PONDS Tv

PONDS Tv ইসলামিক ভিডিও দেখতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

22/03/2025

০১. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি?

উত্তরঃ আল্লাহ্‌।

০২. প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে?

উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত।

০৩. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?

উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫)

০৪. প্রশ্নঃ আল্লাহর আরশ কোথায় আছে?

উত্তরঃ সাত আসমানের উপর।

০৫. প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সর্বস্থানে বিরাজমান?

উত্তরঃ না। আল্লাহ্‌ সবজায়গায় বিরাজমান নন। তিনি সপ্তকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত। (সূরা ত্বাহাঃ ৫)

০৬. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাজ কি?

উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান, বৃষ্টি বর্ষণ, লালন-পালন করা, সাহায্য করা, জীবন-মৃত্যু প্রদান, পরিচালনা করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।

০৭. প্রশ্নঃ তাওহীদ কাকে বলে?

উত্তরঃ তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ।

০৮. প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার?

উত্তরঃ তাওহীদ ৩ প্রকার।

০৯. প্রশ্নঃ তিন প্রকার তাওহীদ কি কি?

উত্তরঃ
(১) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ বা কর্ম ও পরিচালনার একত্ববাদ
(২) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ বা দাসত্বের একত্ববাদ
(৩) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত বা নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ।

১০. প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?

উত্তরঃ আল্লাহ্‌ তাঁর কর্ম সমূহে একক- তাঁর কোন শরীক নেই, একথা মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্

24/10/2024

📕 সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম অর্থ ও ফজিলত👇👇
📕👉 এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। সমস্ত জীবজগৎ এবং জড়জগৎ এর যা কিছু আছে সমস্ত কিছুর একমাত্র অধিপতি তিনিই। আর তার সৃষ্টি জগতের মধ্যে অন্যতম সেরা বা "আশরাফুল মাখলুকাত" হলো মানুষ। আল্লাহর তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন আমি মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য। আর এই আমরাই নানান দুনিয়াবী কাজে নিজেকে জড়িয়ে সেই মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মূল্য উদ্দেশ্য ইবাদত থেকেই গাফেল হয়ে গেছি। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ, নফল ইবাদত ও সুন্নতের আমল অনেকে ঠিক মতো পালন করে না। তারপরেও আমরা যখন যতটুকু আমল করি সেটুকুওই আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। কাজের জন্য সবসময় নফল সুন্নত ইবাদত করতে না পারলেও হাদিসে অনেক ছোট ছোট আমলের কথা বলা আছে যার ফজিলত অনেক। সেরকমই একটি ছোট আমল বা দোয়া হচ্ছে সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম। আজকে আমরা এর অর্থ , বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

📕 আমল যত ছোটই হোক না কেন তা আল্লাহর কাছে অনেক দামি। এসব আমলই কেয়ামতের দিন বান্দার সামনে হাজির হবে বিশাল সওয়াব আকারে। তাই কোন আমলকেই অগ্রাজ্য করা উচিত নয়। কিয়ামতের দিন বান্দার সকল পাপ ও পুন্যের সকল হিসাব মুলায়্যিত হবে টা যদি অনু পরিমান ও হয়।

📕 আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনুল কারীমে বলেন, ‘সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। কারণ, সেদিন তাদের নিজ নিজ কৃতকর্ম দেখানো হবে। সুতরাং কেউ অণুপরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলে, সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণুপরিমাণ অসৎকর্ম করে থাকলে, তাও দেখতে পাবে।’ (সুরা জিলজাল, আয়াত : ৬-৮)

📕 সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম এর ফজিলত

📕 আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—

দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী। আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।

📕 বুখারি, হাদিস : ৬৪০৬

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।

অর্থ : মহান সেই আল্লাহ এবং তারই সকল প্রশংসা। মহান সেই আল্লাহ যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

📕 জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—

‘যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৪৬৪)

