Golper Thakur

Golper Thakur Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Golper Thakur, Digital creator, kolkata, West Bengal.

কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠে প্রতি বছরই ভক্তদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ তা...
12/09/2026

কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠে প্রতি বছরই ভক্তদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ তারাপীঠে এসে পুজো, তন্ত্রসাধনা ও মন্দির দর্শনে অংশ নেন। তবে এবার ভক্তসমাগমের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে—চার দিনে প্রায় ৪.৭৩ কোটি টাকার মদ বিক্রির হিসাব।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে টানা কয়েকদিন তারাপীঠ ও সংলগ্ন এলাকায় মদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, চার দিনের বেচাকেনার অঙ্ক প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির তথ্য সামনে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

তারাপীঠ মূলত মা তারার মন্দিরের জন্যই পরিচিত। কৌশিকী অমাবস্যা এই তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষ। এই সময় মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে মানুষের ভিড় থাকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মদ বিক্রির এই অঙ্ককে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবে না। তারাপীঠ একটি জনপ্রিয় পর্যটন ও তীর্থস্থান হওয়ায় কৌশিকী অমাবস্যার সময় এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন ঘটে। সেই বাড়তি জনসমাগমের প্রভাব স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার উপরও পড়ে। মদের দোকানগুলির বিক্রিও সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৪.৭৩ কোটি টাকার এই হিসাব তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে কয়েকদিনের জন্য তারাপীঠে মানুষের বিপুল সমাগম ও স্থানীয় ব্যবসায় তার প্রভাব যেমন সামনে এসেছে, অন্যদিকে একটি ধর্মীয় তীর্থস্থানে এত বিপুল পরিমাণ মদ বিক্রির বিষয়টিও অনেকের নজর কেড়েছে।

তবে এই অঙ্কটি কোন নির্দিষ্ট সময়ের সরকারি বিক্রয়-হিসাব, নাকি সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব—তা যাচাই করে দেখা জরুরি। কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে মদ বিক্রির অঙ্কে কিছু পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। তাই ৪.৭৩ কোটি টাকার তথ্যকে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা আবগারি দপ্তরের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হবে।

Golper Thakur

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ড. বিক্রম সারাভাই, এ. পি. জে. আবদুল কালামদের নাম খুব পরিচিত। কিন্তু তাঁদের পাশাপাশি এমন কি...
12/09/2026

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ড. বিক্রম সারাভাই, এ. পি. জে. আবদুল কালামদের নাম খুব পরিচিত। কিন্তু তাঁদের পাশাপাশি এমন কিছু বিজ্ঞানী ছিলেন, যাঁদের অবদান ছাড়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির শুরুর পথটা এতটা সহজ হতো না। তাঁদেরই একজন ছিলেন একনাথ বাসন্ত চিটনিস।

একনাথ বাসন্ত চিটনিস ছিলেন ভারতের প্রাথমিক মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী এবং বিক্রম সারাভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে যখন ভারত নিজস্ব মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি তৈরি করছিল, তখন চিটনিস INCOSPAR-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীকালে বিকশিত হয়ে ISRO-তে পরিণত হয়।

ভারতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কেরলের থুম্বা জায়গাটি বেছে নেওয়ার পেছনে তাঁর গবেষণা ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে থুম্বা পৃথিবীর চৌম্বকীয় বিষুবরেখার কাছাকাছি ছিল, যা মহাকাশ গবেষণার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ১৯৬৩ সালে থুম্বা থেকে ভারতের প্রথম দিকের রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশের মহাকাশযাত্রার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হয়।

চিটনিসের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জড়িয়ে আছে তরুণ আবদুল কালামের সঙ্গে। কালামের সম্ভাবনা তিনি খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন এবং তাঁকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে কালাম ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং দেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠেন।

