23/06/2026
আপনারা অনেকেই হয়তবা সাইপ্রাসের ঘটনা ইতিমধ্যেই শুনে থাকবেন। আমাদের দেশের নরসিংদীর শাহরিয়ার আহমেদ মাত্র ৩ মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাস গিয়েছিলেন।
সেখানে গিয়ে তিনি কোন কাজ পাচ্ছিলেন না, তাই গত ৩ মাস তার জন্য দেশ থেকে তার পরিবার ৪০/৫০ হাজার করে টাকা পাঠাচ্ছিলো। এমন অবস্থায় শাহরিয়ার কাজের জন্য দিশেহারা হয়ে যায়। অতপর ১১ই জুন সে একটি কাজ পেয়েও যায় আর তার মাকে ফোনে বলে,
- ‘আজকে একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। নাইট ডিউটি। আজ রাতেই জয়েন। দোয়া কইরো।’
কিন্তু জবের ঐ প্রথম নাইট শিফটই ছিলো তার জীবনের শেষ রাত। চাকরি পাওয়ার খবরটি সে তার গ্রিস প্রবাসী বাবা নাসির মিয়া এবং সাইপ্রাসে তার একই গ্রামের রুমমেট রায়হানকেও জানান। রায়হান তাঁকে বলেছিলেন,
- ‘সেখানে গিয়ে লোকেশন পাঠাস।’ কোনো সমস্যা হলে যেন যোগাযোগ করেন, সেটিও বলেন তাকে।
সাইপ্রাস সময় রাত ৯টায় কাজের স্থানে পৌছে রায়হানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠান শাহরিয়ার। কিছুক্ষণ পর রায়হান ফিরতি মেসেজে ‘ওকে’ লিখলেও তা আর সিন হচ্ছিল না। রায়হান ভেবেছিলেন, হয়তো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাই।
কিন্তু রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল,
- ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’
রাতেই শাহরিয়ারের বাবা তার ছেলের রুমমেট রায়হানকে এবং তার পরিবারের বাকী সদস্যদের ঘটনাটি জানান। সবাই ভেবে নেন, হয়তো হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ‘হ্যাকড’ হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, পরদিন সকালে শাহরিয়ার কাজ থেকে আর ফিরে আসেননি। এরপরই রায়হান পুলিশ স্টেশনে গিয়ে রিপোর্ট করেন। পুলিশসহ পাঠানো ওই লোকেশনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে ২৪ ঘণ্টাই অনলাইনে একটিভ ছিল শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর।
এরপর গত দুইদিন আগে সাইপ্রাসের লারনাকা শহরের একটি এলাকা থেকে, মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
আর শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার শাহীন নামের বাংলাদেশি এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যেই শাহরিয়ারের মাটিচাপা দেওয়া লাশ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের বরাতে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
ঘটনা এদিকে শেষ। তবে এবার আমি একটু বলবো,
এই যে এক বাংলাদেশীকে হত্যার দায়ে আরেক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হলো, আমি যদি খুব খারাপ অনুমান না করি, তাহলে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে শাহিন যদি খুন নাও করে, তাহলেও দেখবেন সে এই হত্যাকন্ডের সাথে জড়িত বা যেই গ্রুপ এই কাজ করেছে তার সাথে জড়িত, অথবা শাহরিয়ার যে দালালের মাধ্যমে বা যে এজেন্টের মাধ্যমে সাইপ্রাস গেছে, সেই ঐ চক্রের সাথে জড়িত।
আজকে প্রায় ৪ বছর হতে চলল, আমিও বিদেশে আছি, জাপানে থাকি। এই ৪ বছরে একটা জিনিস ভালো বুঝেছি, বিদেশে বাংলাদেশের মানুষদের অন্যতম বড় শত্রু হলো তার নিজের দেশের মানুষ। হ্যা ভুল দেখেন নি! তার নিজের দেশের মানুষ।
এরপর আমাদের বাংলাদেশের মানুষজনের মত এতটা লোভী, ধান্দাবাজ, বাটপার আমি আর কোন দেশের মানুষকে দেখিনি। শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্য, আমি প্রমান দিতে পারবো! আমি প্রমাণ পেয়েছি!
আর দেশে কয়েক জাতের বাঙ্গালী বের হয়েছে, এরা একেবারেই ঘিলুহীন। এদের মাথায় গোবরও নেই, শুধু বালু আছে। গোবর থাকলেও মস্তিষ্ক কিছুটা উর্বর হতো!
এরা মনে করে বিদেশে কোন খারাপ কিছু নেই, বিদেশে কোন খারাপ কিছু ঘটতেই পারে না, বিদেশে কোন কষ্ট নেই, বিদেশে শুধু বেহেশতি সুখ আর সুখ। আর এ জন্য বিদেশের খারাপ দিক, কষ্ট, পরিশ্রমের কথা বললে কতগুলা রামছাগল বলে,
- আপনি গেছেন কেনো?
- আপনার জন্য বিদেশ না!
- দেশে চলে আসতেছেন না কেনো?
- ঠিকি তো বাড়ি গাড়ি করতেছেন!
- অন্যরা যেনো না যায়, সেজন্য একথা বলে!
- টাকা ধার চাবে, তাই এইভাবে নেগেটিভ কথা বলে!
আরে ভাই, আপনি যে আমারে এগুলা বলেন, আপনি আমার গত ৪ বছরের কাজ দেখছেন? আমি গত ৪ বছর দেশীর স্টুডেন্টদের জন্য, জুনিয়রদের জন্য কি কি কাজ করেছি! হাইয়ার স্টাডির জন্য তাদের কিভাবে হেল্প করি, কিভাবে ইন্সপায়ার্ড করি!
আপনি এর কিছুই দেখেন নি, কিছুই জানেন নি! না জেনেই যা মনে আসলো তা ডেলিভারি করে দিলেন!
আপনাকে মনে রাখতে হবে, প্রতিটা জিনিসের দুইটা দিক থাকে। তাই আমি যদি শুধু ভালো দিকগুলো বলি তাহলে তো আমি "বায়াসড"! তাই মাঝে মধ্যে খারাপ সাইডের কথা, কষ্টের কথা এজন্য বলি, যেনো আপনি এদিকে এসে ধাক্কা না খান!
এদিকে এসে আছাড় খেয়ে মাটিতে না পড়েন! আর বিদেশে যদি এত সুখ হত, বিদেশ যদি বেহেশত হতো, তাহলে এটা কি দুনিয়ায় হতো? বেহেশত তো দুনিয়াতে নাই!
তাই যে জিনিস জানানোর জন্য বলি, শিখানোর জন্য বলি তা থেকে জানুন, শিখুন। না জেনে, না বুঝে নিজের মাথায় যে গোবরও নেই এটা প্রকাশ করতে যাবেন না। এটা লজ্জার!
নিহত শাহরিয়ারকে আল্লাহ জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিক। তার পরিবারকে এই অবর্ননীয় শোক সইবার শক্তি দিক।