আমরা ভারতীয়

আমরা ভারতীয় Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আমরা ভারতীয়, Digital creator, Katwa.

ভারত আমার ভারতবর্ষ
স্বদেশ আমার স্বপ্ন গো
তোমাতে আমরা লভিয়া জন্ম
ধন্য হয়েছি ধন্য গো
ভারত আমার ভারতবর্ষ
স্বদেশ আমার স্বপ্ন গো
তোমাতে আমরা লভিয়া জন্ম
ধন্য হয়েছি ধন্য গো

বিশ্বসেরা ভারতের মেয়েরা৮ বছরের দুঃখ কাটিয়ে বিজয়ী ভারতের মেয়েরা। আইসিসি বিশ্বকাপে ভারতের মেয়েরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হার...
03/11/2025

বিশ্বসেরা ভারতের মেয়েরা

৮ বছরের দুঃখ কাটিয়ে বিজয়ী ভারতের মেয়েরা। আইসিসি বিশ্বকাপে ভারতের মেয়েরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে অনবদ্য জয় ছিনিয়ে নিল। অভিনন্দন জানাই টিম ভারতকে।

আবার এক নজরে দেখে নিন,, SIR এর জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে✅সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন✅
31/10/2025

আবার এক নজরে দেখে নিন,, SIR এর জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে✅
সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন✅

30/10/2025
 #হিন্দুহত্যা  #গোপাষ্টমী  #অভিশপ্ত_গোপাষ্টমী ১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর : দিল্লিতে  #গোপাষ্টমী_হিন্দু_গণহত্যার দিন।দিল্লিতে ...
30/10/2025

#হিন্দুহত্যা #গোপাষ্টমী

#অভিশপ্ত_গোপাষ্টমী

১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর : দিল্লিতে #গোপাষ্টমী_হিন্দু_গণহত্যার দিন।

দিল্লিতে ৫৯ বছর আগে গোপাষ্টমীর দিনে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে একটি জঘন্য ও নারকীয় হিন্দু গণহত্যা হয়েছিল যা সচেতনভাবে ভুলিয়ে দিয়েছে ভারতবর্ষের সেকুলার মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী সমাজ।

যদিও সেকুলার সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে মাত্র ৩৭৫ জন নিহত হয়েছিলেন( এই সংখ্যাও কম নয়); প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য সূত্রের মতে প্রায় ৫০০০ হিন্দুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ট্রিগার হ্যাপি দিল্লি পুলিশের বুলেট এদের হত্যা করে, এবং পরে মৃতদেহগুলিকে স্থান থেকে সরিয়ে কিছু অজানা জায়গায় সমাহিত করা হয়েছিল।

১৯৬৬ সালে হিন্দু সংগঠনগুলি ভারতে গোহত্যা নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করে, যা ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় নীতির নির্দেশমূলক নীতির ( directive principles) ৪৮ অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবনের বাইরে একটি বিশাল বিক্ষোভে এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। হিন্দু পঞ্চাঙ্গ অনুসারে দিনটি ছিল কার্তিক শুক্লা অষ্টমী যা হিন্দুদের মধ্যে গোপাষ্টমী নামে পরিচিত।

১৯৬৬ সালের নির্বাচনের বছরে ইন্দিরা গান্ধীর সাধারণ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা খুব কঠিন ছিল। তাই তিনি বিখ্যাত হিন্দু সাধক স্বামী করপত্রী মহারাজ এবং আচার্য বিনোবা ভাবের কাছে তাদের আশীর্বাদ চাইতে যান। উভয়েই একটি শর্তে তাকে তাঁদের আশীর্বাদ করেছিলেন, যদি তিনি জয়ী হন এবং প্রধানমন্ত্রী হন তবে তিনি অবিলম্বে সারা দেশে গোহত্যা নিষিদ্ধ করবেন। সে সময় সারা ভারতে প্রতিদিন গড়ে ১৫,০০০ গরু হত্যা করা হতো! ইন্দিরা গান্ধী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি জয়ী হলে তা পালন করবেন।

ইন্দিরা গান্ধী জয়ী হওয়ার পর আচার্য বিনোবা ভাবে তাঁকে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন যে তার দায়িত্বের সাথে সামঞ্জস্য করার জন্য তার কিছুটা সময় দরকার তারপর তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। কিন্তু তিনি গোহত্যা নিষিদ্ধের দাবি মানতে রাজি হননি।

গোরক্ষা সমিতি তাকে একটি স্মারকলিপি দেয়, তার উত্তরে তিনি বলেন যে গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য হিন্দুদের সংগ্রামের কথা শুনতে তিনি প্রস্তুত নন। ৪৮ ঘন্টার কারফিউ আদেশ দেওয়া হয় এবং সমস্ত সভা নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর স্বামী করপত্রী মহারাজ গোরক্ষা মহা অভিযান সমিতির ব্যানারে চাঁদনী চকের আর্য সমাজ মন্দির থেকে শুরু হওয়া একটি বিশাল র‌্যালির মাধ্যমে একটি প্রতিবাদের আয়োজন করেন। সনাতনী, আর্য সমাজ, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, নাথ এবং নিরঙ্কারীদের মতো সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ জনসমুহ, জগন্নাথ পুরী গোবর্ধন মঠের শঙ্করাচার্য এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিন্দু সাধকদের নেতৃত্বে ভারতের পার্লামেন্ট (সংসদ ভবন) অভিমুখে যাত্রা শুরু হয়।

দ্বারকা জ্যোতিষপীঠ, বল্লভ সম্প্রদায়ের সাত পীঠাধীষ, রামানুজ সম্প্রদায় পীঠাধিপতি, রামানন্দ সম্প্রদায় পীঠাধিপতি, গোরখপীঠের মহন্ত, আর্য সমাজের সাধু ও সেক্রেটারি এবং বিভিন্ন শিখ মন্দিরের গ্রন্থিগণ এই সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে স্বল্পসংখ্যক মুসলিমও অংশ নেন। সমাবেশে ২০ হাজার নারীসহ ১০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন!

