03/06/2026
আস্থা আবার কংগ্রেসেই
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। যে দল একসময় বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ছিল, আজ সেই দলের ভিতরেই দেখা যাচ্ছে অনিশ্চয়তা ও বিভাজনের চিত্র।
রাজনীতির অলিন্দ থেকে গ্রামবাংলার চায়ের আড্ডা— সর্বত্র একটি কথাই শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস আর আগের জায়গায় নেই। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ কিংবা পুরসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকলেও কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দল মানুষের থেকে দূরে সরে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে আবারও ভরসার জায়গা হিসেবে উঠে আসছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। যে কংগ্রেস একসময় বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, সেই কংগ্রেস আজ নতুনভাবে নিজেকে পুনর্গঠিত করছে। শুধু বাংলায় নয়, সারা দেশেই কংগ্রেস আবার বিজেপির প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেসের রাজনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসদের ভিতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষের সমস্যা, গণতান্ত্রিক অধিকার, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন । একসময় যাঁকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আজ তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তাঁর জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
বাংলার মানুষ সবসময়ই জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই যখন সারা দেশে কংগ্রেস নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছে, তখন বাংলার মানুষও সেই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে। তৃণমূলের প্রতি হতাশ একাংশের কাছে কংগ্রেস আজ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠছে।
গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে, বাজারে-মোড়ে আজ অনেক পুরনো কংগ্রেস কর্মী আবার সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবছেন। যাঁরা একসময় কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দলে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও পুরনো রাজনৈতিক শিকড়ে ফিরে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, সর্বভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং বহুত্ববাদী চেতনার ধারক হিসেবে কংগ্রেসের এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলার রাজনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মানুষ উন্নয়ন চায়, স্বচ্ছতা চায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায় এবং রাজনৈতিক সৌজন্য চায়। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে ধীরে ধীরে আবার জায়গা করে নিচ্ছে কংগ্রেস।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়, দল বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়। কিন্তু মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে কেবল সেই শক্তিই, যে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার বহু মানুষের কাছে সেই ভরসার নাম আবার— কংগ্রেস।