26/09/2025
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ বিষ্ণুক্রান্তার অন্তর্গত।ক্রান্তা বলতে তিনটি ভূখণ্ড।বিন্ধ্যপর্বতের উত্তর দিক অর্থাৎ বিন্ধ্য থেকে মহাচীন অবধি যে ভূখণ্ড তা হল রথক্রান্তা।বিন্ধ্য থেকে বাংলাদেশ অবধি বিষ্ণুক্রান্তার অন্তর্গত এবং বিন্ধ্য থেকে সিংহল অবধি হল অশ্বক্রান্তা।
আঞ্চলিক দেব দেবী অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে জনপ্রিয় ও অধিক প্রচলিত দেবী দেব।রথক্রান্তার আঞ্চলিক দেবী তারা, বিষ্ণুক্রান্তার কালী ও অশ্বক্রান্তার দেবী ললিতা।আশা করি আঞ্চলিক দেব দেবী অর্থ বোঝাতে পেরেছি।এইবার আসি গ্রামদেবীর পরিভাষায়।গ্রাম অনুযায়ী প্রচলিত ও জনপ্রিয় দেবী দেবতাকে গ্রামদেবী বলে অর্থাৎ আঞ্চলিক দেব দেবী ছোট ছোট বিভাগ।
সনাতন ধর্মে উল্লেখিত দেব দেবীরাই কেউ সরাসরি ভাবে, কেউ মিশ্রিত ভাবে বা কেউ বিবর্তিত হয়ে হয়েছেন গ্রামদেবী বা গ্রামদেবতা। সকলের পূজাই শাস্ত্রীয় মতে হওয়া সমুচিত কিন্তু যেহেতু সে নিয়ম গুলি কঠিন ও খরচ সাপেক্ষ তাই এক দল মূর্খ ও সুবুধাবাদি লোক তাদের পূজা সহজ করতে ও তাদের নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার করার জন্য তাদের গায়ে লাগালেন 'লৌকিক' ট্যাগ।আদতে লৌকিক বলে কিছুই হয় না এবং সকলেই শাস্ত্র উল্লেখিত, তাই প্রমাণ করতে অবিভক্ত বর্ধমান নিয়ে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
ধর্মনিরপেক্ষতার বিষে জর্জরিত হয়ে কিছু দুর্মতি কিছু দেবীদের নামের শেষে যোগ করলেন "বিবি"। আবার কিছু দেবীদের নামের শেষে যুক্ত হলো " বুড়ি"। বুড়ি বলতে চিহ্নিতা হন বনদেবী বনদুর্গা, তাই ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এই বুড়িরা আদতে সকলেই প্রাচীন কালে বনে ছিলেন আর নাহলে এখন ও আছেন।এই বনদুর্গা তান্ত্রিক দেবী।চণ্ডী তো আদতেই পৌরাণিক ও তান্ত্রিক দেবী।চণ্ডী ও মনসা বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবী।ডঃ শিবেন্দু মান্না তার লেখায় দেবী চণ্ডীকে বাংলাদেশের লোকমাতৃকা বলেছেন, অর্থাৎ লোকেদের মধ্যে খুব প্রচলিত দেবী এই চণ্ডী।গোটা অবিভক্ত বাংলাদেশে ১০০ রও বেশী চণ্ডী আছেন।তবে চণ্ডী বা অন্য গ্রামদেবী নামকরণের ক্ষেত্রে বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়।কোথাও গ্রামের নামানুসারে তাদের নামকরণ, যেমন রাউতমণিতে রাউতানচণ্ডী আর জামনায় জামনাচণ্ডী।কোথাও আবার নামকরণ হয় ভূমিকা হিসেবে, যেমন ভাণ্ডারডিহি ও ময়না দুই স্থানে পূজিতা দেবী চণ্ডী, তার নাম ভাণ্ডারচণ্ডী অর্থাৎ দারিদ্র্নাশিনী।আবার প্রকাশের বস্তুর নামানুসারেও নাম হয়, যেমন রামনগরের নায়কালী, তিনি নাউ(নৌকা) রক্ষা করেন।এই ভাবেই জনসাধারণের ভক্তি, আস্থা ও সমর্পণের কেন্দ্রবিন্দু এই গ্রামদেবী।তাই আমার দায়িত্ব তাদের শাস্ত্রীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তাদের নিয়ে বহু দিনের প্রচলিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ধারণামোচন করা অন্তত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মাতা দেবী ত্রিপুরসুন্দরী, তার হিরণ্যগর্ভ থেকেই প্রথম রচনা, তিনি পঞ্চকৃত্যপরায়ণা, তার কৃপাতেই নির্বিঘ্নে সাধিত হয় পঞ্চকৃত্য।সকল দেবী, দেবতা ও বাকি জড় চেতন সবেতেই তিনি বিদ্যমানা, প্রতি অনুতে তিনিই বাস করেন সর্বব্যাপিনী ব্রহ্ম হয়ে, আবার সকল কিছু তারই মধ্যে, তাই অশাস্ত্রীয় "লৌকিক" বলে কিছু নাই।আবার গ্রামদেবীদের ঘিরে বেড়ে উঠছে শিল্পও, যেমন মনসার বিশেষ ধরনের মূর্তি ও ঘট, ডোকরা বা পটচিত্রে গ্রামদেবী, যা আমিও বানাই।আবার এই দেব দেবীদের অর্পণে তৈরি হয় ছলন, যা মানতে ব্যবহৃত হয়।
প্রকাশিতব্য।