25/06/2026
UNIT2NSOU 1ST SEMESTER BA SEC EDUCATION
১. প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান বলতে কি বোঝ? (পাতা ৭৭)
প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান বা 'Techno-pedagogy' হলো শিক্ষাদানের শিল্প ও বিজ্ঞানের (Pedagogy) সাথে প্রযুক্তির (Techno) এক সার্থক সমন্বয়। এটি এমন এক পদ্ধতি যা শিখন পরিবেশকে উন্নত করার লক্ষ্যে শিক্ষণ কৌশল বা 'পেডাগজি'-র সাথে আধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস বা সরঞ্জামগুলিকে যুক্ত করে। এক কথায়, শিক্ষার্থীদের কাছে শিখন প্রক্রিয়াকে আরও সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য প্রযুক্তির সুনিপুণ ব্যবহারই হলো প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান।
২. শিক্ষাক্ষেত্রের যেসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান সাহায্য করে থাকে সেগুলি আলোচনা করো। (পাতা ৭৮)
প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান শিক্ষার বহুবিধ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন—
• ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ভাষা শেখা বা উচ্চারণের ভুল সংশোধনে সাহায্য করে।
• শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়ার বিকাশ: শিক্ষাদান পদ্ধতিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলে।
• স্টাডি মেটেরিয়াল: উন্নত মানের ডিজিটাল নোটস বা ই-বুক তৈরিতে সাহায্য করে।
• বহুমাত্রিক শিক্ষণ: অডিও, ভিডিও এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়।
• দূরশিক্ষণ: ই-লার্নিং-এর মাধ্যমে দূরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেয়।
• মূল্যায়ন: পরীক্ষা গ্রহণ এবং দ্রুত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
৩. শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং ব্যবহার সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা দাও। (পাতা ৮১-৮২)
ইউনেস্কো (UNESCO) এর মতে শিক্ষায় ICT ব্যবহারের চারটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি বা 'Approach' বর্তমান:
• উদীয়মান দৃষ্টিভঙ্গি (Emerging Approach): এটি প্রাথমিক পর্যায়, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম ক্রয় করে এবং শিক্ষকরা তা নিয়ে চর্চা শুরু করেন।
• প্রয়োগমূলক দৃষ্টিভঙ্গি (Applying Approach): এখানে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট কিছু কাজে (যেমন—লেসন প্ল্যান বা ম্যানেজমেন্ট) প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু করেন।
• প্রবিষ্ঠকারী দৃষ্টিভঙ্গি (Infusing Approach): এই পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের প্রায় প্রতিটি বিষয়ে এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে প্রযুক্তির সক্রিয় ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
• রূপান্তরকারী দৃষ্টিভঙ্গি (Transforming Approach): এটি উচ্চতম স্তর, যেখানে প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পঠন-পাঠন পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দান করে এবং সৃজনশীল শিখন নিশ্চিত করে।
৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উদীয়মান দৃষ্টিভঙ্গির বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ। (পাতা ৮৩)
উদীয়মান দৃষ্টিভঙ্গির (Emerging Approach) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
• প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটে।
• শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলি কেবল চিনতে এবং তার প্রাথমিক কার্যকারিতা বুঝতে চেষ্টা করেন।
• ভবিষ্যৎ শিক্ষাদানে প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়।
• এটি মূলত প্রযুক্তির অক্ষরজ্ঞান বা সাধারণ দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
৫. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যায়গুলিকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (পাতা ৮৪-৮৫)
মজুমদার (২০১৩)-এর মতে, ICT ব্যবহারের ৪টি প্রধান পর্যায় রয়েছে:
• পর্যায় ১ (ICT সম্পর্কে সচেতনতা): প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সাধারণ সরঞ্জাম এবং তাদের কাজের সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হন।
