18/09/2026
বিশ্বকর্মা পুজো: মেশিনের মাঝে পুরনো বিশ্বাসের স্পর্শ
ভোরের আলো ফুটতেই কর্মশালার দরজা খোলে।
কোথাও লোহার গন্ধ, কোথাও তেলের গন্ধ…
আর কোথাও সারি সারি যন্ত্রের সামনে জ্বলে ওঠে প্রদীপ।
আজ বিশ্বকর্মা পুজো।
কথিত আছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার হাতেই গড়ে উঠেছিল দেবতাদের অস্ত্র, প্রাসাদ আর নানা অলৌকিক নির্মাণ।
সেই পুরনো বিশ্বাস আজও বেঁচে আছে মানুষের কর্মজীবনের সঙ্গে।
একসময় কাঠের কারিগর তাঁর হাতুড়ি-ছেনি, কামার তাঁর লোহা, তাঁতি তাঁর তাঁত—
নিজের কাজের সরঞ্জামকেই দেখতেন জীবিকার সঙ্গী হিসেবে।
সময় বদলেছে।
হাতুড়ি-ছেনির পাশে এসেছে আধুনিক মেশিন, কম্পিউটার, গাড়ি, ইঞ্জিন আর প্রযুক্তি।
কিন্তু বিশ্বাসটা বদলায়নি।
আজও পুজোর আগে মেশিন পরিষ্কার করা হয়,
ফুল দেওয়া হয়, ধূপ জ্বলে, প্রদীপ জ্বলে—
তারপর প্রার্থনা…
“কাজ যেন ভালো হয়, দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সংসার যেন চলে…”
এই প্রার্থনায় হয়তো বড় কোনও মন্ত্র নেই।
আছে একজন শ্রমজীবী মানুষের সহজ বিশ্বাস।
বিশ্বকর্মা পুজো তাই শুধু একটি পুজো নয়।
এটি কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, কারিগরের প্রতি সম্মান এবং সৃষ্টির প্রতি মানুষের চিরন্তন বিশ্বাসের দিন।
পুরনো দিনের সেই আধ্যাত্মিকতা আজও মিশে আছে আধুনিক মেশিনের শব্দে।
মেশিন আবার চলবে…
কারখানা আবার ব্যস্ত হবে…
কিন্তু আজকের এই একটি দিন মনে করিয়ে দেয়—
যে হাত যন্ত্র চালায়, সেই হাতই তো আমাদের ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা।
জনতার দরবার
উন্নয়নের পক্ষে, মানুষের পাশে।