17/08/2026
মনসা দেবীর পরিচয়,পূজার প্রচলন ও বলিদান।
আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর যে পঞ্চমী তিথি, সে তিথিকে ষটপঞ্চমীব্রত বা নাগপঞ্চমী বলে। সাধারণত নাগপঞ্চমীতে গোটা ভারতবর্ষে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
পুরা নাগভয়ক্রান্তা বভূবুর্মানবা ভুবি ।
গতাস্তে শরণং সর্বে কশ্যপং মুনিপুঙ্গবম্ ।।
মন্ত্রংশ্চ সসৃজ্যে ভীতঃ কশ্যপো ব্রহ্মণান্বিতঃ ।
বেদবীজানুসারেণ চোপদেশেন ব্রহ্মণঃ ।।
মন্ত্রাধিষ্ঠাতৃদেবীং তাং মনসা সসৃজ্যে তথা ।
তপসা মনসা তেন বভূব মনসা চ সা ।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮/১১-১৩)
পুরাকালে পৃথিবীতে নাগের ভয়ে ভীত হয়ে মনুষ্যগণ জীবন রক্ষার্থে মুনিশ্রেষ্ঠ কশ্যপের শরণাপন্ন হন। ভীত মনুষ্যদের বর্ণনা শুনে, কশ্যপ মুনিও ভীত হয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। তখন ব্রহ্মার আদেশে কশ্যপ মুনি নাগভয় থেকে মুক্তির জন্য এক বেদোক্ত বীজ অনুসারে জপ-ধ্যান শুরু করলেন। তৎকালে মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা ধ্যানরত কাশ্যপ মুনির মন হতে আবির্ভূত হলেন; তাই তাঁর নাম হল মনসা।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক মনসা পূজার প্রচলন হয়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম দেবী মনসার পূজা করলেন। এরপর ভগবান শিব ও কশ্যপ মুনি দেবী মনসার পূজা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ক্রমে ক্রমে মুনি, মনু, নাগ এবং মানব প্রভৃতি ত্রিলোকবাসী লোকজন দেবী মনসার পূজা নিষ্ঠার সাথে করতে লাগলেন। এভাবেই জগতে দেবী মনসার পূজা প্রচারিত হয়।
ত্রিযুগঞ্চ তপস্তপ্তা কৃষ্ণস্য পরমাত্মনঃ ।
সিদ্ধা বভূব সা দেবী দদর্শ পুরতঃ প্রভুম্ ।।
দৃষ্টা কৃশাঙ্গীং বালাঞ্চ কৃপয়া চ কৃপানিধিঃ ।
পূজাঞ্চ কারয়ামাস চকার চ স্বয়ং হরিঃ ।।
বরঞ্চ প্রদদৌ তস্যৈ পূজিতা ত্বং ভবে ভব ।
বরং দত্তা চ কল্যাণ্যৈ ততশ্চান্তর্দধে হরিঃ ।।
প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা ।
দ্বিতীয়ে শঙ্করেণৈব কশ্যপেণ সুরেণ চ ।।
মুনিনা মনুনা চৈব নাগেন মানবাদিভিঃ ।
বভূব পূজিতা সা চ ত্রিষু লোকেষু সুব্রতা ।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮.১৯-২৩)
দেবী মনসা পুষ্কর তীর্থে গমন করে তিন যুগ ধরে পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করে সিদ্ধ হলেন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন পেলেন। কৃপানিধি শ্রীহরি সেই কৃশাঙ্গী বালিকাকে দেখে, স্বয়ং নিজে পূজা করলেন ও অন্য সকলের দ্বারা পূজা করাইলেন । ভগবান হরি এরপর সেই বালিকাকে 'তুমি ত্রিজগতে পূজ্যা হও' বলে আশীর্বাদ করে অন্তর্হিত হলেন । পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ, প্রথমে মা মনসার পূজা করলেন। এরপর মহাদেব ও কশ্যপ মুনি মা মনসার পূজা করলেন । ক্রমে ক্রমে মুনি, মনু, নাগ এবং মানব প্রভৃতি ত্রিলোকবাসী লোকজন সেই দেবীর নিষ্ঠার সাথে পূজা করতে লাগলেন ।
শক্তি পূজায় অংশ হিসাবে দেবীর পূজায় বলিদানের বিধান আছে।
পঞ্চম্যাং মনসাখ্যায়াং দেব্যৈ দদ্যাচ্চ যো বলিম্।
ধনবান্ পুত্রবাংশ্চৈব কীর্তিমান্ স ভবেদ্ ধ্রুবম্।।
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ : প্রকৃতি খণ্ড,৪৬.৯)
পঞ্চমী তিথিতে দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি বলি প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়।
✍️ শ্রী সাধন কুমার রায়
১৭ ই আগষ্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।