21/01/2026
ওসমান ভাইয়ের সাথে রিক্সায় ভাইয়ের বাসায় যাইতেছিলাম। ভাই বললেন, 'ফাহিম, যে লড়াই শুরু করছি আমরা, এই পথটা ভীষণ কঠিন। একটা সময় আমরা একা হয়ে যাবো। এখন একটা ভালো সময় কাটাইতেছি, এমন সময়'ই সবসময় থাকবে -ব্যাপারটা এমন না। তখন আমাদের শত্রু-মিত্র চেনা যাবে। লড়াইয়ের আশল সাথী-সঙ্গী তখন বের হয়ে আসবে।'
আমি ৪/৫ মিনিট কিছু বলি নাই। চুপচাপ বইসা ছিলাম। ভাই আবার বললেন, 'কি ভাবতেছো? শুনো! আমাদের কারো উপর কোন আঘাত আসলে সেইটা সবার আগে আমার উপর আসা লাগবে। আমি বাইচা থাকতে তোমাদের কিছু হবে না।' কথা শেষ করে ভাই কান্না করে দিলেন। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় চুপসে গেছিলাম। ভাই কান্না করতে করতে বললেন, 'আমার উপর অনেক থ্রেট আসতেছে। সবাই'ই একা একা চলাফেরা করতে নিষেধ করে। কিন্তু এতো সিকিউরিটি নিলে তো আমাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। জনমানুষের সাথে আমাদের কানেকশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এইজন্য রিস্ক নিয়েই এই কাজ চালিয়ে যাওয়া লাগবে। সর্বোচ্চ আর কিই-বা করতে পারে আমাদের সাথে? মেরে ফেলবে। এইতো? আমার কিছু হয়ে গেলে তোমরা জাবেরকে ছেড়ে যাবা না, নিজেদের মধ্যে ইউনিটি ধরে রাখবা। যে লড়াই আমরা শুরু করছি, এই লড়াই করেই যাওয়া লাগবে আমাদের।' ভাই আমার হাত ধরে রাখছিলেন। কান্না করতেছিলেন...
(শাহাদাতের আগের রাতে ভাই নির্বাচনের জন্য ফটোশ্যুট করতেছিলেন। কত যে হাসাহাসি করলাম ওইদিন। ভাইকে সবাই মিলে দেখাইতেছিলাম, কিভাবে দাঁড়াইলে ভালো দেখাবে। আর ভাই মজা করে পোজ দিয়ে হাসতেছিলেন!)
লেখক -ফাহিম আব্দুল্লাহ।