ZIDAN

ZIDAN do I with memories dreams

রাত ১১টা। ডিউটি শেষ। পরের দিন নাইট শিফট, মানে আমাদের হাতে পুরো একটা দিন। কাজের ক্লান্তি আর একরকম মানসিক চাপ চেপে বসেছ...
08/08/2025

রাত ১১টা। ডিউটি শেষ। পরের দিন নাইট শিফট, মানে আমাদের হাতে পুরো একটা দিন। কাজের ক্লান্তি আর একরকম মানসিক চাপ চেপে বসেছিল মাথায় । হঠাৎ ইচ্ছা হলো—কিছু একটা করতে হবে। মনটা ভালো নেই, অনেকদিন হাইকিং বা ক্যাম্পিংও করা হয়নি।
আমি বন্ধু kimiy কে বললাম, "চল, রাওয়াং বাইপাসে হাইকিং করতে যাই। রাতে হ্যামকে শুয়ে থাকব, রান্না করব, ঘুরে আসি!" Kimiey রাজি—ও এমনিতেই পাহাড়প্রেমী, ট্রাভেল আর ক্যাম্পিং ওর প্রিয়।
আমরা যার যার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সব গুছিয়ে নিলাম। আমার হাইকিং ব্যাগে হ্যামক, রান্নার জিনিসপত্র, সব ঢুকিয়ে রাত ১২টা নাগাদ আমি দাঁড়িয়ে গেলাম আমার রুমের বাইরে। ১২:১৫ এর মধ্যে kimiey এসে হাজির।

রওনা দিলাম!
রাওয়াং বাইপাস আমাদের কর্মস্থল থেকে মাত্র ৪৫–৫০ মিনিটের মোটরসাইকেল রাইড। রাতটা ছিল রোমাঞ্চে ভরা — আমাদের বাইক চলছিল কোনও গতি সীমা ছাড়াই, বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।
রাস্তার পাশে একটা নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে খেতে বসলাম। তখন রাত ১টা। হঠাৎ… একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল — পুরো এলাকা ব্ল্যাকআউট! আমি দুই বছর ধরে মালয়েশিয়াতে আছি, কিন্তু এই প্রথম এখানে লোডশেডিং দেখলাম। সাথে সাথে আশেপাশের গাছে শত শত পাখি অদ্ভুতভাবে কিচিরমিচির করে উড়ে গেল। মনে হচ্ছিল, যেন কোনও ভৌতিক দৃশ্যের মধ্যে পড়ে গেছি। চারপাশে মানুষ নেই বললেই চলে—শুধু আমরা দুজন আর একটা অন্ধকার রাত।
তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে কিছু পানীয় নিয়ে রওনা দিলাম মূল হাইকিং স্পটের দিকে। মাত্র ৩০ মিনিটের হাইকিং, আমরা খুব ক্লান্ত ছিলাম—একটা ছোট অথচ আরামদায়ক জায়গা খুঁজে নিলাম।

রাতের রান্না, পাহাড়ের সৌন্দর্য
একটু বিশ্রামের পর আমরা বের করলাম আমাদের রান্না সামগ্রী। শুরু হলো রান্না। menu তে ছিলো Fried tiger prawn, sirloin beef steak with black pepper sauce, Balsamic lamb chops ফল হিসেবে আপেল, আঙ্গুর, আর সাথে কিছু জুস।
পাহাড়ের উপর থেকে দেখা যাচ্ছিল পুরো KL শহর—আকাশে ভেসে থাকা cloud যেন ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে চাইছিল, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি সেগুলোকে আটকে রাখছিল। মনে হচ্ছিল, হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলব!

তারা, সুর আর এক অপার্থিব অনুভব
রাতের খাবার শেষে আমরা দুজন একটা বড় পাথরের উপর চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। উপরে ছিল তারাভরা আকাশ, পাশে পাহাড়ের বাতাস।
একসময় আমি kimiey কে জিজ্ঞেস করলাম, "তুই এতক্ষণ ধরে উপরে তাকিয়ে কী দেখছিস?"
ও ধীরে মাথা ঘুরিয়ে মুচকি হাসল, "Something magical happening with me..."I felt like I was lost for a moment.
ও আসলে তারার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারা যেন আস্তে আস্তে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, ছুঁয়ে দেবে এমনই অনুভূতি।
সেই মুহূর্তে আমি ব্যাগ থেকে বের করলাম JBL স্পিকার। চালিয়ে দিলাম আমাদের প্রিয় বাংলাদেশি ব্যান্ড Highway-এর গান: 🎵 "খোরগাড়ি"
গানের সুর বাতাসে মিলিয়ে গেল, তারার আলোয় মিশে তৈরি করল এক জাদুকরী পরিবেশ। কোনো কথা ছিল না, ছিল শুধু নীরবতা, সুর, আর মনভরা প্রশান্তি।

