Akhtar Qadri

Akhtar Qadri Islamic Scholar & Writer Islamic lectures & Writer

18/10/2025
প্রশ্ন:- কাউকে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার হুকুম কী?উত্তর: কদমবুসি করা 'সুন্নাতে সাহাবা'। যা পবিত্র হাদিস থেকে প্রমাণিত। সম্মা...
10/10/2025

প্রশ্ন:- কাউকে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার হুকুম কী?

উত্তর: কদমবুসি করা 'সুন্নাতে সাহাবা'। যা পবিত্র হাদিস থেকে প্রমাণিত। সম্মানিত ব্যক্তি; যেমন: মা-বাবা দাদা-দাদী, নেককার-বুযুর্গ ইত্যাদিদেরকে কদমবুসি করা সুন্নাত যা সওয়াবের কাজ। সাহাবায়ে কিরামের বরকতময় যুগ থেকে এই আমলের প্রচলন। নিচে কদমবুসি সম্পর্কে হাদিস ও ইমামগনের অভিমত দেওয়া হল:

কদমবুসি সম্পর্কে ৬টি হাদিস শরীফ:

﴾১﴿ হযরত যারেঈ ইবনে আমির ইবনে কায়স رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ উনার দাদা হতে বর্ননা করেন, তিনি ছিলেন আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “ আমরা যখন মদিনা মনোওয়ারায় আগমন করলাম তখন আমাদের বাহন হতে তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম এবং রসূলে করীম ﷺ এর হস্ত ও পা মোবারক চুম্বন করলাম। ”

[ইমাম বুখারী: তারিখুল কবীর: ৪/৪৪৭ পৃষ্ঠা, হা/১৪৯৩]
[সুনানে আবু দাউদ: ৪/৩৫৭ পৃষ্ঠা, হাদিস: ৫২২৫]

﴾২﴿ হযরত ছাফওয়ান বিন আ'সল আল মুরাদি رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বর্ণনা করেন, “ নিশ্চয়ই ইয়াহুদীদের একটি দল হুজুর পাক (ﷺ)-এর হাত ও পা মোবারক চুম্বন করে। ”

[ইবনে মাযাহ: ২/১২২ পৃষ্ঠা, হাদিস: ৩৭০৫]
[সুনানে তিরমিযী: ৫/৭২ পৃষ্ঠা, হাদিস/২৭৩৩]
[সুনানে নাসায়ী: ৭/১১১ পৃষ্ঠা, হাদিস/৪০৭৮]

﴾৩﴿ হযরত সুহাইব رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বলেন:
"আমি হযরত আলী رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ কে (ওনার চাচা) হযরত আব্বাস رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ এর হাত এবং পা চুম্বন করতে দেখেছি। ”

[জামে তিরমিযী: হাদিস/২৭৩৩]
[সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস/৩৭৯৫]
[আদাবুল মুফরাদ: হাদিস/৯৮৭]

﴾৪﴿ ওয়াযি ইবনে আমির رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বলেন, “ আমি একদা রাসূলে করীম ﷺ এর খেদমতে গিয়ে হাজির হলাম। আমাকে বলা হল, ইনিই হচ্ছেন আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা তখন তাঁর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয় ধরে চুম্বন করলাম। ”

[তিরমিযী শরীফ: হাদিস/২৭৩৩]
[সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস/৩৭০৫]"
[আদাবুল মুফরাদ: হাদিস/৯৮৭]

﴾৫﴿ হযরত বুরাইদা رَضِیَ اللّٰہُ تَعَالٰی عَنْہُ হতে বর্ণিত: “ এক বেদুঈন হুজুর এ পাক ﷺ কাছে মুজিযা দেখতে চাইল। ... (সংক্ষেপে)... (মুজিযা দেখানোর পর) বেদুঈন বললো: “ আমাকে অনুমতি দিন আমি আপনাকে সিজদা করবো ” তিনি ইরশাদ করলেন, “ যদি কাউকে সাজদাহ করার হুকুম দিতাম তাহলে স্ত্রীকে আদেশ দিতাম সে যেন তার স্বামীকে সাজদাহ করে। ” বেদুঈন লোকটি আরজ করলো “ হুযুর তাহলে আমাকে আপনার হস্ত ও পদদ্বয় মোবারক চুম্বন করার অনুমতি দিন। ” তিনি [নবীজী (ﷺ)] তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। ”

