16/08/2026
চন্দননগরের নাম চন্দননগর কেন হলো জানেন?
মধ্যযুগে লোকমুখে এই অঞ্চল বোড়ো, খালিসানি আর গোন্দলপাড়া নামক তিনটি গ্রামের সমষ্টি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিংবদন্তি আর ইতিহাস থেকে চন্দননগর নামকরণ নিয়ে পাওয়া যায় চারটি মতামত।
প্রথম মতানুসারে মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র চাঁদ সওদাগর নদীপথে যাওয়ার সময় এখানকার ঘাটে নৌকা থামিয়ে কিছুদিন থাকেন আর প্রতিষ্ঠা করেন বোড়াইচণ্ডী মন্দির। ফলে তা পরিচিত হয় ‘চণ্ডীর নগর’ আর ‘চাঁদের নগর’ নামে - যা অপভ্রংশ হয়ে ‘চন্দননগর’ নামটা আসে।
দ্বিতীয় মতানুসারে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রীমন্ত সওদাগর সিংহল থেকে তাঁর পিতাকে ছাড়িয়ে আনার সময় বোড়াই চণ্ডীর ঘাটে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরের ফলকে 'শ্রীমন্ত সওদাগর প্রতিষ্ঠিত' উল্লেখ রয়েছে - যার সাথে চণ্ডীমঙ্গলে বর্ণিত ধনপতি সওদাগরের পুত্রের এই চণ্ডী মন্দির প্রতিষ্ঠার লোকগাথাটি মিলে যায়।
তৃতীয় মতানুসারে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চল অর্ধচন্দ্রাকৃতি হওয়ার কারণে এর নাম হয় ‘চন্দ্রনগর’ - যা সময়ের সঙ্গে লোকমুখে হয়ে ওঠে ‘চন্দননগর’।
চতুর্থ মতানুসারে নদীর ‘চরে’ গড়ে ওঠার কারণে এই জনপদকে বাঙালিরা ‘চরনগর’ আর ফরাসিরা ‘স্যাঁদরনগর’ বলে ডাকতেন। বাংলা আর ফরাসি নাম মিলেমিশে তৈরি হয় ‘চন্দননগর’।
আর পঞ্চম মতানুসারে এই অঞ্চলে চন্দন গাছের জঙ্গল থাকার কারণে ফরাসি ব্যবসায়ীরা চন্দনকাঠের ব্যবসা শুরু করেন। চন্দন-সমৃদ্ধ এই অঞ্চল তাদের চোখে হয়ে ওঠে ‘Ville du Bois de Sandal’ বা ‘চন্দনকাষ্ঠের নগর’। সেখান থেকেই ‘চন্দননগর’ নামের জন্ম।
চিত্রগ্রাহক - আমার 'ও' 🤎