30/01/2024
.পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ. :-
সিয়াম, হজ্ব, যাকাতসহ ইসলামের অন্যান্য সব ইবাদত পৃথিবীর জমিনে ফরয হয়েছে। আর সালাত ফরয হয়েছে আসমানের ওপর। শুধু তাই নয়,সালাত আরশের পাশে স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের উপস্থিতিতে ফরয হয়েছে। এজন্য সালাতের প্রতি যে ধরণের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে অন্যান্য ইবাদাতের ব্যাপারে এ ধরণের গুরুত্বের কথার উল্লেখ নেই। তেমনি কুরআন-হাদীসে সালাতের কথা যেভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, অন্যান্য ইবাদাতের বেলায় এমনটি বলা হয়নি।
⬛ দুনিয়ার ভালো-মন্দ কর্মগুলো আখিরাতে পরিমাপ করা হবে। দুনিয়ায় যারা বেশি বেশি নেক আমল করবে। তারা কিয়ামতের কঠিন সময়ে সফলকাম হবে। কিয়ামত দিবসে পরিবার-পরিজন কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না। প্রত্যেকে নিজের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সে দিন শুধু দুনিয়ার নেক আমলের ওপর ভরসা করতে হবে।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।
-(তাবরানি ১৯২৯)
🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যারা ঈমান এনেছ, আল্লাহ পাককে ভয় করো, প্রত্যেকের উচিত লক্ষ করা যে, আগামীকালের জন্য সে কি পেশ করতে যাচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাকো; অবশ্যই তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ পাক তার পূর্ণাঙ্গ খবর রাখেন।’
-(সূরা হাশর:১৮)
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতর হিসাব নেয়া হবে। যদি সালাত ঠিক থাকে তবে অন্যান্য আমলও সঠিক বলে প্রমাণ হবে। আর যদি সালতের হিসাবে গরমিল হয়, অন্যান্য আমলও ত্রুটিযুক্ত হয়ে যাবে।’
-(তিরমিজি-১:২৪৫পৃ.)
◾কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা সালাত আদায়কারী ব্যক্তিদের প্রতিদান দেবেন। যারা দুনিয়াতে সালাত কায়েম করেছে, যাকাত প্রদান করেছে, সে দিন তারা আনন্দ-উল্লাস করতে থাকবে। তাদের জাহান্নামের কোনো ভয় থাকবে না। আর দুনিয়ার বেনামাজিরা, সে দিন হা-হুতাশ করতে থাকবে।
🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।’
📖-(সূরা বাকারা:১১০)
🍃 ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে যা কখনো ধ্বংস হবে না।’
📖-(সূরা ফাতির:২৯)
◾পরকালে সাফল্য লাভের চাবিকাঠি হলো সালাত আদায় করা। পরকালে নাজাত পেতে হলে, দুনিয়ার জিন্দেগিতে সালাতের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সালাত আদায়কারী ব্যক্তিরাই জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা হবেন।
🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ওই সব ঈমানদার সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে খুশু-খুজুর সাথে আদায় করে।’
📖-(সূরা মুমিনুন:১-২)
🍃 ‘যারা নিজেদের সালাতের হেফাজত করে, এরাই আল্লাহর জান্নাতে মর্যাদাসহকারে প্রবেশ করবে।’
📖-(সূরা মা’আরিজ :৩৪-৩৫)
🍃 ‘যারা তাদের সালাত সমূহের হিফাজতকারী, মূলত এরাই হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী এবং সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।’
📖-(সূরা মুমিনুন: ৯-১১)
◾ যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তাদের আমলনামায় কোনো গোনাহ থাকবে না। সালাত বান্দার আমলনামা থেকে গোনাহগুলোকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
‘তোমরা বলতো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবারা উত্তরে বললেন: না, কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর রাসূল সা: বললেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত এমনই। এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক সালাত আদায়কারীর সব গোনাহ মাফ করে দেন।’
-(বোখারি:৫০৩)
◾ সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করলে, আখিরাতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,,
‘যার এক ওয়াক্ত সালাত ছুটে গেল তার যেন ঘরবাড়ি, পরিবার-পরিজন ও ধন-দৌলত সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হলো।’
📋-(ইবনে হিব্বান-৪:৩৩০ পৃ.)
◾ সালাতের গুরুত্ব এতটাই যে, মুসলমান ও অন্য ধর্মের লোকদের মধ্যে পার্থক্যই হলো সালাত।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
‘বান্দা ও শিরক এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য সালাত ছেড়ে দেয়া।’ 📋-(মুসলিম:২৪৭)
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথ পাবন্দীর সাথে আদায় করে, উত্তমরূপে অজু করে, সময়ের প্রতি খেয়াল রাখে, রুকু-সিজদা ঠিকমতো আদায় করে এবং এভাবে সালাত আদায়কে নিজের ওপর আল্লাহ তায়ালার হক মনে করে, তবে জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম করে দেয়া হবে।
📋-(মুসনাদে আহমাদ-৪: ২৬৭পৃ.)