মিছিলটি সংসদের কাছে পৌঁছায়, তখন সংসদ অধিবেশন চলছিল। জনতা সংসদ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে; ক্লাইম্যাক্সে যখন আন্দোলনরত হিন্দুরা তাদের ন্যায্য দাবিতে নতি স্বীকার না করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে শুরু করে, তখন ইন্দিরা গান্ধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন এবং পুলিশের গুলিতে বহু নিরীহ হিন্দু নিহত হন।
পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং তারপর নিরস্ত্র জনতার উপর নির্মমভাবে গুলি চালাতে থাকে যার ফলে ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।

১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর গোপাষ্টমীর এক তিথিতে ইন্দিরা গান্ধী ও সেকুলার কংগ্রেস কর্তৃক সরকারি মদতে সর্বাধিক হিন্দুর গণহত্যায় প্রায় ৫০০০ মানুষ নিহত হয়। লাশ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অজানা স্থানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়! গোরক্ষার জন্য হুতাত্মারা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর বিপুল সংখ্যক গোভক্তের বলিদানের পরেও সারা ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য আইন এখনও সফল হয়নি।

ইন্দিরা গান্ধী সমস্ত দোষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলজারি লাল নন্দার উপর চাপিয়ে দিয়ে তার হাত ধুয়ে ফেলেন; যিনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

গোবর্ধন মঠ পুরীর শঙ্করাচার্য শ্রী নিরঞ্জন দেবতীর্থ, স্বামী হরিহরানন্দ যিনি করপত্রী মহারাজ নামে পরিচিত এবং মহাত্মা রামচন্দ্র বীর দিল্লিতে হিন্দু সাধু ও ভক্তদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরণ অনশন পালন করেছিলেন। মহাত্মা রামচন্দ্র বীর দীর্ঘতম ১৬৬ দিনের উপবাস পালন করেছিলেন। পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্তরাও বলবন্তরাও চহ্বান ১৯৬৬ সালের ১৪ই নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের ২৭শে জুন পর্যন্ত অনশনরত সাধুদের কাছে গিয়েছিলেন এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে একটি গোহত্যা বিরোধী বিল আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তার উপর বিশ্বাস করে হিন্দু সাধুরা তাদের উপবাস শেষ করেছিলেন। কিন্তু হিন্দুবিরোধী কংগ্রেস যথারীতি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

#ভাগ্যের_পরিহাস :: ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালে তার দেহরক্ষীদের দ্বারা ঠিক একই রকম নৃশংস গুলিতে নিহত হন। যেদিন তাকে হত্যা করা হয়েছিল সেই দিনটি ছিল ৩১শে অক্টোবর - ঐ বছর গোপাষ্টমীর দিন।

28/10/2025

প্রশান্ত কিশোর দুটো কেন্দ্রে ভোটার
বিহারের সাসারাম, বাংলায় ভবানীপুর
একটা বাদ যাবে, তৃণমূল আন্দোলনে নামবে?

 #সচেতন_হোন_সোশ্যাল_মিডিয়া_থেকে। গৃহ বধূর সাথে ফেসবুকে পরিচয় ! 3 মাস আগে ফেসবুকে অয়ন রায় নামে প্রোফাইল ব্যবহার করে ওই...
24/10/2025

#সচেতন_হোন_সোশ্যাল_মিডিয়া_থেকে।
গৃহ বধূর সাথে ফেসবুকে পরিচয় ! 3 মাস আগে ফেসবুকে অয়ন রায় নামে প্রোফাইল ব্যবহার করে ওই গৃহ বধূর সাথে যোগাযোগ করে সে ! পরিচয় দেই সে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ! তারপর প্রেম শুরু দুজনের !

বিশ্বাস অর্জন করে তারকেশ্বর একটি ল*জে ডাকে সেই গৃহ বধুকে! তাদের মধ্যে শা*রীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ সেই গৃহ বধূর ! তারপর শুরু হয় আসল খেলা বিভিন্ন অজুহাতে সেই বধূর কাছ থেকে টাকা নেই সেই যুবক !

টাকা না পেলে সোনার গহনা দাবি করে ! অভিযোগ গোপনে ঘ*নিষ্ট মুহূর্তের তোলা ছবি ভাইরাল করে দেবে বলে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে সেই যুবক !

মানসিক চাপে পড়ে অবশেষে তারকেশ্বর থানাই অভিযোগ করে সেই গৃহ বধু ! তদন্তে নেমে পুলিশ সেই অভিযুক্ত যুবককে জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ !

পুলিশ সূত্রে খবর অভিযুক্তের আসল নাম শেখ আশরাফুল হক সে কোনো স্কুলের শিক্ষক নয় বরং এভাবে সোস্যাল মিডিয়া তে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল ! পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এর বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ আছে কি না !

এবার সেই গৃহ বধুর স্বামির কমেন্ট গুলো দেখুন কি কমেন্ট করেছে সে !

ঔরঙ্গজেবের বাবার নাম জানতে চাইলে ৯৯% লোক পুরো খানদানের পরিচয় দিয়ে দেবে... ঔরঙ্গজেবের বাবা ছিল শাহজাহান, শাহজাহানের বাব...
24/10/2025

ঔরঙ্গজেবের বাবার নাম জানতে চাইলে ৯৯% লোক পুরো খানদানের পরিচয় দিয়ে দেবে... ঔরঙ্গজেবের বাবা ছিল শাহজাহান, শাহজাহানের বাবা ছিল জাহাঙ্গীর, জাহাঙ্গীরের বাবা ছিল আকবর, আকবরের বাবা ছিল হুমায়ুন, হুমায়ুনের বাবা ছিল বাবর।


এদের নামগুলো ঠিকঠাক মনে রাখার জন্য আমাদেরকে ছোটবেলায় শেখানো হয়েছিল "বাবার হইল আবার জ্বর সারিলো ঔষধে"।

১. আচ্ছা হর্ষবর্ধনের পিতার নাম আমরা জানি?

২. আচ্ছা পৃথীরাজ চৌহানের পিতার নাম আমরা জানি?

৩. আচ্ছা সম্রাট অশোকের পিতার নাম আমরা জানি?

৪. আচ্ছা মহারাণা প্রতাপের পিতার নাম আমরা জানি?

৫. আচ্ছা শিবাজী মহারাজের পিতার নাম আমরা জানি?

৬. আলেকজান্ডারের সেনাপতির নাম
৯০%লোক জানে, আচ্ছা মহারাণা উদয়
সিং এর সেনাপতির নাম আমরা জানি?

৭. কোন রাজাকে "আলেকজান্ডার অফ
ইন্ডিয়া" বলা হতো আমরা জানি?

৮. ভারতবর্ষে সব চেয়ে বেশীদিন রাজত্ব করা
সাম্রাজ্যের নাম চোল। একজন চোলরাজার
নাম আমরা কজন জানি?

৯. আমরা দাঙ্গা বলতে গুজরাটের নামই জানি।
অথচ কাশ্মীর genocide এর ব্যাপারে কজন
ও কতটুকু জানি ?

# ব্যাপারটা এরকম কেন হল? আমার আপনার মনে এরকম প্রশ্ন কেন এল না? কেন ইতিহাসের পাতায় এই প্রশ্নের কোনও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না।

বেশীরভাগ মানুষ বলতে পারবে না, কারণ ভারতের প্রকৃত ইতিহাস ইচ্ছাকৃতভাবে জানতে দেওয়া হয়নি,খুব অল্প করে দায়সারা ভাবে ইতিহাসের বইতে স্থান পেয়েছেন এনারা। পাঠান - মুঘলদের ইতিহাসই অগ্রাধিকার পেয়েছে পাঠ্যপুস্তক গুলিতে বেশী করে। এর পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল সেকুলারপন্থী ও প্রগতিশীলেরা।

কংগ্রেস বরাবর সেকুলারপন্থী দল। যে কারনে নেতাজির মত মানুষকে আলাদা করে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করতে হয়েছিল।

1947--1977 কংগ্রেস সরকারের অধীনে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীঃ

1)মৌলনা আজাদ।
2)হুমায়ুন কবির।
3)ফকরুদ্দিন আলী।
4)নুরুল হাসান..