[মুসনাদুল বাযযার: ৩/৪৯ পৃষ্ঠা, হাদিস: ৪৪৫০]
[আল-মুস্তাদরাক: কিতাবুল বিরর ওয়াস সিলাতি, হাদিস: ৭৩২৬
[ইমাম শায়বানী, যাখিরাতুল হুফফাজ, ২/১১৯৪ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৫৪৮]

﴾৬﴿ হযরত ছাফওয়ান বিন আচ্ছাল رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বর্ণনা করেছেন, জনৈক ইয়াহুদী তার সঙ্গীকে বলল, আমাকে এ নবীর নিকট নিয়ে চল। তদুত্তরে সাথী তাকে বলল, তুমি তাঁকে নবী বলবে না কারণ, সে যদি শুনে তুমি তাঁকে নবী বলছ তাহলে তাঁর চার চোখ হয়ে যাবে অর্থাৎ তিনি খুশী হয়ে যাবেন। অতঃপর তারা হুযূর আকরাম ﷺ-এর নিকট আসল ও ৯টি নিদর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল।... (রাসুল ﷺ তাদেরকে ৯টি নিদর্শন বলার পর) সাফওয়ান رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বলেন: অতঃপর তারা উভয়ে হুজুর পাক ﷺ এর হাত ও কদম মুবারক চুম্বন করল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর নবী।”

[কিতাবুল আদাব: ৫/৫৫ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৭৩৩]
[সুনানে আবি দাউদ: হাদিস: ৫২২৫]
[ইবনে মাযাহ: ৪/১৪২ পৃষ্ঠা, হাদিস: ৩৭০৫]

কদমবুসি সম্পর্কে ইমামগনের ৬টি বর্ণনা:

﴾১﴿ ইমাম মুসলিম رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ ইমাম বুখারী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ এর নিকট কদমবুসির অনুমতি প্রার্থনা:

আহমদ বিন হামদান আল কাসার رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেছেন যে, তিনি ইমাম মুসলিম رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ কে ইমাম বুখারী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ এর দরবারে আসতে দেখেন এবং তিনি তাঁর কপালে চুম্বন করেন, "তখন তিনি তাঁর কদমে চুম্বন করার অনুমতি প্রার্থনা করলেন" তখন তিনি বলেছিলেন: "হে মহান ওস্তাদের ওস্তাদ! হে চিরাচরিত (ইমামগণের) শিক্ষক! হাদিসের দুর্বলতা সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। ”
[আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ১১/৩৩ পৃষ্ঠা] [তারিখে বাগদাদ: ১৩/১০২ পৃষ্ঠা]
[ইমাম যাহাবী: সিয়ারু নুবালা, ১/৩৩৪৩ পৃষ্ঠা]

﴾২﴿ শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেন:

“ পরহেজগার আলেম এর কদমবুসি জায়েয এবং কেউ কেউ বলেন তা মুস্তাহাব। যদি আলেম ও ন্যায়-পরায়ন বাদশাহর হাত ইলম, ইনসাফ ও দ্বীনের সম্মানার্থে বুচা বা চুমু দেয়, তাতে কোন দোষ নেই। তবে দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধীর উদ্দেশ্যে চুম্বন করা মাকরূহ। হাদীস শরীফে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূলে পাক ﷺ কদমবুচি করার বর্ণনা এসেছে। ”
[আশিয়াতুল লময়াত: ৪/৩৩ পৃষ্ঠা]
[মুযাহিরুল হক্ব: ৪/৬০ পৃষ্ঠা]

﴾৩﴿ বিখ্যাত ফকিহ, ইমাম ইবনে আবেদীন শামী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ আল্লামা আইনী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ হতে বর্ণনা করেন, আল্লামা আইনী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেন:

“ দীর্ঘ আলোচনার পরে হাত চুম্বন, কদমবুচি, মাথা বুচি, ও ইত্যাদির বৈধতা প্রমানিত হলো। যেভাবে বর্ণিত হাদীস হতে কপালে, দুই চোখের মাঝে, দু’ঠোটের উপরে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণিত হল, তবে এ সকল ক্ষেত্রে চুম্বন তখন জায়েয যখন সম্মান ও বরকত হাসিল উদ্দেশ্য হয়। ”
[রদ্দুল মুখতার: ৬/৩৮০ পৃষ্ঠা]

