19/02/2016
Today in Aajkaal....
আন্তর্জাতিক সীমারেখা নামক দরজার খিলটা খোলার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু টান দিয়ে খোলা গেছে জানলাটা। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এদেশে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের ছবি ‘ছুঁয়ে দিল মন’ এবং বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে এ দেশের ছবি ‘বেলাশেষে’। সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
দুয়ারে খিল টান মেরে তাই খুলে দিলাম জানলা, ওপারে যেই বাংলাদেশ এপারে সেই বাংলা। একই ভাষাভাষী, একই সংস্কৃতি, একই খাদ্যাভ্যাসের দুই জাতির মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমারেখা নামক খিলটা পড়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। তবে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চলছিল জানলাটা খুলে রাখার। যেখান দিয়ে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান বা বিশেষ করে বাংলা সিনেমার আদানপ্রদান চলতে পারে দুই বাংলার মধ্যে। বছর কয়েক আগে থেকেই সেই চেষ্টাটা শুরু করেছিলেন প্রসেনজিৎ, গৌতম ঘোষ, জিৎ, দেব-রা। কিন্তু নানা বাধায় বারবারই আটকে যাচ্ছিল সেই কাজ। অবশেষে সেই বাধাগুলো কাটিয়ে বাংলাদেশের ছবি ভারতে এবং ভারতের ছবি বাংলাদেশে মুক্তির একটা সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া গেল। এবার সেই সূত্র ধরেই আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দুই দেশে মুক্তি পাচ্ছে দুই দেশের দুটি ছবি। এই দেশে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সুপারহিট ছবি শিহাব শাহিনের পরিচালনায় ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ এবং বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় পরিচালিত ছবি ‘বেলাশেষে’।
এটা হল সূচনা। এরপর থেকে এপার বাংলার ছবির ওপারে মুক্তি পেতে বা ওপার বাংলার ছবির এপারে মুক্তি পেতে আর কোনও বাধা রইল না। এই প্রথম দুই ভিন্ন দেশে স্বাধীনভাবে তৈরি দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এর আগে দুই বাংলায় মুক্তি পেত শুধুমাত্র দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ছবি। যেমন এর আগে দুই বাংলাতেই মুক্তি পেয়েছে ‘অন্যায় অবিচার’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’ বা ‘মনের মানুষ’-এর মতো ছবি। আগামী বাংলা নববর্ষে যেমন মুক্তি পাবে দুই বাংলার যৌথ– প্রযোজনায় তৈরি গৌতম ঘোষ পরিচালিত ছবি ‘শঙ্খচিল’। এর আগে দুই বাংলার মধ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রীর আসা-যাওয়াতেও তেমন বাধা ছিল না। ওয়ার্কিং ভিসা সহজেই মিলত। সেইভাবেই ওপার বাংলায় এর আগে কাজ করে এসেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলিরা। তেমনই ওপার বাংলা থেকে এপারে এসে কাজ করে গেছেন ফিরদৌস, জয়া এহসান, কুসুম শিকদার বা নুসরত ফারিয়ারা। তবে, আগেই বলা হয়েছে, এপারে তৈরি ছবির ওপারে বা ওপারের তৈরি ছবির এপারে মুক্তি পাওয়ার এমন ঘটনা এই প্রথম।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রয়েছে দুই সংস্থা—‘জিরোনা এন্টারটেনমেন্ট’ এবং ‘পিয়ালী ফিল্মস’। জিরোনার পক্ষে শুভজিৎ রায় জানালেন, ‘অনেকদিন ধরেই এই সেতুটা বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বাংলা ছবির স্বার্থেই এই সেতুটা বাঁধাও প্রয়োজন। কিন্তু নানা বাধায় শেষ পর্যন্ত কাজটা আটকে যাচ্ছিল। আসলে দুই দেশের যৌথ প্রযোজনা হলে আইনগত জটিলতা নেই। সেক্ষেত্রে দুই দেশের অ্যাপেক্স বডিতে ছবির রেজিস্ট্রেশন করে ছবি মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু, অন্য দেশে স্বাধীনভাবে তৈরি ছবি কীভাবে আরেক দেশে মুক্তি পেতে পারে তার কোনও সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।’ বললেন, ‘আমি নিজে যেহেতু ফিনান্স নিয়ে কাজ করি, তাই এই বিষয়ে রিসার্চ করতে শুরু করেছিলাম। পড়াশোনা করছিলাম দুই দেশের মধ্যে পণ্য আদানপ্রদানের নিয়মকানুন নিয়েও। আর সিনেমাও তো একটা পণ্যই। অবশেষে একটা অপশন খুঁজে পাই। সেটা হল, সার্ক কান্ট্রিগুলোর মধ্যে পণ্য আদানপ্রদান করা যায়। ভারত ও বাংলাদেশ তো সার্ক অন্তর্ভুক্ত। এই অপশন নিয়েই যোগাযোগ করি বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। আর তার ফলেই এতদিনের জট খুলে যায়। আসলে সমস্যাটা হচ্ছিল এতদিন কথা চলছিল বাংলাদেশ আর কলকাতার হয়ে। ভারত সেখানে ছিল না।’
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এশিয়াটিক ধ্বনিচিত্র প্রযোজিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ মুক্তি পাচ্ছে এদেশের নদীয়া, চব্বিশ পরগনা, হুগলি ও আগরতলার বারোটি হলে। লক্ষণীয় এই প্রত্যেকটা জায়গাই কিন্তু সীমান্তবর্তী অঞ্চল। আসলে এই সব অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের চলতি ভাষা সম্পর্কে পরিচিত। তাই এই ব্যবস্থা। আর উইন্ডোজ প্রযোজিত ‘বেলাশেষে’ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের দশটি হলে। এই ব্যবস্থায় খুবই খুশি প্রসেনজিৎ। বললেন, ‘ অনেকদিন ধরেই এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অতীতে আমরাও অনেকবার এই সেতু বাঁধার চেষ্টা করে গেছি। কিন্তু সাফল্য আসছিল না। এটা একটা দুর্দান্ত পদক্ষেপ। আমি অত্যন্ত খুশি। দুই বাংলার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই এই ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’ জানা গেছে, এরপর চেষ্টা চলছে ‘নাটকের মতো’, ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’, ‘বাস্তুশাপ’ ইত্যাদি ছবিগুলোর বাংলাদেশে বাণিজ্যিক মুক্তি ঘটানোর।