এবার বুঝেছেন কেন আকবর, বাবর, খলজী, ঔরঙ্গজেব, তৈমুরলঙ, টিপু সুলতান,শাহজান রুপী ভারত আক্রমণকারী ও লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের হত্যাকারীরা আজ ভারতবর্ষের ইতিহাসের বইয়ের পাতায় মহান ?

কেন ভারতীয়দের ভুলতে বাধ্য করা হল --

1) 600 বছরের মৌর্য সাম্রাজ্য।
2) 650 বছরের অহম সাম্রাজ্য।
3) 650 বছরের চালুক্য সাম্রাজ্য।
4) 500 বছরের সাতবাহন সাম্রাজ্য।
5) 1000 বছরের চোল সাম্রাজ্য।
6) 800 বছরের পাড্রু সাম্রাজ্য।
7) 400 বছরের চন্ডিল্য সাম্রাজ্য।
8) 600 বছরের গুপ্ত সাম্রাজ্য।
9) 600 বছরের পল্লব সাম্রাজ্য।

আজ তাই ভারতের নিজস্ব গৌরবময় ইতিহাস জানার ও জানানোর দিন আসছে। আমাদের পাঠ্যক্রমের মধ্যে ভারতের ইতিহাস এর দিকগুলি বিস্তারিত ভাবে লেখার ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
🇮🇳

পাঁচ বছরে উকিলের খরচ ৬৫ কোটি টাকা। বছরে ১৩ কোটি। মাসে এক কোটির বেশি। মানুষের উন্নয়নের টাকায়, দল আর প্রশাসনের দূর্নীতি ...
23/10/2025

পাঁচ বছরে উকিলের খরচ ৬৫ কোটি টাকা। বছরে ১৩ কোটি। মাসে এক কোটির বেশি। মানুষের উন্নয়নের টাকায়, দল আর প্রশাসনের দূর্নীতি সামাল দিতে খরচ। নিজেরা চুরি দূর্নীতি কর, আর মামলা লড়তে জনগণের টাকায় বড় বড় উকিল লাগাও। লে লুটে লে.....

22/10/2025

কাকদ্বীপে মা কালীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

দুটোই সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ শাখার অফিসিয়াল পেজ থেকে নেওয়া। ঈদ আছে, কালীপুজো নেই। ঈদের শুভেচ্ছায় ইসলামিক স্থাপত্যের চিহ্...
22/10/2025

দুটোই সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ শাখার অফিসিয়াল পেজ থেকে নেওয়া। ঈদ আছে, কালীপুজো নেই। ঈদের শুভেচ্ছায় ইসলামিক স্থাপত্যের চিহ্ন আছে, ‘আলোর উৎসবের’ শুভেচ্ছায় হিন্দু সংস্কৃতির ছিটেফোঁটাও নেই। ঈদ ঈদই আছে, কালীপুজো-দীপাবলি হয়ে গেছে ‘আলোর উৎসব’।

এভাবেই ইসলামের পদলেহন করে চলা সংস্কারিত মার্কসবাদীরা হিন্দু বিদ্বেষ পোষণ করে চলে মনের গহীনেও। 🙂

পশুবলিসর্বপ্রথম আমাদের জানতে হবে সাধারণ কিছু বিষয়। যে বিষয়গুলো আমাদের মাথার মধ্যে সব সময় বিরাজমান থাকে। ধর্মকে আমাদের ...
22/10/2025

পশুবলি

সর্বপ্রথম আমাদের জানতে হবে সাধারণ কিছু বিষয়। যে বিষয়গুলো আমাদের মাথার মধ্যে সব সময় বিরাজমান থাকে। ধর্মকে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের এবং ইমোশনাল বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত করে ফেলি। আসলে ধর্মের প্রতি আমরা সবাই দুর্বল। এই দুর্বলতার কারণে যে কোন কর্মই দুর্বল ভাবাটাই স্বাভাবিক। আমরা অহিংসা পরম ধর্ম বলে বিবেচনা করেছি কিন্তু ধর্ম ক্ষেত্রে হিংসা কর্তব্য এটা ভুলে গেছি। আমরা ভুলে গেছি মহাভারতের যুদ্ধের হিংসা, লক্ষ লক্ষ মানুষের বলি। মহাভারতের যুদ্ধে অধর্মকে বিনাশ করাটা হিংসার পর্যায় ছিল না বরং অহিংসা বলেই বিবেচ্য করি আমরা। রামায়ণের যুদ্ধে অসংখ্য জীব হত্যাকেও আমরা অহিংসা বলেই বিবেচনা করি। স্বাভাবিক হিসেবেই নেই। কিন্তু যখন সেটা দৈব কার্য হয়, বিশেষ করে কালীপূজায় পশু বলির বিষয়টা; তখন আমরা সেটা মানতে নারাজ। শাস্ত্রীয় বিষয়ে উপস্থাপন করা হলেও তবুও আমরা মানতে নারাজ। বিষয়গুলো দিন দিন যেন জটিল হয়ে উঠছে। পূজোর সময় এক শ্রেণীদে দেখা যায় এ বিষয়ে।

আজকের পোস্টটি অনেক বড় হবে। তবে আশা করি পশু বলি বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণাদি এবং ব্যাখ্যা এই পোস্টে থাকবে।

প্রথমে কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক। যে বিষয়গুলো মানুষের মনে সর্বদাই ঘুরপাক খায় তার সঠিক শাস্ত্রীয় উত্তর।

১। সনাতন ধর্মে কি পশুহিংসা বৈধ করা হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ।
‘পিতৃকাৰ্য, দেবপূজা ও অতিথিসৎকারে পশুহিংসা করিতে পারিবে। মনু বলিয়াছেন; মধুপর্ক, যজ্ঞ, পিতৃকাৰ্য্য ও দেবকাৰ্য- ইহাতেই পশুহিংসা করিবে......’ (বশিষ্ঠ সংহিতা ৪র্থ অধ্যায়)।
ব্রহ্মা, স্বয়ং যজ্ঞের নিমিত্ত সকল প্রকার বলির সৃষ্টি করিয়াছেন; এই নিমিত্ত আমি তোমাকে (পশু) বধ করি, এই জন্যে যজ্ঞে পশুবধ হিংসার মধ্যে গণ্য নয়। (কালিকাপুরাণ ৫৫/১০)