তবে চিটনিসের কাজ শুধু রকেট উৎক্ষেপণ বা গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ সালের Satellite Instructional Television Experiment বা SITE-এর সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতের হাজার হাজার গ্রামের মানুষের কাছে শিক্ষামূলক ও উন্নয়নমূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির ভিত গড়ে তোলার এই দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একনাথ বাসন্ত চিটনিস ১৯৮৫ সালে পদ্মভূষণে সম্মানিত হন। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর, ১০০ বছর বয়সে পুনেতে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ ISRO সাফল্যের নতুন নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে থাকা প্রাথমিক যুগের বিজ্ঞানীদের অবদানও মনে রাখা জরুরি। একনাথ চিটনিস ছিলেন সেই প্রজন্মের একজন বিজ্ঞানী, যাঁরা ভারতের মহাকাশ স্বপ্নকে বাস্তবের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন।

#গল্পেরঠাকুর

বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উগ্রপন্থা, যুদ্ধ আর ধ্বংসের ছবি। কিন্...
12/09/2026

বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উগ্রপন্থা, যুদ্ধ আর ধ্বংসের ছবি। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, তার নিজেরই এক সন্তান বাবার এই রক্তক্ষয়ী আদর্শকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও শান্তির এক জীবন। তিনি ওমর বিন লাদেন (Omar bin Laden)—ওসামা বিন লাদেনের চতুর্থ পুত্র। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ছবি এবং জীবনের গল্প নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

১৯৮১ সালে সৌদি আরবে জন্ম নেওয়া ওমর বিন লাদেনের কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছিল সুদান এবং আফগানিস্তানে তার বাবার কঠোর সামরিক ও জিহাদি শিবিরের পরিবেশে। সেখানে তাকে অস্ত্র চালানো এবং যুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। ওসামা বিন লাদেন চেয়েছিলেন তার সন্তানেরাও যেন তার দেখানো পথেই হাঁটে। কিন্তু ওমরের চিন্তাভাবনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিষ্পাপ সাধারণ মানুষের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। অবশেষে ২০০০ সালে, ওসামা বিন লাদেনের পরিচালিত আমেরিকা হামলার (৯/১১) ঠিক এক বছর আগে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে ওমর তার বাবার পথ এবং আফগানিস্তানের আল-কায়েদা ক্যাম্প চিরতরে ত্যাগ করার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

বাবার অন্ধকার অতীত থেকে বেরিয়ে এসে ওমর নিজেকে একজন চিত্রশিল্পী (Artist) এবং লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ওমরের মতে, ক্যানভাসে রঙের ছোঁয়া দেওয়া ছিল তার জীবনের জন্য এক ধরণের থেরাপি বা মানসিক শান্তি পাওয়ার মাধ্যম, যা তাকে শৈশবের ট্রমা ও অন্ধকার স্মৃতি ভুলে থাকতে সাহায্য করেছে। তিনি মূলত পাহাড়, মনোরম মরুভূমি এবং ঘোড়ার ছবি আঁকতে পছন্দ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৬ সাল থেকে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলে তার স্ত্রীর সাথে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে ঘোড়া লালন-পালন ও ছবির প্রদর্শনী করে শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং নিজেকে বিশ্ব শান্তির একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তবে ওমরের এই শান্তিময় জীবনে সম্প্রতি এক নতুন নাটকীয় মোড় এসেছে। ২০২৩ সালে তার একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা গৌরবান্বিত করে একটি পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে। ওমর জোর দিয়ে দাবি করেন যে তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং তিনি নিজে এই পোস্ট করেননি। কিন্তু ফরাসি প্রশাসন এই দাবি পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। ফলস্বরূপ, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওমর বিন লাদেনের ওপর ফ্রান্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। আদালতের রায়েও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। বর্তমানে ওমর বিন লাদেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাস করছেন। একজন চরমপন্থীর ঘরে জন্ম নিয়েও ওমরের শান্তির পথে হাঁটার এই লড়াই মানুষকে আজও এক মিশ্র বার্তা দেয়।

২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঘটে যায় এমন এক সন্ত্রাসী হামলা, যা শুধু আমেরিকাকেই নয়, গো...
12/09/2026

২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঘটে যায় এমন এক সন্ত্রাসী হামলা, যা শুধু আমেরিকাকেই নয়, গোটা বিশ্বের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই বদলে দেয়। ৯/১১ হামলায় মোট চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছিল। এই চারটি বিমানকে ব্যবহার করেই আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

