21/08/2026
বেশ কিছুদিন ধরেই তেলেঙ্গানার একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল রত্না রেড্ডিকে তারই স্কুলের দুটো ছাত্র ফলো করছিল। ম্যাডাম কখন বাড়িতে আসে, কখন বাড়ি থেকে বের হয়, বাড়ির কোথায় কোথায় cc camera আছে সব খোজ খবর নিয়েছিল। ১১ই আগস্ট সকালে হাতে গ্লাভস, মাঙ্কি টুপি আর একটা ছুরি নিয়ে ঢুকে যায় প্রিন্সিপাল ম্যাডামের বাড়িতে। প্রথমে টাকা পয়সা গয়নাগাটি সব আলমারি থেকে বার করে নিয়ে নেয়।
প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কারোর সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে ঘরে আসে। ছেলেটার টুপি খুলে দেখতে পায় যে ওটা তার স্কুলেরই দশম শ্রেণীর এক ছাত্র। ম্যাডাম তাকে দেখে বলে - বাবু! এটাই ছিলো তার শেষ শব্দ। সে পকেট থেকে ছুরি বার করে, একের পর এক কোপ বসাতে শুরু করে ম্যাডামের পেটে।
রত্না রেড্ডির স্বামী থাকতেন অন্য জায়গায়। স্ত্রীকে অনেকবার ফোন করে না পাওয়ার পর একজন প্রতিবেশীকে গিয়ে দেখতে বলে যে সব কিছু ঠিক আছে কিনা। সে গিয়ে দেখে যে ঘরের দরজা খোলা। আর একটা ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রিন্সিপাল রত্না রেড্ডি।
পুলিশের তদন্ত শুরু হয়। কোথাও কোনো Fingerprint নেই। cctv তেও মুখ বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ ভিকটিম এর call record বার করে। জানতে পারে যে তার শেষ ফোন কলটি ছিল এক আত্মীয়ের কাছে। সেই নম্বরে ফোন করা হলে তিনি বলেন যে রত্নার শেষ শব্দ ছিলো- বাবু। তার পরপর শোনা যাচ্ছিলো শুধুই তীব্র আর্তনাদ।
তেলেঙ্গানা পুলিশ বুঝতে পারে যে বাবু মানে নিশ্চই তার কোনো ছাত্র হবে। স্কুলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলে। দুটো ছাত্রের উপর পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা নাকি আগে অনেকবার চুরি করে ধরা পড়েছে। তার জন্য রত্না ম্যাডাম অনেকবার অনেক কথাও শুনিয়েছিলো তাদের। এমনকি তাদের বাড়িতে ফোন করে নাকি নালিশ ও করেছিলো। সেই দুইজনকে ধরে এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ওই দুজনের ব্যাগে কিছু টাকার বান্ডিল ছিলো। সেখানে লেগেছিলো রক্তের দাগ।
Forensic -এ পাঠানো হলে প্রমান হয়ে যায় যে সেই রক্ত হলো প্রিন্সিপাল রত্না রেড্ডির। মানে সেইদিন তাকে খুন করে তার ঘর থেকেই আনা হয়েছে এই টাকা। ছেলে দুটোর উপর চাপ দিতেই সব সত্যি সামনে চলে আসে। শুধু ম্যাডামের উপর রাগের বসেই তারা এটা করেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বাকি ছাত্রদের দেখানো, যে দেখ আমরা পড়াশোনা না করেও কত টাকার মালিক হয়ে গেছি। তারা জানতো না যে এত বড়ো অন্যায় করে আইনের চোখে ফাঁকি দেওয়া প্রায় অসম্ভব।