২। ইহা কী পূর্বে থেকেই চলে আসছে?
উত্তর: হ্যাঁ অবশ্যই। যেখানে শাস্ত্রেই বলা হচ্ছে পশুবলি বিষয়ে সেখানে আর না থাকার কী বিষয় থাকতে পারে! পূর্বে ছিল কিনা এর নির্ণয় করা যায় ইতিহাস শাস্ত্র থেকে। বেদের ব্রাহ্মণ, অরণ্যক এবং মহাভারত রামায়ণ।
মহাভারতে শান্তনু রাজার সময়ে ‘তখন দেবতা, ঋষি ও পিতৃলোকের অর্চনার জন্যই প্রাণী বধ হইতো; কিন্তু অধর্ম অনুসারে কোন প্রাণীই বধ হইত না।’ (মহাভারত আদি পর্ব ৯৪/১৭)।
এছাড়াও রামায়ণে পাওয়া যায়, ‘অনন্তর সেই যজ্ঞে শামিত্রকর্ম্মের সময় উপস্থিত হইলে সেই সকল ঋষি, শাস্ত্রে যে যে দেবতার যে যে বলি বিহিত আছে, সেই সেই দেবতার উদ্দেশ্যে সেই সেই বলি প্রদান করলেন। বহুতর জলচর, ভুজঙ্গ, পশু, পক্ষী ও সেই অশ্ব বলি প্রদত্ত হইল এবং সেই সকল যূপে সেই তিন শত পশু ও শ্রেষ্ঠ অশ্বরত্নকে বন্ধন করিলেন।’ (বাল্মীকি রামায়ণ আদিকাণ্ড ১৪/৩০-৩২)

৩। বেদে কি পশু হিংসা রয়েছে?
উত্তর: অসংখ্য রয়েছে। সংহিতা, ব্রাহ্মণ, অরণ্যক সহ অনেক জায়গাতেই যজ্ঞে পশু বলির বিষয়টি খুব ভালোভাবে চোখে পড়ে। ঋগ্বেদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণ দেখা যায়– ‘যে যজমান সোমযোগে দীক্ষিত হয়, সে সকল দেবতার নিকটে আপনাকে (পশুরূপে) আলম্ভনে প্রবৃত্ত হয়। অগ্নিই সকল দেবতা, সোমও সকল দেবতা; সেই যজমান যে অগ্নির ও সোমের উদ্দিষ্ট পশু আলম্ভন করে, তদ্দ্বারা সে সকল দেবতার নিকটেই আপনাকে নিষ্ক্রয় করে।’ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২/৬)। এছাড়াও বেদের বহু জায়গাতে এরকম বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা অন্য সময় করা যাবে।
“এই পশুকে (ইহার বধে ) ইহার মাতা অনুমতি দিক, পিতা অনুমতি দিক, সহােদর ভ্রাতা অনুমতি দিক, সখা ও একযূথবৰ্ত্তী [ অন্য পশু ] অনুমতি দিক”—এই বাক্যে তাহার জন্মসম্পর্কযুক্ত-[ অন্য পশু ]-গণেরও অনুমতি লইয়া ইহার আলম্ভন (বধ) হয়। (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬ষ্ঠ অধ্যায় দ্রষ্টব্য)

“ইহার ত্বক একভাবে [ অবিচ্ছিন্নভাবে ] ছিন্ন কর, ছেদনের পূর্বে নাভি হইতে বপা (মেদ) পৃথক্‌ কর, প্রশ্বাসকে ভিতরেই নিবারণ কর (শ্বাসরােধ করিয়া বধ কর )”—এই বাক্যে পশুসমূহেই প্রাণসকলের স্থাপনা হয়। (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬ষ্ঠ অধ্যায় দ্রষ্টব্য)

“ইহার বক্ষ শ্যেনের (পক্ষীর) আকৃতিযুক্ত কর (সেইরূপে ছিন্ন কর ), বাহুদ্বয় উত্তমরূপে ছিন্ন কর, প্রকোষ্ঠদ্বয় শলাকাকার কর, অংসদ্বয় কচ্ছপাকার কর, শ্রোণিদ্বয় অচ্ছিদ্র কর, উরুদ্বয় কবষের (ঢালের) মত, ও উরুমূল করবীর পত্রের মত কর; ইহার পার্শ্বাস্থি ছাব্বিশখানি, সে গুলি পর পর পৃথক কর; সমস্ত গাত্র অবিকল [ ছিন্ন ] কর”—এই বাক্যে ইহার সমস্ত অঙ্গ ও গাত্রকে প্রীত করা হয়। (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬ষ্ঠ অধ্যায় দ্রষ্টব্য)

৪। ধর্মের নামে পশুহিংসা কী ঠিক?
উত্তর: মানুষের কর্তব্য এবং অকর্তব্য শাস্ত্রই বড় প্রমাণ। গীতাতে সুন্দরভাবে বলা হয়েছে এই সব বিষয়ে। সঠিক না বেঠিক এর প্রমান শাস্ত্র। তাই ধর্মচর্চা করতে হলে শাস্ত্রকেই প্রথমে বেছে নিতে হবে। সমস্যা হলো আমরা নিজেদের ইমোশনকে বড় দুর্বল করে রাখি। মনু সংহিতাতে বলা হচ্ছে, যজ্ঞের জন্য অথবা অবশ্য পোষ্যগণের ভরণ পোষণের জন্য ব্রাহ্মণগণ প্রশস্ত পশু-পক্ষী বধ করিতে পারেন।..........পূর্বকালে ঋষিগণ এবং ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়গণের যজ্ঞে ভক্ষ্য পশুপক্ষীর মাংসে পুরোডাশ (পিষ্টক বিশেষ) প্রস্তুত হইতো। (মনুসংহিতা ৫/২২-২৩)

৫। মা কালীর পূজায় কেন পশু বলি দেওয়া হয়?
উত্তর: শক্তিপূজা বলি বিহীন হয় না। তান্ত্রিক পূজায় পশুবলি অবশ্যই কর্তব্য। ভগবান শিব বলছেন যে, শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে সাধক, মোদক দ্বারা গণপতিকে, ঘৃতদ্বারা হরিকে, নিয়মিত গীত বাদ্যদ্বারা শঙ্করকে এবং বলিদান দ্বারা চণ্ডিকাকে সর্বদা সন্তুষ্ট করিবে।’ (কালিকা পুরাণ ৫৫/১-২)।

৬। ছাগ শব্দের অর্থ নাকি ষড়রিপু?
উত্তর: ছাগ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ ছাগল; ষড়রিপু আলাদা একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ ছয়টি রিপু। অর্থাৎ, ছাগ এবং ষড়রিপু দুইটাই সংস্কৃত শব্দ। কোনোটা কোনোটার মানে নাই, দুইটিই পূর্ণ সংস্কৃত শব্দ। অতএব, ছাগ মানে ষড়রিপু এই কথাটার কোনো ভিত্তি প্রমাণ কিছু নেই। যদি ছাগ অর্থ ষড়রিপু হতো তাহলে,
বায়ব্যং শ্বেতচ্ছাগল্মালভেত,
অর্থ এই যে, বায়ু দেবতার নিকট শ্বেত ছাগল বলি প্রদান করিবে। এখানে শ্বেত ছাগ মানে কী সাদা ষড়রিপু হতে পারে! তাছাড়াও, ছাগ বাদেও আরো বহু প্রকার বলির কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে।