• পর্যায় ২ (ICT ব্যবহার করতে শেখা): এই পর্যায়ে প্রযুক্তির বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতিগুলি আয়ত্ত করা হয়।
• পর্যায় ৩ (কখন ও কেন ICT ব্যবহার করতে হবে তা বোঝা): এই স্তরে পঠন-পাঠনের প্রয়োজনে সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তিটি নির্বাচন করার দক্ষতা জন্মায়।
• পর্যায় ৪ (ICT-র উচ্চ-পর্যায়ে ব্যবহার): প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার এক সম্পূর্ণ নতুন এবং উন্নত পরিবেশ তৈরি করা হয়।
৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষাবৈজ্ঞানিকগত ব্যবহার সম্পর্কে যা জান লেখ। (পাতা ৮৬)
শিক্ষার পেডাগজি বা শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রযুক্তির ব্যবহার চারটি স্তরে বিভক্ত:
• স্তর ১ (কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি): দৈনন্দিন কাজে যেমন—টাইপিং, ইমেল আদান-প্রদান ইত্যাদিতে প্রযুক্তির ব্যবহার।
• স্তর ২ (শিক্ষণের মানোন্নয়ন): প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠদান পদ্ধতিকে আরও সমৃদ্ধ করা।
• স্তর ৩ (শিখনকে ত্বরান্বিত করা): নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি বাড়ানো।
• স্তর ৪ (উদ্ভাবনী শিক্ষার পরিবেশ): প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে নতুন কোনো উদ্ভাবন বা সৃজনশীল পদ্ধতির প্রয়োগ।
৭. শিক্ষকদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত সামর্থ্যগুলি কি কি? (পাতা ৮৭)
শিক্ষকদের ICT সামর্থ্যকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
• শিক্ষণবিজ্ঞানমূলক সামর্থ্য: পাঠ পরিকল্পনা করা, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিকতা বজায় রাখা এবং উন্নত শিক্ষণ কৌশল নির্বাচনে সক্ষম হওয়া।
• প্রযুক্তিগত সামর্থ্য: বিষয়ভিত্তিক আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা, ইন্টারনেট থেকে কন্টেন্ট তৈরি করা এবং মূল্যায়নে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পারা।
৮. প্রযুক্তিগত সমন্বয় সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। (পাতা ৮৭-৮৮)
প্রযুক্তিগত সমন্বয় বা 'Technological Integration' বলতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তির সার্থক মিশেলকে বোঝায়। এটি কেবল কম্পিউটার ব্যবহার করা নয়, বরং কম্পিউটারের সাহায্যে শিক্ষার নানা সমস্যা সমাধান করা এবং শিখন প্রক্রিয়াকে আরও অর্থবহ করে তোলা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত খাতা-কলমের বদলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পায়। উইকিপিডিয়ার মতে, শিক্ষার পরিবেশে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তিকরণই হলো প্রযুক্তিগত সমন্বয়।
৯. প্রযুক্তিগত শিক্ষাবিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গত জ্ঞান সম্পর্কিত মডেল (TPACK) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। (পাতা ৯০-৯২)
TPACK (Technological Pedagogical Content Knowledge) মডেলটি পুণ্য মিশ্র এবং ম্যাথিউ জে. কোহেলার তৈরি করেছেন। এটি তিনটি প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত:
• Content Knowledge (CK): শিক্ষকের পাঠ্য বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।
• Pedagogical Knowledge (PK): শিক্ষাদানের পদ্ধতি বা কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান।
• Technological Knowledge (TK): আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সম্পর্কে জ্ঞান।
এই তিনটির সংমিশ্রণে আরও কিছু উপ-উপাদান তৈরি হয়:
• PCK (Pedagogical Content Knowledge): নির্দিষ্ট বিষয়কে কোনো পদ্ধতিতে পড়ালে ভালো হবে তার জ্ঞান।
• TCK (Technological Content Knowledge): প্রযুক্তির সাহায্যে বিষয়বস্তুকে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়।
• TPK (Technological Pedagogical Knowledge): প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিক্ষণ পদ্ধতিতে কী পরিবর্তন আসবে।
TPACK: এই সামগ্রিক মডেলে বলা হয়েছে যে, একজন সফল শিক্ষকের এই তিনটি ক্ষেত্রেই (বিষয়, পদ্ধতি ও প্রযুক্তি) দক্ষ হওয়া প্রয়োজন, তবেই তিনি শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সার্থক প্রয়োগ করতে পারবেন।
• ১. প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান (Techno-pedagogy) বলতে কি বোঝ?
