Sthapatya

Sthapatya The only architecture portal in Bengali & English that aims to raise design awareness amongst the common populace.

বাংলা ভাষায় ,বাঙালিদের জন্য প্রথম স্থাপত্য বিষয়ক ওয়েব পেজ । প্রিন্সেপ ঘাট থেকে পাণ্ডু রাজার ঢিপি...মন্দির থেকে মিহরাব ... টেরাকোটা থেকে পেন্ডেনটিভ... দুলাল মুখার্জি থেকে রফিক আজম ... কাটোয়া থেকে রাজশাহী হয়ে বিক্রমপুর ঘুরে মোগলমারি ... মিলে মিশে যাক দুই বাংলা । উদ্দেশ্য একটাই - বাঙালিদের মধ্যে ''স্থাপত্য বা Architecture'' বিষয়টা নিয়ে ভালোবাসা , আগ্রহ আর সচেতনতা গড়ে তোলা ।

শীতের দুপুরে মিঠে রোদ গায়ে মেখে এক ত্রিশোর্ধ্ব যুবক দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গাঘাটে। চোখ তার আকাশের দিকে। ছোট্ট ড্রোনটা বাজপাখির ম...
08/01/2026

শীতের দুপুরে মিঠে রোদ গায়ে মেখে এক ত্রিশোর্ধ্ব যুবক দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গাঘাটে। চোখ তার আকাশের দিকে। ছোট্ট ড্রোনটা বাজপাখির মত বৃত্তাকারে লালকুঠির চারপাশে ঘুরছে। গোটা বাড়িটার ড্রোন ভিডিও তুলে সে দেওয়ালের প্রতিটা কোণা খুঁজে দেখতে চায়। এখনো কি এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্যের গায়ে গাঁথা রয়েছে সেই দু-হাজার পুরনো বৌদ্ধ ভাস্কর্য?

ইতিহাস বলে কোন্নগরের বিখ্যাত ক্রাইপার সাহেব তার যুবা বয়সে বেশ কিছুদিন বার্মার জঙ্গলে কাটান মেটাল প্রস্পেক্টর (তামা এবং রুপোর সন্ধানকারী) হিসেবে। ঠিক যেরকম চাঁদের পাহাড়ের ডিয়েগো আলভারেজ তার জীবন অতিবাহিত করেছিলেন আফ্রিকার গভীর গহন অরণ্যে সোনা এবং হীরের প্রস্পেক্টর হিসেবে।

এখানে অবশ্য ক্রাইপার সাহেব রক্তমাংসের মানুষ। তার নামের সাথেই জড়িয়ে রয়েছে আজকের বিখ্যাত Haywards 5000 বিয়ার ব্র‍্যান্ডের ইতিহাস। সে গল্প আগেই লিখেছি কিভাবে তার ভাগ্নের হাতে দিয়েই কোন্নগরের বুকে শুরু হয়েছিল আজকের হেওয়ার্ডস মদের জয়যাত্রা।

এখন এই ক্রাইপার সাহেব বার্মায় থাকাকালীন এক বৌদ্ধ স্তূপে সন্ধান পেয়েছিলেন লাল বেলে পাথরে নির্মিত ভাস্কর্যের এক টুকরো যা তিনি স্মৃতি হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন ভারতবর্ষে। পরবর্তীকালে ক্রাইপার সাহেবের মৃত্যুর পর তার ভাগ্নে এরিক হেওয়ার্ড, ১৯৪৬ সালে সেই ভাস্কর্যকে পাকাপাকিভাবে গেঁথে দেন তার মামার নির্মিত লালকুঠির উত্তর দেওয়ালে।

সবার অলক্ষ্যে ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে এখনও কি রয়ে গেছে সেই দু হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ ভাস্কর্য? এই প্রশ্নটা নিয়েই শুরু করেছিলাম খোঁজ।

তবে এর উত্তর দেওয়ার আগে ইতিহাসের দু-পাতা উল্টে দেখা যাক কিভাবে সুদূর ইংল্যান্ড থেকে বার্মা হয়ে কোন্নগরে এসে পৌঁছালেন আমাদের গল্পের নায়ক ক্রাইপার সাহেব।

রিসডন ক্রাইপারের জন্ম ১৮৫৫ সালে ইংল্যান্ডের টাভিস্টক (Tavistock) শহরে। বাবা উইলিয়াম ক্রাইপারের ছিল খনির ব্যবসা। ফলে ছেলেকে তিনি ভর্তি করেন লন্ডনের বিখ্যাত রয়্যাল স্কুল অফ মাইনসে। কুড়ি বছর বয়সে সেখান থেকে ধাতুবিদ্যার ডিপ্লোমা শেষ করে পরবর্তী পাঁচ বছর ক্রাইপার সাহেব এক অধ্যাপকের তত্বাবধানে শেখেন তামা এবং রুপো নিষ্কাশন পদ্ধতি। শেষ অব্দি ১৮৮০ সালে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে ক্রাইপার সাহেব মনোনীত হন Royal Institute of Chemistry এর ফেলো হিসেবে। আর এই বছরই স্বদেশ ছেড়ে যুবক রিসডন ক্রাইপার পাড়ি জমালেন সুদূর বার্মার পথে।

কেনো ?

উদ্দেশ্য হল বার্মার জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে তামা এবং রুপোর সন্ধান করা। কাজটা একদমই সহজ নয়। ভেবে দেখুন লন্ডনের মত শহরের আরাম এবং বৈভব ছেড়ে এক যুবক চললেন আজ থেকে দেড়শো বছরের পুরনো বার্মাদেশের পথে। সে সময়ের বার্মা হল পাহাড়, জঙ্গলঘেরা এক অত্যন্ত দুর্গম দেশ।

আমার ধারণা ক্রাইপার সাহেবের পারিবারিক খনির ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে গেলে তার পরিবার বেশ অর্থকষ্টের মধ্যে পড়ে। ফলে ক্রাইপার জুনিয়ারকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্তটা নিতে হয়।

সমস্যা হল ক্রাইপার সাহেবের কোনো লিখিত জীবনী নেই। এই পুরো তথ্যটাই বের করতে হয়েছে অজস্র পুরনো নথি ঘেঁটে এবং ক্রাইপার সাহেবের বংশধরদের সাথে বহুদিন ধরে ইমেল চালাচালির মধ্যে দিয়ে। ফলে কিছুক্ষেত্রে আমাকে circumstantial evidence এর উপর ভরসা করতে হয়েছে। ১৮ ৭২ সালে এক ব্রিটিশ সংবাদপত্রে, উইলিয়াম ক্রাইপারের খনির ব্যবসাটার liquidation নোটিস ছাপা হয়েছিল।

যাইহোক, বার্মায় ক্রাইপার সাহেব কাটিয়েছিলেন ঠিক দু-বছর (১৮৮০-১৮৮২)। এই দু-বছর ভাগ্যান্বেষণে ভদ্রলোক বহু পাহাড় জঙ্গল খুঁজে ফিরেছেন। তখনো প্রসপেক্টিং এর কাজে মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবহার শুরু হয়নি বাণিজ্যিকভাবে। ফলে এই আকরিকের সন্ধান করা ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য কাজ। বার্মার বহু দুর্গম অঞ্চলে অভিযান চালালেও আমাদের চাঁদের পাহাড়ের শঙ্করের মত ভাগ্যদেবী রিসডেন ক্রাইপারের প্রতি সদয় হননি।

ফলে দু বছরের অভিযান শেষে ভগ্নহৃদয়ে ক্রাইপার সাহেব পাড়ি জমান ব্রিটিশ ভারতবর্ষে। এর ঠিক আগেই প্রসপেক্টিং এর কাজ করতে গিয়েই বার্মার কোনো এক দুর্গম অঞ্চলে ক্রাইপার সাহেবের হাতে এসেছিল সেই দু হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ ভাস্কর্য।

এই তথ্যটা পেয়েছিলাম ক্রাইপার সাহেবের ভাগ্নে এরিক হেওয়ার্ডের নাতি সাইমন হেওয়ার্ডের থেকে।

ভাগ্যক্রমে ক্রাইপার সাহেব ভারতবর্ষে ফিরে হাত মিলিয়েছিলেন ডেভিড ওয়াল্ডির সাথে। বলা হয় এই ওয়াল্ডি সাহেবই আদতে ক্লোরোফর্ম আবিষ্কার করছিলেন। কিন্তু এর গোটা কৃতিত্বটাই পেয়েছিল তার বন্ধু জেমন সিম্পসন। ফলে স্বদেশবাসী এবং বন্ধুর উপর তীব্র রাগে ও অভিমানে এই ওয়াল্ডি সাহেবও ভাগ্যান্বেষণে এসেছিলেন এই ভারতবর্ষের মাটিতেই। তারপর এই দুই ভগ্নহৃদয় মানুষ মিলে কিভাবে গড়ে তুলেছিলেন D.Waldies & Co. Ltd তা নিয়ে আগেই লিখেছি ফেসবুকে। সেই প্রবন্ধ এবছরের কোন্নগর বইমেলায় বই হিসেবেও বেরিয়েছে সম্প্রতি।

