18/09/2026
মিশন জিরো স্ক্র্যাপ: মাত্র পাঁচ মাসে অনাবশ্যক সম্পত্তি বিক্রি করে ২৫১.৯২ কোটি টাকার রাজস্ব আয় পূর্ব রেলের
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পান্ডে-র নির্দেশনায়, অনাবশ্যক সম্পত্তি থেকে সর্বাধিক আয় নিশ্চিত করতে এবং রেল প্রাঙ্গণে বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ, সংগ্রহ ও বিক্রির ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে (৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত) বর্জ্য পদার্থ বা স্ক্র্যাপ বিক্রি করে ২৫১.৯২ কোটি টাকা আয় করেছে পূর্ব রেল (ER)। এর মাধ্যমে ভারতীয় রেলের সমস্ত জোনের মধ্যে স্ক্র্যাপ বিক্রিতে শীর্ষ তিনটি জোনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে পূর্ব রেল।
ওয়ার্কশপ, ডিপো, শেড, ইয়ার্ড এবং অন্যান্য রেল প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা অকেজো, পুরোনো ও অনাবশ্যক সামগ্রী পদ্ধতিগতভাবে চিহ্নিত করে তা অপসারণের লক্ষ্যে পূর্ব রেলের ধারাবাহিক "মিশন জিরো স্ক্র্যাপ ব্যালেন্স" অভিযানের অংশ হিসেবেই এসেছে এই সাফল্য।
২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ২০৭.১৭ কোটি টাকার আনুপাতিক লক্ষ্যের বিপরীতে পূর্ব রেল ২৫১.৯২ কোটি টাকা আয় করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ২১%-এরও বেশি। এই আয় প্রথম পাঁচ মাসেই পূর্ব রেলের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ স্ক্র্যাপ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা (৫৬৫ কোটি টাকা)-র প্রায় ৪৫% পূরণ করেছে।
গত ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের একই সময়ে (৩১ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত) পূর্ব রেল ১৯৩ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ বিক্রি করেছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের এই ২৫১.৯২ কোটি টাকার আয় প্রায় ৩০.৫% বেশি, যা স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ, লট তৈরি এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক গতিশীলতার প্রমাণ দেয়।
এই আয়ের বড় অংশ এসেছে বাতিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্র্যাক সামগ্রী থেকে। পূর্ব রেল প্রায় ১১,৫০০ মেট্রিক টন বাতিল রেল বিক্রি করে ২৮.৫৬ কোটি টাকা আয় করেছে। এ ছাড়া, প্রায় ২৯,০৫৫ মেট্রিক টন বিবিধ লোহাজাত (ফেরাস) স্ক্র্যাপ থেকে ১০০.৬৩ কোটি টাকা এবং অ-লোহাজাত (নন-ফেরাস) স্ক্র্যাপ থেকে ৫৩.৬৫ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে।
বাতিল রোলিং স্টক বিক্রি থেকেও উল্লেখ্যযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। এই সময়কালে ই-নিলামের মাধ্যমে ১৭৫টি বাতিল যাত্রীবাহী কোচ বিক্রি করে ৩১.৮৭ কোটি টাকা এবং ৩১০টি বাতিল মালবাহী ওয়াগন বিক্রি করে ১১.৮২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।
পূর্ব রেলের প্রিন্সিপাল চিফ মেটেরিয়ালস ম্যানেজার শ্রী সন্দীপ শুক্লা জানান, রেলের সমস্ত বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা, নিয়মিত স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ ও লট তৈরি, সময়মতো অকেজো সম্পত্তি অনুমোদন এবং ই-নিলাম ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছ বিক্রয়ের ফলেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ — হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল ও মালদা — এবং জামালপুর, লিলুয়া, হালিশহর ও কাঁচরাপাড়া ওয়ার্কশপ সংলগ্ন প্রধান স্টোর ডিপো জুড়ে এই স্ক্র্যাপ বিক্রির অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নিয়মিত তদারকির ফলে জমে থাকা স্ক্র্যাপকে দ্রুত রাজস্বে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে।
রেলের জন্য বিপুল রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি এই উদ্যোগের প্রশাসনিক ও পরিবেশগত গুরুত্বও অপরিসীম। সময়মতো স্ক্র্যাপ অপসারণের ফলে মূল্যবান রেল জমি ও স্টোরেজ স্পেস খালি হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লোহা ও অন্যান্য ধাতুর পুনর্ব্যবহার (Recycling) সুনিশ্চিত হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, "এই সাফল্য দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার প্রতি পূর্ব রেলের দায়বদ্ধতাকেই তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ অ-ভাড়া রাজস্ব অর্জনের পাশাপাশি, এই অভিযানের ফলে মূল্যবান রেলের জমি ও স্টোরেজ স্পেস খালি হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বাড়ছে এবং ধাতু পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি প্রসার পাচ্ছে। যোগ্য নেতৃত্বের অধীনে পূর্ব রেল 'মিশন জিরো স্ক্র্যাপ ব্যালেন্স' অর্জনের লক্ষ্যে এই ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখবে।"
পূর্ব রেল সর্বদা দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া এবং রেলের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে অঙ্গীকারবদ্ধ।