05/05/2026
টলিউড আর তৃণমূল—একটা সময় এই দুই নাম যেন প্রায় একসূত্রে বাঁধা ছিল। বড় পর্দার একাধিক জনপ্রিয় মুখ ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানে নাম লেখান। দেব, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ—এমন বহু তারকা প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস-এর পতাকা হাতে তুলে নেন। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল, টলিউডের বড় অংশই যেন এই দলের সঙ্গে যুক্ত।
এই ধারাবাহিকতাতেই নতুন চমক হিসেবে সামনে আসেন টলিউডের ‘কুইন’ কোয়েল মল্লিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করে, যা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। অভিনয়ের জগত থেকে সরাসরি সংসদীয় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জানান, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাঁকে এই পথে এনেছে। নিজের জনপ্রিয়তা আর ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তিকে সঙ্গী করেই তিনি শুরু করেন নতুন অধ্যায়।
এরপর ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। লাল পাড় সাদা শাড়িতে, নিজের আসল নাম ‘রুক্মিণী মল্লিক’ ব্যবহার করে বাংলায় শপথ নেওয়ার সেই মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছিল। তবে গ্ল্যামারের দুনিয়া থেকে হঠাৎ রাজনীতিতে আসা—এই পরিবর্তনটা অনেকেই সহজভাবে নেননি। শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
৪ মে ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ছবিটা আরও বদলে যায়। রাজ্যে বড় জয় পায় বিজেপি, আর তার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কোয়েল মল্লিককে ঘিরে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, তিনি দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নাকি দলের ভাগ্য খারাপ হয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘অশুভ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।
যাঁরা একসময় তাঁকে ‘বাংলার লক্ষ্মী মেয়ে’ বলতেন, তাঁদের একাংশের গলাতেই এবার শোনা যায় সমালোচনার সুর। তবে এই সবই মূলত জনমতের ওঠানামা—রাজনীতির ময়দানে যা খুবই স্বাভাবিক। সময়ই বলবে, এই নতুন ভূমিকায় কোয়েল মল্লিক কতটা নিজের জায়গা শক্ত করে নিতে পারেন।