সেই প্রবন্ধ লিখতে গিয়েই গোয়া থেকে সাইমন হেওয়ার্ড এক পারিবারিক ডকুমেন্ট পাঠান যেখানে তিন পাতাজুড়ে কোন্নগর হাউসের প্রতিটা ঘরের বিবরণ ছিল। তৎকালীন সময়ে কোন্নগরের এই লালকুঠি বা কোন্নগর হাউস ছিল অবিভক্ত বাংলার অন্যতম বিলাসবহুল বাংলো বাড়ি। আর এই বাড়ির ডকুমেন্টের মধ্যেই ছিল লাল বেলে পাথরের সেই ভাস্কর্যের উল্লেখ।

লেখাটা পড়ার পর থেকেই প্রবল উত্তেজনায় প্রথমে সাইমন হেওয়ার্ডের পাঠানো প্রতিটা পুরনো ডকুমেন্ট এবং ছবি ঘেঁটে দেখতে শুরু করি। শেষ অব্দি অজস্র সাদা কালো পুরনো ছবির মধ্যে থেকে পাওয়া গেল সেই ভাস্কর্যের ছবি। পাথরের তৈরি লতা পাতা ঘেরা সেই ভাস্কর্যের উপর মার্বেল ফলকে ল্যাটিন ভাষায় লেখা আছে:

"HANC TABULAM ANTIQUAM BUDDHENSEM, CIRCA A.U.C CCL CAELATAM, AB WILLIAM RISDON CRIPER, DOMUS CONDITORE, EX BURMA ELATAM, IN EJUS MEMORIAM NEPOS ERIC RAYWARD HIC CRNSTITUIT.
A.D. MCMXLVI."

গুগুল ট্রান্সলেটর দিয়ে ল্যাটিন থেকে ইংরেজি করায় যার অর্থ দাঁড়ালঃ

"THIS ANCIENT BUDDHIST TABLET, CARVED AROUND 250 A.U.C., BROUGHT FROM BURMA BY WILLIAM RISDON CRIPER, FOUNDER OF THE HOUSE, WAS PLACED HERE IN HIS MEMORY BY HIS GRANDSON ERIC HAYWARD.
A.D.1946.

অর্থাৎ সত্যিই এককালে কোন্নগরের লাল কুঠির বুকে সুদূর বার্মা থেকে অনা সেই বৌদ্ধ ভাস্কর্য ছিল! কিন্ত সমস্যা হল, আজও আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে হলে লাল কুঠিতে ঢুকে দেখতে হয় একবার। কিন্তু বর্তমানে লাল কুঠিতে ব্যক্তিগত প্রবেশ নিষেধ কারণ আজ এর মালিক হল Krishi Rasayan Exports নামে এক বেসরকারী সংস্থা। ফলে সাধারন মানুষ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। বাড়ির সামনের বিস্তীর্ণ বাগান জুড়ে আজ বিভিন্ন সার এবং কীটনাশকের টেস্ট করা হয়। আর বাড়িটাকে ব্যবহার করা হয় মালের গোডাউন হিসেবে।

অগত্যা?

উপায় হিসেবে বেছে নিলাম প্রযুক্তিকে। ড্রোন দিয়ে গোটা বাড়ির ভিডিও এবং ছবি তুলে photogrammetry এর মাধ্যমে গোটা বাড়িটার একটা ত্রিমাত্রিক মডেল বানানো সম্ভব। সেই মডেল থেকেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বোঝা সম্ভব যে আজও উত্তরের দেওয়ালে আছে কিনা সেই ভাস্কর্য!

ফলে শীতের দুপুরে কোন্নগরের সিঙ্গী ঘাটে দাঁড়িয়ে তুলে নিলাম ড্রোন। উত্তরের দেওয়ালে ক্যামেরা তাক করে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়েই অজস্র হাই রেজলিউশন ফটো তুলে ফিরে এলাম বাড়িতে। বাড়ি ফিরে অদম্য আগ্রহ নিয়ে ল্যাপটপ খুলে ছবিগুলো ট্রান্সফার করার পরই মনটা খারাপ হয়ে গেল।

দেওয়ালের ঐ গোটা অংশটাই যেন কেউ চেঁছে তুলে দিয়েছে। আলোছায়ার মধ্যেও ভগ্নপ্রায় চৌকো অংশটার পিছনের দিকের দেওয়ালের লাল ইটের গাঁথনিগুলো দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ সেই ভাস্কর্য এবং মার্বেল ফলক - কোনোটাই নেই। শুধু খাপকাটা চৌকা দুটো গর্ত রয়ে গেছে লালকুঠির গায়ে।

এককালে ছিল বটে কিন্তু বিগত ১০০ বছরে অন্তত দু তিনবার হাত বদল হয়েছে এই বাড়ির মালিকানার। তার মধ্যেই হয়তো কেউ ভাস্কর্যটা তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে! এমনিতেই গোটা বাড়িটাকে বাংলো থেকে গোডাউন বানাতে গিয়ে অজস্র ভাংচুর করা হয়েছে গত কয়েক দশকে। অপূর্ব সুন্দর lancet arch এর জানলাগুলোকে ভেঙ্গে ইটের দেওয়াল গাঁথা হয়েছে জায়গায় জায়গায়। বেশ কিছু Gothic spire বা চূড়াগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যেই হয়তো কোনো মিস্ত্রি এসে মেরামতের সময় অপ্রয়োজনীয় ভেবে সেই ভাস্কর্যকেও উপড়ে ফেলে দিয়েছে! সহস্রাধিক বছরের পুরনো ভাস্কর্যের ঠাই হয়েছে কোনো আস্তাকুড়ে!
আদতে ঠিক কি হয়েছে তার উত্তর আমার কাছে নেই!

নিজের শহরকে ভালোবেসে তার ইতিহাস খুঁজে বার করব বলে বহু রাত ব্যয় করেছি প্রাচীন নথি ঘেঁটে। অনেক কিছু পেয়েছি, আবার অনেক কিছুই পাইনি। এটাও তেমনই এক ব্যর্থতা ভেবেই গ্রহন করেছিলাম সেদিন।

তবে ক্রাইপার সাহেব এবং তার ভাগ্নের তৈরি আজকের বিখ্যাত হেওয়ার্ডস মদের ইতিহাসের খোঁজ করতে গিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে যে ইতিহাস লিখেছিলাম তা প্রবন্ধাকারে প্রকাশ পেয়েছে এবছর কোন্নগর বইমেলায় মৃত্তিকা প্রকাশনীর ‘’প্রসঙ্গ কোন্নগর’’ বইতে। যারা সেই লেখা পড়েননি তারা বইটা পাবেন কোন্নগর বইমেলায় ৯ নম্বর স্টলে। এই প্রবন্ধ ছাড়াও এদেশের প্রথম বাটা কারখানা এবং কোন্নগর গ্রামের গল্প নিয়ে লেখাটাও ঠাঁই পেয়েছে সেই বইতে।

প্রকাশক আমাকে অনুরোধ করেছিল কোন্নগরের ইতিহাসের অজস্র দুষ্প্রাপ্য দলিল এবং অপ্রকাশিত ছবি সহ নিজেরই একটা বই লিখতে। এবছর সময়াভাবে আর সেটা শেষ করে উঠতে পারলাম না। আশা করি আপনাদের ভালোবাসা এবং উৎসাহকে পাথেয় করে শিগগিরি সেই কাজ শেষ করতে পারব।

____________________

১. ক্রাইপার সাহেবের তৈরি বাংলো লাল কুঠি বা কোন্নগর হাউসের থ্রিডি মডেল পাবেন এই লিংকেঃ https://poly.cam/cap.../e632327f-53fe-4c4f-b64d-92eb73ac21d4

২. লাল কুঠির ড্রোন ভিডিওঃ কমেন্টবক্সে লিংক দিলাম।

৩. লেখকের Mrittika Prakashan - মৃত্তিকা প্রকাশন থেকে সদ্য প্রকাশিত ''প্রসঙ্গ কোন্নগর'' বইটা কিনতে এই লিংকে ক্লিক করুনঃ https://boitoi.in/products/prasanga-konnagar-ed-souvik-raj

৪. এছাড়া সরাসরি প্রকাশকের সাথে এই নাম্বারে (+91 7439375635) WhatsApp এ যোগাযোগ করলেও তিনি আপনার ঠিকানায় বইটা পাঠিয়ে দেবেন।

বিশেষ ধন্যবাদঃ Simon Hayward, Liza Feeney, Subhadip Kansa Banik, Late Rathindranath Chakraborty এবং কোন্নগর ঐতিহ্য পরিষদ।

, #কোন্নগর

17/10/2025

বাংলার কর্মকারদের তৈরি অস্ত্রের খ্যাতি একসসময় গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। বীরভূম, বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের কামারশালগুলো ছুঁয়েছিল ধাতুবিদ্যার সর্বোচ্চ শিখর । সেই সোনালী অতীত আজ বহুদূর। তবু আজও এই অস্ত্রনির্মাণের চর্চা ধরে রেখেছেন খরুন গ্রামের তামাল কর্মকারের মত গুটিকয় মানুষ।

এদের হাতের জাদুতে, কামারশালে উত্তপ্ত চিমনির মধ্যে আজও জন্ম নেয় শানিত খড়গ বা খাঁড়া। এই সব খড়গ হাতে নিলে গায়ে কাঁটা দেয়। তমালবাবুর নির্মিত খড়গের ব্যবহার করেই আজও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মন্দির ও শক্তিপীঠে বলিদান হয়। আজকে এই ছোট্ট ইন্টারভিউয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের এমনই এক কর্মকার ও তার কামারশালের গল্প তুলে ধরলাম।

