30/04/2025
অক্ষয় তৃতীয়া: চিরজাগরী পুণ্যের প্রদীপ
আজ তিথি অক্ষয় তৃতীয়া, বৈশাখের নির্মল দিনে,
সূর্য–চাঁদ যুগপৎ ওঠে, যেন আলোয় ভাসে চিনে।
এত পবিত্র, এত শুভ, তিথির মাঝে শ্রেষ্ঠ—
জন্মে মহাপুণ্য, দানের মহিমা চিরবেশেষ।
এই দিনে কৃষ্ণ দিলেন সখা সুদামাকে অন্ন,
ভিক্ষার থালায় উঠল সুধা—বৈকুণ্ঠের প্রসন্ন।
অশ্রু মুছে বন্ধুর, গরিবী হল বিস্মৃত,
ভক্তির দানে পূর্ণ হল হৃদয়ের দীপ্ত পিপাসিত।
এই তিথিতেই ব্যাসদেব শুরু করলেন মহাভারত লেখা,
জ্ঞান আর ধর্মের সমন্বয়ে উঠল ঐশ্বর্য রেখা।
এই দিনেই পরশুরাম—ষষ্ঠ অবতার বিষ্ণুর—
আবির্ভূত হয়েছেন ধরণীতে, ধরলেন ধর্মদুর।
ত্রেতাযুগের অক্ষয় মুহূর্তে রামচন্দ্র সীতার সাথে,
বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, প্রেমের সত্য পথে।
পাণ্ডবেরা অজ্ঞাতবাসে এই দিনেই পেলেন অক্ষয়পাত্র,
যার থালা যতদিন দিন চলে, অন্ন না হয় মাত্র।
পশ্চিমবঙ্গে দীঘার জগন্নাথ মন্দির
দ্বার উদঘাটন হল অক্ষয় তৃতীয়ায়।।
অক্ষয় মানে যা কখনো ক্ষয় হয় না কভু,
এই দিন তাই দানের মহাতিথি, নয় নিছক ধর্মরথু।
বলা হয়—যা দান করো আজ, সে ফিরে আসে শতগুণে,
আর্থিক নয় শুধু—ভক্তিতে, সদগুণে, স্নেহপূর্ণে।
বিবাহ, ব্যবসা, শিক্ষা, গৃহপ্রবেশ—সব আজ শুভক্ষণ,
শঙ্খ বাজে, আলপনা পরে গৃহে–মন্দিরে লক্ষণ।
শুভ সূচনার সিঁড়ি এ তিথি, ভবিষ্যতের আশ্রয়,
এ দিনে কীর্তন করে হৃদয় পায় নিরাশ্রয়।
এই দিনেই হিন্দুরা বরণ করেন গণেশ-লক্ষ্মীকে,
স্বর্ণ ক্রয়ে হয় সমৃদ্ধি, ধন রাখে আশীর্বাদী ঢেকে।
জৈন মতে, তীর্থঙ্কর ঋষভদেবের অন্ন গ্রহণের তিথি,
এই দিনেই ত্যাগ ভাঙে তিনি, পান করেন ইক্ষুরস-মতি।✍️ মিত্রা চক্রবর্তী
# ゚viralシfypシ゚viralシalシ