৭। মা কী সন্তানের রক্ত চাইতে পারেন?
উত্তর: এ জগতের সকল কিছুই তো মায়ের সন্তান। তিনি সকলকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি সকলকে পালন করছেন, আবার তিনিই সকলকে ধ্বংস করছেন। এটাই তো মূলত সৃষ্টি ধ্বংস চক্র। ভগবতী স্বয়ং নিজেই বলছেন,
‘তৎপরে দুইদিন নানাবিধ বলি, পূজা ও জাগরণাদি দ্বারা আমার পূজা করিবে। বিশেষতঃ মহাষ্টমী তে উপবাস অবলম্বন পূর্বক এবং নবমীতে বলিদান দ্বারা মহাভক্তি সহকারে আমার পূজা করিবে।’ (বৃহদ্ধর্ম পুরাণ পূর্বখণ্ড/ দ্বাবিংশ অধ্যায়)
‘শাক্ত, সৌর, শৈব, বৈষ্ণব– শারদীয় মহোৎসবে সকলেরই দেবীপূজা অবশ্য কর্তব্য। মৎস্য, মাংস, ছাগ, মহিষ, মেষ ও অন্যান্য উপহার দ্বারা জগদীশ্বরীর প্রীতি সাধন একান্তকর্তব্য। ইহাতে বিত্তশাঠ্য কর্তব্য নহে’। (মহাভাগবত পুরাণ ৪৮/১৪-১৬)।

৮। পশুবলি দিলে কি পাপ হয়?
উত্তর: শাস্ত্রীয় অনুযায়ী পশুবলিতে কোন পাপ নেই। মনুসংহিতাতে বলা হয়েছে,
‘স্বয়ম্ভু স্বয়ং যজ্ঞকার্যের জন্য পশুসকল সৃষ্টি করিয়াছেন,-সমুদয় বিশ্বের হিতের জন্যই যজ্ঞ বিহিত; অতএব যজ্ঞে যে পশুবধ, তাহা ‘অবধ’ অর্থাৎ সেই স্থলে বধজন্য পাপ হয় না।’ (মনুসংহিতা ৫/৩৯)।
ব্রহ্মসূত্রেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে,
‘যদি এইরূপ বলা হয় যে যজ্ঞাদি পশু ইত্যাদি বলি হয় বলিয়া উহা পাপ, আমরা বলিব না, ইহা হইতে পারে না-কারণ শাস্ত্র প্রমাণ এইরূপ আছে।’

‘যজ্ঞাদি কর্মে পশুবধজনিত পাপ হয় বলিয়া ব্রীহি যবাদি জন্ম হয়-যদি বলা হয় তবে তদুত্তরে বলা যায় যে, না, তাহা নহে, কারণ শ্রুতিতে পশুবধের বিধান আছে- এবং এই কর্মের শুধুমাত্র পুণ্য ফলই হইবে এইরূপ বলা আছে।’ (ব্রহ্মসূত্র ৩/১/২৫)

তাছাড়াও নারদ শ্রীরামকে বলছেন,
‘যাহারা মাংসভোজী তাহারা দেবীর পূজায় পশু হিংসা করিতে পারিবে এবং তজ্জন্য ছাগ অথবা বন্য বরাহের বলি প্রাই উত্তম কয়। হে অনঘ! দেবীর অগ্রে নিহিত পশুগণ অক্ষয় স্বর্গ লাভ করিয়া থাকে; অতএব পশুঘাতী ব্যক্তিগণের পশু হনন নিমিত্ত পাতক জন্মে না। দেবতাদিগের বলিকার্য্যে কৃত্যোৎসর্গ পশুগণের নিশ্চয়ই স্বর্গলাভ হয়, এজন্য সকল শাস্ত্র সিদ্ধান্তে যাজ্ঞিকী হিংসা অহিংসা বলিয়াই পরিগণিত হইয়াছে।’ (দেবীভাগবত পুরাণ ৩য় স্কন্ধ/২৬/...)

৯। শুধু কি ছাগবলিই দেওয়া যায়?
উত্তর: শাস্ত্রে আরও বহু প্রকার পশুবলির কথা বলা হয়েছে।
‘(১) পক্ষী (২) কচ্ছপ (৩) কুম্ভীর (৪) নবপ্রকার মৃগ যথা- বরাহ, ছাগল, মহিষ, গোধা, শশক, বায়স, চমর, কৃষ্ণসার, শশ এবং (৫) সিংহ, মৎস্য (৬) স্বগোত্র-রুধির (৭) এবং ইহাদিগের অভাবে হয় এবং (৮) হস্তি এই আটপ্রকার বলি শাস্ত্রে নির্দিষ্ট হইয়াছে।’ (কালিকাপুরাণ ৫৫/৩-৪)
বিষ্ণু বলছেন,
‘নর বলিদানে সহস্রবর্ষ, মহিষ বলিদানে শত বর্ষ, ছাগ বলিদানে দশ বর্ষ, মেষ পক্ষী হরিণ ও কুষ্মাণ্ড বলিদানে একবর্ষ......... ভগবতী দুর্গাদেবী বলিদাতা পূজকের প্রতি প্রসন্না হয়ে থাকেন।’ (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ প্রকৃতি খণ্ড ৬৪/৯২-৯৩-৯৪)

১০। পশুবলির পর পশুর কী গতি হয়?
উত্তর: এই বিষয়ে শাস্ত্রে বলা হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে।
মহাভারতে এই বিষয়ে বলা হচ্ছে,
‘চাতুর্মাস্যযাগে প্রত্যহ পশুবধ করা হইয়া থাকে এবং অগ্নিদেব মাংস কামনা করেন, এইরূপ বেদবাক্যও শােনা যায়। ব্রাহ্মণেরাও যজ্ঞে সর্বদাই পশুবধ করিয়া থাকেন এবং সেই পশুগুলিও মন্ত্রদ্বারা সংস্কৃত হইয়া স্বর্গ লাভ করিয়া থাকে। (মহাভারত/বনপর্ব/ষট্সপ্তত্যধিকশততমোঽধ্যায় ১০-১১নং শ্লোক)

‘বলিদ্বারা মুক্তি সাধিত হয়, বলি দ্বারা স্বর্গ সাধিত হয় এবং বলিদান দ্বারা নৃপতিগণ শত্রু নৃপতিদিগকে পরাজয় করিয়া থাকেন।’ (কালিকাপুরাণ ৬৭/৬)

‘যাহারা এই মহােৎসবে মহাদেবীর পূজা করে না, মােহ বা আলস্য বশতঃ যাহারা এই সময়ে অঙ্গ দেবতার অর্চনায় রত হয়,—মহাদেবীর অর্চনা করে না, তাহারা পশুরূপী হইয়া মহাপৃষ্ঠে উৎপন্ন হইয়া থাকে। তাহাদের উদ্ধারের জন্য চণ্ডিকাদেবী পরমাদরসহকারে যজ্ঞে তাহাদিগকে বলিরূপে গ্রহণ করেন। অতএব দেবীভক্তিপরায়ণ ব্যক্তিগণ পশুবলি প্রদান করিবেন’। (মহাভাগবত পুরাণ ৪৮/১৯...)