সেদিন সকালে American Airlines Flight 11 এবং United Airlines Flight 175—দুটি বিমান নিউইয়র্কের World Trade Center-এর Twin Towers-এ আঘাত করে। প্রথম বিমানটি উত্তর টাওয়ারে এবং দ্বিতীয়টি দক্ষিণ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই বিশাল ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

এরপর American Airlines Flight 77 বিমানটি ভার্জিনিয়া থেকে উড়ে এসে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে অবস্থিত মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর Pentagon-এ আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি ছিল United Airlines Flight 93। বিমানটির যাত্রীরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাইজ্যাকারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়, যাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে বিমানটি হাইজ্যাকারদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

এই চারটি বিমান হাইজ্যাকের ঘটনায় মোট প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিমানযাত্রী, বিমানকর্মী, World Trade Center-এর কর্মী, দমকলকর্মী, পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মী। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘War on Terror’ শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

২০২৬ সালে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এত বছর পরেও সেই দিনের স্মৃতি, নিহতদের পরিবারগুলোর শোক এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ২৫তম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

৯/১১ তাই শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়—এটি এমন একটি ঘটনা, যার প্রভাব আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারত ও রাশিয...
12/09/2026

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। সম্মেলনের প্রাক্কালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সুরক্ষার মতো দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি দুই দেশের অনন্য সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও বিশেষভাবে প্রকাশ পায়। বৈঠক চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতি পুতিনের হাতে প্রাচীন তামিল সাহিত্যের কালজয়ী ধ্রুপদী গ্রন্থ 'তিরুক্কুরল'-এর একটি বিশেষ রুশ অনুবাদ সংস্করণ উপহার হিসেবে তুলে দেন।

'তিরুক্কুরল' হলো প্রায় দুই হাজার বছর আগে মহান সাধু ও দার্শনিক তিরুবল্লুবর দ্বারা রচিত একটি প্রাচীন নীতিশাস্ত্র গ্রন্থ। মানবজীবনের নৈতিকতা, সুশাসন, রাজনীতি এবং পারিবারিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নিয়ে মোট ১,৩৩০টি শ্লোকে সাজানো হয়েছে এই কালজয়ী সাহিত্য। ২০২৬ সালে 'সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ক্লাসিক্যাল তামিল' দ্বারা প্রকাশিত এই বিশেষ সংস্করণটিতে মূল তামিল কবিতার পাশাপাশি রুশ ভাষার নিখুঁত অনুবাদ যুক্ত করা হয়েছে, যা অনুবাদ করেছেন বিখ্যাত গবেষক নাইরা মক্রচিয়ান।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এই উপহারের তাৎপর্য অপরিসীম। ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব কেবল ভূ-রাজনীতি বা সামরিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দুই দেশের জনগণের গভীর আত্মিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত—প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই উপহারটি ছিল ঠিক সেই বার্তারই এক জীবন্ত প্রতীক। রাশিয়ার বিখ্যাত সাহিত্যিক লিও তলস্তোয়ের ওপরও ভারতীয় দর্শন ও চিন্তাধারার গভীর প্রভাব ছিল, যা এই উপহারের মাধ্যমে আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

এই বৈঠক কেবল বিশ্ব রাজনীতিতে দুই পরাশক্তির কৌশলগত অংশীদারিত্বকে মজবুত করেনি, বরং বৈশ্বিক স্তরে ভারতের সমৃদ্ধ প্রাচীন ঐতিহ্য ও জ্ঞানকে তুলে ধরেছে। পুতিনের হাতে রুশ ভাষার এই পবিত্র গ্রন্থ তুলে দেওয়ার ঘটনাটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী ও বিশ্বাসের সম্পর্কে এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করল।

বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি এবং দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নিজের আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বাগেশ্বর বাব...
12/09/2026

বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি এবং দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নিজের আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে বাংলায় রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। এবার নতুন বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর আপত্তি কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নয়; বরং মূল আপত্তি ছিল পশুবলি এবং ধর্মীয় স্থানের সঙ্গে যুক্ত কিছু নির্দিষ্ট প্রথা নিয়ে।