﴾৪﴿ আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেন:

“ হাদিস শরীফ দ্বারা হাতবুচি ও কদমবুচির বৈধতা ও অনুমোদন প্রমাণিত। তবে ইমাম মালেক ও ইমাম আবহারী এগুলিকে মাকরুহ বলেছেন যদি বড়ত্ব আহমিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু যদি আল্লাহ তা’য়ালার নৈকট্যবান বান্দা বা জ্ঞানগত সম্মান ও মর্যাদার কারনে হয় তাহলে উহা নি:সন্দেহে জায়েয। ”
[ফতহুল বারী শরহে বুখারী: ১১তম খন্ড, ৫৭ পৃষ্ঠা]

﴾৫﴿ “ ফাত্ওয়ায়ে শামী ”তে হাকিমের একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছে, যার শেষাংশে বর্ণিত আছে:

“ হুযূর ﷺ সেই ব্যক্তিকে অনুমতি দিয়েছেন। তাই সে তাঁর মস্তক ও পা মুবারক চুমু দিলেন। অতঃপর হুযূর (ﷺ) ইরশাদ ফরমান যদি আমি কাউকে সিজ্দার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম দিতাম স্বামীকে সিজ্দা করতে।

﴾৬﴿ মোল্লা আলী ক্বারী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেন:

“ চুমু দেয়া মাকরুহ হবেনা যখন তা কোন পরহেজগারিতা, ইলম বা জ্ঞান ও বয়োযষ্ঠের কারনে হবে। ইমাম নববী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ বলেন: “ হাত চুম্বন, যদি ব্যক্তির জ্ঞানগত মার্যাদা, খোদা ভীরুতা ও ধামির্কতা ইত্যাদি কারনে হয় তাহলে মাকরুহ তো হবে না; বরং মুস্তাহাব বা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত হবে। ”
[মিরকাতুল মাফাতিহ: ৯ম খন্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা]

কাউকে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার হুকুম কী?কাউকে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার হুকুম কী?
প্রশ্ন:- কাউকে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার হুকুম কী?
উত্তর: কদমবুসি করা 'সুন্নাতে সাহাবা'। যা পবিত্র হাদিস [...]

কদম্বুচি বা পা ধরে সালাম করা কি জায়েজ? কদম্বুচি বা পা ধরে সালাম করা কি জায়েজ?
﴾১﴿ ইমাম মুসলিম رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ ইমাম বুখারী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ এর নিকট কদমবুসির অনুমত[...]

উপযুক্ত সম্মানিত ব্যক্তির কদমে চুম্বন (কদম্বুচি) শিরক নয়

কদম শব্দের অর্থ হচ্ছে পা , এবং বুছি শব্দের অর্থ চুম্বন করা ! অর্থাৎ দ্বীনদ্বার পরহেজগার, সম্মানিত ব্যক্তি

তাজিমার্থে কদমবুচি জায়েজ, হাত-পা চুম্বন জায়েজ। এটি সাহাবায়ে কেরামগনের সুন্নাত।তাজিমার্থে কদমবুচি জায়েজ, হাত-পা চুম্বন জায়েজ। এটি সাহাবায়ে কেরামগনের সুন্নাত।
তাজিমার্থে কদমবুচি জায়েজ, হাত-পা চুম্বন জায়েজ। এটি সাহাবায়ে কেরামগনের সুন্নাত।

04/10/2025
04/10/2025
✨Eid E Ghousiyah Mubarak✨💞 Ho Rahi Hai'n Baarish E Rehmat Yaha'n Par Subah ShaamBat Raha Hai'n Khoob Sadqa Ghous E Azam ...
04/10/2025

✨Eid E Ghousiyah Mubarak✨

💞 Ho Rahi Hai'n Baarish E Rehmat Yaha'n Par Subah Shaam
Bat Raha Hai'n Khoob Sadqa Ghous E Azam Aapka💞