প্রসঙ্গত রঘু ডাকাত সিনেমার দেখা যায় নায়ক খড়গ হাতে দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করছেন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে খাঁড়ার ব্যবহার মূলত বলিদানের অস্ত্র হিসেবে। খাঁড়ার একদিকটা ভারী এবং এর আকার এমনভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে যাতে তীব্র ভরবেগে এক কোপেই ধর এবং মুন্ড আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু সম্মুখ সমরে খাঁড়ার থেকেও কাজে দেয় তরোয়াল কিম্বা ছুরির মত অস্ত্র। এক্ষেত্রে ক্ষিপ্রতা এবং দ্রুত অস্ত্রকে চালনা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বলাই বাহুল্য যে রঘু ডাকাত তার মায়ের থানে বলিদানের জন্য খাঁড়ার ব্যবহার করলেও সম্মুখ সমরে লাঠি, বগি, বল্লম, ছোট রামদাঁ কিম্বা তরোয়ালের ব্যবহার করতেন।

গানপাউডার বা বারুদের চল আসার আগে অব্দি বাংলার সৈন্যদল সেই প্রাচীন যুগ থেকেই বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়ে আসছে। এই অস্ত্রের ইতিহাসের সাথেই জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির শৌর্য এবং বীরত্বের গাঁথা। তাই বাংলার অস্ত্র নিয়ে বিশদে লেখার ইচ্ছা রয়েছে স্থাপত্যের পাতায়। তারই প্রথম পর্ব হিসেবে আজ কালী পুজোর ঠিক আগে প্রকাশিত হল বাংলার প্রাচীন খড়গ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন।

ভিডিওটা ভালো লাগলে শেয়ার এবং সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না প্রিয়জনদের সাথে। আপনাদের কাছ থেকে উৎসাহ পেলে আমিও আগ্রহ পাবো বাংলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে নিয়ে এইরকম আরো বহু ভিডিও বানানোর জন্য।

- অরুণাভ সান্যাল, সহ-সম্পাদক, স্থাপত্য
________________________

Contact Details of Tamal Karmakar: 8145104711, Address: c/o: Tamal Karmakar, Kharun Village, Rampurhat 1 Block, Birbhum, West Bengal. Landmark: 3 km from Tarapith Temple & 6 km from Rampurhat Station.

Special Thanks to Avijit Sanyal, Poushali Khan, Sharmistha Sanyal & Probal Roy Chowdhury

গতকাল কলকাতা জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ICOMOS আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন স্থাপত্যের সহ-সম্পাদক অরুণাভ সান...
14/09/2025

গতকাল কলকাতা জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ICOMOS আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন স্থাপত্যের সহ-সম্পাদক অরুণাভ সান্যাল। কলকাতার বাইরেও গঙ্গাতীরের ছোট ছোট শহরতলির বুকে যে বহু অজানা ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে তা নিয়েই বক্তব্য রাখেন তিনি। দেশের প্রথম বাটা কারখানা থেকে শুরু করে বাংলা থেকে Haywards ব্র্যান্ডের পথচলার ইতিহাস; কোন্নগরের লালকুঠি থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হেস্টিংস মিলের মধ্যে স্থিত আমেরিকান এয়ার কম্যান্ড সহ বহু অজানা ইতিহাস নিয়ে চর্চা একরকম হয়নি বললেই চলে। শহরতলির এই সব আঞ্চলিক ইতিহাসের মধ্যে শুধু আমাদের ঐতিহ্য আর ফেলে আসা ইতিহাসই লুকিয়ে নেই, বরং রয়েছে আমাদের আত্মপরিচয়। ICOMOS টিমকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এরকম এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য এবং স্থাপত্যকে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য সুযোগ দেওয়ার জন্য।

বাংলা ভাষায় বাংলার স্থাপত্যকে নিয়ে আলোচনা করব বলে আজ থেকে দশ বছর আগে শুরু হয়েছিল স্থাপত্যের পথচলা। বিগত কয়েক বছরে আপনাদের কাছ থেকে পেয়েছি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকে পাথেয় করেই ঠিক করেছি যে এরপর আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও কিছু ভিডিও এবং তথ্যচিত্র প্রকাশ করব।

খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ পাবে কোন্নগরের লালকুঠি, আর বাংলার বুকে Haywards ব্র্যান্ডের পথচলা নিয়ে আমাদের ভিডিও। আপনাদের লাইক, শেয়ার এবং কমেন্ট পেলে আমরা আগ্রহ পাবো তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বাংলার আরো অনেক আনালোচিত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের লিংক- https://www.youtube.com/

স্থাপত্যের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই - Kamal Banerjee এবং Sandipan Chatterjee'কে।

, , , , , , , International Council on Monuments and Sites (ICOMOS), ICOMOS Internat. Committee on Historic Cities, Towns and Villages (CIVVIH)

আপনাদের সমর্থনকে পাথেয় করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের শেষ ভিডিওটা এক লক্ষের অধিক ভিউ অতিক্রম করেছে। দর্শকদের থেকে আকুন্ঠ ভা...
31/08/2025

আপনাদের সমর্থনকে পাথেয় করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের শেষ ভিডিওটা এক লক্ষের অধিক ভিউ অতিক্রম করেছে। দর্শকদের থেকে আকুন্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি তা ভোলার নয়। বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই স্থাপত্যের পক্ষ থেকে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস করেছিলাম আমরা।

গতকাল তামালবাবুর ফোন করেছিলেন বীরভূম থেকে। উনি বিগত দু-সপ্তাহে বহু ফোনকল পেয়েছেন আপনাদের থেকে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, উড়িষ্যা এমনকি সুদূর মহারাষ্ট্র থেকেও দর্শকরা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আশা রাখি তার হাত দিয়েই এই শিল্পের পুনরুত্থান ঘটবে। সমস্যা হল, এই মুহূর্তে তামালবাবুর কাছে এই খড়গ আপনাদের বাড়ি অব্দি পৌঁছে দেবার কোনো উপায় জানা নেই। ফলে আপনাদের এই খড়গ সংগ্রহ করতে হলে খরুন গ্রামেই আসতে হবে। সকলের সুবিধার জন্য তামালবাবুর ফোন নাম্বার এবং ঠিকানাটা আরেকবার শেয়ার করলাম এখানে।

তামাল কর্মকার- +৯১- ৮১৪৫১০৪৭১১, ঠিকানাঃ খরুন গ্রাম, রামপুরহাট ১ নাম্বার ব্লক, বীরভূম। তারাপীঠ মন্দির থেকে ৩ কিলোমিটার এবং রামপুরহাট স্টেশন থেকে ৬ কিলোমিটার। আপনারা তারাপীঠে পৌঁছে কিম্বা রামপুরহাট স্টেশনে পৌঁছে যে কোনো টোটোচালককে অনুরোধ করলেই তারা তামালবাবুর বাড়ি অব্দি পৌঁছে দেবে আপনাকে।

Weapons of Bengal : Sacrificial Sword of Kali I Khanra I বাংলার অস্ত্রঃ বলির খাঁড়া বা খড়গ - https://www.youtube.com/watch?v=wTwoUhLxv_c

_______________

কাজের চাপে স্থাপত্যের ইউটিউব চ্যানেলটা বহুকাল একরকম বন্ধ হয়েই পড়েছিল। অথচ বাংলার ফেলে আসা ইতিহাস নিয়ে, বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের আগ্রহ অসীম। গত এক মাসে আপনাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তাকে পাথেয় করেই আমরা বাংলার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যকে নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও বানাবো বলে ঠিক করেছি। আপনারা লাইক, শেয়ার এবং সাবস্ক্রাইব করে আমাদের পাশে থাকলে আমরা উৎসাহ পাবো বাংলার বিভিন্ন অনালোচিত ইতিহাসকে তুলে ধরতে।

ফলো করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল - https://www.youtube.com/ এবং ওয়েবসাইট - https://sthapatya.co/

- অরুণাভ সান্যাল,
সম্পাদক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা,
স্থাপত্য।

বাংলার কর্মকারদের তৈরি অস্ত্রের খ্যাতি একসময় গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। বীরভূম, বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের কামারশালগু...
11/08/2025

বাংলার কর্মকারদের তৈরি অস্ত্রের খ্যাতি একসময় গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। বীরভূম, বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের কামারশালগুলো ছুঁয়েছিল ধাতুবিদ্যার সর্বোচ্চ শিখর। সেই সোনালী অতীত আজ বহুদূর। তবু আজও এই অস্ত্রনির্মাণের চর্চা ধরে রেখেছেন বীরভূমের খরুন গ্রামের তামাল কর্মকারের মত গুটিকয় মানুষ।

এদের হাতের জাদুতে, কামারশালে উত্তপ্ত চিমনির মধ্যে আজও জন্ম নেয় শাণিত খাঁড়া বা খড়গ। এই সব খড়গ হাতে নিলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। তমালবাবুর নির্মিত খাঁড়া ব্যবহার করেই আজও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মন্দির ও শক্তিপীঠে বলিদানের প্রথা চালু রয়েছে।

আজকে এই ছোট্ট ইন্টারভিউয়ের মধ্যে দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার এমনই এক কর্মকার ও তার কামারশালের গল্প তুলে ধরলাম।

https://youtu.be/wTwoUhLxv_c?si=9UkQW7XnPSCvItef

"ধুঁকছে খরুণের খাঁড়া শিল্প, চিন্তিত তামালরা" - আনন্দবাজারের প্রতিবদনের লিংকঃ https://shorturl.at/RXsVx

____________________________________________

Video, Editing, Interview & Concept: Arunava Sanyal

Contact Details of Tamal Karmakar: +91 - 8145104711

Address: c/o: Tamal Karmakar, Kharun Village, Rampurhat 1 Block, Birbhum, West Bengal. Landmark: 3 km from Tarapith Temple & 6 km from Rampurhat Station.

