21/07/2026
শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের ভবিষ্যতের কথা বলে, তখন কি তারা অন্যায় করে? নিজের অধিকার, নিজের দাবি, নিজের উদ্বেগ সরকারের সামনে তুলে ধরা কি গণতন্ত্রে অপরাধ? যদি অপরাধ হয়, তাহলে তাদের ওপর লাঠিচার্জের ব্যাখ্যা হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি অপরাধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—কেন এই দমন?
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মূল সুর ছিল ভবিষ্যৎ, শিক্ষা এবং জবাবদিহির দাবি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে নেমেছিলেন বহু ছাত্র-যুব। কিন্তু সেই প্রতিবাদের জবাবে যদি লাঠি ওঠে, তাহলে তা শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপর আঘাত নয়, তা গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরও আঘাত।
মার খেল কারা? এই দেশেরই ছেলে-মেয়েরা। আর মারল কারা? তারাও এই দেশেরই মানুষ। তাই এই ঘটনা কোনো পক্ষের জয় বা পরাজয়ের নয়; এটি এমন এক বাস্তবতা, যা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে—মত প্রকাশের অধিকার কি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে?
গণতন্ত্রে প্রতিবাদের জায়গা থাকে, প্রশ্ন করার জায়গা থাকে, সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার জায়গা থাকে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে না পারে, তাহলে আগামী দিনের ভারত কেমন হবে?
আজ প্রয়োজন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং এই প্রশ্নগুলোর সৎ উত্তর। কারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে লাঠি দিয়ে থামানো যায়, কিন্তু তাদের প্রশ্নকে নয়। আর সেই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদের সুর থামবে না।