16/11/2025
সরকারি স্কুলে ভালো রেজাল্ট হলে আমরা স্কুলের নাম শুনি, প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য দেখি, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য পড়ি। কিন্তু যারা নীরবে সবটুকু দায়িত্ব কাঁধে নেয়, সেই পর্দার আড়ালের মানুষগুলোর কথা খুব কমই উঠে আসে।
গ্রামের গৃহশিক্ষকদের কথা ভাবলেই এক অস্বস্তিকর সত্য সামনে আসে—সবচেয়ে বেশি সময় যাঁরা পড়ান, যাঁরা শিশুদের হাতে-কলমে শেখার ভিত্তি তৈরি করেন, সমাজে তাঁরাই সবচেয়ে অবহেলিত।
প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে পড়ানো, ফলাফলের বাড়তি চাপ, অভিভাবকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবন যেন টানটান দড়ির ওপর হাঁটার মতোই কঠিন।
গ্রামের সরকারি স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী আসলে পড়াশোনার ভিত গড়ে তোলে এই গৃহশিক্ষকদের কাছে। সকাল-বিকেল খাতা দেখা, বুঝিয়ে বোঝানো, একই পাঠ বারবার রিভিশন করানো—তাঁরা না থাকলে অগণিত শিশু আজও পিছিয়ে থাকত।
ভালো ফলাফলের আসল কারিগর, অনেক ক্ষেত্রে, এই গৃহশিক্ষকরাই।
শেষ কথা—গৃহশিক্ষকেরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নীরব যোদ্ধা। তাঁদের পরিশ্রমে হাজারো ছাত্র-ছাত্রী পথ খুঁজে পায়, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হয়, ভবিষ্যৎ আলোকিত হয়।
তবু তাঁরা পান না যথাযথ সম্মান, নেই নিরাপত্তা, নেই ন্যায্য পারিশ্রমিক।
শিক্ষা তখনই সত্যিকারের এগোয়, যখন শিক্ষক হাসিমুখে পড়াতে পারেন। গৃহশিক্ষকদের সম্মান বাড়লে শিক্ষার মানও বদলে যাবে—এই সহজ সত্যিটাই আমরা বারবার অমান্য করে চলেছি।
--