Google Location of Kharun Village: https://maps.app.goo.gl/dexn36VjJJRpSqPq7

Special Thanks to Avijit Sanyal, Poushali Khan, Sharmistha Sanyal & Probal Roy Chowdhury

বাংলার কর্মকারদের তৈরি অস্ত্রের খ্যাতি একসসময় গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। বীরভূম, বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামে....

রাত বারোটার সময় যেভাবে আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে হুগলীর ইটাচুনা রাজবাড়ি। এই বাড়িতেই শ্যুটিং হয়েছে লুটেরা, গয়নার বাক্স, রাজমহল,...
09/03/2024

রাত বারোটার সময় যেভাবে আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে হুগলীর ইটাচুনা রাজবাড়ি। এই বাড়িতেই শ্যুটিং হয়েছে লুটেরা, গয়নার বাক্স, রাজমহল, কৃষ্ণকান্তের উইল, তবে তাই হোক - সহ একাধিক সিনেমার।

নিচের ছবিটা ৩৬০ ডিগ্রি ছবি। যারা মোবাইল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করছেন, তারা ছবিতে ক্লিক করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলে ঠাকুরদালানের সামনের থেকে তোলা এই ছবিতে বাড়ির প্রায় পুরোটাই দেখতে পাবেন।

সামনের মন্দিরটা - শালগ্রাম শিলারুপী শ্রীধর নারায়ণ জিউ এর মন্দির। এত সুন্দর অর্ধবৃত্তাকার ঠাকুরদালান বাংলার আর কোনো জমিদার/রাজবাড়িতে নেই।

Itachuna Rajbari / Itachuna Rajbari / Mylestones and Journeys

একসময় বলা হত বাংলার ডেট্রয়েট। সেই হিন্দমটরই আজ এক বিশাল খন্ডহর হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ এক দশক ধরে। ২০১৪ সালের ২৪ শে মে, ঝাঁপ...
24/02/2024

একসময় বলা হত বাংলার ডেট্রয়েট।

সেই হিন্দমটরই আজ এক বিশাল খন্ডহর হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ এক দশক ধরে। ২০১৪ সালের ২৪ শে মে, ঝাঁপ বন্ধ হয় কারখানার। তারপর থেকে ক্রমশ ঝোপ জঙ্গল গ্রাস করেছে টাউনশিপকে, বিদ্যুতের বিল না মেটানোয় লাইন গেছে কাটা, জলের কানেশনও বন্ধ হয়েছে। তবু তারই মধ্যে গুটিকয় পরিবার আজও বেঁচে রয়েছে ঐ জীর্ণ কোয়ার্টারগুলোর পেটের মধ্যে।

নব্বইয়ের দশকে কর্মীসংখ্যা ছিল ২৩০০। আজ কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে বারোতে। সবাই সিকিউরিটি গার্ড। পরিত্যক্ত এবং ব্যর্থ কারখানার ধ্বংসাবশেষের বুকে লেড টর্চ আর হুইসেল নিয়ে টহল দেয় সকাল সন্ধ্যা।

১৯৪৮ সালে ভারতবর্ষের প্রথম ইন্ট্রিগ্রেটেড অটোমোবাইল প্ল্যান্ট তৈরি হয় উত্তরপাড়ার দক্ষিণে। কয়েক হাজার একর কৃষি জমির বুকে গড়ে উঠল বিশালাকার শপ ফ্লোর, কোয়ার্টার, স্কুল, খেলার মাঠ, স্পোর্টস একাডেমি, সিনেমা হল, মন্দির এবং ব্যাঙ্ক। সেকালে অবশ্য হিন্দমটর বলে কোনো জায়গাই ছিল না বরং কোন্নগর আর উত্তরপাড়ার মাঝে গোটা এলাকাটাই ছিল নিচু কৃষিজমি।

আজকের স্টেশনের পশ্চিমে যতদূর চোখ যায়, ডানকুনির জলা অব্দি পুরো জমিটাই ছিল মাছের ভেড়ি আর আবাদি জমি। সেই জমিকে উঁচু করতে এত মাটির প্রয়োজন হয়েছিল যে কারখানার উত্তরে খনন করা হয় পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ কানাইপুর ঝিল। কোন্নগরের দিকে তৈরি হয় বিশাল রিং রোড বা টেস্টিং রোড যেখানে সদ্য তৈরি হওয়া ‘হিন্দুস্তান ১০’ গাড়ির গরম ইঞ্জিন ছুটত তীব্র গতিতে বাঁক নিয়ে।

বাইরে থেকে মানুষ এসে বসবাস শুরু করে। কারখানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বাজার, স্টেশন এবং হিন্দমটর নামে ছোট্ট এক শহরতলি। সময় গড়ায়। ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ মরিশ অক্সফোর্ডের ডিজাইন এবং স্বত্ত্ব কিনে নিয়ে প্রথমবারের মত ভারতবর্ষের বাজারে এল হিন্দুস্তান এম্বাসেডর মার্ক ওয়ান।

লঞ্চ হবার কিছুদিনের মধ্যেই একদম সুপারহিট । উল্কার গতিতে কলকাতা থেকে দিল্লী, গোটা দেশের অটোমোবাইলের বাজার দখল করে এই গাড়ি। এরপর অবশ্য ভারতবর্ষের বদ্ধ অর্থনীতি আর লাইসেন্স রাজের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দশকের পর দশক ধরে একচেটিয়া বাজার দখল করে রেখেছে হিন্দুস্থান মটরস। ষাট-সত্তরের দশকে, বহু যাদবপুর/শিবপুরের ইঞ্জিনিয়াররা অন্য PSU এর চাকরি ছেড়ে এই হিন্দমটর কারখানার চাকরিকে বেঁছে নিয়েছে।

সময়ের চাকা ঘুরেছে। আশির দশকে মারুতি উদ্যোগের সাফল্যের সাথে সাথে অ্যাম্বির চাহিদা কমতে শুরু করে। ১৯৯১ সালে ভারতবর্ষের বদ্ধ থেকে মুক্ত অর্থনীতির জয়যাত্রার সাথে সাথে বেজে যায় হিন্দুস্তান মটরসের মৃত্যুঘন্টা। তার আগে পরে অবশ্য জঙ্গি ট্রেড ইউনিয়ান আন্দোলন হয়েছে। লকআউট , ধর্মঘট আর ঘেরাও কর্মসূচির চাপে অর্ধমৃতবস্থা থেকে নাভিশ্বাস উঠে গেছে হিন্দুস্তান মটরসের।

শেষ অব্দি ধুঁকতে ধুঁকতেই ২০১৪ সালে কর্মীদের ছয়মাসের বকেয়া বাকি রেখেই সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে মূল গেটের সামনে।

এর মাঝে অবশ্য আরো কাহিনী রয়েছে। ডুবন্ত অবস্থায় নব্বইয়ের দশকে জেনারেল মটরস, ইসুজু, মিতসুবিশি সহ আরো কিছু বিদেশী কোম্পানির সাথে টাইআপ করে হাল ফেরানোর চেস্টা হয়েছিল বার কয়েক কিন্তু সেসব ধোপে টেকেনি। একমাত্র নব্বইয়ের দশকে হিন্দুস্তান কনটেসা কিছুটা সাফল্য পেয়েছিল বটে, কিন্ত সেও শেষ অব্দি মারুতির সাথে আর পেরে ওঠেনি। এই নিয়ে একখানা খাসা কেস স্টাডি লেখা যায় এমবিএ কলেজে পড়ানোর জন্য। ফেসবুকে এত বিশদে লেখার কোনো মানে হয়না।

তবে আজ হোক কিম্বা কয়েক দশক বাদে, যখনই বাংলার ভারী শিল্পক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার একাধিক কারণগুলো নিয়ে থিসিস লেখা হবে তখন ডানলপ, বেঙ্গল কেমিক্যালস, জেসপ, শ-ওয়ালেস, সেন র‍্যালে হয়ে হিন্দমটর ছুঁয়ে তালিকাটা হয়তো থামবে সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানার উপাখ্যান দিয়ে। সেসব রাজনীতির বিষয়। স্থাপত্য এই নিয়ে লেখার জায়গা নয়।

