05/08/2025
বিষ্ণুপুর (Bishnupur), পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক শহর, যা তার টেরাকোটার মন্দির, শিল্প, সংগীত ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। বিষ্ণুপুর ও তার আশেপাশে ঘোরার মতো অনেক সুন্দর ও ঐতিহাসিক স্থান আছে। নিচে বিষ্ণুপুর ও আশেপাশের উল্লেখযোগ্য কিছু দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত দেওয়া হলো:
---
🏛 বিষ্ণুপুর শহরের ভিতরের দর্শনীয় স্থানসমূহ:
1. রসমনচ (Rasmancha)
এটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে মল্ল রাজা হাম্বির মল্ল কর্তৃক নির্মিত।
এটি টেরাকোটা স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন।
রাস উৎসবে আগে এই মঞ্চে সব দেব-দেবীর মূর্তি একত্রে প্রদর্শিত হতো।
2. জোরবাংলা মন্দির (Jor Bangla Temple)
মল্ল রাজাদের সময়ে তৈরি একটি বিখ্যাত টেরাকোটা মন্দির।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘দুই চালা’ কুটিরের আদলে গঠিত।
3. মদনমোহন মন্দির (Madanmohan Temple)
১৭শ শতকের শেষভাগে নির্মিত।
কৃষ্ণ ভক্তদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, টেরাকোটা শিল্পে ভরপুর।
4. শ্যাম রায় মন্দির (Shyam Rai Temple)
পঞ্চরত্ন ধাঁচে নির্মিত এক অপূর্ব মন্দির।
এখানকার টেরাকোটা চিত্রশিল্প একেবারেই অসাধারণ।
5. সিংহমর্দিনী মন্দির ও রাধাশ্যাম মন্দির
আরও দুটি অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।
---
🎨 অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান:
6. বিষ্ণুপুর মিউজিয়াম (Acharya Jogesh Chandra Purakriti Bhawan)
বিষ্ণুপুরের ইতিহাস, টেরাকোটা শিল্প ও মল্ল রাজাদের শাসনকালের নানা নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত।
7. বালুচরি শাড়ির হ্যান্ডলুম
বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত বালুচরি শাড়ি কিভাবে তৈরি হয়, সেটা নিজের চোখে দেখা যায়।
স্থানীয় দোকান থেকেও কেনাকাটা করা যায়।
---
🌄 বিষ্ণুপুরের আশেপাশে ঘোরার জায়গা:
8. জয়পুর জঙ্গল (Joypur Forest)
বিষ্ণুপুর থেকে প্রায় ১৫-২০ কিমি দূরে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পিকনিকের জন্য আদর্শ।
হরিণ ও পাখি দেখার ভালো সুযোগ।
9. গড় দরজা ও মল্ল রাজাদের দুর্গ (Garh Darwaja)
মল্ল রাজাদের দুর্গ প্রাঙ্গণে প্রবেশের প্রবেশপথ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
10. দালমা অভয়ারণ্য (Dalma Wildlife Sanctuary) – একটু দূরে হলেও যাওয়া যায়
প্রায় ৮০-১০০ কিমি দূরে (ঝাড়খণ্ডে), বিষ্ণুপুর ভ্রমণের পরে যেতে পারেন।
হাতি, হরিণ সহ নানা বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
---
⛺ কোথায় থাকবেন?
বিষ্ণুপুরে বেশ কিছু হোটেল, লজ ও পর্যটন বিভাগের ট্যুরিস্ট লজ আছে:
West Bengal Tourism Lodge (Bishnupur Tourist Lodge)
Hotel Laxmi Park
Hotel Heritage
স্থানীয় হোমস্টে বা ছোট গেস্ট হাউসেও থাকা যায়।
---
🚗 কিভাবে যাবেন:
ট্রেন: হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত ট্রেন পাওয়া যায় (রূপসী বাংলা, পূর্বা এক্সপ্রেস ইত্যাদি)।
বাস: কলকাতা ও বাঁকুড়া থেকে বাস চলাচল করে।
গাড়ি: প্রাইভেট গাড়িতে NH2 ও NH60 ধরে সহজেই পৌঁছনো যায়।
---
📅 ভ্রমণের উপযুক্ত সময়:
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস – আবহাওয়া ভালো থাকে, টেরাকোটা মন্দির ঘোরা ও ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ সময়।
Deb Roy Sathi Majumder