03/10/2025

আস্সালামু আলাইকুম,
আজকে পবিত্র জুম্মার দিন ১০.ই রাবি উস-সানী ১৪৪৭. হিজরী, আজকে দিবাগত রাত্রী ফাতেহা ইয়াজ দাহাম শরীফের রাত্রী ও আগামীকাল শনিবার ১১.ই রাবি উস-সানী ১৪৪৭. হিজরী, ফাতেহা ইয়াজ দাহাম শরীফের দিন, সেইসূত্রে সমস্ত মসজিদ, মোক্তাব, মাদ্রাসা, ও নিজবাড়িতে ফাতেহা ও মিলাদ শরীফের আয়োজন করিবেন।

02/10/2025

পর্ব - ৯
বিষয় - ওয়াজের মজলিস

দ্বীন ইসলামের তবলীগের সবচেয়ে উপযোগী পন্থা হল ওয়াজ ও নসীহত করা। হুজুর গওসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সুদীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে বক্তৃতা প্রদানের মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের এমন তাবলীগ করেছেন যা নজিরবিহীন। তাঁর বক্তব্য শুনে বেসুমার ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ইসলাম গ্রহণ করেন। লাখো লাখো বাতিল আক্বিদা পোষণকারী, ডাকাতিসহ ভয়ংকর অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিগণ, ফাসিক ও ফাজিরেরা তাঁর হাতে হাত দিয়ে তওবা করে সীরাতে মুস্তাকিমের মুসাফির হয়ে যান। তাঁর নূরানী মজলিসে বেদ্বীন এলে দ্বীনের দওলত নিয়ে উঠতেন, গুনহাগার এলে নেককার হয়ে উঠতেন, রাহজানেরা রাহবার হয়ে উঠতেন, অহংকারীরা বিনয় নিয়ে উঠতেন, ঋণগ্রস্থরা ধনী হয়ে উঠতেন, জ্ঞানহীনরা জ্ঞানভাণ্ডারের অধিকারী হয়ে উঠতেন...। যুগের সবচেয়ে জ্ঞানী ও বিদ্বান ব্যক্তিরা তাঁর মজলিশে এসে নিজেদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতেন। সুফীয়ায়ে কেরামগণ তাঁর এক নজরে সুলুকের সকল মঞ্জিল সফর করে নিতেন। তাঁর মজলিশে এসে উলেমাগণ দ্বীনের দায়ি হয়ে যেতেন এবং দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এমন ভাবে দ্বীনের প্রচার করতেন যা লিখলে হাজারো মহাকাব্য হয়ে যাবে৷ এসবকিছুই হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের অবদান৷

হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু 'র ওয়াজ মজলিসে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য —
১। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে পাক মালিকে কওনাইন নবী করিম রউফুর রহিম ﷺ এর আদেশে ৫২১ হিজরি সন থেকে বক্তব্য প্রদান করতে শুরু করেন৷

২। প্রথম দিকে ২/৪ জন ওয়াজের মজলিসে অংশগ্রহণ করতেন৷ তারপর সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে শ্রোতাদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করল৷ তাঁর পবিত্র জবানে বক্তব্য শুনতে আরব, ইরাক, ইরান, মিশর, ইয়ামেন, শাম প্রভৃতি দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক আসতে শুরু করলেন৷

৩। তিনি সপ্তাহে তিন দিন বক্তব্য প্রদান করতেন৷ শুক্রবার, মঙ্গলবার, বুধবার। তাঁর বক্তব্য শুনতে যখন সুনামির ন্যায় লোক আসতে লাগলেন তখন খানকা,মাদ্রাসা, মসজিস, ঈদগাহ হয়ে বাগদাদের ময়দানে মিম্বার বসানো হত ৷

৪। তাঁর ওয়াজের মজলিসে ৭০ হাজারের অধিক মানুষ অংশগ্রহণ করতেন ৷ সে সময় না মাইক ছিল, না উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম। তবুও হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের কারামত ছিল সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি যেই আওয়াজ শুনতেন সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী শ্রোতাও সেই একই আওয়াজ শুনতেন পেতেন৷

৫। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের মজলিশে সমকালীন সময়ের বড় বড় মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফোকাহা, মুহাক্কিক উপস্থিত হতেন৷ সুফি,মাশায়েখ, ওলী আউলিয়া ও বুজুর্গানে দ্বীন উপস্থিত হতেন। বাগদাদের খলিফা, দেশ বিদেশের সুলতান, মন্ত্রীপরিষদ উপস্থিত হতেন।