হ্যামকে এক রাতের ঘুম
এরপর আমরা হ্যামক সেট করে ফেললাম। দক্ষিণের মৃদু বাতাস, শান্ত পাহাড় আর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস। আমি দীর্ঘদিন এত ভালো ঘুম দেইনি, যতটা শান্তি এই রাতে পেয়েছিলাম।
ফজরের আজানের সময় একবার ঘুম ভাঙল। হ্যামক থেকে সাইডে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম—পুরো শহর আলোয় ঝলমল করছে, কিন্তু কোথাও কোনও মানুষ নেই! শুধু দূর থেকে ভেসে আসা আজানের সুর—এ এক ভিন্নরকম প্রশান্তি।
আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল ৮টার দিকে ঘুম ভাঙল দুইটা মেয়ের হাসির শব্দে। জেগেই পড়লাম। ব্যাগ গুছিয়ে বিদ্যুৎগতিতে ফিরে এলাম বাসায়।

এই এক রাত…
এই এক রাত যেন একটা ছোট জীবন। চাপ, ক্লান্তি, ভয়, রোমাঞ্চ, বন্ধুত্ব, প্রকৃতি, সুর, শান্তি—সবকিছুই ছিল এতে। সত্যি বলতে, অনেকদিন পর মনে হল আমি আবার একটু বেঁচে উকিমিয়

এই রাতটা ছিল ঠিক সিনেমার মতো।রাত ১১টা — ডিউটি শেষ, শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে ক্লান্ত একটা নিঃশ্বাস নিচ্ছি। হঠাৎ যেন এক পাগ...
06/07/2025

এই রাতটা ছিল ঠিক সিনেমার মতো।
রাত ১১টা — ডিউটি শেষ, শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে ক্লান্ত একটা নিঃশ্বাস নিচ্ছি। হঠাৎ যেন এক পাগলামো ভর করল মাথায়।
আমি কিমিকে বললাম,
"চল, আজ হ্যামক নিয়ে সমুদ্রের পাশে ঘুমাতে যাই!"

সে একটুও না ভেবে রাজি — আর তখনই শুরু আমাদের অ্যাডভেঞ্চার।

প্রথম গন্তব্য, কিমির বাসা। ফ্রেশ হয়ে ব্যাগে গুছিয়ে নিলাম ক্যাম্পিং গিয়ার — হ্যামক, হেডল্যাম্প, পানির বোতল, আর কিছু স্ন্যাকস।
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১টা ৩০।
নিঝুম হাইওয়ে, রাতের নীরবতা ভেদ করে আমাদের মোটরসাইকেলের গতি ১৭০ কিলোমিটারের উপরে!
চারদিকে শুধুই অন্ধকার আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। বুকের ভেতর রোমাঞ্চে কাঁপছিল!

রাত প্রায় ৩টা — পৌঁছালাম সমুদ্রের ধারে।
চাঁদের আলোয় ঝাউগাছগুলো যেন ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের জন্য। দুই পাশে দুটো গাছের মাঝে হ্যামক বেঁধে শুয়ে পড়লাম — মাথার উপর খোলা আকাশ, কানে ঢেউয়ের শব্দ, আর মুখে হালকা হাসি।

ঘুম? না, সেটা যেন এক স্বপ্নময় ভাসমান ঘোর।
দক্ষিণের নরম বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দে মিশে ছিল আমাদের নিঃশ্বাস।
এতটা শান্তি — সত্যি বলতে কি, বহুদিন পর ঘুমাতে পেরেছিলাম।

এই এক রাতের যাত্রা যেন পুরো একটা জীবনের অনুভব!

Forest for rest
19/05/2025

Forest for rest

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ZIDAN posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share