24/06/2026
এক রাতে ৯ জন মানুষ নিজেদের তাঁবু ভেতর থেকে ছিঁড়ে ফেলেছিল... তারপর খালি পায়ে, মাইনাস ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার বরফঝড়ের মধ্যে অন্ধকারে দৌড়ে গিয়েছিল। আর তাদের মধ্যে কেউই আর জীবিত ফিরে আসেনি।”
শুনতে কি কোনো হরর সিনেমার গল্প মনে হচ্ছে?
কিন্তু না। এটা বাস্তব ঘটনা।
১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। সোভিয়েত ইউনিয়নের উরাল পর্বতমালার এক নির্জন অঞ্চল—ডায়াটলভ পাস। নয়জন তরুণ-তরুণী পর্বতারোহী, অভিজ্ঞ স্কিয়ার এবং অভিযাত্রী, একটি কঠিন শীতকালীন অভিযানে বেরিয়েছিলেন। দলের নেতা ছিলেন ২৩ বছর বয়সী ইগর ডায়াটলভ।
তাদের সবাই ছিল দক্ষ, সুস্থ এবং প্রস্তুত।
কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর যখন উদ্ধারকারী দল তাদের খুঁজে পেল, তখন যে দৃশ্য সামনে এল, তা আজও পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর একটি।
শেষবার তাদের দেখা গিয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ সালে।
সেদিন সন্ধ্যায় তারা পাহাড়ের ঢালে একটি তাঁবু খাটায়। চারপাশে শুধু বরফ, হিমশীতল বাতাস আর অসীম নীরবতা। সভ্যতা থেকে বহু কিলোমিটার দূরে, তারা ছিল সম্পূর্ণ একা।
কল্পনা করুন...
রাত গভীর হচ্ছে।
বাইরে তুষারঝড় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।
তাঁবুর ভেতরে সবাই হয়তো দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ ডায়েরি লিখছে, কেউ গল্প করছে, কেউ হয়তো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে।
তারপর...
কিছু একটা ঘটে।
এমন কিছু, যা এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে তারা এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি।
তদন্তে দেখা যায়, তাঁবুর মূল প্রবেশপথ ব্যবহার করা হয়নি। বরং ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁবুটি ভেতর থেকে কেটে ফেলা হয়েছিল।
হ্যাঁ, ভেতর থেকে।
যেন যারা সেখানে ছিল, তারা মরিয়া হয়ে বেরিয়ে যেতে চাইছিল।
আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, অনেকেই বেরিয়েছিল যথেষ্ট পোশাক ছাড়াই। কেউ খালি পায়ে, কেউ শুধু মোজা পরে, কেউ আবার শীতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্যাকেটও পরেনি।
মাইনাস ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়।
মধ্যরাতে।
একটি বরফঝড়ের মধ্যে।
প্রশ্ন হলো—কেন?
তারা কোথায় যাচ্ছিল?
কিসের ভয়ে পালাচ্ছিল?
উদ্ধারকারীরা বরফের ওপর কিছু পদচিহ্ন খুঁজে পান। সেই পদচিহ্নগুলো ধীরে ধীরে তাঁবু থেকে দূরে, অন্ধকারের দিকে চলে গেছে।
প্রথম দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায় একটি বড় গাছের নিচে। মনে হচ্ছিল তারা আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু এরপর গল্প আরও অদ্ভুত হয়ে ওঠে।
আরও কয়েকজনকে পাওয়া যায় তাঁবুর দিকে ফেরার পথে। যেন তারা আবার ফিরে আসতে চেয়েছিল।
কিন্তু পারেনি।
তুষার আর ঠান্ডা তাদের থামিয়ে দিয়েছিল।
তারপর কয়েক মাস পর বরফ গলতে শুরু করলে পাওয়া যায় বাকি চারজনকে।
আর সেখানেই শুরু হয় আসল রহস্য।
একজনের বুকের হাড় এমনভাবে চূর্ণ ছিল, যেন ভয়ঙ্কর কোনো শক্তি তাকে আঘাত করেছিল।
আরেকজনের মাথার খুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
এক তরুণীর জিহ্বা অনুপস্থিত ছিল।
কিছু পোশাকে অস্বাভাবিক মাত্রার রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান পাওয়া যায়।
কোনো লড়াইয়ের স্পষ্ট চিহ্ন নেই।
কোনো অপরাধীর পদচিহ্ন নেই।
কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যাও নেই।
বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য তত্ত্ব সামনে এসেছে।
তুষারধস?
গোপন সামরিক পরীক্ষা?
অজানা শব্দতরঙ্গ যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল?
গোপন অস্ত্র?
ইয়েতি?
এমনকি ভিনগ্রহবাসীর তত্ত্বও বাদ যায়নি।
কিন্তু সমস্যাটা হলো—প্রতিটি ব্যাখ্যাই কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়, আবার নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।
আজ, ৬০ বছরেরও বেশি সময় পরে, ডায়াটলভ পাসের সেই বরফে ঢাকা রাত এখনও মানুষের কল্পনাকে তাড়া করে বেড়ায়।
কারণ আমরা জানি তারা মারা গিয়েছিল।
আমরা জানি তারা ভয় পেয়েছিল।
কিন্তু আমরা এখনও জানি না...
সেই রাতে তাঁবুর ভেতরে তারা কী দেখেছিল?
কী শুনেছিল?
অথবা কিসের হাত থেকে বাঁচতে তারা মৃত্যুর মুখে ছুটে গিয়েছিল?
আপনার কী মনে হয়—ডায়াটলভ পাসের সেই শেষ রাতে আসলে কী ঘটেছিল? রহস্যময় প্রাকৃতিক ঘটনা, গোপন সামরিক অভিযান, নাকি এমন কিছু যার ব্যাখ্যা আজও আমাদের জানা নেই?