15/05/2026
‼️ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শুক্রবার বেকার যুবকদের একাংশকে “আরশোলা”-র সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের জন্ম দিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, চাকরি না পেয়ে অনেক তরুণ পরে “মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট” হয়ে ওঠেন এবং “সিস্টেমের বিরুদ্ধে আক্রমণ” শুরু করেন।
এই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-র বেঞ্চ। এক আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদমর্যাদা পাওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন বলে আদালত তাঁকে ভর্ৎসনা করে। বেঞ্চের মন্তব্য, সমাজে এমনিতেই “পরজীবী” রয়েছে যারা ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে, আবেদনকারীও কি তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে চান?
আদালত আবেদনকারীর আইনজীবীকে বলে, “পৃথিবীর সবাই হয়তো সিনিয়র অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য হতে পারেন, কিন্তু অন্তত আপনি নন।”
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, দিল্লি হাইকোর্ট যদি ওই আইনজীবীকে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা দেয়, তাহলে তাঁর পেশাগত আচরণ বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিতে পারে।
শুনানির সময় আবেদনকারীর ফেসবুক পোস্টের ভাষা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “সমাজে এমন অনেক পরজীবী আছে যারা সিস্টেমকে আক্রমণ করে, আপনিও কি তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?”
এরপরই তিনি বলেন, “কিছু তরুণ আরশোলার মতো। তারা কোনও চাকরি পায় না বা কোনও পেশায় জায়গা করতে পারে না। তারপর কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ আরটিআই বা অন্য ধরনের অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।”
বেঞ্চ আবেদনকারীকে আরও প্রশ্ন করে, তাঁর অন্য কোনও মামলা নেই কি না। আদালতের মন্তব্য, “যিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট হতে চান, তাঁর আচরণ কি এমন হওয়া উচিত?”
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা কাউকে “প্রদান” করা হয়, সেটি “তাড়া করে অর্জন” করার বিষয় নয়। আদালতের প্রশ্ন, “আপনি তো সেটার পিছনে ছুটছেন। এটা কি শোভন দেখাচ্ছে?” একইসঙ্গে আদালত জানতে চায়, সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদ কি শুধুই প্রদর্শনের জন্য কোনও স্ট্যাটাস সিম্বল?
এছাড়াও আদালত মন্তব্য করে, কালো কোট পরা বহু আইনজীবীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য Central Bureau of Investigation-কে ডাকার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানায় বেঞ্চ।
আদালতের আরও দাবি, Bar Council of India এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে না, কারণ তাদের “ভোটের প্রয়োজন” রয়েছে।