24/10/2024

#কোটি_হৃদয়ের_স্পন্দন صلى الله عليه وسلم

কখনো না দেখেও যাকে এই জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি তিনি হচ্ছেন: ❤️ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।❤️
___________________________________________
উমার (রা.) বলেন, لَأَنْتَ أَحَبّ إِلَيّ مِنْ نَفْسِي নিশ্চয়ই আপনি [নবী (ﷺ)] আমার কাছে আমার জানের চেয়েও প্রিয়।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং : ৬৬৩২]
উহুদ যুদ্ধের ভয়াবহ মুহূর্তে সাহাবী আবু তালহা (রা.) নিজে ঢাল হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর আক্রমণ প্রতিহত করছিলেন। একপর্যায়ে যখন নবীজী উঁকি দিয়ে দেখতে উদ্যত হলেন তখন আবু তালহা (রা.) বলে উঠলেন,
ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি উঁকি দেবেন না; পাছে আপনার গায়ে কোনো তীর এসে লাগে। আমার বুক আপনার জন্য উৎসর্গিত!
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং : ৩৮১১]
আমর ইবনুল আস রা. মৃত্যুশয্যায় বলেছেন,
এই পৃথিবীতে আমার কাছে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেয়ে অধিক প্রিয় ও মহান আর কেউ নেই। আমার হৃদয়ে তাঁর সম্মান ও মর্যাদার এ অবস্থা ছিল যে, আমি তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারতাম না। আমাকে যদি তাঁর দেহাবয়বের বর্ণনা দিতে বলা হয়, আমি পারব না। কারণ, আমি দুচোখ ভরে তাঁকে দেখতে পারিনি।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ১৯২]
জাবির(রা.) বলেন, উহুদ যুদ্ধের সময় রাতে আমার আব্বা আমাকে ডেকে বললেন,
আমার প্রবল ধারণা, আমি নবী কারীম (ﷺ)এর সঙ্গীদের মধ্যে আগেভাগেই শহীদ হবো। আর আমি তোমাকেই সবচেয়ে প্রিয় হিসেবে রেখে যাচ্ছি, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া (কারণ, তিনিই আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়)।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং : ১৩৫১]
আয়িশাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মক্কায় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসারীর সংখ্যা যখন ৩৮এ গিয়ে পৌঁছালো, তখন আবু বকর (রা) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর নবুয়ত লাভের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।...আয়িশাহ (রা) বলেন, “আবু বকর(রা)ই ছিলেন ইসলামের প্রথম খতীব (ভাষণ দানকারী)। আল্লাহ তাঁর রাসুলের দিকে আহ্বান জানিয়ে তিনিই সর্বপ্রথম খুতবা প্রদান করেন।” ইতোমধ্যে মুশরিকদের নিকট এ সংবাদ পৌঁছে গিয়েছিল।তারা উত্তেজিত হয়ে মসজিদে এসে মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে মারধোর করতে লাগলো।আবু বকর (রা)কে পদদলিত করল।উতবা ইবন রাবি’আহ একজন জালিম ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক ছিল।সে আবু বকর (রা) এর দিকে এগিয়ে আসল এবন চপ্পল দিয়ে তাঁর চেহারায় আঘাত করতে লাগল এবং তাঁর পেটের উপর উঠে নাচতে লাগল।তাঁকে সে এত নিষ্ঠুরভাবে মারধর করল যে, তাঁর নাক চেপ্টা হয়ে তাঁর চেহারার সাথে মিশে গেল।আবু বকর (রা) এর নিজ গোত্র বনু তায়িম যখন এ খবর পেল তখন তারা দৌঁড়ে মসজিদে এল এবং মুশরিকদের সেখান থেকে তাঁড়িয়ে দিয়ে আবু বকর (রা)কে সাথে নিয়ে তাঁর ঘরের দিকে গেল।
এ সময় আবু বকর (রা) এর মৃত্যুর ব্যাপারে ঐসমস্ত লোক প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।... আবু বকর (রা) এর জ্ঞান ফিরে এলে তিনি প্রথম যে কথা বললেন, তা হল— “রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর অবস্থা কী? ”
এটা শুনে বনু তায়িমের লোকেরা ক্রোধান্বিত হয়ে তাঁকে তিরস্কার করে চলে গেল এবং তাঁর আম্মাকে তাঁর দেখাশুনা করতে বলল।
এরপর আবু বকর (রা) নিজের আম্মাকেও একান্তে একই প্রশ্ন করলেন, “রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কেমন আছেন?” কিন্তু তিনিও এ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। ইত্যবসরে উমার (রা) এর বোন উম্মু জামিল (রা) সেখানে এসে পৌঁছালেন এবং তাঁর নিকট থেকে আবু বকর (রা) অবগত হলেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থ ও নিরাপদে আছেন এবং আরকাম (রা) এর ঘরে অবস্থান করছেন, তখন তিনি শান্ত হলেন। কিন্তু সাথে সাথে এ কথাও বললেন, “আল্লাহর শপথ, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে গিয়ে স্বচক্ষে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)কে না দেখব, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন পানাহার করব না।”
তাই আবু বকর (রা) উম্মু জামিল ও নিজের মাতার সহযোগিতায় তাঁদের উপর ভর করে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হন।রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দেখেই এগিয়ে এসে চুমু খেলেন। মুসলিমরাও সমবেদনা জানানোর জন্য তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এ অবস্থা দেখে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। ...
[ইবন কাসির, সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৯-৪৪১]
উহুদ যুদ্ধে এক নারীর সাহাবীর স্বামী ও ভাই শহীদ হয়েছেন। লোকেরা যখন তাকে সমবেদনা জানাতে গেল তখন তিনি জানতে চাইলেন, নবীজী (ﷺ) কেমন আছেন? তারা বলল, ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ। (তাতেও তাঁর মন শান্ত হল না। তিনি বললেন) তবুও আমি নিজে দেখতে চাই; আমাকে দেখাও। অতপর যখন তাকে দেখানো হল তিনি বললেনঃ
("আল্লাহর রাসূল, আপনি নিরাপদ আছেন!) আপনার (নিরাপত্তার) পরে সমস্ত বিপদ তুচ্ছ!
[দালাইলুন নুবুওয়াহ, বায়হাকী ৩/৩০২; সীরাতে ইবনে হিশাম ২/৯৯]
____________________________________
লেখক: মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান মিনার (جزاه الله خيرا)
____________________________________

