03/05/2026
কাল প্রত্যাবর্তন : দিল্লির বর্গিদের ঘাড় ধাক্কা বাংলার মানুষের
কাল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। ফিরছে তৃণমূলই। টানা চারবার বাংলায় মমতার সরকার। গণনা যত এগোবে, ততই সেই ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠবে আগামী কাল। গতবারের থেকেও বেশি আসন নিয়ে তৃণমূলের ক্ষমতায় ফেরা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ১৯টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ নেতা-নেত্রীরা এবার সমস্ত মেশিনারি নিয়ে বাংলা দখল করতে ক্যাম্প করে এ-রাজ্যে পড়েছিলেন। কমিশনকে দলদাসে পরিণত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও এজেন্সিকে নিয়ে ঝাঁপিয়েছিলেন বাংলায়। কিন্তু এবারও তাঁদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না। ফিরতে হবে মুখ চুন করেই। তাঁদের স্বপ্ন ফের ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে বাংলার ঘরের মেয়ের দাপটে। কারণ বাংলার ভরসা ঘরের মেয়ের উপরই। বহিরাগত জমিদারদের এখানে স্থান নেই। ঘরের মেয়ের উন্নয়নেই তাদের আস্থা। কেন? কী তার কারণ? নেপথ্যে রয়েছে তিলে তিলে গড়ে ওঠা একটা বিশ্বাস। তৃণমূলই জিতছে, কারণ—
*বিপুল জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তি*
৩৪ বছরের জগদ্দল পাথর-সম বামফ্রন্ট সরকারকে একাই অপসারিত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে বিপুল জনসমর্থন বেড়েছে তৃণমূলের। মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। তার ফলেই ২০১১-য় পরিবর্তন এবং ২০০-র বেশি আসন নিয়ে দু’বার প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের।
এবার প্রত্যাবর্তনের হ্যাটট্রিকও স্রেফ সময়ের অপেক্ষা সেই জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তির উপর ভিত্তি করে।
*জনমুখী প্রকল্প*
তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে। কথা দিয়ে কথা রেখেছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষের কাছে আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে সেই জনমুখী প্রকল্পের কারণেই। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে সেই প্রকল্প জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা দলের পক্ষে সমর্থনকে আরও দৃঢ় করেছে।
*নেত্রীর জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বে দক্ষতা*
ব্যক্তিগত ক্যারিশমা তো রয়েইছে, তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর বিচক্ষণ রাজনীতি, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার মানসিকতাকে ভর করে তৃণমূল এগিয়ে চলেছে তরতরিয়ে। তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দৃঢ়তা দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
*জনতাকেন্দ্রিক রাজনীতি*
তৃণমূলের রাজনীতি জনতাকেন্দ্রিক। তৃণমূল সাধারণ মানুষের দল হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে মানুষের। ভোটের লড়াইয়েও তাই সাধারণ মানুষের সমর্থন যে পাবে তৃণমূল, তা বলাই বাহুল্য। এবারও তাই বিপুল ব্যবধানে জিতে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে তৃণমূলই।
*বিরোধী দলগুলির দুর্বলতা*
তৃণমূলের জয়ের আরও একটা বড় কারণ, বিরোধী দলগুলির দুর্বলতা। ৩৪ বছরের শাসক সিপিএম শূন্যে নেমেছে। সাংগঠনিক দুর্বলতায় কংগ্রেসকে দূরবিন দিয়ে দেখতে হচ্ছে। বাকি রইল বিজেপি। বিজেপিও বিভাজনের রাজনীতিতে এতটাই মজে গিয়েছে, সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেনি। বিকল্প বিরোধী শক্তি না থাকা তৃণমূলকে সুবিধা করে দিচ্ছে।
*বাংলা-বিরোধী বিজেপি*
বিজেপি আদ্যোপান্ত একটা অবাঙালি দল। বিজেপি-রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অকথ্য অত্যাচার, বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া বাঙালি ভালো চোখে নেয়নি। তা বিজেপিকে বহিরাগত দল হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে। বাংলায় কথা বললেই বিজেপি-রাজ্যগুলিতে যেভাবে পরিযায়ীরা অত্যাচারিত হয়েছে ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন এবার পড়তে বাধ্য।
*বাংলাকে বঞ্চনা*
একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জল— সব ক্ষেত্রেই বাংলাকে দিনের পর দিন বঞ্চনা করে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলার বকেয়া দেওয়া হয়নি। জিএসটির টাকা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাংলা থেকে, কিন্তু বাংলার ন্যায্য পাওনা দেওয়া হয়নি। তার প্রভাব এবার ভোটবাক্সে পড়তে বাধ্য। বাংলার মানুষ এবার সেই জবাব দিতে তৈরি।
*দলদাস কমিশন*
তারপর ভোট ঘোষণা হতেই কমিশনকে দলদাসে পরিণত করে বাংলার প্রশাসনে নজিরবিহীন বদলি করা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে পর্যন্ত বদলি করে দেওয়া হয়েছে। বাংলার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ভিনরাজ্যে বদলি করে বাংলা দখলের ঘুঁটি সাজিয়েছে বিজেপি। নিজেদের ধামাধরা লোক বসিয়ে নির্বাচন জিততে চেয়েছে।
*কেন্দ্রীয় এজেন্সির বাড়াবাড়ি*
শুধু কমিশনকে করায়ত্ত করে ক্ষান্ত থাকেনি বিজেপি। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে এজেন্সি নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এজেন্সি লাগিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নজরবন্দির খেলা চালিয়ে গিয়েছে ভোট-পর্বে। এমনকী গণনাপর্বেও তা জারি রয়েছে। এজন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল টাকা এনে, তা ছড়িয়ে জিততে চেয়েছে। এবার ভোট তাই প্রতিবাদের এবং প্রতিরোধেরও।
*এসআইআরে নামবাদ ও হয়রানি*
বাংলায় জিততে বিজেপি অপরিকল্পিত এসআইআর করে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি করে বৈধ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নেত্রীর প্রতিবাদ, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই নিয়ে যাওয়া, বাদ যাওয়া বৈধ নামকে তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বাধ্য করা, এবং সেইসঙ্গে নেত্রী তথা তৃণমূল বোঝাতে সমর্থ হয়েছে তারাই একমাত্র মানুষের পাশে। তাই যারা সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে, তাদের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।
*বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি*
বিজেপি বাংলা দখল করতে ধর্মীয় বিভাজনের তাস খেলেছে। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে সাম্প্রদায়িক দল তৈরিতে ইন্ধন দিয়েছে। বিজেপির টাকায় সেই ষড়যন্ত্রের ছবিও সামনে এসেছে। এবার বাংলার সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ তার প্রতিবাদ জানাবেই ভোটবাক্সে।