08/04/2026
ভাষা নিয়ে বিচার বিবেচনা করে উচ্চ আর নিম্ন স্থানের বিভাগ তৈরি করা দেখলে হাঁসি পায়।
এই যদি আজ ইংরেজি ভাষা নিয়ে প্রথম বিশ্ব নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না করতে পেরে, বাংলা ভাষা সারা বিশ্বে সর্বরকম কার্যকলাপের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হতো, তাহলে কার বাংলা কতো ভালো, সেই নিয়ে রেষারেষি দেখা দিত..কোন বাংলা মিডিয়াম স্কুল সবথেকে বেশি জনপ্রিয় সেটা নির্বাচনের উপর নির্ভর করতো একটি বাচ্চার স্হান এই সমাজে।
ভাষা কেনো এলো পৃথিবীতে, মানুষই এর পেছনে কি ভূমিকা পালন করেছে, তা এই যুগে জানা যতটা সহজ, তার থেকে অনেক বেশি কঠিন সেটাকে মেনে নেওয়া। শুধুমাত্র একে অপরকে বুঝতে চাওয়ার জন্য যার প্রকাশ, তা আজ একে অপরের জীবনকে আরো জটিল করে দিচ্ছে। এর থেকে পাখিদের সুরের ভাষা বোধহয় সহজ হতো।
আমার পুরোনো কর্মক্ষেত্রে যে অটো চালক কাকা সবসময় আমাকে দিয়ে আসা, নিয়ে আসা করতো, সে শুধু গুজরাটি ভাষা জানতো, আমার হিন্দিতে কথা সে বিশেষ বুঝতে পারতো না। কিন্তু যদি আমি জানতে পেরে তার অটোতে আর না যাই, তাই সে এমন ভাব করতো যেন আমার সব কথা বুঝতে পারছে। যার অতি কষ্টে দিন কাটে, তার তো উপার্জন হারানোর ভয় থাকবেই। একদিন আমি সেই বুঝতে পারলাম, কিন্তু উনাকে বুঝতে দিলাম না।
এইভাবেই তিনি একটা একা লড়ে যাওয়া মেয়েকে প্রতিদিন যত্ন সহকারে লড়াইয়ের ময়দান অবদি নিয়ে যেতেন, আবার ফেরতও নিয়ে আসতেন সেই সম্মানের সাথে।
আর কোনোদিন সেই প্রস্তরপ্রান্তে গিয়ে হয়তো দাঁড়াবো না, অথচ চার বছর ধরে তিনি একটু একটু করে শিখে আজ আমায় হিন্দিতে message করেন, ভালো লাগে, এতে তার ব্যাবসায়িক উন্নতি হবে আশা করি। তবে মজার ব্যাপার হলো আজ আমি তাকে গুজরাটিতে reply দিচ্ছি।
আমরা আমাদের কঠিন সময়ে, ভাষাকে নিয়ে অসুবিধা তৈরি না করে, একে অপরের সমাধান হয়েছিলাম। কারণ আমরা জানতাম আমাদের লড়াই একসাথেই, বিরুদ্ধে নয়... ভাষা সেখানে প্রয়োজনের সময় একটি প্রয়োজনীয় সেতু হতে পারে, একমাত্র পথ নয়।
নিচে নিজেদের ভাষায় আলোচনারত দুই বিদূষী বিড়াল।