24/10/2024

📕 👉 যে ৯ সময়ে নিশ্চিত দোয়া কবুল হয় 👇👇
দোয়া ইবাদতের মূল। মানুষের ভাগ্য তার প্রচেষ্টা ও দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। যেমন হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না। (তিরমিজি, হাদিস ২১৩৯)

দুনিয়ার কোন মানুষের কাছে যদি আমরা কিছু চাই তখন তিনি রাগ বা বিরক্ত হোন, কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এত বেশি দয়ালু যে, তার কাছে কিছু চাইলে তিনি খুশি হন। এমনকি না চাইলে তিনি রাগ করেন।

যেমন হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগ হন। (তিরমিজি, হাদিস)

এছাড়াও স্বয়ং আল্লাহতায়ালা নিজেই তার কাছে চাওয়ার জন্য এবং যা চাইব তা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে যেমন তিনি বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। (সুরা মুমিন, আয়াত ৬০)

অন্যত্র বলেন, হে রাসুল! যখন আমার বান্দা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দিন- আমি বান্দার খুব কাছেই আছি। সে যখনই আমার কাছে দোয়া করে, আমি তার দোয়া কবুল করি। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)

দোয়া করা বড় উপকারী ইবাদত। কাজেই এই উপকারী ইবাদত তথা দোয়া কবুলের কিছু বিশেষ সময় রয়েছে। যে-সব সময়ে দোয়া করলে দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়।

দোয়া কবুলের উত্তম সময়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:-

📕১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দোয়া করলে সঙ্গে সঙ্গে কবুল করা হয়

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক দিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব সবচেয়ে নীচের আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো, আমাকে ডাকো; আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আছো, আমার কাছে চাও; আমি তোমাকে দান করবো। কে আছো? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী; আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম- ১২৬৩)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, শেষ রাতের যে কোনো সময় কোনো মুসলিমের এমনটা হয় না যে, সে পৃথিবী বা পরকালের জন্য আল্লাহর কাছে কিছু চাইল আর তাকে তা দেওয়া হলো না। আর এটা প্রতিটি রাতেই ঘটে। (মুসলিম, ১২৫৯)

📕২. শুক্রবার জুমার দিনের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটি সময় আছে যে সময়টা কোনো মুমিন নামাজ পড়া অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই সে চাহিদা পূরণ করবেন। এবং তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করে সে সময়ের সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি)

সুনানে আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় রয়েছে, ‘আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত।’ আবার সহিহ মুসলিম শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায়, ‘জুমার দিন দোয়া কবুলের চূড়ান্ত সময়, ইমামের মিম্বরে বসা হতে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।'

📕৩. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (আবু দাউদ)

📕৪. সেজদার মাঝের দোয়া

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়, তাহলো সেজদার সময়। সুতরাং তোমরা তখন আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও। (মুসলিম- ৭৪৪)