_____________________________
🎆 হাদীসে বর্ণিত ফজরের সালাতের ফজিলত :- 🎆
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।
📋-(তাবরানি ১৯২৯)
⬛ মূলত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এমন ইবাদত যা সারা বছর দৈনিক পাঁচ বার আদায় করতে হয়। মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অবস্থাতেই সালাত মাফ হয় না। এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও সালাত হতে বিরত থাকার কোনো বিধান নেই।
◾পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে ফজর সালাতের গুরুত্ব আরো বেশি। হাদিসে এর এত বেশি গুরুত্ব এসেছে যে, যদি একজন মুমিন তন্মধ্য থেকে মাত্র একটিও মনে রাখে তাহলেও এক্ষেত্রে তার গাফলতি অনায়াসে দূর হয়ে যাবে। তার হিম্মত বেড়ে যাবে। ঘুম ও অলসতা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হবে। নব প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সে ফজরের জামাতে শরিক হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টায় ব্রতী হবে—ইনশা আল্লাহ।
🔮 এ লক্ষে ফজরের সালাত আদায়ে বিশেষ ১০ টি উপকারী দিক পাঠকের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।
🔷 ১. ফজরের সালাতে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত পড়ার সমান।
🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ঈশার সালাত আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে সালাত পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে সালাত পড়লো।
📋-(মুসলিম ১০৯৬)
🔷 ২. ওই দিনের পুরোটা আল্লাহর জিম্মায় থাকার দুর্লভ সৌভাগ্য। ফজরের সালাত পড়লেই শুধু এ-ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য লাভ করা যাবে।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় চলে গেল। অতএব আল্লাহ যেন তার জিম্মার বিষয়ে তোমাদেরকে কোনোরূপ অভিযুক্ত না করেন।
📋-(তিরমিযি ২১৮৪)
🔷 ৩. ফজরের সালাত কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দেবে।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যারা আঁধারে (ফজর সালাতে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।
📋-(আবু দাউদ ৪৯৪)
🔷 ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত প্রাপ্তির সুসংবাদ।
🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের সালাত) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
📋-(মুসলিম ৬৩৪,নাসায়ি ৪৭১, ৪৮৭, আবু দাউদ ৪২৭, আহমদ ১৬৭৬৯, ১৭৮৩৩)
🔷 ৫.মুনাফেকি থেকে মুক্তি পাবে।
🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
মুনাফিকদের উপর ফজর ও এশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।
📋-(বুখারি ৬৫৭, ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪,
-মুসলিম ৬৫১)
🔷 ৬. সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে।
🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদেরকে সালাতরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা সালাতরত ছিল।
📋-(বুখারি ৫৪০)
🔷 ৭. দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"ফজরের দুই রাকাত সালাত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ"।
📋-(মুসলিম ১২৪০)
🔷 ৮. পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে, যদি সে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে।
🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত শেষ বসে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল সালাত (ইশরাক) আদায় করবে, সে পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে। ‘পরিপূর্ণ’ এ শব্দটি তিনি তিনবার বলেছেন।
📋-(তিরমিযী ৫৮৬)
🔷 ৯. তুলনাহীন গণিমত লাভ করবে :-
🍂 উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সাথে যায় নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোন সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখি নি। তখন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের সালাতে জামা’আতে হাযির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।
📋-(তিরমিযি ৩৬৪১)
🔷 ১০. কেয়ামতের দিন সরাসরি আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ। আর এটি হচ্ছে সর্বোত্তম পুরস্কার।
🍂 জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল বাজলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন,
শোন! নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ঐ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য উঠার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার আগের সালাত আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই কর। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবীহ্ পাঠ করুন।”
🍂(বুখারি ৫৭৩)
________________________
সালাত পরিত্যাগ কারীর শাস্তি ও বিধান :-
________________________
সালাত পরিত্যাগকারীর জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য।
(যারিয়াত ৫৬)
আর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান ইবাদত হল সালাত। সালাত পরিত্যাগকারীর জন্য মহান আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।
আল্লাহ বলেন,
তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তবেই তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই’।
(তওবা ১১)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
‘তাদের পর আসল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসে (জাহান্নামের গভীরে) পতিত হবে’।(মারইয়াম ৫৯)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
‘অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কিসে সাক্বার নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারী ছিলাম না’। (মুদ্দাছ্ছির ৪১-৪৩)
উক্ত আলোচনা প্রমাণ করে সালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি মুসলিম ভাই হতে পারে না।
★আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মু’মিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো। ( মুসলিম ১৪৮, ইবনে মাজাহ,- ১০৮০, তারগীব ৫৬৫, ১৬৬৭)
★রাসূল (সাঃ) বলেন,
‘যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আগামী কাল আল্লাহর সাথে মুলাক্বাত করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করে। যেখানেই উক্ত
সালাতের আযান দেয়া হোক’।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, মিহজান নামক এক সাহাবী রাসূল (সাঃ)-এর সাথে বৈঠকে বসে ছিলেন। অতঃপর আযান হলে রাসূল (সাঃ) সালাত আদায় করেন এবং মজলিসে ফিরে আসেন। তখন উক্ত মিহজান বসেছিলেন।
তখন রাসূল (সাঃ)বললেন,
‘তোমাকে কিসে মুসল্লীদের সাথে সালাত আদায় করতে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নও’? সাহাবী বললেন, আমি বাড়ীতে সালাত আদায় করেছি।
অতএব উক্ত হাদীছদ্বয় প্রমাণ করে- সালাত আদায় করা মুসলিম ব্যক্তির মূল পরিচয়। অন্য হাদীছে আরো কঠিন বক্তব্য এসেছে,
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি আর মুশরিক ও কা-ফে-রের মাঝে পার্থক্য হল, সালাত পরিত্যাগ করা’।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘আমাদের ও তাদের (কা-ফে-র, মুশরিক ও মুনাফিক) মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা হল সালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে, সে কুফুরী করবে’
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে সে শিরক করবে’
রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীগণ আমল সমূহের মধ্যে কোন আমল ছেড়ে দেওয়াকে কুফুরী বলতেন না, সালাত ব্যতীত।
অতএব যে ব্যক্তি সালাত আদায় করবে না, সে নিঃসন্দেহে বড় কুফুরী করবে।