তবে বাংলার শিল্পের এই অন্তর্জলী যাত্রার সাথে সাথে কত যে টাউনশিপ ধ্বংস হল, তার বৃদ্ধ কর্মীরা সব হারিয়ে পথে বসল আর কত শপ ফ্লোরে যে আর বিশ্বকর্মাই এলেন না তার হিসেব আর কেই বা রেখেছে? হুগলীর এই কত শত বন্ধ কারখানার লোহার ছাট বিক্রি করেই কত শ্যামল, হুব্বাগিরিতে হাত পাকালো আর গঙ্গাতীরের কত হেরিটেজ কারখানা ধ্বংস হয়ে যে কুড়ি তলা গঙ্গা ফেসিং আবাসন উঠল তার গল্পও তো চোখের সামনেই লেখা হচ্ছে গত কয়েক দশকে।

বাংলার এই পরিত্যক্ত টাউনশিপের গল্পগুলো নিয়ে যেন আলাদা আলাদা বই লেখা যায়। বছর দুই আগে টিভি নাইন বাংলা এই নিয়ে সুন্দর কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। কমেন্টের লিংকে দিলাম। সময় হলে দেখতে পারেন। এছাড়া নিচের ছবির সাথেই হিন্দমটর কারখানার এক খানা ৩৬০ ডিগ্রি ড্রোণ চিত্র (শেষ ছবিটা) প্রকাশ করলাম। ছবিতে ক্লিক করে দেখলে কারখানার উত্তরে যে ৩৮৫ একর জমি নিয়ে জলা জমি ভরাট করে এপার্টমেন্ট উঠছে কিম্বা দক্ষিণের টিটাগর ওয়াগন ফ্যাক্টরির শাখা যেখানে বন্দে ভারত তৈরি হচ্ছে – পুরোটাই দেখতে পাবেন।

পাঠকদের মধ্যে যদি কারোর কাছে হিন্দমটর কারখানা, আবাসন কিম্বা ঐ চত্বরের পুরনো দিনের ছবি থাকে তবে কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে ভুলবেন না। হিন্দমটর কারখানার স্মৃতি থেকে মুছে যাবার আগে এই ছোট ছোট আঞ্চলিক ইতিহাসগুলোকে ধরে রাখা বড্ড দরকার।

- অরুণাভ সান্যাল

Drone Footage of Hindmotor Factory: https://www.youtube.com/watch?v=jbSafS-p1Jc

বাংলার সাত-মহলা জমিদার বাড়ি বাংলার জমিদার বাড়ি কিম্বা রাজ বাড়ির কথা উঠলেই একটা বিশেষণ বার বার করে উঠে আসে, তা হল ‘সাত মহ...
19/02/2024

বাংলার সাত-মহলা জমিদার বাড়ি

বাংলার জমিদার বাড়ি কিম্বা রাজ বাড়ির কথা উঠলেই একটা বিশেষণ বার বার করে উঠে আসে, তা হল ‘সাত মহলা’ বাড়ি। ঠাকুমার ঝুলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপন্যাসে বাংলার লেখকরা এই সাত মহলা বাড়ির উল্লেখ করেছেন। এখন সমস্যা হল এই সাত শব্দটা আমাদের সাহিত্যে বারবার উঠে এসেছে, যেমন সাত সমুদ্র তেরো নদী, সাতকুলে কেউ নেই ইত্যাদি। তাই সাতমহলা বলতে কি সত্যিই সাতটা আলাদা আলাদা মহলযুক্ত বাড়ি নাকি সুবৃহৎ অট্টালিকাকে বোঝাতে এই সাত মহলা বাড়ির উল্লেখ করা হয়েছে?

এর উত্তর পাওয়া বেশ শক্ত। কারণ এখন অব্দি অনেক খুঁজেও আমি এই সাত মহলা বাড়ির আলাদা আলাদা সাতটা মহলের উল্লেখ পাইনি। বাস্তু শাস্ত্রে আলাদা করে সাত মহলের উল্লেখ নেই, বরং এই বিশেষণ একান্তই বাংলার। আর মহল শব্দের অর্থ গৃহ কিম্বা ভবনের অংশ দুই হতে পারে। ফলে সাত মহলা বলতে সাতটা আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট স্থাপত্য থাকবে নাকি পরস্পরসংযুক্ত সাতটা আলাদা আলাদা অংশ নিয়ে নির্মিত একটাই বৃহৎ অট্টালিকাকেও সাতমহলা বাড়ি বলা যাবে?

উত্তর জানা নেই!

সমস্যাটা হল পাল-সেন যুগে বাংলার রাজপ্রাসাদ ঠিক কেমন হত তার কোনো প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের কাছে নেই। বরং পাঠান/মুঘল আমলে যে প্রাসাদগুলো নির্মিত হয়েছিল তারই স্থাপত্যকীর্তি এবং প্ল্যানিং, আমাদের বাংলার জমিদারদের এবং স্থপতিদের প্রভাবিত করেছিল। সময়ের সাথে সাথে এবং প্রয়োজনের তাগিদে বাংলার নিজস্ব রীতি সেখানে যুক্ত হয়েছে। খড়ের দুর্গামণ্ডপ, জমিদারবাড়ির দুর্গাদালান হিসেবে জুড়ে গেছে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর যে কয়েকশো নব্য জমিদারের উদ্ভব হল তারা ব্রিটিশদের অনুকরণ করে দুর্গাদালানের থাম বানিয়েছে গ্রিক ক্লাসিকাল অর্ডার মেনে। পূর্ব বঙ্গে আবার জমিদারবাড়ির প্রাঙ্গনে মঠ স্থাপত্য মন্দির নির্মাণ করা শুরু হয়েছিল গির্জার সুউচ্চ চূড়ার অনুকরণ করে। এরকম অনেক মিশ্রণ ঘটেছে বাংলার জমিদারবাড়িগুলোর স্থাপত্যে।

এখন অব্দি আমার দক্ষিণ বঙ্গের জমিদারবাড়িগুলোতে ঘোরার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছে, বড় জমিদারবাড়ি হলে মোটামুটি সাতের থেকে বেশিই আলাদা আলাদা মহল থাকত। নিচে তারই উল্লেখ করলাম -

১। সিংহদুয়ার এবং নহবতখানা (নহবতখানা হল মূলত বাদ্যঘর। গেটের উপরে হত এর অবস্থান। সকাল সন্ধ্যায় সানাই/তবলা ইত্যাদি বাজানো হত। বড় জমিদারবাড়ি হলে পরিখার পর গেট কমপ্লেক্স নির্মিত হত এবং গেটের উপর নিরাপত্তার খাতিরে সৈন্যদের ঘর এবং কামান বসানো হত। উদাহরণ – বাঁশবেড়িয়া রাজবাটী)

২। বাহির মহল (বাড়ির সামনের দিকের অংশ যেখানে প্রজাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হত, অনেকটা দিওয়ান-ই-আমের মত)

৩। নাটমহল (হিন্দু মন্দিরের সামনের অংশ যেখানে নৃত্য-গীত পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীকালে বাহির মহলের সাথেই আলাদা করে নাটমন্দির নির্মিত হত আমোদ আল্লাদের জন্য।)

৪। দুর্গাদালান (এটা একান্তই বাংলার। খুব পুরনো কিছু দুর্গাদালান মূল জমিদারবাড়ির বাইরে নির্মিত হলেও বিগত ২০০ বছরে নির্মিত বাংলার জমিদারবাড়িতে মূলত বাড়ির সাথেই খোলা উঠোন এবং দুর্গাদালান নির্মিত হত।)

৫। অন্দর মহল (জমিদার পরিবারের থাকার জন্য নির্দিষ্ট অংশ)

৬। খাস মহল (জমিদার/রাজার ব্যক্তিগত ভবন)

৭। রানী মহল (রানী/জমিদার গিন্নীর ব্যক্তিগত ভবন)

৮। রং মহল (হারেম কিম্বা বাইজিদের থাকার নির্দিষ্ট মহল)

৯। কাছারি/কাচারি ঘর (খাজনা আদায়ের জন্য আলাদা জায়গা। জমিদারবাড়ির বাইরেও হতে পারে। অনেক জায়গায় আবার কাচারি ঘর মানে গেস্ট রুম।)

১০। ভৃত্য মহল (বড় জমিদারবাড়ির ক্ষেত্রে ভৃত্যদের থাকার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা করে একটা ভবন নির্মিত হত। যেমন- মহিষাদল রাজবাড়ি)

১১। বাগান – বাঁধানো পুকুর

মোটামুটি খুব বড় জমিদারবাড়ি হলে, সব মিলিয়ে এই দশ-এগারোটা আলাদা আলাদা অংশ থাকত। নিচের ড্রোন ফুটেজে, ইটাচুনা রাজবাড়ির বাহিরমহল এবং নাটমন্দির অংশদুটো পরপর বোঝা যাচ্ছে। উত্তরপূর্বে যে ছোট্ট উঠোনটা (courtyard) দেখা যাচ্ছে তাকে কেন্দ্র করেই অন্তরমহলের ঘরগুলো সাজানো। এবং বৃত্তাকার বাগানটার ডানদিকের অংশটাই মূলত কাছারি ঘর এবং ভৃত্য মহল হিসেবে ব্যবহার করা হত। আবার এই অংশেরই মধ্যে আলাদা করে নাচঘর বা নাচমহল ছিল (ছবিতে দেখতে পাবেন মাঝের অংশে ছাদটা সামান্য উঁচু হয়ে আছে। ওটাই নাচমহল।)