📕৫. রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘৩ ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ণ শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া। (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযি)

📕৬. কদরের রাতের দোয়া

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারি)

📕৭. আরাফাতের দিনের দোয়া

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফাতের দিনের দোয়া। (তিরমিযি)

📕৮. বৃষ্টির হওয়ার সময়ের দোয়া

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। আজানের সময়ের দোয়া আর বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া। (আবু দাউদ-২১৭৮)

📕৯. ফরজ নামাজের পরের দোয়া

সাহাবি হজরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! কোন সময়ের দোয়া দ্রুত কবুল হয়? তিনি বলেন, রাতের শেষ সময়ে এবং ফরজ নামাজের পরে। (তিরমিজি, ৩৪২১)

এছাড়াও নির্যাতিত অবস্থায়, রোগে আক্রান্ত অবস্থায়, বিপদ-আপদের সময়, দূরবর্তী সফরের সময়, সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া খুব বেশি কবুল হয়। সুতরাং আমাদের সবার উচিত উল্লিখিত সময়সহ সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা ও আল্লাহকে স্মরণ করা।

লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

23/02/2024

সাহু সিজদার সঠিক নিয়ম !! শাইখ মতিউর রহমান মাদানী!!

মাশাআল্লাহ
10/02/2024

মাশাআল্লাহ

30/01/2024

আপনার জানাযা শেষ করে কিছু মানুষ আপনার লাশের সাথে কবরস্থান পর্যন্তও যেতে চাইবেনা, কারণ তাদের ব্যস্ততা আছে। অথচ আপনি এই মানুষগুলোর জন্য কত সময় উজাড়
করে দিয়েছেন।

30/01/2024

যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তবে অবশ্যই আমি তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেব।
(সূরা ইবরাহীম --০৭)

30/01/2024

.পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ. :-
সিয়াম, হজ্ব, যাকাতসহ ইসলামের অন্যান্য সব ইবাদত পৃথিবীর জমিনে ফরয হয়েছে। আর সালাত ফরয হয়েছে আসমানের ওপর। শুধু তাই নয়,সালাত আরশের পাশে স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের উপস্থিতিতে ফরয হয়েছে। এজন্য সালাতের প্রতি যে ধরণের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে অন্যান্য ইবাদাতের ব্যাপারে এ ধরণের গুরুত্বের কথার উল্লেখ নেই। তেমনি কুরআন-হাদীসে সালাতের কথা যেভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, অন্যান্য ইবাদাতের বেলায় এমনটি বলা হয়নি।

⬛ দুনিয়ার ভালো-মন্দ কর্মগুলো আখিরাতে পরিমাপ করা হবে। দুনিয়ায় যারা বেশি বেশি নেক আমল করবে। তারা কিয়ামতের কঠিন সময়ে সফলকাম হবে। কিয়ামত দিবসে পরিবার-পরিজন কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না। প্রত্যেকে নিজের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সে দিন শুধু দুনিয়ার নেক আমলের ওপর ভরসা করতে হবে।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।
-(তাবরানি ১৯২৯)

🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যারা ঈমান এনেছ, আল্লাহ পাককে ভয় করো, প্রত্যেকের উচিত লক্ষ করা যে, আগামীকালের জন্য সে কি পেশ করতে যাচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাকো; অবশ্যই তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ পাক তার পূর্ণাঙ্গ খবর রাখেন।’
-(সূরা হাশর:১৮)

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতর হিসাব নেয়া হবে। যদি সালাত ঠিক থাকে তবে অন্যান্য আমলও সঠিক বলে প্রমাণ হবে। আর যদি সালতের হিসাবে গরমিল হয়, অন্যান্য আমলও ত্রুটিযুক্ত হয়ে যাবে।’
-(তিরমিজি-১:২৪৫পৃ.)