উত্তর: প্রযুক্তির (Techno) সাথে শিক্ষণ বিজ্ঞানের (Pedagogy) সার্থক সমন্বয়কে প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান বলে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিখন পরিবেশকে উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও কৌশল ব্যবহার করা।
• ২. প্রযুক্তি সহায়ক শিক্ষণবিজ্ঞান কোন কোন ক্ষেত্রে সাহায্য করে?
উত্তর: এটি মূলত ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত স্টাডি মেটেরিয়াল তৈরি, অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে পাঠদান, দূরশিক্ষণ পরিচালনা এবং দ্রুত ও নির্ভুল মূল্যায়নে সাহায্য করে।
• ৩. শিক্ষায় ICT অন্তর্ভুক্তির ৪টি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি (Approach) কী কী?
উত্তর: ইউনেস্কোর মতে ৪টি দৃষ্টিভঙ্গি হলো—
১. উদীয়মান (Emerging), ২. প্রয়োগমূলক (Applying), ৩. প্রবিষ্ঠকারী (Infusing) এবং ৪. রূপান্তরকারী (Transforming) দৃষ্টিভঙ্গি।
• ৪. উদীয়মান দৃষ্টিভঙ্গির (Emerging Approach) প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এটি প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রাথমিক পর্যায়। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয় এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার শেখার ওপর জোর দেন।
• ৫. ICT ব্যবহারের ৪টি পর্যায় কী কী?
উত্তর: ১. ICT সম্পর্কে সচেতন হওয়া, ২. ICT ব্যবহার করতে শেখা, ৩. কখন ও কেন ICT ব্যবহার করতে হবে তা বুঝতে পারা এবং ৪. ICT-র উচ্চ-পর্যায়ে বা বিশেষ কাজে ব্যবহার করা।
• ৬. ICT-র শিক্ষাবৈজ্ঞানিকগত ব্যবহারের ৪টি স্তর কী কী?
উত্তর: ১. কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি স্তর, ২. শিক্ষণের মানোন্নয়ন স্তর, ৩. শিখনকে ত্বরান্বিত করার স্তর এবং ৪. উদ্ভাবনী শিক্ষার পরিবেশ তৈরির স্তর।
• ৭. শিক্ষকের ICT সামর্থ্য প্রধানত কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর: প্রধানত দুই প্রকার—
ক) শিক্ষণবিজ্ঞানমূলক সামর্থ্য (Pedagogical Competency) এবং
খ) প্রযুক্তিগত সামর্থ্য (Technological Competency)।
• ৮. প্রযুক্তিগত সমন্বয় (Technological Integration) কাকে বলে?
উত্তর: শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলিকে অর্থপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং প্রযুক্তির সাহায্যে শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করাকেই প্রযুক্তিগত সমন্বয় বলে।
• ৯. SAMR মডেলের ৪টি পর্যায় কী কী?
উত্তর: ১. অনুক্লন (Substitution), ২. প্রসারণ (Augmentation), ৩. পরিমার্জন (Modification) এবং ৪. পুনঃসংজ্ঞায়িতকরণ (Redefinition)।
• ১০. TPACK মডেলের পুরো নাম ও মূল ৩টি উপাদান কী কী?
উত্তর: পুরো নাম— Technological Pedagogical Content Knowledge।
এর ৩টি মূল উপাদান হলো— ক) বিষয়বস্তু জ্ঞান (CK), খ) শিক্ষণবিজ্ঞান জ্ঞান (PK) এবং গ) প্রযুক্তিগত জ্ঞান (TK)।
• ১১. কন্টেন্ট নলেজ (Content Knowledge) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে শিক্ষকের যে অর্জিত জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য থাকে, তাকেই বিষয়গত জ্ঞান বা কন্টেন্ট নলেজ বলা হয়।
• ১২. পেডাগজিক্যাল নলেজ (Pedagogical Knowledge) কী?
উত্তর: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কীভাবে পড়াতে হবে, শিখন কৌশল কেমন হবে এবং শ্রেণিকক্ষ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে— সেই সম্পর্কিত জ্ঞানকেই পেডাগজিক্যাল নলেজ বলে।