24/06/2026
বাবা দিবসের সকালে বৃদ্ধাশ্রমের অফিস কক্ষে বসে ছিলেন আশি ছুঁইছুঁই আব্দুল করিম। বাইরে সবাই নিজেদের সন্তানদের সঙ্গে ছবি তুলছে, কেউ ফুল পাচ্ছে, কেউ উপহার। কিন্তু করিম সাহেবের সামনে ছিল শুধু একটি পুরোনো কাঠের বাক্স আর একটি হলদেটে ডায়েরি। বৃদ্ধাশ্রমের কর্মচারীরা জানত, প্রতি বছর এই দিনটিতে তিনি অদ্ভুত আচরণ করেন। সারাদিন কারও সঙ্গে কথা বলেন না, শুধু ডায়েরির একটি নির্দিষ্ট পাতায় তাকিয়ে থাকেন। হঠাৎ সেদিন তিনি কাঁপা গলায় বললেন, "আমার ছেলে-মেয়ে যেন আমার লাশও না ছোঁয়।" কথাটা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। কারণ সাধারণত বাবা-মা মৃত্যুর পরও সন্তানদের আশীর্বাদ করেন, কিন্তু তিনি কেন এমন ভয়ংকর কথা বলছেন? তার চোখে তখন শুধু রাগ নয়, ছিল গভীর আতঙ্কও। মনে হচ্ছিল তিনি এমন কোনো সত্য জানেন, যা পৃথিবীর আর কেউ জানে না।
সেদিন রাতেই বৃদ্ধাশ্রমের নতুন কর্মী মেহজাবিন কৌতূহল সামলাতে না পেরে করিম সাহেবের ঘরে ঢুকে পড়ল। ঘরে ঢুকেই সে দেখতে পেল সেই পুরোনো বাক্সটা খোলা। ভেতরে কিছু বিবর্ণ ছবি, একটি শিশুর রুপার চুড়ি আর একটি চিঠি। চিঠির ওপর লাল কালি দিয়ে লেখা—"সত্য প্রকাশ পেলে সবাই ধ্বংস হবে।" মেহজাবিনের বুকের ভেতর কেমন যেন কেঁপে উঠল। সে চিঠিটা হাতে নেওয়ার আগেই করিম সাহেব হঠাৎ পিছন থেকে বললেন, "ওটা পড়ো না মা, ওটা পড়লে তুমি আর আগের মতো থাকতে পারবে না।" বৃদ্ধের চোখে তখন এমন এক ভয় ছিল, যেন বহু বছর ধরে কোনো অন্ধকার ছায়া তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘরের বাতি নিভে গেল, আর বাক্সের ভেতর থেকে একটি পুরোনো ছবির কোণ মেঝেতে পড়ে গেল। ছবিটা তুলে মেহজাবিন যা দেখল, তাতে তার রক্ত হিম হয়ে গেল—ছবিতে করিম সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটির মুখ হুবহু তার নিজের মুখের মতো!
পরদিন সকাল থেকে মেহজাবিনের মাথায় শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল—ছবির সেই মেয়েটি কে? আর কেন তার চেহারা নিজের সঙ্গে এতটা মিলে যায়? সে গোপনে করিম সাহেবের ডায়েরি পড়তে শুরু করল। ডায়েরির পাতাগুলোতে লেখা ছিল ত্রিশ বছর আগের এক ভয়ংকর কাহিনি। করিম সাহেবের একটি মেয়ে ছিল, নাম সায়রা। এক ঝড়ের রাতে হঠাৎ করেই মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশ, আত্মীয়স্বজন, সবাই খুঁজেছিল; কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি। সেই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং কয়েক বছরের মধ্যে মারা যান। কিন্তু ডায়েরির শেষ অংশে এমন একটি কথা লেখা ছিল যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছিল—"সায়রা হারায়নি, তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।"
চলবে....
গল্পটি কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন, পরের পর্বটি পড়তে চাইলে কমেন্টে লিখুন next, আপনারা বেশি করে কমেন্ট করলে পরের পর্বটি আজকেই পোস্ট করা হবে।