24/03/2026
আপনি কি জানেন, যে আমেরিকা আর ইসরাইল সারাজীবন হুংকার দিয়ে এসেছে পুরো বিশ্বকে তাদের হাতের মুঠোয় রাখবে বলে, আজ তাদের অহংকার কীভাবে সাগরের জলেই ডুবতে বসেছে?
খবরটা শোনার পর আপনার শিরায় শিরায় উত্তেজনা কাজ করবে! এতকাল যারা ভেবেছিলো— আমেরিকা আর তার আদরের সন্তান ইসরাইল চাইলেই মুসলিম বিশ্বের যেকোনো দেশের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে, তাদের জন্য আজকের এই খবরটি একটি বিশাল বড় ধাক্কা!
ঘটনা কী?
বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হলো 'হরমুজ প্রণালী'। এই পথ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আনা-নেওয়া করা হয়। আর এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রক কে? হ্যাঁ, মুসলিম রাষ্ট্র ইরান! এতদিন আমেরিকা ও ইসরাইল নানাভাবে স্যাংশন দিয়ে, অবরোধ করে ইরানকে ভাতে-পানিতে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু এবার ইরান এমন এক চাল চেলেছে, যাতে পশ্চিমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে!
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখন থেকে যেসব জাহাজ যাবে, তাদের প্রত্যেককে 'ট্রানজিট ফি' বা কর হিসেবে দিতে হবে ২ মিলিয়ন ডলার! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা! জাহাজ পার করবা? আগে ২৪ কোটি টাকা ইরানের ক্যাশব্যাক্সে ফেলো, তারপর রাস্তা মাপো!
এর পেছনের মাস্টারস্ট্রোকটা বুঝতে পারছেন?
একটু লজিক দিয়ে চিন্তা করে দেখুন। আমেরিকা আর ইসরাইল মিলে ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে তাণ্ডব চালাচ্ছে, তার জন্য তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ইরান যদি এই বিশাল অংকের ট্যাক্স আদায় শুরু করে, তবে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতিতে সরাসরি ধস নামবে।
যারা ভেবেছিলো ইরান ভয়ে গুটিয়ে থাকবে, তারা আজ বোকার স্বর্গে বাস করছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজার্দি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন— "শত্রুদের মোকাবিলায় এবং যুদ্ধ পরিচালনায় আমাদের বিপুল অর্থ প্রয়োজন। সুতরাং এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে এখন থেকে টাকা দিতেই হবে।"
অর্থাৎ, আমেরিকা আর ইসরাইলের স্যাংশনের জবাব ইরান দিচ্ছে তাদেরই পকেট কেটে! একেই বলে ঢিলের জবাবে পাটকেল!
কেন আমেরিকা এখন চাইলেও কিছু করতে পারবে না?
কারণ, তারা খুব ভালো করেই জানে ইরান কোনো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। হরমুজ প্রণালীতে যদি আমেরিকা বা ইসরাইল কোনো টুঁ শব্দ করার সাহস দেখায়, তবে ইরান এক নিমিষেই ওই পথ বন্ধ করে দেবে। আর ওই পথ বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়া, আমেরিকার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়া এবং ইসরাইলের সাপ্লাই চেইন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
বছরের পর বছর ধরে আমেরিকা আর ইসরাইল মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুটেপুটে খেয়েছে। আর আজ, একটি মুসলিম দেশ তাদের চোখে চোখ রেখে নিজেদের জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করলো। পশ্চিমা ভিলেনদের বুঝিয়ে দিলো— অন্যের দয়ায় নয়, বরং নিজেদের শক্তিতেই টিকে থাকতে হয়।
এই সাহসী পদক্ষেপ শুধু ইরানের একার বিজয় নয়, এটি পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গর্বের বিষয়। জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে এমন বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর জন্যই তো বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছিল!
আপনার কী মনে হয়? ইরানের এই দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত কি আমেরিকা ও ইসরাইলের অহংকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিলো? আপনার মূল্যবান মতামত অবশ্যই কমেন্ট করে জানান!
খবরটি যদি আপনার মনের তৃষ্ণা মিটিয়ে থাকে এবং আপনার কাছে লজিক্যাল মনে হয়, তবে এখনই শেয়ার করে টাইমলাইনে ছড়িয়ে দিন। সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন যে, দিন বদলাচ্ছে!