৬। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের মজলিশে ৪০০ জন কলম ও দোয়াত নিয়ে বসে থাকতেন বক্তব্য লিপিবদ্ধ করার জন্য৷

৭। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের মজলিশে মানুষের চেয়ে রিজালুল গায়েবের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। বেসুমার জ্বীন, ফারিস্তারাও উপস্থিত হতেন। অনেক সময় মজলিশের শান ও সওকাত, মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালামও তাশরিফ নিয়ে আসতেন৷

৮। যেসকল সাহেবে কাশফ ও কারামাত বুজুর্গ বাগদাদ শরিফ থেকে ভিন্নদেশে অবস্থান করতেন তারা তাদের মুরিদ ও প্রেমিকদের নিয়ে ঘেরাবন্দি করে একজায়গায় মোরাকাবা করে হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের বক্তব্য শ্রবণ করতেন৷

৯। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের নূরানী ও রূহানী বক্তব্য মানুষের অন্তর্জগৎকে পরিবর্তন করে দিত৷ তাঁর বক্তব্য হত যুগের চাহিদা অনুযায়ী। কখনো শরিয়ত ও ইত্তেবায়ে সুন্নাতের উপর আলোচনা রাখতেন, কখনো বাতিল আক্বিদার খন্ডনে তাকরীর হত, কখনো কুরআনের তাফসীরসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা হত ৷ তিনি তাঁর নূরানী, হাক্কানী,রূহানী তাকরিরে শরিয়ত, তরিকাত,হাকীকাত ও মারেফাতসহ ইল্মে লাদুন্নীর দরিয়া প্রবাহিত করেদিতেন৷ তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী। তাঁর মজলিশে শাসকশ্রেণীর লোকেরা এলে তাদের ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেন। তাদেরকে জনকল্যাণমুখী কর্মসম্পাদনের তাগিদ করতেন, আখিরাতের ভয় দেখাতেন।

১০। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের মজলিশে নীরাবতা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকত।কেউ টুঁ শব্দও করতেন না। সবাই মাথা ঝুঁকিয়ে বসে থাকতেন। চোখের পাতাও যেন অতিসন্তর্পণে ফেলতেন। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের বক্তব্যে শ্রোতাদের মধ্যে মাঝে মাঝে 'হাল' সৃষ্টি হত। অনেকে নিজেদের পোশাক ছিড়ে ফেলত। অনেকে জ্ঞানহারা হয়ে যেতেন। অনেক সময় একই দিনে একাধিক জানাজা উঠত মজলিস থেকে৷ আল্লাহু আকবর।

১১। হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের মজলিশে বিধর্মীরাও উপস্থিত হয়। হুজুরের বক্তব্য শুনে তারা দ্বীন ইসলাম গ্রহণ না করে থাকতে পারত না৷ একবার হুজুর সাইয়্যেদিনা গওসে আযমের বরকতময় হাতে ৫০০০ ইহুদি-নাসারা ইসলাম গ্রহণ করেন, এক লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের কৃতকর্ম থেকে তাওবা করে পরহেজগারির জীবন অবলম্বন করেন৷

01/10/2025

হুজুর গাউসে আযম কুতুবে আলাম বাগদাদে আপন পীর ও মুর্শিদ প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা 'বাবুল আযাজ' এ অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন৷ হুজুর গাউসে পাক অধ্যাপক হিসাবে যোগ দিলে হাজার হাজার ছাত্র এই মাদ্রাসায় যোগদান করে।