সম্প্রতি বাংলাকে ঘিরে তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেখানে দুর্গাপুজোর সময় মাছ-মাংস খাওয়া এবং পুজোর পরিবেশে আমিষ খাবারের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই মন্তব্যের পর অনেকেই অভিযোগ করেন, বাংলার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতি নিয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিতর্কের আবহে এবার গ্লাসগো থেকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কী খাবেন, সেটি নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তাঁর আপত্তির বিষয় পশুবলি এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সেই প্রথা। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস এবং ধর্মীয় স্থানে পশুবলি—এই দুটিকে তিনি আলাদা বিষয় হিসেবে দেখাতে চাইছেন।

তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ আগের বক্তব্যের যে অংশগুলি প্রকাশ্যে এসেছিল, সেগুলিকে অনেকেই বাঙালির আমিষ খাদ্যাভ্যাসের বিরোধিতা হিসেবে দেখেছিলেন। ফলে নতুন বক্তব্যকে কেউ clarification হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিতর্কের পর অবস্থান নরম করার চেষ্টা বলেও মনে করছেন।

এই ঘটনায় ফের সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—ধর্মীয় আচার, পশুবলি, ব্যক্তিগত খাদ্যস্বাধীনতা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির সীমারেখা কোথায়? বিতর্ক যতই এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে বিষয়টি শুধু খাবারের পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নও।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক মহিমায় ভাস্বর এক অনন্য তীর্থভূমি হলো বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ঈশ্বরী...
11/09/2026

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক মহিমায় ভাস্বর এক অনন্য তীর্থভূমি হলো বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'যশোরেশ্বরী কালী মন্দির'। হিন্দু পুরাণ ও তন্ত্র শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী সতীর ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে এটি অন্যতম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান। লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় গ্রন্থ মতে, মহাদেবের তাণ্ডবনৃত্যের সময় দেবী সতীর পবিত্র দেহের 'হাতের তালু এবং পায়ের পাতা' এই স্থানেই পতিত হয়েছিল। দেবীর এই বিশেষ অঙ্গ পতনের অলৌকিক মহিমাকে কেন্দ্র করেই যুগ যুগ ধরে এই স্থানটি পুণ্যার্থীদের কাছে এক পরম ভক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তবে এই মন্দিরের ইতিহাস যতটা আধ্যাত্মিক, ঠিক ততটাই রোমাঞ্চকর এবং রহস্যে ঘেরা। মধ্যযুগের পর এক দীর্ঘ সময় এই মহাতীর্থটি সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল, লতাপাতা এবং ঘন ঝোপঝাড়ের আড়ালে পুরোপুরি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় এটি দীর্ঘকাল একপ্রকার "লুকিয়ে থাকা" বা বিস্মৃত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম প্রতাপশালী মহারাজ প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি এই নিবিড় বনের মধ্য থেকে একটি অলৌকিক আলোর জ্যোতি নির্গত হতে দেখেন। সেই আলোর উৎস খুঁজতে গিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করার পর অলৌকিক উপায়ে পুনরায় আবিষ্কৃত হয় দেবীর আদি কষ্টিপাথরের বিগ্রহ, যা দেখতে মানুষের হাতের তালুর মতো খোদাই করা। দেবী স্বপ্নযোগে মহারাজ প্রতাপাদিত্যকে আদেশ দিলে তিনি এখানে একটি নতুন মন্দির ও নাটমন্দির নির্মাণ করেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় মন্দিরটি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু শত প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশভাগের পর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে সীমান্ত প্রান্তের নিভৃত পল্লীতে পড়ে থাকলেও, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গভীর অন্তরের ভক্তি এবং বংশানুক্রমিক সেবায়েতদের নিরলস নিষ্ঠার কারণে দেবীর নিত্যপূজা ও আরাধনা কখনোই চিরতরে বন্ধ হয়নি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ এই মন্দির। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয় এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে মানসিক বা মানত নিয়ে ছুটে আসেন। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর এই মন্দিরটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলো ছড়ায়। শত শত বছরের চড়াই-উতরাই এবং ইতিহাসের ধূলিকণা বুকে মেখে আজও বাংলাদেশের বুকে সগৌরবে ও অলৌকিক মহিমায় জাগ্রত মা যশোরেশ্বরী।

