03/10/2025
পর্ব ৩ : মানেভঞ্জন থেকে টুমলিং
তারিখ: ২৮.০৯.২০২৫
আগেরদিন রাত থেকেই ভেবে রাখা হয়েছিল যে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে টুমলিং এ বেশি টা সময় কাটাব । যা ভাবা তাই কর্ম । সকাল ৮:৩০ এর মধ্যে জলখাবার খেয়ে সবাই প্রস্তুত তুমলিং যাব বলে । আমি তাড়াতাড়ি গাড়ি ইউনিয়ন এর কাউন্টারে লাইন দিলাম । সামনে আসতেই কাউন্টারের ওপার থেকে প্রশ্ন এলো “কত দিনের প্ল্যান?? কি গাড়ি নেবেন বলেরো নাকি ল্যান্ড রোভার “ । সান্দাকফু ছাড়া অন্য কোথাও ল্যান্ড রোভার চড়তে পাব না তাই দেরি না করে ল্যান্ড রোভার বুক করলাম ৩ দিনের জন্য । ১ দিন তুমলিং আর ২ দিন সান্দাকফু । কাউন্টারের লোকটি আমাদের ভালো পরামর্শ দিল । ফালুৎ এর রাস্তা যেহেতু বন্ধ আমাদের থাকুম ভ্যালি আর আহল এর যাত্রা প্যাকেজ এর মধ্যে জুড়ে দিল কিছু সামান্য অতিরিক্ত পয়সার বিনিময় ।
গাড়ি ড্রাইভার একটু বয়স্ক কিন্তু এরকম দুর্গম রাস্তায় মানুষের অভিজ্ঞতা বেশি কাজে দেয় । কাউন্টার থেকেও পরামর্শ দিল ড্রাইভার খুব ভালো আর রাস্তায় কোনও বিপদে পড়বেন না কারণ এনার অভিজ্ঞতা অনেক । ৩ দিনের জল , অল্প চিপস, বিস্কুট, কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে ৯:৪৫ এ আমরা রওনা দিলাম তুমলিং এর দিকে ।
প্রথমে মানেভঞ্জন এ পুলিশ চেকিং তারপর ফরেস্ট গেটে নাম নথিভুক্ত করে এগিয়ে চললাম খারাই রাস্তা ধরে তুমলিং এর দিকে । কিছুদূর এগোতেই পেলাম চীত্রে মনেস্ট্রি । ওখানে কিছুটা সময় কাটাই ছবি তুলে আর মনেস্ট্রি ঘুরে ।
বেলা ১১:৩০ টার মধ্যে তুমলিং পৌঁছে যাই । আমরা উঠেছিলাম green hill হোটেলে । রুম খুব বড়, সামনে একটা দোলনা দেওয়া বাগান। কিন্তু মোবাইলে কোনও নেটওয়ার্ক নেই, নেপাল বলে । মাথায় ঘুড়ছে ভারত পাকিস্তান ফাইনাল দেখার কথা । হোটেলে ও কারেন্ট নেই, ওয়াইফাই ও স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ । সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে কারেন্ট চলে আসবে আশ্বাস দিল হোটেলের মালিক । কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে চলে গেলাম দুপুরের ভাত খেতে ।
এখানে দুপুরের মেনুতে ছিলো ভাত, ঘি, ডাল, আলু ভাজা, ডিম, স্যালাড, ২ রকমের আচার । খাওয়া সেরে ঠিক শুতে যাব, ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। পারদ আরও কমল, এতক্ষণে পাহাড়ে আসার মজা উপভোগ করা শুরু করলাম ।
বিকাল বেলা কাটল সামনের ছোট এক দোকানে চা খেতে খেতে আর কিছু সারমেয় বন্ধুদের সাথে । এখানে প্রত্যেক বাড়িতে সুন্দর ফুলের বাগান । পরের দিনের সূর্যদয় দেখার জায়গাটা দেখে রাখলাম । আমাদের হোটেল থেকে একটা শর্টকার্ট আছে । সূর্য অস্ত যেতেই পাহাড়ের ধারে দার্জিলিং শহরে আলো জ্বলে উঠল, এদিকে দেখি টুমলিং এও আলো এসে গেছে ।
সন্ধ্যে বেলায় চা, বাধাকপির বরা আর ক্রিকেট । একটা বাঙালির এর থেকে বেশি আর কি চাই । খেলা অনেকক্ষণ চলবে বলে হোটেলের মালিককে হাত করে রাতের খাবার রুমে আনিয়ে নি ।
খেলা শেষে, রাতের খাবার রুটি আর চিকেন দিয়ে সারি । পরের দিন সান্দাকফু যাওয়া, তাই বেশি দেরি না করে শুয়ে পড়লাম শীতের আমেজ নিতে নিতে ।
ক্রমশ:…..