হুজুর গাউসে পাক প্রত্যহ ১৩ টি বিষয়ে পাঠদান করতেন। এর মধ্যে তাফসীর, উসুলে তাফসীর, হাদিস, উসুলে হাদিস, ফিকহা, তাসাউফ, উসুলে ফিকহা, আসমাউর রিজাল, আরবি ব্যাকরণ ইত্যাদি উচ্চতর বিষয়গুলি পাঠদান করতেন। তার পাঠদান চলত সকাল থেকে জোহর পর্যন্ত। এই সময় তিনি তাফসীর,হাদিস, মাজহাব ইত্যাদি বিষয়ে পাঠদান করতেন। জোহরের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাশয়ালার শরীয়ত সম্মত উত্তর প্রদান করতেন। আসরের পর গরীব মিসকিনদের খাবার দান করতেন। মাগরিবের পরে আবার পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু হত। এসময় তিনি উসুল ও নাহভ পড়াতেন এবং বিভিন্ন জরুরি বিষয়গুলো আলোচনা করতেন। ছাত্ররা হুজুর গাউসে পাকের ক্লাসগুলো খুব মনোযোগ সহকারে শুনত৷ হুজুর গাউসে পাক তাদের যেন পড়াতেন না, গুলিয়ে খাইয়ে দিতেন। যা একবার গাউসে পাকের কাছে শুনত আজীবন সেগুলো ভুলত না।

একটি হিসাব মতে প্রতি বছর প্রায় ৩০০০ ছাত্র এই মাদ্রাসা থেকে সনদ নিয়ে বের হতেন৷ হুজুর গাউসে পাক দীর্ঘ চল্লিশ বছরে লক্ষাধিক ছাত্রকে পড়িয়েছেন এবং সেই সাথে সাথে তারবিয়াতও করেছেন৷ এই লক্ষাধিক ছাত্র পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ে ইসলাম প্রচারের স্বার্থে। এদের মধ্যে অনেকেই যুগের সেরা মুহাদ্দিস, মুহাক্কিক,মুফাসসীর,সুফিয়ে কামেল,মুজাহিদ,ফকীহ হয়েছেন। তারা তাদের লেখনীর মাধ্যমে কিয়ামত অবধি মুসলমানদের উপকার করেছেন। অনেক বাতিল ফিরকার রদ করেছেন। গ্রীক দর্শনের বিরোধিতা করেছেন। ইসলামের সঠিক পথ ও মত প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অনেকে প্রধান বিচারক ( কাজী উল কুযাত) , সেনাপতি, সৈন্য এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়। অনেকে শিক্ষাকতার সাথে যুক্ত হয়, কেউ ব্যবসা বানিজ্য করে৷ কেউ চিকিৎসার সেবাই যুক্ত হয়। অনেকে লেখক হন এবং এইভাবে সমাজের প্রতিটি স্তরে গাউসে পাকের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্ররা ছড়িয়ে পড়লে সমাজের সর্বস্তরের উন্নয়ন হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে অনৈসলামিক বাতাবরণ মুক্ত করে ইসলামের হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করে৷ প্রশাসনিক, সামাজিক,রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাঁর অগণিত কৃতী ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজনের নাম হল -
ইবনে কুদামা আল মাকদিসী,মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন বখতিয়ার, খল্ফ বিন আব্বাস আল মিশরী,আব্দুল মুনআম আল হারানী, ইব্রাহিম আল হাদাদ আল ইয়ামিনী, আব্দুর রহমান বিন বাকা, মাক্কি বিন আবু উসমান প্রমূখ।

30/09/2025

হুজুর গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সব ধরনের শিক্ষা সম্পন্ন করে লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলের চলে যান। কঠোর মুজাহাদা ও ইবাদত বান্দেগীতে ২৫ বছর অতিবাহিত করেন। এই ২৫ বছরের অলৌকিক ও চমকপ্রদ ঘটনা অন্য সময় আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

তবে এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনার অবতারণা প্রয়োজন বলে মনে করি। একদা তিনি বাগদাদের জুম্মা মসজিদে যাওয়ার পথে দেখেন এক শীর্ণকায় জরাজীর্ণ দুর্বল ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে কাতরাচ্ছে। হুজুর গাউসে পাক তার কাছে গেলে সেই ব্যক্তিটি বলে আসসালামু আলাইকুম ইয়া আব্দুল কাদির! আমাকে সাহায্য করুন। এরপর হুজুর গাউসে পাক হাত বাড়িয়ে দিলে সেই ব্যক্তিটি হাত ধরে দাঁড়ালো এবং সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ সবল হয়ে গেল এবং আকারে বড়ো হতে থাকল,তার চেহারার রঙ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। এইপর সে গাউসে পাককে জিজ্ঞেস করল আমাকে কি আপনি চেনেন? হুজুর গাউসে পাক বললেন - না। এরপর ব্যক্তিটি বলল - হে আব্দুল কাদির! আমি হলাম দ্বীন। আমাকে আপনি যেমন দেখেছিলেন, আমি তেমন দূরাবস্থার শিকার হয়ে গিয়েছিলাম। আপনার সাহায্য আমাকে সবল সজীব করে তুলেছে। সুবহানাল্লাহ।। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, হুজুর গাউসে পাকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় ইসলাম আবার সমগ্র বিশ্বে নতুন গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল, বাধা বিপত্তির শেকল ছিঁড়ে ইসলাম দুর্বার গতিতে সারা বিশ্বে প্রচারিত হয়৷ এই সময় থেকে সকলের কাছে হুজুর গাউসে পাক 'মহীউদ্দীন' নামে পরিচিতি লাভ করেন৷