নয়া দিল্লি: ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে এসে পৌঁছ...
11/09/2026

নয়া দিল্লি: ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে এসে পৌঁছালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই ভারত সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। রাজধানী দিল্লিতে পা রাখার পরই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি।

কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এবারের বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং স্থানীয় মুদ্রায় (রুপি-রুবেল) লেনদেন আরও সহজতর করার বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, মহাকাশ গবেষণা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েও কথা হতে পারে দুই নেতার মধ্যে।

এছাড়াও, ২০২৬ সালের ব্রিকস সামিটকে সামনে রেখে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক এজেন্ডা কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে মোদী ও পুতিন আলোচনা করবেন। বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ব্রিকস জোটের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে ব্রিকসের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম বা অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির যে পরিকল্পনা রাশিয়ার রয়েছে, সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী হবে, তাও এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আবহে পুতিনের এই ভারত সফর প্রমাণ করে যে, দিল্লির সঙ্গে মস্কোর "বিশেষ এবং বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব" (Special and Privileged Strategic Partnership) এখনও কতটা সুদৃঢ়। পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ সত্ত্বেও ভারত সবসময়ই রাশিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই মেগা বৈঠক কেবল ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে না, বরং আগামী দিনে ব্রিকস জোটের রূপরেখাও নির্ধারণ করবে। বিশ্বনেতাদের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা আন্তর্জাতিক মহল।

.

দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি PG ভবন ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। গত ৬ সেপ্টেম্ব...
11/09/2026

দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি PG ভবন ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ভবনটি ধসে পড়ার পর শুরু হয় দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্ররাও দ্রুত এগিয়ে আসেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ভবন ধসের পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধুলো ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কে কোথায় আটকে রয়েছেন, তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের একটি অংশ ঝুঁকি নিয়েই উদ্ধারকাজে সাহায্য করেন। পরে সরকারি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করে।

প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে আটকদের বের করে আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই দুর্ঘটনা ফের দিল্লির PG ও ভাড়া বাড়িগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ঘটনার তদন্তে ভবনের নিরাপত্তা, নির্মাণের মান এবং অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনের মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের ছেলেকেও পুলিশি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—একটি ভবন কতটা নিরাপদ অবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ভবন ধসের ঘটনা নয়; এটি দিল্লির দ্রুত বাড়তে থাকা PG সংস্কৃতি, আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ছাত্র ও কর্মজীবী মানুষের থাকার জায়গাগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই বিষয়গুলিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে স্থানীয় ছাত্র ও বাসিন্দাদের দ্রুত এগিয়ে আসার ঘটনা অবশ্যই মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু এমন দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য দুর্ঘটনার পর উদ্ধার নয়—দুর্ঘটনার আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।

অসমের গুয়াহাটিতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে,...
11/09/2026

অসমের গুয়াহাটিতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রামানুজ গোস্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং সেখান থেকেই রিয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশের দাবি, নিহত মহিলার মাথা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ফ্রিজের ভিতর রাখা হয়েছিল। দেহের অন্যান্য অংশ নিয়েও নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ও সন্দেহভাজন অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের পরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছিল এবং হত্যার পিছনে অভিযুক্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এই দাবি এখনও পুলিশের তদন্তে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই অভিযোগটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ঘটনার পর অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। প্রথমদিকে তিনি সাংবাদিকদের সামনে অনুশোচনা না থাকার কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। কিন্তু পরে তাঁর বক্তব্য বদলে যায়। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিজের ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি অন্য কাউকে যেন এমন ভুল না করার বার্তাও দেন।

পুলিশ বর্তমানে ঘটনার পুনর্গঠন, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ ঘটনা জানার চেষ্টা করছে। দাম্পত্য কলহ কীভাবে এত ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছাল, দেহ গোপন করার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং অভিযুক্তের বক্তব্যের কতটা সত্য—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংঘাত কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত যেকোনও অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা জরুরি।

Address

Kolkata
West Bengal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Golper Thakur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share