24/07/2026
বউ নিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নাই!
ভাই, কি লেভেলের জঘন্য অবস্থা! আজকে সিলেটের ঘটনাটা দেখছেন? জামাই-বউ নিজেদের মতো একটু প্রাইভেট টাইম কাটাতে গেছিল। আর সেই একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত হিডেন ক্যামেরায় ভিডিও করে এখন ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে! আমাদের দেশের মেন্টালিটি কতটা পাতালে নামলে মানুষ এমন নিচ কাজ করতে পারে, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। যেই রিসোর্ট এই নোংরামির সাথে জড়িত, আমি কমেন্টে তার নাম দিয়ে দিচ্ছি।
এদিকে আবার আরেকটা প্রাইভেট ভিডিও নিয়ে তো পুরা দেশ এখন উৎসব করতেছে! সবাই ইনবক্সে লিংক চাচ্ছে, শেয়ার দিচ্ছে, আর ফেসবুকে এসে বিশাল নীতিবাক্য কপচাচ্ছে। কিন্তু ভাই, আসল প্রশ্নটা কেউ করতেছে না—এই ভিডিও লিক করলো কে? বাইরে আসলো কেমনে?
কেউ যদি কোনো ক্রাইম করে থাকে, সেটার জন্য আইন আছে, বিচার হবে। কিন্তু কারও একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে রেকর্ড করা, সেটা অনলাইনে ছড়ায়ে দেওয়া, আর তারপর পুরা জাতি মিলে সাইবার বুলিং করা—এইটা কি ক্রাইম না?
আমাদের দেশের পাবলিকের এখন একটা অদ্ভুত টেন্ডেন্সি হয়ে গেছে। সবাই অনলাইনে একেকজন চিফ জাস্টিস! ভিডিও কে লিক করলো, কেন করলো, মানুষের 'প্রাইভেসি' বইলা যে একটা বেসিক রাইট আছে—এসব নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নাই। জাস্ট আরেকজনকে পাবলিকলি হিউমিলিয়েট করার একটা সুযোগ পাইলেই হইলো!
জাস্ট একবার নিজের ফ্যামিলির কথা চিন্তা করেন। আপনার নিজের বউ, স্বামী, ভাই, বোন বা সন্তানের কোনো সিক্রেট বা প্রাইভেট মুহূর্ত যদি এভাবে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যাইতো, তখন কি এই সেম জাজমেন্ট পাস করতেন? তখন কি বলতেন "ঠিকই হইছে"?
ভাই, আমরা কেউই ধোয়া তুলসি পাতা বা ফেরেশতা না। অন্যের পার্সোনাল লাইফ নিয়ে জাজ করার আগে মাথায় রাইখেন—প্রাইভেসি সবার বেসিক অধিকার। আজকে যার প্রাইভেসি নিয়ে আপনি মজা নিচ্ছেন, কালকে হিডেন ক্যামেরার ওই পাশে আপনি বা আপনার ফ্যামিলির কেউও থাকতে পারে! তখন কিন্তু আর নীতিবাক্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
(ছবি - অন্তর মাশউদ)