যাইহোক, ৫২১ হিজরিতে তিনি যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন তখন তার আগমনের সংবাদ সমগ্র বাগদাদে ছড়িয়ে গেল৷ তাঁর জ্ঞানগরিমা ও তাকওয়ার ব্যাপারে মানুষজন ছাত্রাবস্থা থেকেই পরিচিত ছিল। তাই যখন তিনি ২৫ বছর পর কঠোর ইবাদত করে ফিরলেন মানুষজন তাকে এক ঝলক দেখার জন্য পাগলপারা হয়ে গেল।

এতে কিছুটা হলেও বাগদাদের উলামারা হীনমন্যতায় ভুগতে আরম্ভ করল। তারা আকারে ইঙ্গিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করল।

বাগদাদের উলামারা একজনকে কানায় কানায় পূর্ণ একটা পানির পাত্র দিয়ে প্রেরণ করল গাউসে পাকের কাছে। তারা এতে বোঝাতে চাইল যে, বাগদাদে প্রচুর উলামা ও মাশায়েখ আগে থেকেই রয়েছে এবং হুজুর আব্দুল কাদির জিলানীর প্রয়োজন নাই বাগদাদে। হুজুর গাউসে পাকের দরবারে ব্যক্তিটি এলে তিনি ওই পানির পাত্রে একটা গোলাপ দিয়ে উলামাদের নিকট প্রেরণ করলেন৷ হুজুর গাউসে পাকের এই প্রজ্ঞামূলক উত্তরে বাগদাদের সমস্ত উলামাগণ অভিভূত হয়ে যান। তারা প্রত্যেকে এসে গাউসে পাকের কাছে মুরিদ হয়ে যান। এরপর হুজুর গাউসে পাককে তারা 'বাগদাদের গোলাপ' বলে অভিহিত করেন।

আলহামদুলিল্লাহ, সেই বাগদাদের গোলাপ বিগত ১০০০ বছর ধরে খুশবু ছড়াচ্ছেন। কিয়ামত পর্যন্ত সেই খুশবু সুবাসিত করবে সকল মোমিনদের হৃদয়কে।। সেই খুশবুই আজমের শরীফে, সেই খুশবুই বোখারা,মারেহেরা, বেরেলী,পৃথিবীর কোনায় কোনায়। ইমামে আহলে সুন্নাত আ'লা হযরত রহমতুল্লাহ আলায় তাই তো বলেন -

"কিস গুলিস্তাঁ কো নেহী ফস্লে বাহারী সে নিয়াজ,
কৌন সে সিলসিলে মে ফাইজ না আয়া তেরা।।

মজরায়ে চিশতও বুখারাও ইরাকও আজমের,
কৌন সি কিশত পে বরসা নেহী ঝালা তেরা।।"

29/09/2025

বড়পীর শায়েখ আব্দুল কাদির জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে কেউ একবার জিজ্ঞেস করলেন - হুজুর! আপনি খোদার নৈকট্য কীভাবে লাভ করলেন? এর উত্তরে হুজুর গাউসে পাক বলেন - ইল্ম(প্রজ্ঞা) ও আদব (শিষ্টাচার) এর মাধ্যমে।
যাইহোক,
মাদ্রাসার কথা বললে আমাদের যে কথা মনে আসে তা হল - একটা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে কেবলমাত্র কয়েকটি ইসলামি বিষয় পড়ানো হয়। যেখান থেকে হাফিজ,ক্বারি, মাওলানা,মুফতী বের হয়। কিন্তু আমরা যদি ইসলামের স্বর্ণযুগের ইতিহাস পড়ি তাহলে দেখব - বর্তমান সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বসূরি ছিল এই মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার ছাত্ররাই একদিকে যেমন হাফিজ, ক্বারি, মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির,মুহাক্কিক হয়েছেন, ঠিক তেমনই এই মাদ্রাসার ছাত্ররাই বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গবেষণা ইত্যাদি বিভিন্ন শাখায় নিজেদের ছাপ ফেলেছেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যেমন স্কলারশিপ দেওয়া হয়, সেকালেও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হত।

