26/01/2026
আমি যে সময়টায় কম্পিটিটিভ এর জন্য পড়াশোনা করতাম কয়েক বছর আগে তার শেষের দিকে প্রশ্নপত্রের ধরন বদলাতে শুরু করে। সুপ্রিম কোর্টের ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন পিএসসি একাধিক পরীক্ষায় দিতে থাকে। তখনই বেশ কিছু ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছিলাম। তোমরা/আপনারাও নিজে থেকেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়বেন , ইন্টারনেটের যুগে সোর্স এর অভাব হবে না। আমার কাছে বেশ ভালো একটা বই ছিল এই বিষয়ের ওপর এখন নাম ভুলে গেছি।
আপনারা/তোমরা আগ্রহী হলে সুপ্রিম কোর্টের ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট নিয়ে অল্প অল্প করে প্রাথমিক পরিচিতির জন্য কয়েকটা পর্বে লিখবো। আজকের পর্ব – ১
১. ⚫Kesavananda Bharati v. State of Kerala (1973)⚫
বিষয়: Basic Structure Doctrine
✍️ কেন মামলা?
কেরালার এক হিন্দু মঠের প্রধান কেশবানন্দ ভারতী তাঁর মঠের জমি রাজ্য সরকারের ভূমি সংস্কার আইনে অধিগ্রহণ হওয়ায় মামলা করেন।
🔹 আসল প্রশ্ন ছিল:
> সংসদ কি সংবিধানকে যেভাবে খুশি বদলাতে পারে?
> এই মামলায় ৬৮ দিন টানা শুনানি হয়—ভারতীয় ইতিহাসে দীর্ঘতম।
> 13 জন বিচারপতি—রায় হয় ৭ বনাম ৬।
👉 এই মামলাতেই প্রথম ঘোষণা করা হয় যে সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারবে, কিন্তু সংবিধানের “Basic Structure” ধ্বংস করতে পারবে না।
📌 গুরুত্ব:
ভারতীয় সংবিধানের “রক্ষাকবচ” বলা হয় এই রায়কে। কেশবানন্দ ভারতী নিজে জীবনে আর কোনোদিন জনসমক্ষে আসেননি, কিন্তু তাঁর নামেই সংবিধান “রক্ষা” পেল।
২. ⚫Golaknath v. State of Punjab (1967)⚫
বিষয়: Fundamental Rights বনাম Constitutional Amendment
✍️ কেন মামলা?
পাঞ্জাব সরকার ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে গোলকনাথ পরিবারের জমি সীমিত করতে চাইলে তাঁরা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।
🔹 আসল টানাপোড়েন:
> সংসদ বনাম মৌলিক অধিকার
🔹 এই রায়ে সংসদের ক্ষমতা এতটাই সীমাবদ্ধ হয়ে যায় যে সরকার কার্যত “চাপের মুখে” পড়ে এবং পরপর সংবিধান সংশোধন আনে।
👉 আদালত রায় দেয়—সংসদ মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে না।
📌 গুরুত্ব:
এই রায়ই সংসদকে একাধিক সংবিধান সংশোধন (24th, 25th, 42nd) করতে বাধ্য করে, যার ফলেই Kesavananda মামলা আসে।
3. ⚫Minerva Mills v. Union of India (1980)⚫
বিষয়: Limited Power of Parliament
কেন মামলা?
একটি বস্ত্র কারখানাকে সরকার জাতীয়করণ করে। মালিকপক্ষ দাবি করে—42nd Amendment সংবিধান ধ্বংস করছে।
🔹 পেছনের প্রেক্ষাপট:
এটি ছিল Emergency-পরবর্তী বিচারিক প্রতিক্রিয়া।
🔹 আদালত কার্যত বলেছিল—
> “সংসদ সর্বশক্তিমান নয়”
> সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা সীমাহীন নয়
> Fundamental Rights ও Directive Principles-এর মধ্যে সমতা থাকা Basic Structure-এর অংশ
📌 গুরুত্ব:
42nd Amendment-এর একাধিক ধারা বাতিল হয়।
4. ⚫Indira Gandhi v. Raj Narain (1975)⚫
বিষয়: Free and Fair Election
✍️ কেন মামলা?
রাজ নারায়ণ অভিযোগ করেন—ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে সরকারি যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।
🔹 ফল:
হাইকোর্ট তাঁর নির্বাচন বাতিল করে।
🔹এই রায়ের পরেই
👉 Emergency ঘোষণা
👉 সংবিধানে এমন সংশোধন আনা হয় যাতে প্রধানমন্ত্রীকে আদালতের বাইরে রাখা যায়—কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে।
👉 প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় আদালত বলে—
Free & Fair Election = Basic Structure
📌 গুরুত্ব:
রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর বিচার বিভাগের সাহসী হস্তক্ষেপ।
5. ⚫ADM Jabalpur v. Shivkant Shukla (1976)⚫
বিষয়: Emergency & Habeas Corpus
✍️ কেন মামলা?