১১। পশু বলির মাংস কি খাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। মনুসংহিতাতে সুন্দর ভাবে বলা হয়েছে,
‘যজ্ঞের হুতাবশিষ্ট মাংস ভক্ষণ করিতে পারে; বহু ব্রাহ্মণের অনুরােধে মাংস ভক্ষণ করিতে পারা যায়; যথাশাস্ত্র শ্রাদ্ধাদিতে নিযুক্ত মাংস ভক্ষণীয় এবং ব্যাধিহেতুক বা আহারাভাবে প্রাণ যায়, এমন অবস্থায়ও মাংস খাইতে পারে। পৃথিবীতে যে কিছু পদার্থ আছে, সে সমুদায়ই প্রজাপতি, জীবের অনুস্বরূপে সৃষ্টি করিয়াছেন; অতএব স্থাবর জঙ্গম উভয়ই জীবের ভােজ্য। অচর তৃণাদি স্থাবর-চরণশীল পশুপক্ষী প্রভৃতি জঙ্গমের ভক্ষ্য ; দন্তশালী প্রাণিগণ দন্তহীন প্রাণীদিগকে ভক্ষণ করে ; হস্তহীন মৎস্যাদি হস্তবিশিষ্ট মনুষদিগের ভক্ষ্য এবং ভীরু জীবেরা চিরকালই বীরগণের ভক্ষ্য।’ (মনুসংহিতা ৫/২৭-২৮-২৯)

‘যে লোক সর্বদা দেবতা ও পিতৃলােককে দান করিয়া মাংস ভক্ষণ করে, তাহার সে ভক্ষণে মুনিরাই বিধি দিয়াছেন।’ (মহাভারত/বনপর্ব/ষট্সপ্তত্যধিকশততমোঽধ্যায় ১৩নং শ্লোক)

‘যজ্ঞের হতাবেশিষ্ট এই সকল প্রাণী মাংস ভক্ষণ করিতে পারে।’ (কূর্মপুরাণ উপরিভাগ ১৭/৪০)

১২। পশুবলি দিলে কি হয়?
উত্তর: ‘ভগবতীর প্রীতির জন্য তদীয় মহোৎসবে সমাহিত হইয়া যথাবিধি পশুঘাত কর্তব্য। শৈব, সৌর ও বৈষ্ণব কাহারও ইহাতে দ্বেষ করা কর্তব নহে’। (মহাভাগবত পুরাণ ৪৮/১৭-১৮)

১৩। বৈষ্ণবরা কেনো বলির বিরোধীতা করে?
উত্তর: যারা সঠিক বৈষ্ণব এবং শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা কখনো বলির বিরোধিতা করে না এবং তারা বলির কর্ম করে না। কারণ বৈষ্ণব শাস্ত্রগুলোতেই সরাসরি বলির বিধান রয়েছে। বৈষ্ণবদের মুখ্য শাস্ত্র বিষ্ণু পুরাণে নারায়ণ বলছেন–
ভগবতীর উদ্দেশ্যে ‘সুরা, মাংস, ভক্ষ্য ও ভোজ্য দ্বারা সদায় তুমি প্রসন্ন হয়ে মনুষ্যগণের অশেষ প্রার্থিত বিষয় প্রদান করিবে।’ (বিষ্ণুপুরাণ ৫/১/৮৬)

‘ওঁ জয় ত্বং কলভূতেশে ইত্যাদি মন্ত্রে সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী দেবীর বলিপ্রদান করিয়া পূজা সমাপন করিবে। (গরুড় পুরাণ পূর্ব খন্ড/৩৮/১৮)

‘মহারাজ! আপনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি, সুতরাং এ কথা আপনার অজ্ঞাত নয় যে, যজ্ঞে দীক্ষিত হওয়ার পর কেবলমাত্র শাস্ত্র বিহিত যজ্ঞ পশু ভিন্ন অন্য কাউকে বধ করা উচিত নয়।’ (ভাগবত পুরাণ ৪র্থ স্কন্ধ ১৯/২৭)

‘কর্মবিশেষে সুরার আঘ্রাণ আহার বলিয়া বিহিত, কিন্তু পান অবৈধ; এইরূপ দেব উদ্দেশ্যেই পশুবধ বৈধ বলিয়া উল্লেখিত, কিন্তু বৃথা হিংসার বিধি নাই।’ (ভাগবত পুরাণ একাদশ স্কন্ধের পঞ্চম অধ্যায়ের দ্রষ্টব্য)
এরপরও কি বৈষ্ণবরা বলির বিরোধীতা করতে পারে?

১৪। ভগবান বিষ্ণু কি বলির আদেশ দিয়েছেন?
উত্তর: অবশ্যই। ভগবান বিষ্ণু বলেছেন-
সুরা, মাংস, ভক্ষ্য ভোজ্যাদি উপহার দ্বারা পূজিতা হইয়া তুমি নরগণের অশেষ কাম (কামনা) প্রদান করিবে। তাহারা সকলে আমার (ভগবান বিষ্ণু) প্রসাদে কুশলযুক্ত হইবে, সন্দেহ নাই। (ব্রহ্মপুরাণ ১৮১/৫২)
বরং যজ্ঞের মাংস বিষ্ণু নিজেই গ্রহণ করেন এমনটাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে:
‘মৃগমাংস, ছাগমাংস ও শসমাংস আমার অতীব সুখজনক। অতএব এ সমস্তই আমাকে নিবেদন করিবে। বিস্তৃত যজ্ঞে ছাগ ও অন্যান্য পশু প্রদান করিয়া বেদপারদর্শী ব্রাহ্মণে সমর্পণ করিলে আমি তাহার অংশভাগী হইয়া থাকি।’ (বরাহপুরাণ ১২০তম অধ্যায়)

১৫। ভগবান শিব কী বলির আদেশ দিয়েছেন?
উত্তর: ভগবান শিব তো স্বয়ং নিজেই পশু বলি দিয়ে পূজা করেছেন।
‘তারপরে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু তুষ্ট হয়ে তাঁর প্রতি শুভজনক আশীর্বাদ প্রয়োগ করলে ভগবান শঙ্কর পবিত্র ও সুস্নাত হয়ে তাদের উপদেশে ভক্তিযোগে পার্দ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, নানা উপহার, পুষ্প, চন্দন, বিধিধ নৈবদ্য, ছাগ, মেষ, মহিষ ও গণ্ডাদি বলিদান, বস্ত্র, অলঙ্কার, মাল্য, পায়স, পিষ্টক, মধু, সুধা ও নানা সুপক্ব ফল দ্বারা মহাসমারোহে সেই মঙ্গল চণ্ডিকাদেবীর পূজা করেন।’ (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ প্রকৃতি খণ্ড ৪৪/১৭)

১৬। শ্রীকৃষ্ণ করেছেন তবে?
উত্তর: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই যজ্ঞের জন্য পশু বধ করেছেন। তার প্রমাণ ভাগবতেই রয়েছে। নারদ দেখিলেন ‘শ্রীকৃষ্ণ যদুশ্রেষ্ঠগণে বেষ্টিত হইয়া কোথাও বা সিন্ধুদেশীয় অশ্বে আরোহণ করিয়া মৃগয়া করিতে করিতে যজ্ঞিয় পশুসকল সংহার করতেছেন।’ (ভাগবত পুরাণ দশম স্কন্ধ ৬৯/৩৫)

