ছে, নাহলে সারাক্ষন সারাদিন জলের উপর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরপাক খাচ্ছে, এদের উড়ার যেন কোনো বিরাম নেই । তবে আর একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি সেটা হলো এরা যে একা সব সময়ে থাকে তা নয়, এদের সাথে Streak Throated Swallow কেও একসাথে উড়তে দেখা যায়। উভয় পাখির স্বভাব প্রায় একই রকম বলা যেতে পারে । এরা যখন উড়তে থাকে তখন মুখে একটা সুন্দর আওয়াজ trr – trr করে উড়তে থাকে এবং এই শব্দটা অবিরাম করতে থাকে