Emergency-তে হাজার হাজার মানুষ বিনা বিচারে আটক। পরিবারগুলো Habeas Corpus চায়।
🔹 আদালতের সিদ্ধান্ত:
> Emergency-তে জীবন ও স্বাধীনতা আদালতের বিষয় নয়।
👉 একমাত্র বিচারপতি H.R. Khanna এর বিরোধিতা করেন।
👉 তাঁর এই অবস্থানের জন্য তিনি Chief Justice হতে পারেননি
👉 জরুরি অবস্থার সময় আদালত রায় দেয়—
Emergency চলাকালীন নাগরিক Habeas Corpus চাইতে পারবে না।
📌 গুরুত্ব:
এই রায় আজও ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
👉 পরে আদালত নিজেই এই রায়ের ভুল স্বীকার করে।
6. ⚫Maneka Gandhi v. Union of India (1978)⚫
বিষয়: Article 21 – Right to Life
✍️ কেন মামলা?
মানেকা গান্ধীর পাসপোর্ট “জনস্বার্থে” বাতিল করা হয়—কোনো কারণ না জানিয়ে।
🔹 আসল প্রশ্ন:
> সরকার কি ইচ্ছেমতো নাগরিকের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে?
👉 এই মামলাই Article 21-কে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।
👉 আদালত বলে—
Right to Life মানে "শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা।"
📌 গুরুত্ব:
Article 21-এর পরিধি বিপুলভাবে বিস্তৃত হয়—
> Right to Travel
> Due Process of Law
> Personal Liberty
7. ⚫Waman Rao v. Union of India (1981)⚫
বিষয়: Ninth Schedule & Judicial Review
✍️ কেন মামলা?
নবম তফসিলে ঢুকিয়ে ভূমি সংস্কার আইনকে আদালতের বাইরে রাখার চেষ্টা।
🔹 আসল উদ্দেশ্য:
Judicial Review এড়ানো।
🔹 ফল:
Kesavananda-এর পর যা হয়েছে, তা বিচারযোগ্য।
👉 আদালত সিদ্ধান্ত দেয়—
Kesavananda Bharati রায়ের পর করা Ninth Schedule সংযোজন বিচার বিভাগের পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
📌 গুরুত্ব:
সংবিধান সংশোধনের ওপর বিচার বিভাগের নজরদারি নিশ্চিত হয়।
8. ⚫I.R. Coelho v. State of Tamil Nadu (2007)⚫
বিষয়: Ninth Schedule vs Basic Structure
✍️ কেন মামলা?:
রাজ্যগুলো Ninth Schedule ব্যবহার করে মৌলিক অধিকার এড়াতে চাইছিল।
🔹 আদালতের কঠোর বার্তা:
> Ninth Schedule ≠ Safe Zone
> এই রায় সংসদকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—
“সংবিধান, সংসদের চেয়েও বড়।”
> আদালত বলে— Ninth Schedule-এ রাখা আইনও যদি Basic Structure লঙ্ঘন করে, তা বাতিল হবে।
📌 গুরুত্ব:
Parliamentary supremacy নয়, Constitutional supremacy প্রতিষ্ঠিত হয়।
9. ⚫Indra Sawhney v. Union of India (1992)⚫
বিষয়: Reservation & OBC
✍️ কেন মামলা?
মণ্ডল কমিশনের OBC সংরক্ষণ বাস্তবায়ন।
🔹 প্রেক্ষাপট?
দেশজুড়ে আন্দোলন, আত্মদাহ, ছাত্র বিক্ষোভ।
👉 এই রায়েই “Creamy Layer” শব্দটি আদালতেরই সৃষ্টি।
👉 আদালত রায় দেয়—
> OBC সংরক্ষণ সাংবিধানিক
> Creamy Layer বাদ দিতে হবে
> মোট সংরক্ষণ ৫০% অতিক্রম করা যাবে না
📌 গুরুত্ব:
ভারতের সংরক্ষণ নীতির ভিত্তি স্থাপনকারী রায়।
10. ⚫M. Nagaraj v. Union of India (2006)⚫
বিষয়: Reservation in Promotion
✍️ কেন মামলা?
SC/ST প্রমোশনে সংরক্ষণ নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ।
🔹 আসল দ্বন্দ্ব:
Social Justice বনাম Administrative Efficiency
🔹 ফল:
সংরক্ষণ থাকবে, কিন্তু তথ্যপ্রমাণসহ।
👉 আদালত বলে—
SC/ST-দের প্রমোশনে সংরক্ষণ দিতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে—
> জাতিগত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা
> প্রশাসনিক দক্ষতার ক্ষতি হচ্ছে না
📌 গুরুত্ব:
Reservation বনাম Efficiency বিতর্কে ভারসাম্য।