১৭। শ্রীরাম করছেন তবে?
উত্তর: নারদ শ্রীরাম কে বলছেন- ‘পবিত্র ও প্রশস্ত পশুদ্বারা দেবীর বলি প্রদান ও জপ এবং জপের দশাংশ হােম করিলে নিশ্চয়ই সীতার সমুদ্ধারে সমর্থ হইবেন।’ (দেবীভাগবত পুরাণ ৩য় স্কন্ধ/৩০/২০)
এছাড়াও রামায়ণে স্পষ্টতই পাওয়া যায়:
এরপর গৃহের বাস্তুযোগ করার জন্য লক্ষণকে বলেন- ‘সুমিত্রানন্দন।! বহুকাল জ্ঞীবিতেচ্ছু ব্যক্তিদিগের বাস্তুযোগ অবশ্য কর্তব্য ; অতএব আইস, আমরা মৃগমাংস আহরণ পূর্বক এই পর্ণশালার উদ্দেশ্যে যাগ করি। শাস্ত্রোবোধিত বিধি অনুষ্ঠান করা অবশ্য কর্তব্য। অতএব শীঘ্র মৃগ হনন করিয়া আনয়ন কর।’
রামের বাক্য শুনে লক্ষ্মণ তখন রামের আদেশ অনুসারে মৃগ হত্যা করে মাংস আনলেন। তখন রাম বললেন- ‘অদ্য ধ্রুবনক্ষত্র সমন্বিত এই মুহূর্তও অতি শুভদায়ক, অতএব তুমি শীঘ্র এই মৃগমাংস রন্ধন কর; এখনই আমরা এই পর্ণশালার উদ্দেশে যাগ করিব।’
পরে লক্ষ্মণ পবিত্র কৃষ্ণমৃগ (হরিণ) বধ করিয়া প্রজ্বলিত অগ্নিমধ্যে নিক্ষেপ করলেন। পরে সেই মাংস উপযুক্ত পক্ক (পোড়ানো) হইলে তিনি রামকে বললেন- ‘দেব ! আমি এই সর্ব কার্যকর সর্বাঙ্গসম্পন্ন হরিণের মাংস ভর্জন করিয়াছি ; আপনি যাগকার্যে কুশল, সুতরাং এক্ষণে দেবগণের উদ্দেশে যাগ করুন।’
এরপর রাম সেইপ্রকারে তা সম্পন্ন করলো।

১৮। ইসকনেরা তবে পশুবলির নিন্দা করে কেনো?
উত্তর: নিন্দা করে জন্যই তাদেরকে সঠিক বলা যায় না। তাদের প্রতিষ্ঠাতা ও তাদের প্রধান গুরুদেব শ্রীল প্রভুপাদ নিজেই পশুগুলির বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবেই সম্মতি দিয়েছেন। এবং তিনি স্বীকারও করেছেন পশু বলি শাস্ত্রীয়।

ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা গুরু শ্রীল প্রভুপাদের ভাষ্যের গীতা যথাযথ–
সাংখ্যযোগের ৩১নং শ্লোকের ব্যাখ্যায় গিয়ে বলেন-

‘রাজনীতির ক্ষেত্রে অহিংসার পথ অবলম্বন করা কূটনীতি হতে পারে, কিন্তু তা কখনই নীতিগত পন্থা নয়। নীতিশাস্ত্রে আছে–
আহবেষু মিথােহন্যোন্যং জিঘাংসন্তো মহীক্ষিতঃ
যুদ্ধমানাঃ পরং শক্ত্যা স্বর্গং যান্ত্যপরাঙ্মুখাঃ।
যজ্ঞেযু পশবাে ব্রহ্মন্ হন্যন্তে সততং দ্বিজৈঃ
সংস্কৃতাঃ কিল মন্ত্রৈশ্চ তেহপি স্বর্গমবাপ্নুবন্।।

“কোন রাজা অথবা ক্ষত্রিয় যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ঈর্ষান্বিত শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামে রত হন, মৃত্যুর পর তিনি স্বর্গলােকে গমন করেন, তেমনই ব্রাহ্মণ যজ্ঞে পশুবলি দিলে স্বর্গ লাভ করেন।” তাই, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে হত্যা করা এবং যজ্ঞে পশু বলি দেওয়াকে হিংসাত্মক কার্য বলে গণ্য করা হয় না, কারণ এই ধর্ম অনুষ্ঠানের ফলে সকলেই লাভবান হয়। যজ্ঞে উৎসর্গীকৃত পশু জৈব বিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নত থেকে উন্নততর জীব দেহ ধারণ না করে, সরাসরিভাবে মনুষ্যশরীর প্রাপ্ত হয় এবং সেই যজ্ঞের ফলে দেবতারা তুষ্ট হয়ে মর্ত্যবাসীদের ধনৈশ্বর্য দান করেন। সুতরাং, ধর্মাচরণ করলে এভাবে সকলেই লাভবান হয়।’

কর্মযোগের ১২নাম্বার শ্লোকের ব্যাখ্যায় গিয়ে বলেন–
‘যারা মাংসাশী তাদের জড়া প্রকৃতির বীভৎস-রূপী কালীর পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কালীর কাছে পশুবলি দেওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে।’

এবার তিনি শেষমেশ পশুবলি সমর্থন করেন গীতার মোক্ষযোগের ৪৭নং শ্লোকের ব্যাখ্যায়–
‘এমন কি ব্রাহ্মণদেরও নানা রকমের যজ্ঞ অনুষ্ঠান করতে হলে কখন কখন পশুহত্যা করতে হয়, কারণ যজ্ঞে পশু বলি দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে৷ তেমনই, ক্ষত্রিয় যদি স্বধর্মে নিরত হয়ে শত্রুকে হত্যা করে, তাতে কোন পাপ হয় না।’

১৯। অগ্নিবীর নামে বৈদিক সংগঠন গুলোও পশুবলির বিরোধীতা করে কেনো?
উত্তর: তাদের মতাদর্শনের বিরুদ্ধে তাই। কিন্তু তাদের গুরু দয়ানন্দের ভাষ্য বেদেই স্বয়ং পশু হিংসা রয়েছে। প্রমাণ গুলো দেখে নিন।
আর্যসমাজ কর্তৃক যর্জুবেদ বাংলা অনুবাদ:
ইমং মা হিংসীর্ দ্বিপাদং পশুং সহস্রাক্ষো মেধায় চীয়মানঃ। ময়ুং পশুং মেধম্ অগ্নে জুষস্ব তেন চিন্বানস্ তন্বো নি ষীদ। ময়ুং তে শুগ্ ঋচ্ছতু যং দ্বিষ্মস্ তং তে শুগ্ ঋচ্ছতু॥ (শুক্লযজুর্বেদ ১৩/৪৭)
অনুবাদ– দুই চরণ বিশিষ্ট মনুষ্য এবং আমাদের উপকারী চতুষ্পাৎ পশুদের আমরা হিংসা করব না। তাদের পালন করব। তাদের উপকার গ্রহণ করব। কিন্তু বন্য শস্যনাশক পশুদের হত্যা করা কর্তব্য।

