24/05/2026
সাউথ করিমগঞ্জ ফয়জে জালালিয়া হাই স্কুল (পূর্বতন সাউথ করিমগঞ্জ ফয়জে জালালিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা) স্থানান্তর প্রসঙ্গে নিয়ে ফেইসবুক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে। সেই প্রসঙ্গে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরছি—
১। একটি সিনিয়র মাদ্রাসা আসাম মাদ্রাসা বোর্ডের স্বীকৃতি (Recognition) পেতে হলে প্রয়োজন হতো কমপক্ষে ১১ বিঘা জমি, ১০টি শ্রেণিকক্ষ এবং একটি অফিস কক্ষ। নিশ্চয়ই এসব শর্ত পূরণ করেছিল বলেই প্রতিষ্ঠানটি সেই সময় অনুমতি ও স্বীকৃতি পেয়েছিল।
২। একটি সিনিয়র মাদ্রাসায় মোট ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। পাশাপাশি সুপারিনটেনডেন্টের জন্য এম.এম./বি.এ শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রয়োজন ছিল। নিশ্চয়ই এসব মানদণ্ড পূরণ করেছিল বলেই প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে সরকারি অনুদান লাভ করেছিল।
৩। ইন্টার পরীক্ষায় কমপক্ষে ১৫ জন, এম.এ. প্রথম বর্ষে ১০ জন এবং এফ.এম. ফাইনাল পরীক্ষায় ১০ জন পরীক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অর্থাৎ প্রতি বছর তিনটি ফাইনাল পরীক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পরীক্ষার্থী ছিল বলেই প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে চলমান ছিল।
৪। প্রতিটি সিনিয়র মাদ্রাসায় মধ্যাহ্নভোজনের জন্য আলাদা রান্নাঘর এবং তিনজন রাঁধুনির ব্যবস্থাও ছিল।
৫। পারমিশন, রিকগনিশন, ১১ বিঘা জমি, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অফিস রুম, ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী—এসব শর্ত পূরণ করেছিল বলেই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রাদেশিকরণ হয়েছিল।
৬। ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা হিসেবে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়েছে। এই সময়ে সরকারি বিভিন্ন অনুদান যেমন—স্কুল ভবন, টয়লেট, পানীয় জলসহ অন্যান্য সুবিধাও পেয়েছে।
৭। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি নির্দেশে এই প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা থেকে হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয়।
৮। হাই স্কুলে রূপান্তরের পর ২০২১ সাল থেকে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণি চালু হয় এবং ২০২২ সাল থেকে দশম শ্রেণি যুক্ত হয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রথম মেট্রিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও নিয়মিত মেট্রিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারি বই, খাতা, ইউনিফর্ম ও সাইকেলও পেয়েছে।
৯। নিশ্চয়ই সরকারি সকল নিয়মনীতি পূরণ করেছিল বলেই এই স্কুলটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত (Amalgamation) করা হয়নি।
১০। তাহলে সবকিছু ঠিকঠাক চলার পর ২০২৬ সালে হঠাৎ এই প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের প্রয়োজন কেন দেখা দিল-?
এ বিষয়ে কি স্কুল কমিটি, অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে কোনো উন্মুক্ত সভা হয়েছে-?
যদি স্থানান্তর করা হয়, তাহলে পুরোনো ১১ বিঘা জমি ও বর্তমান স্কুল ভবনের ভবিষ্যৎ কী হবে-?
যেখানে স্থানান্তর করা হবে, সেখানে কত বিঘা জমি আছে-?
সেই জমি কি দানকৃত, নাকি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন-?
একটি হাই স্কুল পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন, তা কি নতুন স্থানে রয়েছে-?
যদি পুরোনো স্থানে ছাত্র-ছাত্রী কম থাকে, তাহলে এতদিন যারা পড়াশোনা করেছে তারা কারা ছিল-?
যদি তারা প্রাইভেট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী হয়ে থাকে, তাহলে তারা সরকারি বই, খাতা, ইউনিফর্ম ও সাইকেল কীভাবে পেল-?
আর যদি তারা সরকারি স্কুলেরই ছাত্র-ছাত্রী হয়ে থাকে এবং বর্তমান স্কুল ভবন ও জমি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে হঠাৎ স্থানান্তরের কারণ কী-?
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের গৃহ নয়; এটি হাজারো ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং এলাকার মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবতার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি।
CMO Assam
School Education Department, Government of the Assam