◾কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা সালাত আদায়কারী ব্যক্তিদের প্রতিদান দেবেন। যারা দুনিয়াতে সালাত কায়েম করেছে, যাকাত প্রদান করেছে, সে দিন তারা আনন্দ-উল্লাস করতে থাকবে। তাদের জাহান্নামের কোনো ভয় থাকবে না। আর দুনিয়ার বেনামাজিরা, সে দিন হা-হুতাশ করতে থাকবে।

🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।’
📖-(সূরা বাকারা:১১০)

🍃 ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে যা কখনো ধ্বংস হবে না।’
📖-(সূরা ফাতির:২৯)

◾পরকালে সাফল্য লাভের চাবিকাঠি হলো সালাত আদায় করা। পরকালে নাজাত পেতে হলে, দুনিয়ার জিন্দেগিতে সালাতের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সালাত আদায়কারী ব্যক্তিরাই জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা হবেন।

🍃 কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ওই সব ঈমানদার সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে খুশু-খুজুর সাথে আদায় করে।’
📖-(সূরা মুমিনুন:১-২)

🍃 ‘যারা নিজেদের সালাতের হেফাজত করে, এরাই আল্লাহর জান্নাতে মর্যাদাসহকারে প্রবেশ করবে।’
📖-(সূরা মা’আরিজ :৩৪-৩৫)

🍃 ‘যারা তাদের সালাত সমূহের হিফাজতকারী, মূলত এরাই হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী এবং সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।’
📖-(সূরা মুমিনুন: ৯-১১)

◾ যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তাদের আমলনামায় কোনো গোনাহ থাকবে না। সালাত বান্দার আমলনামা থেকে গোনাহগুলোকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
‘তোমরা বলতো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবারা উত্তরে বললেন: না, কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর রাসূল সা: বললেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত এমনই। এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক সালাত আদায়কারীর সব গোনাহ মাফ করে দেন।’
-(বোখারি:৫০৩)

◾ সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করলে, আখিরাতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,,
‘যার এক ওয়াক্ত সালাত ছুটে গেল তার যেন ঘরবাড়ি, পরিবার-পরিজন ও ধন-দৌলত সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হলো।’
📋-(ইবনে হিব্বান-৪:৩৩০ পৃ.)

◾ সালাতের গুরুত্ব এতটাই যে, মুসলমান ও অন্য ধর্মের লোকদের মধ্যে পার্থক্যই হলো সালাত।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
‘বান্দা ও শিরক এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য সালাত ছেড়ে দেয়া।’ 📋-(মুসলিম:২৪৭)

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথ পাবন্দীর সাথে আদায় করে, উত্তমরূপে অজু করে, সময়ের প্রতি খেয়াল রাখে, রুকু-সিজদা ঠিকমতো আদায় করে এবং এভাবে সালাত আদায়কে নিজের ওপর আল্লাহ তায়ালার হক মনে করে, তবে জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম করে দেয়া হবে।
📋-(মুসনাদে আহমাদ-৪: ২৬৭পৃ.)
_____________________________

🎆 হাদীসে বর্ণিত ফজরের সালাতের ফজিলত :- 🎆

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।
📋-(তাবরানি ১৯২৯)

⬛ মূলত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এমন ইবাদত যা সারা বছর দৈনিক পাঁচ বার আদায় করতে হয়। মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অবস্থাতেই সালাত মাফ হয় না। এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও সালাত হতে বিরত থাকার কোনো বিধান নেই।

◾পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে ফজর সালাতের গুরুত্ব আরো বেশি। হাদিসে এর এত বেশি গুরুত্ব এসেছে যে, যদি একজন মুমিন তন্মধ্য থেকে মাত্র একটিও মনে রাখে তাহলেও এক্ষেত্রে তার গাফলতি অনায়াসে দূর হয়ে যাবে। তার হিম্মত বেড়ে যাবে। ঘুম ও অলসতা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হবে। নব প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সে ফজরের জামাতে শরিক হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টায় ব্রতী হবে—ইনশা আল্লাহ।

🔮 এ লক্ষে ফজরের সালাত আদায়ে বিশেষ ১০ টি উপকারী দিক পাঠকের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।

🔷 ১. ফজরের সালাতে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত পড়ার সমান।

🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ঈশার সালাত আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে সালাত পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে সালাত পড়লো।
📋-(মুসলিম ১০৯৬)

🔷 ২. ওই দিনের পুরোটা আল্লাহর জিম্মায় থাকার দুর্লভ সৌভাগ্য। ফজরের সালাত পড়লেই শুধু এ-ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য লাভ করা যাবে।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় চলে গেল। অতএব আল্লাহ যেন তার জিম্মার বিষয়ে তোমাদেরকে কোনোরূপ অভিযুক্ত না করেন।
📋-(তিরমিযি ২১৮৪)

🔷 ৩. ফজরের সালাত কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দেবে।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যারা আঁধারে (ফজর সালাতে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।
📋-(আবু দাউদ ৪৯৪)