ইমং মা হিসীরেকশফং পশুং কনিক্রদং বাজিনং বাজিনেষু। গৌরম্ আরণ্যম্ অনু তে দিশামি তেন চিন্বানস্ তন্বো নি ষীদ। গৌরং তে শুগ্ ঋচ্ছতু যং দ্বিষ্মস্ তং তে শুগ্ ঋচ্ছতু॥ (শুক্লযজুর্বেদ ১৩/৪৮)
অনুবাদ– যুদ্ধে ব্যবহারের যোগ্য ঘোড়া প্রভৃতি এক খুর বিশিষ্ট পশুদেরকে, কনিক্রদ অর্থাৎ যারা ব্যথা পেয়েছে এমন পশুদেরকে হিংসা করবে না। যে জংলী শ্বেত বর্ণ পশুদের বিষয়ে আমি (ঈশ্বর) তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি সেই পশুদেরকে হিংসা করবে না। গৌরবর্ণ হিংস্র পশুদেরকে এবং আমরা যাদের প্রতি দ্বেষ করি তাদেরকে হিংসা করবে।

ইমং সাহস্রং শতধারম্ উত্সং ব্যচ্যমানং সরিরস্য মধ্যে। ঘৃতং দুহানাম্ অদিতিং জনায়াগ্নে মা হিসীঃ পরমে ব্যোমন্। গবয়ম্ আরণ্যম্ অনু তে দিশামি তেন চিন্বানস্ তন্বো নি ষীদ। গবয়ং তে শুগ্ ঋচ্ছতু যং দ্বিষ্মস্ তং তে শুগ্ ঋচ্ছতু॥ (শুক্লযজুর্বেদ ১৩/৪৯)
অনুবাদ– কৃষিকাজে প্রযুক্ত ষাঁড় প্রভৃতি এবং দুগ্ধপ্রদাতা গরু প্রভৃতিকে হিংসা করবে না। কিন্তু জংলী নীলগাই প্রমুখ পশুদের হত্যা করার জন্য আমি (ঈশ্বর) তোমাদেরকে উপদেশ করছি। আমরা যাদের প্রতি দ্বেষ করি তাদেরকে হিংসা করবে।

ইমমূর্ণায়ুং বরুণস্য নাভিং ত্বচং পশূনাং দ্বিপদাং চতুষ্পদাম্। ত্বষ্টুঃ প্রজানাং প্রথমং জনিত্রম্ অগ্নে মা হিংসীঃ পরমে ব্যোমন্। উষ্ট্রম্ আরণ্যম্ অনু তে দিশামি তেন চিন্বানস্তন্বো নি ষীদ। উষ্ট্রং তে শুগ্ ঋচ্ছতু যং দ্বিষ্মস্ তং তে শুগ্ ঋচ্ছতু॥ (শুক্লযজুর্বেদ ১৩/৫০)
অনুবাদ– ভেড়া প্রভৃতি যাদের লোম এবং চামড়া তোমাদের কাজে লাগে তাদেরকে হত্যা করবে না। যে উট ভার বহনের কাজে লাগে সেগুলিকে হত্যা করবে না। কিন্তু জংলী উটকে হিংসা করবে এবং যাদের প্রতি আমরা দ্বেষ করি তাদেরকে হিংসা করবে।

অজো হ্যগ্নেরজনিষ্ট শোকাৎ সোঽঅপশ্যজ্ জনিতারম্ অগ্রে। তেন দেবা দেবতাম্ অগ্রম্ আয়ংস্তেন রোহম্ আয়ন্নুপ মেধ্যাসঃ।
শরভম্ আরণ্যম্ অনু তে দিশামি তেন চিন্বানস্তন্বো নি ষীদ। শরভং তে শুগ্ ঋচ্ছতু যং দ্বিষ্মস্ তং তে শুগ্ ঋচ্ছতু॥ (শুক্লযজুর্বেদ ১৩/৫১)
অনুবাদ– ছাগল অগ্নি থেকে উৎপন্ন এবং বর্ধমান। তার দ্বারা বিদ্বানরা দিব্যগুণ প্রাপ্ত করেন এবং বৃদ্ধি করেন। তাদেরকে হিংসা করবে না। কিন্তু, জংলী শজারুদেরকে হত্যা করার জন্য আমি (ঈশ্বর) তোমাদেরকে উপদেশ করছি। তারা তোমাদের দ্বারা শোক প্রাপ্ত হোক। যাদের প্রতি আমরা দ্বেষ করি তারা শোক থেকে অধিক শোক প্রাপ্ত করুক।

এরপরেও আর মনে হয় না এর পরেও অধিক আলোচনার প্রয়োজন। এরকম আরো অসংখ্য প্রমাণ শাস্ত্র হতে দেওয়া যাবে। যারা জেগে থেকে ঘুমায় তাদের কখনো জাগানো সম্ভব না। যারা পরনিন্দাতে ব্যস্ত তাদের নিজের অবস্থান দেখার সময় থাকে না। বর্তমান সনাতন সমাজের মূল বিষয়ে এটাই। আসুন আমরা সবাই সামনে ভগবতীর পূজাতে শাস্ত্রীয় অনুযায়ী পশু বলি দিয়ে মাকে তুষ্ট করি। সঠিক শাস্ত্রকে আমরা বেছে নেই এবং কুসংস্কারকে দূরে রাখি। ভগবতী বলেছেন, ‘বলি প্রদান, পূজা, অগ্নিকাৰ্য্য ও মহােৎসব এই সকল ঘটনায় আমার এই চরিত্র সম্পূর্ণরূপে পাঠ ও শ্রবণ করিবে। জানিয়াই হউক বা না জানিয়াই হউক, যে ব্যক্তি আমার এই চরিতপাঠসহকারে ভক্তিভরে বলি, পূজা, বহ্নিহোম ও মহােৎসবাদি করিবে, আমি প্রীতিসহকারে তৎসমস্ত প্রতিগ্ৰহ করিব।’ (মার্কণ্ড পুরাণ ৯২/৯-১০) ‘বিধিজ্ঞ, অবিধিজ্ঞ যেই হউক, আমার এই মাহাত্ম্য পাঠপূর্বক বলি, পূজা এবং হোমাদি করিলে তাহা আমি অতি প্রীতি সহকারে গ্রহণ করিয়া থাকি।’ (চণ্ডী মাহাত্ম্য দ্রষ্টব্য), ‘বলিদান, পূজা, যজ্ঞাদি এবং পুত্রজন্মাদি মহোৎসবে আমার এই সমস্ত মাহাত্ম্য পাঠ এবং শ্রবণ করিবে।’ (চণ্ডী মাহাত্ম্য দ্রষ্টব্য)।

জয় মা বলিপ্রিয়ে!
অনুপ কুমার চক্রবর্ত্তী
১৭/১০/২০২৫

কালী পুজোর সময় জন্মানো পশুপ্রেমীদের জন্যে যারা কুরবানীতে ভোগে যায়।।।

Address

Katwa

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমরা ভারতীয় posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share