24/09/2025
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কলকাতা শহর জলের তলায়, দিনভর জল যন্ত্রনায় নাকাল নগরবাসী। শুধু তাই নয় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একাধিক সহ নাগরিকের মৃত্যুর খবর আসছে। বিগত কোন বছরে আজকের মত পরিস্থিতি হয়েছিল তা মনে করে উঠতে পারছেন না বেশিরভাগই। কেউ ২০০০ বা কেউ ১৯৭৮ এর বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কলকাতা করপোরেশন হুগলী নদীতে থাকা অতিরিক্ত জল ও জোয়ারের জলের কারণে শহরের জমা জল নামছে না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ব্রিটিশদের দ্বারা স্থাপিত কলকাতা শহরের ভৌগোলিক অবস্থান হুগলী নদীর পূর্ব পাড়ে স্বাভাবিক বাঁধের ওপর এবং ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের আয়তন বেড়েছে কিন্ত এই ভৌগোলিক অবস্থানের তো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কলকাতার সমস্ত নালার জল গিয়ে পড়ত পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে, এই জলাভূমিটি কলকাতার নিকাশিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।২০০২ সালের ১৯ অগস্ট রামসার কনভেনশন অনুসারে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি “আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি” হিসেবে ঘোষিত হয় এবং এটিকে কলকাতার কিডনি নামে অভিহিত করা হয়, যা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শহর থেকে বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা এই জলাভূমি। এই জলাভূমিটি শহরের বর্জ্য গ্রহণ করে প্রাকৃতিক উপায়ে সেগুলোর পুনর্ব্যবহার করে এবং শহরের প্রাকৃতিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু পূর্ব কলকাতার জলাভূমির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক, কারণ বেআইনি দখল, বেআইনি নির্মাণ, কারখানা ও বসতি স্থাপনের কারণে এটি ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে।
কলকাতা হাইকোর্ট এই সকল বেআইনি দখল ও নির্মাণ সরাতে নির্দেশ দিলেও, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ধীর গতির, যার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে। আর ফলস্বরূপ ভুগছে পুরো শহর। কলকাতা শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিরাট ভূমিকা রয়েছে এই জলাভূমির।কলকাতার জমির ঢাল গঙ্গানদী থেকে উল্টোদিকে এই পূর্বদিকে। তাই শহরের পয়:প্রণালীর যত নালা আছে তার পূর্ব কলকাতার জলাভূমির দিকেই বয়ে আসে। ফলে বর্ষায় প্রবল বর্ষণের সময় অতিরিক্ত জল ধারণ করে শহরকে জলবন্দী হওয়ার হাত থেকে বাঁচায় এই জলাভূমি।
তাই হুগলী নদী বা জোয়ারের জল নয় পূর্ব কলকাতার জলাভূমির বর্তমান পরিস্থিতি নিমজ্জিত করেছে আমাদের প্রিয় শহরকে।