18/03/2026
“অচেনা ঘর”
বিয়ের আগের রাত।
মেঘলার ঘরে অদ্ভুত একটা নীরবতা।
দেয়ালের দিকে তাকিয়ে সে হালকা করে হাসল। এই দেয়ালগুলোই তো তার সব জানে—
কখন সে লুকিয়ে কেঁদেছে,
কখন পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে লাফিয়ে উঠেছে,
আর কখন মায়ের সাথে অভিমান করে দরজা বন্ধ করে বসে থেকেছে।
মা এসে ধীরে ধীরে বললেন,
“ঘুমাবি না?”
মেঘলা একটু হেসে বলল,
“ঘুম আসছে না মা… মনে হচ্ছে ঘরটা আমাকে ছেড়ে যাবে।”
মা কিছু বললেন না। শুধু মাথায় হাত রেখে চুপ করে বসে রইলেন।
কারণ মা জানেন—এই অনুভূতিটা কথায় বোঝানো যায় না।
পরের দিন বিয়ে হল।
ঢাকের শব্দ, আলো, মানুষের ভিড়… সবকিছুতেই আনন্দ।
কিন্তু মেঘলার ভেতরে কোথাও একটা অদ্ভুত শূন্যতা।
বিদায়ের সময় যখন গাড়িতে উঠল,
সে শেষবারের মতো নিজের বাড়িটার দিকে তাকাল।
মনে হল—এই বাড়িটা শুধু একটা বাড়ি নয়,
এটা তার পুরো শৈশব।
গাড়ি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
নতুন বাড়িতে পৌঁছে সবাই তাকে খুব আদর করল।
নতুন মানুষ, নতুন সম্পর্ক… সবকিছুই যেন একেবারে অন্যরকম।
কিন্তু রাতে নিজের ঘরে এসে মেঘলা একটু চুপ করে বসে রইল।
জানালার বাইরে তাকিয়ে তার মনে হল—
“এই ঘরটা কি কোনোদিন সত্যিই আমার হবে?”
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
তার শাশুড়ি এসে বললেন,
“মা, কিছু লাগবে? নতুন জায়গা… অস্বস্তি লাগলে আমাকে বলিস।”
মেঘলা একটু অবাক হল।
কথাগুলো এত সহজ, এত আপন মনে হল।
দিন যেতে লাগল।
মেঘলা ধীরে ধীরে রান্নাঘরে নিজের গন্ধ মিশিয়ে দিল,
বারান্দায় নিজের পছন্দের গাছ রাখল,
সবাইকে নিয়ে হাসতে শিখল।
একদিন বিকেলে হঠাৎ তার মনে হল—
এই বাড়ির দেয়ালেও এখন তার হাসি লেগে আছে।
তখন সে বুঝল একটা কথা।
একটা মেয়ের জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত।
সে নিজের ছোটবেলার ঘর ছেড়ে যায়,
একটা অচেনা দরজার সামনে দাঁড়ায়।
প্রথমে সেই দরজাটা অচেনা লাগে,
কিন্তু ধীরে ধীরে
নিজের ভালোবাসা, যত্ন আর হাসি দিয়ে
সেই অচেনা ঘরকেও
নিজের ঘর বানিয়ে ফেলে।
আর হয়তো এটাই একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি—
সে শুধু সংসার করে না,
সে একটা অচেনা বাড়িকেও
ভালোবাসা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে দেয়।