আমি যেই সময়ের কথা বলছি, সে সময় বিশ্বের সেরা জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল বাগদাদ। আর এই বাগদাদের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল নিজামুল মুলুক প্রতিষ্ঠিত - মাদ্রাসা নিজামিয়া। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ছিল। আর বিভিন্ন সুফি, ফাকিহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণের খানকাহ বা বাড়িগুলো ছিল তখনকার দিনের জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার অন্যতম কেন্দ্র।

হুজুর গাউসে পাক যাদের সাহচর্যে ছিলেন তারা প্রত্যেকেই নিজ যুগের সেরা জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। হুজুর গওসুল আযম ফিকহাচর্চা করেছিলেন -
হজরত আবু সাইদ মুবারক মাখযুমী( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু),
ইবনে আকিল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নিকটে।
ইল্মে হাদিস চর্চা করেছিলেন - হজরত আবু মুহাম্মাদ জাফর আল সাররাজ, আবু বকর ইবনে মুজাফফর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আজমাইন এর নিকটে।
ইল্মে তাসাউফ চর্চা করেছিলেন - হুজুর শায়েখ আবু সাইদ মুবারক মাখজুমী, আবু আল হাম্মাদ ইবনে মুসলিম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আলাইহিম আজমাইন এর নিকটে। এছাড়া আরও অনেক শায়েখ ছিলেন যাদের নিকটে হুজুর গাউসুল আজম কুতুবে আলাম জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা চর্চা করেন।

হুজুর গাউসে পাক জাহেরি ও বাতেনি শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন এবং জ্ঞানের প্রত্যেকটা শাখায় নিজ প্রতিভার ছাপ রাখেন। শায়েখ আবু সাইদ মুবারক মাখজুমী তাকে খিরকা প্রদান করেন। তিনি অচিরেই বাগদাদের অদ্বিতীয় ফকিহ, বেমিশাল মুহাদ্দিস, বেনজীর মুফাসসির এবং শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি হাম্বেলী মাজহাব অনুসারী ছিলেন, কিন্তু চারটি মাজহাবের ফিকাহ ( আইনশাস্ত্র) র প্রতি ছিল তার অগাধ পাণ্ডিত্য। তিনি হাম্বেলী ও শাফেয়ী মাজহাব অনুসারে ফতোয়া প্রদান করতেন।

আল-কুরানের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে তার সমতুল্য কেউ ছিল না এবং এর উদাহরণ আমরা বারে বারে পাই। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

হুজুর গাউসে পাকের জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে সমকালীন শায়েখগণ নিজেদের খানকাহ ও মাদ্রাসায় হুজুর গাউসে পাককে শিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতেন।

আলা হজরত তাই তো বলেন -
'বান্দা কাদির কা হ্যায়
কাদির ভি হে আব্দুল কাদির,
সীররে বাতিন ভি হ্যায়
জাহির ভি হে আব্দুল কাদির।।

মুফতীয়ে শারয়া ভি হ্যায়
কাজী এ মিল্লাত ভি হ্যায়,
ইল্মে আসরার সে
মাহির ভি হে আব্দুল কাদির।।'

শিক্ষা সম্পূর্ণ করে তিনি ২৫ বছর ইরাকের জঙ্গল ও মরুভূমিতে কঠোর মুজাহাদা ও ইবাদত ও বান্দেগীতে লিপ্ত হন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ভাবে পরিক্ষিত হয়েছিলেন। কঠিন থেকে কঠিনতম এই পরিক্ষাগুলোয় তিনি সসম্মানে উত্তীর্ণ হন৷

Address

Murshidabad

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm
Sunday 9am - 5pm

Telephone

+918101167517

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Akhtar Qadri posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Akhtar Qadri:

Share