এখন দুই বাংলার সর্ব বৃহৎ জমিদারবাড়ি কোনটা আমার জানা নেই, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে একাধিক সুবৃহৎ জমিদার বাড়ি রয়েছে যেমন কালিকাপুর, ইটাচুনা, মহিষাদল, হেতমপুর, বাওয়ালি,আন্দুল ইত্যাদি। এই বাড়িগুলোকে নিয়ে একধিক কাজ হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর্কিটেকচারাল প্ল্যানিং এবং সময়ের সাথে সাথে এই সুবৃহৎ অট্টালিকাগুলোর ফ্লোর প্ল্যানিং কিভাবে বদলেছে সেই নিয়ে আলোচনা সেভাবে হয়নি। ফলে এই নিয়ে গবেষণার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

আমার নিবন্ধে কোনো মহল বা অংশের উল্লেখ না থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। এই নিয়ে আলোচনা হোক এবং আমার বিশ্বাস আলোচনার মধ্যে দিয়ে আমরা প্রকৃত সত্যিটাকে খুঁজে বের করতে পারব। মধ্যযুগের বাংলার স্থপতিদের বংশপরম্পরায় অর্জিত জ্ঞান কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। ফলে শিল্প বিপ্লবের পর বাংলার মসলিন, মন্দির টেরাকোটার মত একাধিক শিল্পের সাথে সাথে বাংলার স্থপতিদের অর্জিত এই জ্ঞানও আজ হারিয়ে গেছে।

- অরুণাভ সান্যাল
_______________________________

নিচের ছবিটা হুগলীর ইটাচুনা রাজবাড়ির। এই বাড়ির এক বিশেষত্ব হল, এর ঠাকুরদালানখানা অর্ধ বৃত্তাকার হয়ে মূল স্থাপত্য থেকে খানিকটা এগিয়ে এসেছে। দুই বাংলায় সম্ভবত এমন বৃত্তাকার ঠাকুরদালান আর নেই। এখানে দুর্গা নয় বরং কৃষ্ণের পূজা-অর্চনা করা হয়। তার পিছনেও আছে এক আশ্চর্য ইতিহাস। মারাঠি কুন্দন পরিবার কিভাবে রাঢ় বাংলার গ্রামীন সমাজে মিশতে চেয়ে শিবের আরাধনা ছেড়ে, কৃষ্ণপ্রেমে মজে কুণ্ডু উপাধি পেল তা এখনো এই তল্লাটের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রামের কাছে অবস্থিত সাত দেউলের ৩৬০ ডিগ্রী ড্রোনচিত্র।  অন্তত হাজার বছরের পুরনো এই জৈন মন্দিরটি আজও ম...
18/02/2024

পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রামের কাছে অবস্থিত সাত দেউলের ৩৬০ ডিগ্রী ড্রোনচিত্র।

অন্তত হাজার বছরের পুরনো এই জৈন মন্দিরটি আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের একদম কাছেই। পোড়ামাটির তৈরি শিখর রীতির এত পুরনো মন্দির গোটা বাংলায় আর মাত্র কয়েকটাই টিকে আছে। তার মধ্যে বাঁকুড়ার সোনাতপল, দেউলঘাটা, পুরুলিয়ার বহুলাড়া, পাড়া, বান্দা, পশ্চিম বর্ধমানের বরাকর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার জটার দেউল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

এরকম আরো বহু সুউচ্চ মন্দির হয়তো পাল/সেন আমলে নির্মিত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে মাত্র এই কটিই টিকে রয়েছে। এছাড়া পুরুলিয়ার তেলকুপি বা তৈলকম্পেও একাধিক বিশালাকার রেখা দেউল ছিল যা পঞ্চাশের দশকে পাঞ্চেত ড্যাম নির্মাণের সময় ধ্বংস হয়ে যায়।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে সাত দেউলের গায়ে একাধিক গাছ বেড়ে উঠছে। খুব শিগগিরি এগুলোকে উপড়ে ফেলে না দিলে ভবিষ্যতে এই ছোট গাছগুলোই শেকড় বিস্তার করে স্থাপত্যের ক্ষতি করবে। আশা রাখি ASI এদিকে নজর দেবে।

ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের খোঁজে এবার জিপিএস প্রযুক্তির "পশ্চিমবঙ্গের হেরিটেজ মানচিত্র"ম্যাপের লিংক - https://goo.gl/maps/iwBKV...
09/06/2022

ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের খোঁজে এবার জিপিএস প্রযুক্তির "পশ্চিমবঙ্গের হেরিটেজ মানচিত্র"

ম্যাপের লিংক - https://goo.gl/maps/iwBKVbutfTVaA1cf9

আজকাল প্রত্যেকের স্মার্ট ফোনেই গুগল ম্যাপ থাকে। এই গুগল ম্যাপকে কাস্টমাইজড করে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যশালী স্থানগুলিকে একজায়গায় নিয়ে "Heritage Google Map of West Bengal" নামে একটি অসাধারণ ম্যাপ তৈরি করেছেন Subhankar Bandopadhyay (https://www.facebook.com/loveusubherjee/)। এতে স্থান পেয়েছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ সহ পশ্চিমবঙ্গ পুরাতত্ত্ব বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন এর স্বীকৃত ঐতিহ্যশালী স্থানগুলো। হাতে এক দুদিন ছুটি থাকলে গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়ার সময় হাতের কাছে এই ম্যাপটা থাকলে ঘোরার জায়গার অভাব হবেনা।

এছাড়া বাড়তি পাওনা হিসাবে রয়েছে- কলকাতা পৌরসংস্থার চিহ্নিত করা হেরিটেজ বিল্ডিংগুলোও। অক্লান্ত পরিশ্রম করে শুভঙ্করবাবু একসাথে ১০০০ এরও বেশি স্থান চিহ্নিত করেছেন এই ম্যাপে।

উপরের লিংকে ক্লিক করলেই আপনার নিকটবর্তী ঐতিহ্যশালী স্থানগুলোকে খুঁজে বের করতে পারবেন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। আরও জানতে পারবেন এই সমস্ত স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সাম্প্রতিক ছবি।

এছাড়াও GPS প্রযুক্তি থাকায় এক স্থান থেকে আর একস্থান কত দূরত্বে অবস্থিত সেটাও জানা যাবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। প্রত্যেক জেলা ভিত্তিক স্থানগুলি তাঁদের নির্ধারিত অফিশিয়াল চিহ্ন দিয়ে পৃথক করা রয়েছে এই ম্যাপে। একইসাথে নিরন্তর আপডেট করার মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন স্থানগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে প্রতিদিন।

এই ম্যাপের বিভিন্ন উপযোগিতাঃ

১। প্রত্যেক জায়গার সাম্প্রতিক ছবি থাকবে এই ম্যাপে।
২। প্রত্যেক জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
৩। পুরাতন এবং নতুন ছবি।
৪। হেরিটেজ ফলকের ছবি যোগ করা হয়েছে বেশিরভাগ জায়গায়।
৫। অজানা ঐতিহাসিক স্থান, যেগুলি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি পায়নি সেগুলোকেও যোগ করার কাজ চলছে।
৬। জেলা ভিত্তিক জায়গাগুলি পৃথকীকরণ করা হয়েছে।

এরপর জিপিএস ভিত্তিক পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ভিত্তিক স্থানগুলির মানচিত্র তৈরি করতে চান শুভঙ্করবাবু। স্থাপত্যের পক্ষ থেকে আমরা শুভঙ্করবাবু জানাই অজস্র ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।

ম্যাপটা ব্যবহার করতে সমস্যা হলে এই ভিডিওর সাহায্য নিতে পারেন -
https://youtu.be/BgbomaDIh1M

দেশের প্রথম বাটা কারখানা আর কোন্নগর গ্রামের গল্প।১৯৩২ সালের এক শীতের সকাল। চিৎপুর রোডের উপর এক জুতোর দোকানে বসে রয়েছেন ...
20/02/2022

দেশের প্রথম বাটা কারখানা আর কোন্নগর গ্রামের গল্প।

১৯৩২ সালের এক শীতের সকাল। চিৎপুর রোডের উপর এক জুতোর দোকানে বসে রয়েছেন এক মাঝবয়সী চেক সাহেব। সামনের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কাতারে কাতারে মানুষ। তারই মধ্যে এক দৃশ্য দেখে চোখ আটকে গেল ভদ্রলোকের।

খেটো ধুতি আর শতচ্ছিন্ন জামা পরিহিত এক বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে রাস্তার উপর। তার ধূলি ধূসরিত মলিন পায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছে। তার ধুলোমাখা রক্তাক্ত পায়ের অজস্র পদচিহ্ন আঁকা হয়ে রয়েছে চিৎপুর রোডের উপর। একটু বিশ্রাম নিয়ে মানুষটা আবার হাতেটানা রিকশাটাকে নিয়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে।

এই সামান্য ঘটনাই এক চিরস্থায়ী দাগ ফেলে গেল সেই চেক সাহেবের মনে।

আসলে পরাধীন ভারতবর্ষে তখন খুব কম মানুষেরই সামর্থ্য ছিল জুতো কেনার মত। তেত্রিশ কোটি ভারতবাসীর জন্য মেরেকেটে এক কোটি জুতো আমদানী করা হত জাপান থেকে। ফলে খালি পায়ে হাঁটা মানুষের সংখ্যাই বেশি।