🔷 ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত প্রাপ্তির সুসংবাদ।

🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের সালাত) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
📋-(মুসলিম ৬৩৪,নাসায়ি ৪৭১, ৪৮৭, আবু দাউদ ৪২৭, আহমদ ১৬৭৬৯, ১৭৮৩৩)

🔷 ৫.মুনাফেকি থেকে মুক্তি পাবে।

🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
মুনাফিকদের উপর ফজর ও এশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।
📋-(বুখারি ৬৫৭, ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪,
-মুসলিম ৬৫১)

🔷 ৬. সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে।

🍂রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদেরকে সালাতরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা সালাতরত ছিল।
📋-(বুখারি ৫৪০)

🔷 ৭. দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"ফজরের দুই রাকাত সালাত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ"।
📋-(মুসলিম ১২৪০)

🔷 ৮. পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে, যদি সে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে।

🍂 রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত শেষ বসে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল সালাত (ইশরাক) আদায় করবে, সে পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে। ‘পরিপূর্ণ’ এ শব্দটি তিনি তিনবার বলেছেন।
📋-(তিরমিযী ৫৮৬)

🔷 ৯. তুলনাহীন গণিমত লাভ করবে :-

🍂 উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সাথে যায় নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোন সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখি নি। তখন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের সালাতে জামা’আতে হাযির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।
📋-(তিরমিযি ৩৬৪১)

🔷 ১০. কেয়ামতের দিন সরাসরি আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ। আর এটি হচ্ছে সর্বোত্তম পুরস্কার।

🍂 জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল বাজলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন,
শোন! নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ঐ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য উঠার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার আগের সালাত আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই কর। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবীহ্ পাঠ করুন।”
🍂(বুখারি ৫৭৩)

________________________

সালাত পরিত্যাগ কারীর শাস্তি ও বিধান :-
________________________

সালাত পরিত্যাগকারীর জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য।
(যারিয়াত ৫৬)

আর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান ইবাদত হল সালাত। সালাত পরিত্যাগকারীর জন্য মহান আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।

আল্লাহ বলেন,

তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তবেই তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই’।
(তওবা ১১)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‘তাদের পর আসল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসে (জাহান্নামের গভীরে) পতিত হবে’।(মারইয়াম ৫৯)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

‘অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কিসে সাক্বার নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারী ছিলাম না’। (মুদ্দাছ্ছির ৪১-৪৩)

উক্ত আলোচনা প্রমাণ করে সালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি মুসলিম ভাই হতে পারে না।

★আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মু’মিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো। ( মুসলিম ১৪৮, ইবনে মাজাহ,- ১০৮০, তারগীব ৫৬৫, ১৬৬৭)

★রাসূল (সাঃ) বলেন,

‘যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আগামী কাল আল্লাহর সাথে মুলাক্বাত করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করে। যেখানেই উক্ত
সালাতের আযান দেয়া হোক’।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, মিহজান নামক এক সাহাবী রাসূল (সাঃ)-এর সাথে বৈঠকে বসে ছিলেন। অতঃপর আযান হলে রাসূল (সাঃ) সালাত আদায় করেন এবং মজলিসে ফিরে আসেন। তখন উক্ত মিহজান বসেছিলেন।
তখন রাসূল (সাঃ)বললেন,

‘তোমাকে কিসে মুসল্লীদের সাথে সালাত আদায় করতে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নও’? সাহাবী বললেন, আমি বাড়ীতে সালাত আদায় করেছি।

অতএব উক্ত হাদীছদ্বয় প্রমাণ করে- সালাত আদায় করা মুসলিম ব্যক্তির মূল পরিচয়। অন্য হাদীছে আরো কঠিন বক্তব্য এসেছে,

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি আর মুশরিক ও কা-ফে-রের মাঝে পার্থক্য হল, সালাত পরিত্যাগ করা’।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘আমাদের ও তাদের (কা-ফে-র, মুশরিক ও মুনাফিক) মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা হল সালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে, সে কুফুরী করবে’

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে সে শিরক করবে’

রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীগণ আমল সমূহের মধ্যে কোন আমল ছেড়ে দেওয়াকে কুফুরী বলতেন না, সালাত ব্যতীত।

অতএব যে ব্যক্তি সালাত আদায় করবে না, সে নিঃসন্দেহে বড় কুফুরী করবে।

Address

Murshidabad
742202

Telephone

+918918805550

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when PONDS Tv posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category