23/07/2020
#চন্দ্রশেখর_আজাদ
আজ তাঁর জন্মদিন 🙏🙏
কিন্তু কেউ তাঁকে মনে রাখেনি ............🍂🍂🍂
উচ্চ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম তাই বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করে পন্ডিত হবে । কাশী বিদ্যাপীঠে ছেলেকে ভর্তি তো করে দিলেন কিন্ত বিধাতা পুরুষের ইচ্ছা অন্যরকম ।
এরমধ্যে 1919 সালে ঘটে গেল জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকান্ড । দেশজুড়ে ওঠা বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়লো কাশীতেও । স্কুলে যাবার পথে একদিন দেখলো নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের নৃশংস অত্যাচার । নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে রাস্তার পাথর তুলে সজোরে মারলো এক গোরা সার্জেন্ট কে । হতচকিত পুলিশ অবিলম্বেই ধরে ফেললো তাকে । হাত বেঁধে কোমড়ে দড়ি পরিয়ে যখন ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলো তখন তার বয়স মাত্র চোদ্দ বছর ।
অল্প বয়সের জন্য অচিরেই জেল থেকে ছাড়া পেল কিন্ত স্বদেশের মানুষের ওপর এই অত্যাচারের দৃশ্য আমূল পরিবর্তন আনলো তার জীবনে । লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়লো স্বদেশী আন্দোলনে ।
চৌরিচৌরায় পুলিশ হত্যার পর 1922 সালে গান্ধীজী যখন অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন তখন সেদিনের কিশোর সংস্পর্শে এলো রামপ্রসাদ বিসমিলের । স্বদেশী আন্দোলনে অর্থ সংগ্রহের জন্য এরা Hindustan Republican Army নামে দল তৈরি করে ইংরেজ সরকারের খাজনা লুঠ করা শুরু করলো । অঞ্জাত পরিচয়ে থাকলেও 1925 সালে কাকোরিতে ট্রেন লুঠের পর এদের নাম সামনে এলো । বিসমিল সহ আর সবাই ধরা পড়লেও সে অধরাই রয়ে গেল ।
পুলিশ যখন তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে তখন সে ব্যস্ত দিল্লী আগ্রার মাঝে ভাইসরয়ের স্পেশাল ট্রেন ওড়ানোর পরিকল্পনায় ।
ভাগ্যক্রমে বড়লাট বেঁচে গেলেন এবং আবারও তার নাম প্রকাশ হয়ে পড়লো ।
কিছুদিন গা ঢাকা দেবার পর আবার সে উদয় হলো লাহোরে । এবার ভগত সিংহের সাথে হাত মিলিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করলো পুলিশ সুপার সন্ডার্সকে । এই সেই সন্ডার্স যে লালা লাজপত রায়কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছিল।
এবারও ভগত সিংহ ,রাজগুরু প্রভৃতিরা ধরা পড়লেও সেই কিশোরের টিকিটিও ছুঁতে পারলো না পুলিশ ।
শুরু হলো দেশের বৃহত্তম man hunt. জীবিত বা মৃত মাথার দাম ঘোষণা করা হলো সেই আমলে বিশ হাজার টাকা !
এবারে কাজ হলো । দিনটা ছিল 27শে ফেব্রুয়ারী, 1931. যে দেশবাসীর ওপর অত্যাচার দেখে নিজের পরিবার ও ভবিষ্যত বলিদান দিয়ে অনিশ্চিত জীবনে ঝাঁপ দিয়েছিল, তাদেরই একজন এলাহাবাদ পুলিশের কাছে খবর দিল আলবার্ট পার্কে বসে আছে একা ।
নিমেষের মধ্যেই গোটা পার্ক ঘিরে পজিশন নিল পুলিশ । শুরু হলো এক অসম লড়াই । একদিকে মাউজার পিস্তল নিয়ে একা যুবক অন্যদিকে লুইস গানে সজ্জিত গোটা বাহিনী । জীবিত ধরার জন্য তার দুটো পা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়া হলো। আত্মসমর্পণের জন্য যখন পুলিশ মাইকে ঘোষণা করলো তখন ভেসে এলো তার শেষ উক্তি :
"দুষমন কি গোলিয়া কা সামনা হাম করেঙ্গে, হাম আজাদ থে,আজাদ হ্যায় আওর আজাদ রহেঙ্গে !"
মাউজারে তখন আর একটাই গুলি রয়ে গেছে, কানের ওপর ঠেকিয়ে দিলেন আর তারপর ..........!
বয়স তখন তার মাত্র চব্বিশ বছর ।
বাপ মায়ের দেয়া নাম চন্দ্রশেখর তেওয়ারী ইতিহাসের পাতায় চিরকাল #আজাদ ই রয়ে গেলেন ।
এই মহান বিপ্লবীর আজ জন্মদিন, চলেও যাবে
নিঃশব্দে নীরবে...….. ! 🌹🌹🌹