এই ঘটনার কদিন পর দেখা গেল ভাসমান হাওড়া ব্রিজের এক কোণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাই দাঁড়িয়ে আছেন সেই মাঝবয়সী সাহেব। ভদ্রলোকের নজর কিন্ত মানুষের পায়ের দিকে। পকেট থেকে নোটবই বার করে আঁকিবুকি করছেন। নোটবইয়ের প্রথম পাতায় বড় বড় অক্ষরে লেখা ভদ্রলোকের নাম।

টমাস বাটা (Tomáš Baťa)।

সেদিন থেকেই শুরু হল ভারতবর্ষের বুকে বাটার প্রথম কারখানা তৈরি করার পরিকল্পনা।

এর কয়েকদিনের মধ্যেই টমাস সাহেব খোঁজ পেলেই যে গঙ্গাতীরের কোন্নগর গ্রামে রয়েছে এক পরিত্যক্ত তেলকল (হাতিরকুল ওয়েল মিল)। কলকাতার এন্ডারসন রাইট কোম্পানি সেই তেলকল চালালেও, ১৯২৯ সালের গ্রেট ডিপ্রেশনের ধকল সইতে না পেরে তা বন্ধ হয়ে গেছে বছর তিনেক হল। তারও আগে এই তেলকলের জায়গায় ছিল দিনেমারদের ডক আর সামুদ্রিক জাহাজ তৈরির কারখানা। সেসব অবশ্য বিগত শতাব্দীর কথা।

টমাস সাহেব বছর পাঁচেকের জন্য ভাড়া নিলেই কোন্নগরের এই কারখানাকে।

এক রাতের মধ্যে কলকাতার গুদাম ঘর এবং অফিস সহ সমস্তকিছুকে নিয়ে আসা হল কোন্নগরের বুকে। তারই সাথে সাথে এল চোদ্দজন তরুন চেক সাহেবের এক টিম। ঠাই হল কারখানার দক্ষিণের বাংলোতে। শোনা যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে জি ম্যাকনেয়ার সাহবের মদের কারখানা ছিল এই তেলকলের জায়গায়। সম্ভবত তিনিই বানিয়েছিলেন এই গঙ্গাতীরের বাংলো।

দিনকয়েকের মধ্যেই কারখানা চত্বরের সমস্ত ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার করে বানানো হল ভলিবল কোর্ট। অত্যাধিক উৎসাহের বশে কর্মীরা নিজের হাতেই খুঁড়ে ফেলল এক সুইমিং পুল। ফ্যাক্টরির গেটের উপর বসল বাটার সাইনবোর্ড। কারখানার ঠিক মাঝখানে ঘণ্টা বাজানোর জন্য বসানো হল বড় বড় দুটো লোহার পাত। গঙ্গার তীরে বসলো লোহার জেটি।

আসলে ১৯২৫ সাল থেকে শুরু করে বিগত ছয় বছর ধরে বাটার জুতো আমদানি করা হত চেকোস্লোভাকিয়া থেকে। আমদানির পর সেই জুতোর দাম হয় নূন্যতম পাঁচ থেকে সাত টাকা। কিন্ত যেদেশের সাধারণ মানুষের দৈনিক রোজগার মাত্র কয়েক আনা , তাদের পক্ষে তো এই জুতো কেনা সম্ভব নয়। তাহলে উপায় ?

একমাত্র উপায় হল এদেশে বসে, এদেশের চামড়া দিয়ে, এদেশের শ্রমিকদের হাতে তৈরি বাটার জুতো। তবেই কমবে জুতোর দাম, এড়ানো যাবে আমদানী শুল্ক আর সেই জুতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবে সস্তার জাপানী জুতোকে। তাই এত আয়োজন।

কিন্ত সামনের পথটা মসৃণ ছিল না।

প্রথম সমস্যাটা হল ভাষা নিয়ে। যে সমস্ত চেক সাহেবরা এসেছিলেন কোন্নগরে তারা বাংলা তো দূর, ইংলিশই ঠিক করে বলতে পারতেন না। ফলে নতুন কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে, খাবার দাবার জোগাড় করা, বাজার করা থেকে শুরু করে সেলস নেটওয়ার্ক তৈরি করা – প্রতি পদে পদে বাধা পেলেন তারা।

দ্বিতীয়, সমস্যাটা হল বড় অদ্ভুতরকম। সেকালে হাওয়াই চটি পরার চল ছিল না এদেশে। তাই ভারতবর্ষের গরম আর আদ্র আবহাওয়ার কথা ভেবে বাটা কোম্পানি প্রথম আমদানি শুরু করল সাদা হাওয়াই চটি। কিন্ত বিক্রি বাট্টা একেবারেই হল না কারণ সাদা রং প্রথমত খুব সহজেই নোংরা হয়ে যায় আর দ্বিতীয়ত সাদা রংটা এদেশের মানুষের কাছে শোকবার্তা বহন করে। ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতি দিয়েই শুরু হল বাটার যাত্রা।

কিন্ত ভুল থেকে শিক্ষা নিল বাটা কর্তৃপক্ষ। ১৯৩২ সাল থেকেই কোন্নগরের বুকে শুরু করল সেলসম্যানদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আর কিছু তরুন চেক সাহেবকে দায়িত্ব দেওয়া হল এদেশের চামড়া শিল্প থেকে শুরু করে ক্রেতার মনস্তত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য। ধীরে ধীরে গড়ে উঠল কোন্নগর বাটা ক্লাব। স্থানীয় বহু মানুষকে বিনামূল্যে বাটার জুতো বিতরন করার সাথে সাথে অনুরোধ করা হল সেই জুতো পরে একসাথে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় গিয়ে হাঁটার জন্য। ফলে সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে বাটার জুতো চিনতে শিখল।

মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাটা এদেশের ৮৬ টা শহরে তাদের রিটেল চেন বিস্তার করে ফেলল। কোন্নগরের বুকেও তৈরি হল রিটেল আউটলেট। কিন্ত তখনও একটা উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি ছিল। ভারতবর্ষের মাটিতে বাটা তখনও চামড়ার জুতোর উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।

১২ই জুলাই, ১৯৩২ সালে এক প্লেন দুর্ঘটনায় মারা গেলেন টমাস সাহেব।

এই ঘটনার আকস্মিকতায় কয়েকদিনের জন্য থমকে গেল কাজ। কিন্ত বাটা জুনিয়র (Thomas J. Bata) দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নতুন উদ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। ঠিক হল যে কোন্নগরের কারখানায় তৈরি হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ চামড়ার ওয়ার্কশপ যেখানে প্রতি সপ্তাহে চল্লিশ হাজার অব্দি চামড়ার জুতো তৈরি করা যাবে।

১৯৩২ সালে ডিসেম্বর মাসে, জলিন (Zlín) শহরের বন্দর থেকে সমস্ত যন্ত্রপাতি আর কুড়িজন ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিল মোরাভা নামে এক জাহাজ। কিন্ত সবথেকে আশ্চর্য ব্যাপার হল, এই গোটা কর্মজজ্ঞকে বাস্তবায়িত করার জন্য বাটা কর্তৃপক্ষ কোন মূলধন তুলে দেয়নি কোন্নগরের বাটাম্যানদের হাতে। উল্টে পাঁচ লক্ষ জুতো পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল যে এই জুতো বেচে যে লাভ হবে, তাই দিয়েই শুরু করতে হবে ভারতবর্ষে কর্মকান্ড।

১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পৌঁছাল জাহাজ। কলকাতা বন্দরে সেই সমস্ত ভারী ভারী যন্ত্রাংশ খালাশ করার পর গঙ্গাবক্ষ বেয়ে বড় বড় নৌকা করে কোন্নগরে নিয়ে আসা হল সমস্তকিছু। শ্রীরামপুরের বঙ্গ লক্ষ্মী কটন মিলকে বরাত দেওয়া হল প্রয়োজনীয় কাপড়ের যোগান দেওয়ার। আর কারখানার রান্নাঘরেই বসে কেমিস্টরা শুরু করলেন চামড়াকে vulcanize করার পরীক্ষা নিরীক্ষা। সাথে সাথেই প্রয়োজন পড়ল দুশো জন অতিরিক্ত শ্রমিকের।

সেযুগে হুগলী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক নিয়োগ হত সর্দারদের মাধ্যমে। এই সর্দাররা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাবান এক মধ্যস্বত্তভোগী গোষ্ঠী যারা ঠিকা শ্রমিকের নিয়োগ থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরি অব্দি সবটাই নিয়ন্ত্রন করত।

বাটা কিন্ত এই সর্দারদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই নিয়োগ শুরু করল। প্রতিদিনের মজুরির বদলে সপ্তাহান্তে মজুরি দেওয়া শুরু হয় বাটা কর্মীদের যা আশে পাশের কারখানার থেকে ছিল অনেকটাই বেশি। কিন্ত তারপরও সর্দারদের প্রভাব এতটাই ছিল যে তাদের উপেক্ষা করে শ্রমিক নিয়োগ করতে গিয়ে বাটা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ বেগ পেতে হয়েছিল শুরুতে।

শেষ অব্দি এই সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করেই ১৯৩৩ সালের পয়লা মে কোন্নগরের বুকে তৈরি হল ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক জুতো। টেলিগ্রামে সেই খবর বাটার হেড কোয়ার্টারে পৌঁছানোর সাথের সাথেই প্রবল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল গোটা পৃথিবীর সমস্ত বাটাকর্মীরা।

এরপর শুরু হল বাজার দখলের লড়াই। বাটার প্লিমসল (plimsoll) জুতো সস্তা, টেকসই আর আন্তর্জাতিক মানের। ফলে ১৯৩৪ থেকেই জাপানী জুতোর একচেটিয়া বাজারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে শুরু করল মেড ইন ইন্ডিয়া ট্যাগমার্কা বাটার জুতো। আগে বছরের বিভিন্ন সময় জুতোর দাম বাড়াকমা করত আমদানির উপর নির্ভর করে। কিন্ত বাটার প্রতিষ্ঠিত শোরুমে জুতোর দাম থেকে শুরু করে মাপ – সমস্ত ছিল ষ্ট্যাণ্ডার্ড।

এই সমস্ত বদলের ফলে জাপানী জুতো যখন বাজার হারাচ্ছে তখনই প্রথম আঘাতটা এল ভারতীয় ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে যারা জাপান থেকে জুতো আমদানী করে এতদিন দিব্যি ব্যবসা করছিল। প্রভাব খাটিয়ে তারা বাটার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেন করা শুরু করল কোন্নগর জুড়ে। প্রথমেই রটিয়ে দেওয়া হল যে বাটা দেউলিয়া হয়ে গেছে টমাস বাটার মৃত্যুর পর। তারপর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর ছাপা হল যে বাটা আসলে স্বদেশী মুচিদের ভাত মারছে। ফলে ছোটখাট বিক্ষোভ হল কারখানার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্থানীয়দের মতে, কারখানায় গরুর চামড়া ব্যবহার নিয়েও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছিল বাটা কারখানার সামনে। উত্তর কোন্নগরের ব্রাহ্মণদের তীব্র আপত্তি ছিল এই চামড়ার জুতো তৈরিতে। ফলে স্থানীয় জমিদারদের প্রত্যক্ষ মদতেই বাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

কিন্ত এরপরও বাটা কারখানা রমরমিয়ে চলছিল। ১৯৩৪ সালের শেষের দিকে প্রায় এক হাজার মানুষ কাজ করতেন কোন্নগর কারখানায় যার মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ছিলেন কোন্নগরের বাসিন্দা। এছাড়া যত নতুন মানুষ এলেন, কোন্নগরের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ল। বাজারের আকার কয়েক বছরের মধ্যে হল দ্বিগুণ, বহু পরিবার দারিদ্র কাটিয়ে স্বচ্ছল হয়ে উঠল বছর তিনেকের মধ্যেই।

কিন্ত ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে স্থান সংকুলান করা দায় হল কোন্নগরে। গঙ্গা তীরের বাংলোতে মাত্র ছটা ঘর ছিল যাতে দুটো চেক পরিবার সহ বারোজন সাহেব থাকতেন। ওয়ার্কশপ এবং গোডাউনের জন্যও জায়গা কম পড়তে শুরু করল।

ফলে ১৯৩৪ সালে কলকাতা পোর্ট কমিশনের কাছ থেকে গঙ্গার অপরতীরে নুঙ্গি এলাকায় এক বিশাল জল জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত প্রান্তরকে কিনে নিল বাটা কর্তৃপক্ষ। ২৮ শে অক্টোবর ১৯৩৪ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাথে সাথে শুরু হল আধুনিক বাটানগরের সূচনা।
১৯৩৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমস্ত বাটাকর্মীদের নিয়ে এক বিশাল কনফারেন্স হল কোন্নগরে যেখানে বাটানগরের বুকে নতুন কারখানার কথা ঘোষণা করা হল। সেই বছরই পুজোর ছুটিতে সপ্তমী আর অস্টমীর দিনে দু লক্ষ জুতো সহ প্রায় সমস্ত যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলা হল বাটানগরের নবনির্মিত কারখানাতে। পরের বছর মে মাসে বাটার সাথে এন্ডারসন রাইটের লিজ শেষ হয়ে যায়। ১৯৩৬ সালের আগস্ট মাসে বাটার যে কজন চেক সাহেব কোন্নগরে থাকতেন তারাও শেষবারের মত কোন্নগরকে বিদায় জানালেন।

অবশ্য বাটার শেষ চিহ্নটা আজ থেকে বছর দশেক আগেও ছিল কোন্নগরের বুকে। ক্রাইপার রোড আর জিটি রোডের সংযোগস্থনে যে বাটার জুতোর দোকান তৈরি হয়েছিল ১৯৩৩ সালে তা দীর্ঘ সত্তর বছরের বেশি চলার পর আজ থেকে বছর পনেরো আগে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্ত এখনো মানুষ ঐ জায়গাটাকে বাটা মোড় বলেই ডাকে।

আর জাপানী জুতোর কি হল যারা বাটার সাথে সমানে সমানে টক্কর দিতে চেয়েছিল ? ১৯৪১ সালের পার্ল হারবার আক্রমনের পর এদেশে জাপানী শিপমেন্ট আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল। ফলে জাপানী জুতোও ভারতের বাজার থেকে মুছে গেল।

এই হল কোন্নগরের বুকে বাটার গল্প। আসলে বাটার প্রসঙ্গ উঠলেই সবাই বলে বাটানগরের (Batanagar) নাম কিন্ত কোন্নগরের বুকে বাটার এই শুরুর দিনগুলোর কথা আজও অজানাই রয়ে গেছে। তাই কোন্নগরের বুকে ইউরোপিয়ানদের ইতিহাস নিয়ে যে লেখা শুরু করেছিলাম আজকে তারই শেষ পর্ব। এর আগে দিনেমার ডক এবং ক্রাইপার সাহেব সহ বিখ্যাত হেওয়ার্ডস মদের কারখানা নিয়ে লিখেছিলাম। আজকে বাটার ইতিহাসের সাথে সাথে কোন্নগরের ইতিহাসের একটা অধ্যয় শেষ করলাম।

কোন্নগর ঐতিহ্য পরিষদের তরফ থেকে কোন্নগরের উপর একটা বই বের করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এই বছর। শুভদীপ’দাকে কথা দিয়েছি যে কোন্নগরের শিল্পের ইতিহাস নিয়ে সেখানে বিস্তারিত লিখব। সেই কাজটাই খানিকটা এগিয়ে রাখলাম এখানে।

আশা রাখি আপনারা লাইক, শেয়ার করে এই লেখাটা আপনাদের পরিচিতদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন যাতে ইতিহাসের এই অজানা পর্বকে নিয়ে আরো বহু মানুষ জানতে পারেন।

– অরুনাভ সান্যাল

• লেখাটার ব্লগ লিংকঃ https://konnagarheritage.wordpress.com/2022/02/20/story-of-indias-first-bata-factory-in-konnagar-hooghly-hatirkool/ (এখানে আরো বেশ কিছু তথ্য এবং ছবি যোগ করেছি যা ফেসবুকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।)

Google Map Location of the site: https://goo.gl/maps/1neFANL1AVSHLcWp8

_______________

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ Rathindranath Chakraborty, Milan Balaban (Information Centre Bata, Tomas Bata University ,Zlín) , Olek J Plesek ([email protected]), Helene Giglietti Staroba, Subhadip Kansabanik, Nilay Roy Chowdhury , দেবর্ষি মৈত্র, Radranil Chattopaadhyay,
_________________

Sources: The First Decade of Batanagar (Jan Baros), The Zlin Enterprise A Profile of the Role of the First Multinational Organization in the Leather Industry in Bengal, আমাদের কোন্নগর (নীলমণি বন্দ্যোপাধ্যায়), কোন্নগরের ইতিহাস (রামকৃষ্ণ সরকার), গর্বের শহর কোন্নগর (শুভদীপ কংসবনিক)
___________________

• কোন্নগরের দিনেমারদের প্রাচীন জাহাজঘাটা সম্পর্কিত লেখাঃ https://www.facebook.com/bidrohi.baulreet/posts/4459542917461495
• লাল কুঠি, ক্রাইপার সাহেব আর হেওয়ার্ডস মদের গল্পঃ https://www.facebook.com/bidrohi.baulreet/posts/4511927415556378

Address

Konnagar

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sthapatya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sthapatya:

Share

Category

Our Story

বাংলা ভাষায় ,বাঙালিদের জন্য প্রথম স্থাপত্য বিষয়ক ওয়েব পেজ । প্রিন্সেপ ঘাট থেকে পাণ্ডু রাজার ঢিপি...মন্দির থেকে মিহরাব ... টেরাকোটা থেকে পেন্ডেনটিভ... দুলাল মুখার্জি থেকে রফিক আজম ... কাটোয়া থেকে রাজশাহী হয়ে বিক্রমপুর ঘুরে মোগলমারি ... মিলে মিশে যাক দুই বাংলা । উদ্দেশ্য একটাই - বাঙালিদের মধ্যে ''স্থাপত্য বা Architecture'' বিষয়টা নিয়ে ভালোবাসা , আগ্রহ আর সচেতনতা গড়ে তোলা ।